ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

ঢাকায় নিহত দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাসের প্রতিকৃতির সামনে দাঁড়িয়ে মা কল্পনা রানী দাসের আহাজারি। তার কষ্টের সীমা যেন ছাড়িয়ে গেছে। বড়ই দূর্ভাগা একজন মা। এই মায়ের কষ্ট সবাই বুঝবে না।

নৃশংসভাবে বিশ্বজিৎকে হত্যা করার একটি দৃশ্য, ছবি:বিডিনিউজ২৪

নৃশংসভাবে বিশ্বজিৎকে হত্যা করার একটি দৃশ্য, ছবি:বিডিনিউজ২৪

আসুন, আবার আমরা বিশ্বজিতের হত্যাদৃশ্যে ফিরে যাই। আশপাশে পুলিশ ছিল, তারা আর হত্যাকারীরা একপক্ষে দাঁড়িয়ে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন দমনে রাজপথে ছিল। চারপাশে জনতা ছিল, যে জনতা ছিল রাজায়-রাজায় যুদ্ধের উলুখাগড়া। বিশ্বজিৎ ওই জনতারই একজন ছিল। বিশ্বজিৎ না হয়ে অন্য কোনো পথচারীও সেদিন এমন কচুকাটা হতে পারত। সাংবাদিক ছিল; যাঁদের ভিডিওর কারণে বিশ্বজিতের খুনীদের মুখ আমরা চিনেছিলাম। কিন্তু আসলে কোথাও কেউ ছিল না। থেকেও তারা না থাকার মতো নিশ্চল শরীরে ভয়ংকর সেই হত্যাদৃশ্য চেয়ে চেয়ে দেখেছে বা পালিয়ে বেঁচেছে।

যে ভয়ের রাজত্ব দেশে কায়েম হয়েছে, সেখানে কিছু মানুষকে পিঁপড়ার মতো পিষে ফেলা যায়। পিঁপড়াদের সারিতে কয়েকটা পিঁপড়াকে মারলে অন্য পিঁপড়ারা লাইন বদলিয়ে আবার হাঁটা দেয়; থামে না। বাংলাদেশে জনগণের আচরণ পিঁপড়াদের মতো হয়ে গেছে! কোনো হত্যা-অপরাধের সামনে পড়লে পিঁপড়ার মতো রাস্তা বদলে নিজের পথে হাঁটা দিই। আমরাই আবার গোল হয়ে গণপিটুনিতে মাতি, নারী নির্যাতন দেখি; কোথাও লাশ পড়লে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসি দেখতে। -প্রথম আলো

কয়েকদিন আগেই বগুড়ায় ধর্ষনপূর্বক মা-মেয়ের ন্যাড়া করার রেশ এখনো শেষ হয়নি। এরমধ্যেই সেই ঘটনার ধর্ষক একজন সরকারী দল আওয়ামী শ্রমিক লীগের সদস্য ও তার স্ত্রীর বোন জন প্রতিনিধি আদালদে দম্ভ করে কথা বলতে দেখা গেল। তাদের দুজনের কথারই সারমর্ম হলো তাদের কিছুই হবে না! তাহলে বগুড়ার সাধারন মানুষের ভবিষ্যত যে কতটা ভয়ংকর তা সহজেই অনুমান করা যায়।

বগুড়ার ঘটনার সাথে যদি বিশ্বজিৎ হত্যা কান্ডের বিষয়টি তুলনা করি দেখা যাবে, উভয় ঘটনার সন্ত্রাসীদের ক্ষমতার উৎস একই জায়গায়! কিছু তেলবাজ মিথ্যাবাদী সুযোগ সন্ধানী মানুষ এই সন্ত্রাসীদের পক্ষেই কথা বলছে। তাদের জন্য মিছিল মিটিংও করছে!

বাংলাদেশের একজন সচেতন সাধারন মানুষ হিসাবে আমার মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু কিছুই করার নেই, সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ বাংলাদেশে ফিরে না আসলে হয়তো এভাবেই থাকতে হবে চিরকাল।