ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

 

ওখানেই তিনশ ফিট। ঢাকার খোলা রাস্তায় বাইক আর গাড়ি হাকানো সন্তানদের স্বর্গভূমি। কিন্তু বনানীর রাস্তার সম্পূর্ণ বিপরীত দৃশ্য। এখানে মানুষ আর মানুষ। গাড়ি আর গাড়ি। প্রেমিক আর প্রেমিকা। সবারই উইকেন্ড উদযাপন। তাও ব্রয়লার মুরগির শ্রাদ্ধের মধ্য দিয়ে।

বালুর ব্রীজের নিচের বাজারে মইরা মিষ্টি বানিয়ে তুমে দেবেন হাতে

এই রোড ধরে দু’ভাই হাঁটছি আর হাঁটছি। সন্ধ্যা হয়েছে। বিচিত্র সব মানুষ। কেউ হুজুর। কেউ মডার্ণ। কেউ ডিজুস। কেউ হিজাবি প্রেমিকা। কেউ টিশার্ট-জিনস প্রেমিকা। কেউ সমকামীও। সন্ধ্যা বা রাতের শুরু বিচিত্র। কত লোকের মেলা এই রাস্তায়। ডিওএইচএস-এর মরুভূমির মতো পরিপাটি, সাজানো গোছানো, কৃত্রিম আলো জলের লেক -শহরে এই জনকোলাহল নেই বললেই চলে।

এদিকে নগর গড়ে উঠছে। পূর্বাচল, পিঙ্ক সিটিসহ অনেক কিছু। ভূমিদস্যু কখনো রাষ্ট্র, কখনো বিশাল পুঁজিপতি। থাক সেদিকে না ভেবে আমার বারবার মনে পড়ছে, নগর ভাঙছে! নগর গড়ছে নগরের উপকন্ঠে। প্রেমিকাকে প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় যেত, প্রেম গড়ছে তোমার প্রেমের ভগ্নাবশেষে! নতুন নগর গড়ে নগরের উপকণ্ঠে অথচ প্রেম হয় পুরাতন প্রেমের ধংসাস্তূপে। পুরাতন প্রেম আর নতুন প্রেম পাশাপাশি থাকে না কেন? থাকলে হয়তো মনের কোনো এক জাদুঘরে রাখা পুরাতন প্রেমকে স্মৃতির টিকেট কেটে দেখে আসতাম।

এভাবে চলে এলাম বালুর ব্রিজ সংলগ্ন মিষ্টির বাজারে। এখানে মানুষের ভীড় প্রচণ্ড! বুঝলাম ঢাকায় হাইপ তৈরি করতে পারলে হুজুগে লোকের অভাব নাই। বাঙালি ব্যবসা করতে না পারলেও বাঙালিরে নিয়ে ব্যবসা করা বহুত ইজি! সারি সারি মিষ্টির দোকান। রাজভোগ আর তারপর রসমালাই খেলাম। মুখ মিষ্টি স্বাদ কেমন? প্রথমেই বলে রাখি ময়রারা আপনার সামনেই মিস্টি বানিয়ে দিচ্ছে।  টাটকা তরতাজা।  এবং অনেক মানুষ একসাথে খাচ্ছে। আর দূরে কোথাও ঘুরতে এসে খাচ্ছেন – এই ভ্যালু যখন এডেড হচ্ছে স্বাদ যেমনই হোক মিস্টি আপনার ভালো লাগবেই! পাবেন বিশাল বড় রকমের বালিশ মিষ্টি।  একবার চেখে দেখতে ভুলবেন না।

আমার কাছে তেমন আহামরি মনে হয়নি।  কারণ বহুজায়গার বহু সম্ভ্রান্ত মিষ্টি আগেই ভোজন করায়, জিহবায় আলাদা আভিজাত্য তৈরি হয়ে আছে। সে যাকগে, এবার ঝাল খেয়ে ফেরার পালা।  ওখানে ধাবাজাতীয় বিশাল বিশাল খাবারের দোকানও আছে। ডিনার সেরে ফেলা যায়। কিন্তু যেহেতু আগেই প্ল্যান ছিল খাসির কাচ্চি খাবো, ঢাকায় ফিরতে বাধ্য!

এবার যে মহাঝাল অপেক্ষা করছে।  এখন টমটম পাচ্ছি না! বলে রিজার্ভ নাও! খেয়েছে কপাল!  ধীরে রজনী ধীরে বলে মনকে সান্তনা দিচ্ছি।  দেখি সিগারেট ফুঁকে দুজন আধুনিকা টমটমওয়ালার সাথে দরদাম করছে।  আমিও অনাহূতের মতো বললাম: আমার দুটো সিট!

মেয়ে বলে ড্রাইভারকে, কেন নেবেন সামনে?

আপা, আপনাদের সামনে না ড্রাইভারের পাশে, বললাম আমি।  জয়গুরু! ওমা! দেখি উনাদের দল ভারী! চারজনের দুজন ছেলেবন্ধু, দুজন মেয়ে বন্ধু। ওরা পেছনে সামনাসামনি বসেছে।  আমরা দুভাইয়ের যাত্রা শুরু!!

ওমা ওরা এবার দেখি চিৎকার করে গান শুরু করছে।  লালন হিন্দি সবই।  ছেলেটা কয়েক কাঠি সরেস, গানের গায়কি ব্যাখ্যা করছে তাও ভুলভাবে। আর মেয়েগুলো ভুলভাল উচ্চারণে হিন্দি বাংলার খিচুরি পাকাচ্ছে! ওরা কি জানিত, আমি আসলাম অনাহূতের মতো।  আমার মতো ছ্যুঁৎমার্গীয় ব্যক্তি বিশেষ প্যারা খাচ্ছিলাম না বললেই নয়।  এর চেয়ে ভালো ছিলো বালুর ব্রিজ থেকে নিচে ঝাঁপ দেওয়া! যাকগে গতস্য শোচনা নাস্তি!

সবাই ঘুরে আসুন। অপূর্ব অভিজ্ঞতা হবে -গ্যারান্টি দিচ্ছি।