ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 
zahirbabor-com-1

 

বন্ধু বলিল, দোস্ত! ফেসবুকে যে পরিমাণে পুণ্য কামাইতেছি তাতে করে এবার আর আমাকে স্বর্গে যাওয়া থেকে কেউ আটকাতে পারবে না!

বললাম, তাই নাকি সুইট হার্ড? তা আমাকেও এই শর্টকার্ট রাস্তাটা চিনিয়ে দে না, যাতে আমিও তোর লগে যাইতে পারি!

আমাকে সাথে পাওয়ার উৎসাহে সে চট করে তার ফেসবুকের প্রোফাইল ওপেন করে তা দেখাতে শুরু করলো।

ওর ফেসবুকের প্রোফাইল দেখে আমার চক্ষু চড়কগাছ! মিথ্যা আর বানোয়াট তথ্যে ভরা সব খবর আর বীভৎস ছবি দিয়ে সে তার টাইম লাইন ভরে রেখেছে!

দেখে বললাম, আচ্ছা বন্ধু! তুঁই কি শিওর এগুলোতে লাইক, শেয়ার দিলে পুণ্য হয়? আর স্বধর্মের বিধিবিধান পালন না করে শুধু ফেসবুক চালিয়েই স্বর্গে যাওয়া যাবে? ঈশ্বর প্রদত্ত পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলো কি পড়েছিস তুঁই? আমার তো মনে হয়- ফেসবুক আর স্বর্গ ভাইস ভার্সা অর্থাৎ একটা পেতে চাইলে অন্যটা ছাড়তে হবে! দুইটা একসাথে পাওয়ার কোন সম্ভবনা নাই!

দেখলাম আমার প্রশ্নে ও ভ্যাবাচ্যাকা খেয়েছে, কথা খুঁজে পাচ্ছে না!

ওর এই ব্যাক্কলাবস্থা দেখে আমি প্রমাদ গুনলাম, জ্ঞানীরা বলেছেন, মূর্খের সাথে বন্ধুত্ব রেখো না, তর্ক তো করবেই না! কারণ এতে হিতের চেয়ে বিপরীত হওয়ার সম্ভবনাই বেশী!

তাই বলছি কি-

এমন বন্ধুর পাশ থেকে সরে পড়, আর স্বর্গে যাওয়ার শর্টকার্ট রাস্তা ছাড়ো!

এ তো গেল মুদ্রার একপিঠ, মুদ্রার অপরপিঠে আছে-

যদি আজ গুজব রটে, এখন থেকে শুধুমাত্র নরকে গেলেই কেবল ফেসবুকে লগইন করা যাবে! ঠিক কতজন ফেসবুকার স্বর্গে যেতে চাইবে বলে আপনাদের বিশ্বাস?

পরিশেষে প্রার্থনা করি- ঈশ্বর আমাদের সবার মঙ্গল করুন! তিনি যেন মানবের মন থেকে পশুত্ব দূর করে তাতে মনুষ্যত্ব দান করেন!

ওম শান্তি!

অফটপিকঃ বর্তমান পৃথিবীতে হিংসা, বিদ্বেষ ও অশান্তির ক্রমবৃদ্ধির মূলে আছে ফেসবুক। এমনকি ট্রাম্পকেও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বানিয়েছে এই ফেসবুক!

এবং আগামীতে সবগুলারে নরকেও নিবে এই ফেসবুক >>>

২১/১১/২০১৬