ক্যাটেগরিঃ ইতিহাস-ঐতিহ্য

 

ছোটবেলা থেকেই রাজা বাদশা আর তাদের হেরেমখানার গল্প শুনে শুনে এমন মজে গেছিলাম যে, আমিও মনে মনে লালন করতাম, আহা! হেরেম খানা! পারলে আমিও একটা বানিয়ে দেখাবো, একদিন!

কিন্তু গত পরশুদিন হটাৎ করেই আমার হেরেমখানার স্বপ্নখানা নাই হয়ে গেছে-

বলেন তো কেন?

আসেন তার আগে কিছু ছবি দেখে নেই-

এটা হচ্ছে- মাদার অব অল সেলফি এন্ড থ্রী স্টূজেস স্টোরী! বলতে পারেন আমাদের সেলফি রোগের উৎপত্তি সেই শাহের আমলে, ইরানে! আর থ্রী স্টুজেসের তিন জোকারও এখান থেকেই কপি মারছে-

 

1

 

দেখছেন? দেখছেন? ক্যামনে মুখ খিঁচা পোজ দিছে? এদের কি রানী মনে হয়? অবশ্য আপনার আমার মনে হওয়ায়, না হওয়ায় কিছুই আসে যায় না? বাস্তবতা হলো উনারা শাহের একশত রানীর কিছু অংশ, যারা ক্যামেরার ইতিহাসে প্রথম সেলফিতে পোজ দিয়েছিল।

এবার আসেন পরের অংশে যাই-

আমাদের বর্তমান সমাজে- অনেক মেয়েকেই তাদের মুখোমন্ডলে অযাচিত লোমের কারণে মনঃকষ্টে ভুগতে দেখি! কিন্তু গতকাল থেকে আমার সেইসব মেয়েদের জন্য আফসোস হচ্ছে! এই ভেবে যে, এই মেয়েরা সেই শাহের যুগে থাকলে নিশ্চিত মহারাণী হয়ে যেতেন!

কী আমাকে উল্লুক ভাবছেন?

তাহলে আসেন নীচের ছবিটা দেখি-

2

ছবি দেখেছেন? কী দেখেছেন? দেখেন তো রানীমাতার গোঁফটা দেখা যায় কিনা? কী অবাক হচ্ছেন?

না রে বোনেরা, অবাক হওয়ার কিছু নেই! সেই যুগে- যে মেয়েদের গোঁফ ছিল শুধুমাত্র তারাই হেরেমে রানী হওয়ার সুযোগ পেত। যার যত বড় আর ঘন কালো গোঁফ ছিল- সেই শুধু হতে পারতো মহারানী। ছবির উনি ছিলেন সেই হেরেমের দুই মহারাণীর একজন! ওহ! আরও একটা গুণ দরকার ছিল মহারানী হওয়ার, আর সেটা হলো- মহারানীকে অবশ্যই মোটাতাজা হতে হতো! সেই সময়ে ভাবা হতো, যে বাড়ীর মেয়েরা যত বেশী মোটাতাজা সেই বাড়ীর মালিক তত ধনী ও সম্পদশালী ব্যক্তি! বুইঝেন কিন্তু?

আমার হেরেমের রাজা হওয়ার শখ আরও উঠে গেছে নিচের ছবিটা দেখে! বলেন তো- কী এমন আছে যে ছবি দেখেই আমার রাজা হওয়ার শখ মিটে হয়ে গেল?

আসেন ছবিটা দেখে নেই, তাহলে আপনিও বলবেন, ঠিকই আছে!

iran3

এবার বলেন তো কোনটা রাজা মশায় আর কোনটা রানী? বলতে পারলে উৎপল’দা আপনাদের আমার পক্ষ থেকে রসমালাই খাওয়াবে! ভাল করে দেইখেন, দুইজনেরই কিন্তু গোঁফ আছে!

সবশেষে, আসেন রাজা-মহারানীদের মিল দেখিয়ে বিদায় নেই >>>

4

এবার বুঝলেন তো কেন আমার হেরেমের শখ মিটে গেছে? আপনার কী এখনো আছে?

থাকলে লিঙ্কে গুতান >>>

২৯/১১/২০১৬