ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

 

অনেক আগে ফেসবুকে আমার বন্ধুদের আচরণে বিরক্ত হয়ে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম পরে তা ব্লগেও দিয়েছিলাম। তাতে বলেছিলাম-

“খুব বেশি আর দেরি নাই যখন চাকুরিদাতারা তোমার সিভির বদলে ফেসবুক একাউন্ট দেখতে চাইবেন। এবং মিঃ জুকারবার্গ তোমার ফেবুর যাবতীয় তথ্য তাদের কাছে বিক্রি করবেন। এমনকি বিদেশের ভিসাও হবে ফেসবুকের এক্টিভিটি লগ দেখে! এমনকি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি বা স্কলারশিপ হবে ফেবু দেখে।

তুমি কি জান তোমার প্রতিটি লাইক, শেয়ারের হিসেব তারা রাখেন? এমনকি তুমি যে পোস্টগুলো বেশি পড় বা যে ছবির দিকে বেশি চেয়ে থাকো তাও ফেসবুকের ডাটাবেজে জমা থাকে! ভাবছো ডিলিট করছি তো সব নাই হয়ে গেছে! জ্বি না, ভাইজানেরা, তোমার প্রতিটি তথ্য, এমনকি তোমার ঘরে কী আছে তাও তেনারা জানেন এবং সময়মত তা তাদের ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করবেন!
আর তুমি হবে তাদের পোল্ট্রি মুরগি! যতদিন ডিম পাড়বে ততদিন দাম থাকবে! যেই ডিম পাড়া বন্ধ করবে; ঠিক তখনই হবে ঝাল ফ্রাই!
শুধু তাই না! আগামীতে বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীরা একে অপরের ফেসবুকের টাইমলাইন ও বন্ধু লিস্ট দেখবে। এমনকি বাড়ি ভাড়াও দেওয়া হবে ফেসবুক দেখে!
তাই বলছি কী, আগে থাকতেই সতর্ক হও!
বুঝেশুনে ইহা ব্যবহার করো!
নচেৎ >>>
২২/১১/২০১৬”

এছাড়াও লিখেছিলাম ফেসবুক: পুণ্য ও অশান্তিফেসবুক বন্ধের উস্কানি নামের দুটো লেখাও!

আজ কথাগুলো সত্য হচ্ছে দেখে কেমন যেন লাগছে!

ঘটনা-১

আজ সকালে এক কলিগের সাথে ব্রেকফাস্ট করতে করতে কথা হচ্ছিল। সে বলল, তাকে বিয়ের জন্য বাসা থেকে দুইজন পাত্রীর কথা বলা হয়েছে। সে সেই দুই পাত্রীর কাছ থেকেই ফেসবুক আইডি চেয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে একজন তাকে একটা নতুন আইডি খুলে দিয়েছে; আর তাই দেখে আমার কলিগ সাথে সাথেই তাকে না করে দিয়েছে। তার কথা হলো, “যে মেয়ে তার ফেসবুকের ভুয়া একাউন্ট দিতে পারে তাকে বিয়ে কীভাবে করি!”

ঘটনা-২ খবরের লিংক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা পাওয়া ভবিষ্যতে কঠিন হবে। কারণ দেশটি এক কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে আমেরিকার ভিসা পেতে হলে বিদেশিদের সামাজিক যোগাযোগের পাসওয়ার্ড চাইতে পারে দেশটি। ফলে একজন বিদেশি তার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগের (ফেসবুক, টুইটার) অাইডি ও পাসওয়ার্ডের বিনিময়ে পাবেন দেশটির ভিসা।

আজ জানা যাচ্ছে আমেরিকা ভিসা দেওয়াতেও ফেসবুকের একাউন্ট দেখবে! যারা ভাবছেন, এটা কিচ্ছু না, ভুয়া একাউন্ট খুলে তাদের দিমু? আর না হয় ‘না’ করুম! তারা আবারো বোকার স্বর্গে আছেন! আমেরিকা ঘাস খায় না! আপনার ছবি দিয়ে এক স্ক্যানেই আপনার আর কোথায় কোথায় ছবি লুকিয়ে রেখেছেন তা টপাটপ তারা বের করে ফেলবে! জানেন তো ফেসবুক এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সী ব্যবহার করছে। গ্রুপ ছবি পোষ্ট দিলেও দেখবেন সে ঐ গ্রুপে থাকা অপর বন্ধুদের ঠিকই চিনে বের করে অটো ট্যাগ করে দিচ্ছে?

এরপর আসবে আপনার লাইক, শেয়ার, কমেন্ট খোঁজার পালা! তারপর খুঁজবে আপনি সেই একাউন্ট ব্যবহার করে কী কী পড়েছেন? কোথায় কোথায় ভিজিট করেছেন?

এটা তো গেল ফেসবুক ইস্যু! যখনই তারা আপনার ফেসবুক ব্যবহার করা মোবাইল অথবা কম্পিউটারের আইপি পেয়ে যাবে, তখনই তারা আপনার চৌদ্দগুষ্ঠির হাঁড়ীর খবর বের করে ফেলবে!

আমি একটা কথা প্রায়ই বলি- ফেসবুক হলো মানুষ চেনার উত্তম জায়গা! কেন বলি তার কারণগুলো হলো-

যখন দেখি যারা জীবনে কিছু না করেই, ফেসবুকে হাতি-ঘোড়াসহ তিমি-গণ্ডারও মারছেন, বড় বড় কথা বলে; মিথ্যা বলে মানুষকে ক্ষেপাচ্ছেন, কল্পিত যুদ্ধ জাহাজ, বিমান দিয়ে যুদ্ধের জন্য হাহাকার করছেন, তারা দেখবেন বাস্তবতা কী জিনিষ? কত ধানে কত চাল!

অচিরেই তারা দেখবেন, আরও কত কত দুর্ভাগ্য তাদের সামনে অপেক্ষা করছে! এখানে এটাও বলে রাখি, আগামীতে ছেলে-মেয়েদের স্কুলে ভর্তির আগেও বাবা-মা’র ফেসবুক আইডি দেখা হবে। আপনি, আমি নিজ দেশে বা অভিবাসন করা দেশে নাগরিক সুবিধা পাবো কি পাবো না? বা কতটুকু পাবো? তাও নির্ধারন করবে আপনার আমার ফেসবুকের রেটিং! আগামীতে অভিবাসীদের বা অভিবাসী শ্রমিকদের ডিপোর্টও করবে ফেসবুকের রেটিং দেখে। এমনকি বিমানের, জাহাজের, ট্রেনের টিকেট কাটতেও এই আইডি চাইবে! ভিসার জন্য বাবা-মা বা স্পাউসেরও আইডি চাইবে। বাতিল হয়ে যাবে গ্রীন কার্ডও!

বলবেন এতো কিছু করা কোন সরকারের পক্ষেই সম্ভব না! তাদের জন্য বলি, এর জন্য আছে ফেসবুক আর তার মালিক জুকারবার্গ! আমি, আপনি তার কাছে একটা পণ্য। আমাদের দেওয়া সব তথ্য নিয়ে সে ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরিতে রেটিং করবে, আর তাইই সে আলু-পটলের মত করে বিক্রি করবে- প্রতিটা সরকারের কাছে; বড় বড় কর্পোরেশনের কাছে!

এতকিছু বিক্রি করতে জুকারবার্গ না চাইলে তাকেও ফেসবুক থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে!

আমি, আপনি হলাম গিয়ে ডিজিটাল পণ্য!

লাইক, ডিলিট আমাদেরই হাতে! তাই হিসেব করেই তা ব্যবহার করা উচিত!

মাইন্ড ইট!

০৯/০২/২০১৭

অতীতের আরও কিছু লেখাঃ

১) স্টিফেন হকিং এর ফেসবুক পেজ ও এক ভ্যাগাবন্ডের বদলে যাওয়া অধ্যায়