ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

পরপর দুটো ঘটনা জানলাম! প্রথমটায় মালিবাগে ‘ফ্লাইওভার উন্নয়নের’ উড়ন্ত গার্ডারটা নিচে পতন হওয়ায় স্বপন নামে একজন জ্যান্ত মানুষ চাপা পরে মারা গেছেন। দ্বিতীয়টায় ডাঃ সাবরিনা নুসরাত নামীয় একজন চিকিৎসক যিনি আবার একজন বড় অফিসারের সহধর্মিণীও বটে! তিনি হোটেল র‍্যাডিসনের সামনে গাড়ী চাপায় আহত হয়েছেন।

দুটো ঘটনাতেই আমাদের দুঃখিত হওয়া উচিত। বাড়িয়ে দেওয়া উচিত সাহায্যের হাতও। কিন্তু ঘটনাক্রমে আমরা দেখতে পাচ্ছি- ‘রাষ্ট্র’ একজনকে ভুলে যেতে চাচ্ছেন, আবার অন্যজনের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে- ‘রাষ্ট্র’ তাকে জোর করে মনে রাখতে চাচ্ছেন!

এই বৈষম্যের কারণ খুঁজতে যেয়ে দেখলাম গার্ডারের নীচে চাপা পড়া মানুষটি ‘জনাব স্বপন’ একজন গরীব মানুষ। অপরদিকে জনাবা নুসরাত একজন ধনী মানুষ। যার ডিটেলস ঠিকুজী লিখতেও এই অধমের হাত কাঁপে!

যেহেতু দ্বিতীয়জন ধনী মানুষ তাই তাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সরকার কোটি টাকা দান করতে পারেন। অপরদিকে যেহেতু স্বপন একজন গরীব মানুষ- ‘কীসব মিস্ত্রী-টিস্রির কাজ নাকি সে করতো?’ তাই সে থেথলে গেলেও আটআনা দিতেও মন চায় না! উল্টো তার পরিবারের মামলা খাওয়ার ভয় আছে এই বলে যে, “গার্ডার উপর থেকে পড়ার সময় ঐ ওখানে কী করতেছিল?”

এতো গেল একদিকের রূপ! অপরদিকের রূপের কথা যদি বলি, তাহলে দেখা যাবে- আমরা আমজনতাও এ বিষয়ে এক কাঠি সরেস! থেথলে যাওয়া স্বপনকে আমরা ভুলে গেছি তার মরার দ্বিতীয় দিনেই। যদি তার পরিবারকে সরকার একইরকমভাবে এককোটি টাকা দিতো, তাহলেই হইছিল? এতক্ষণে আমার ফেসবুক, ব্লগ ফাটিয়ে ফেলতাম এই বলে যে, ঐ গরীবের বাচ্চার পরিবারকে এককোটি টাকা দিতে হইবো কিল্লাই? টাকা কী গাছে ধরে? কিন্তু যখন সেই এক কোটি টাকা বড়লোককে দেওয়া হচ্ছে? সেই আমরাই আবার বাহাবা দিচ্ছি, এই বলে যে, সরকার প্রধান এতদিনে একটা কামের কাম করছে! আহ! তিনি কী দয়ালু! সরকারের টাকা তিনি তো দিতেই পারেন; মালিক তো উনিই!

আর কী লিখবো? লিখতে ভাল লাগছে না! গরীবের কথা গরীবে লিখলে কী জমে? উল্টো চৌদ্দশিকের খাড়া রেডি থাকে!

হায় দুর্ঘটনা! আর সবাই চিনলেও তুইই কেবল ধনী-গরীব চিনলি না? এর পরেরবার গার্ডারগুলোকে বিএমডব্লু আর মার্সিডিজের উপর ফেলবি! তাহলেই জাতি কোটি কোটি টাকা দানের ছবি দেখে দেখে হেসে কুটি কুটি খেতে পারবে!

১৫/০৩/২০১৭