ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

১)
আমার কয়েকজন প্রিয় ব্লগার তাদের ফেসবুক একাউন্টে- আপন জুয়েলার্সের গহনা ‘না কিনতে’ বাংলার জনগণকে উদ্ভুদ্ধ করতে প্রচারণা চালাচ্ছেন। আমি তাদের প্রচারণাতে সহমত জানাচ্ছি।

কিন্তু আমি বিশ্বাস করি- এই প্রচারণাতে আপন জুয়েলার্সের চুল পরিমাণেও ক্ষতি হবে না। বরঞ্চ ‘এই জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে রেপ করেছে’- একথা জানার পর, তাদের শো-রুমগুলোয় গহনা কেনার জন্য এই বাংলার সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠীটি হুমড়ি খেয়ে পড়বে!

বলতে পারেন কিভাবে একথা বললেন? উত্তরে বলবো, বর্তমানকালে এই জুয়েলার্সগুলো থেকে স্বর্ণ কেনে কারা? একটু যদি দেশের খোঁজখবর রাখেন, তাহলে দেখতে পাবেন, এখান থেকে যারা স্বর্ণ কেনে তাদের শতকরা ৯৫ ভাগ ক্রেতাই সমাজের উচ্চবিত্তের আবহে বসবাস করে থাকে। এছাড়াও এদের সবাইই দেশের সবচেয়ে বেশী সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর মানুষ! যারা ঘুষ-দুর্নীতি করে টাকা কামিয়েছে। ট্যাক্স-ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে, ব্যাঙ্ক-প্রজেক্ট লুটে বিত্ত গড়েছে। এদের কাছে কি আপনি-আমি ন্যায়নীতি আশা করতে পারি?

বরঞ্চ এরা এই ধর্ষণকান্ডকে তাদের ভাষায় ‘মিউচুয়াল ইন্টারকোর্স’ বলে মনে করছে। অথবা কেউ কেউ তাদের ভাষায় এই ঘটনাকে ‘স্বাভাবিক বিষয়’ বলে ধরে নিচ্ছে! আবার কেউবা এটাকে ‘দারুণ কাজ’ বলে গর্ব করছে।

বন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বনানীর ‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেলে অস্ত্রের মুখে দুই তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় অভিযোগ আনা দুই তরুণীর ওপর উল্টো দায় চাপালেন অভিযুক্ত সাফাত আহমেদের বাবা ও আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ।

তাই আমি মনে করি- তাদের শোরুম থেকে স্বর্ণ ও হীরার গহনা কেনার হার কমবে না; বরঞ্চ বাড়বে! কারণ সমাজের সেই সুবিধাভোগীরা বিষয়টাকে পজিটিভভাবে নিবে। কেউ কেউ খুশীতে ইচ্ছে করেই ওই শপ থেকে গহনা কিনবে। এদের কাছে ওই শপের মালিকের পোলা একজন হিরো! বিশ্বাস না হলে খোঁজ নিন! আর মিথ্যা হলে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।

২)
বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন ছাত্রী বনানীর একটা চার তারকা হোটেলে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। কারা এই ধর্ষণকান্ডের খলনায়ক? কে কে সাহায্য করেছে? তাদের বাবা কারা? এসব তথ্য আমরা ইতিমধ্যেই কমবেশি জেনে গেছি। এবং আমরা এটাও জানি- এর ফলাফল কী হবে? অর্থাৎ অচিরেই এই ঘটনাটাকে ধামাচাপা দেওয়া হবে। জাস্ট একটুখানি সময় আর বড় কোন ঘটনা ঘটার অপেক্ষায় আছে তারা, তারপরই ঘটনাটিকে পুরোপুরি ব্ল্যাক আউট করে দেওয়া হবে।

আমি অনেকদিন ধরেই বলার চেষ্টা করছি যে, বর্তমানে ‘বাংলাদেশ’ অপরাধীদের একটা বড় ধরণের কার্টেলের খপ্পরে পড়েছে। এটাকে এখন অনেকটাই মাফিয়া রাষ্ট্র হিসেবে বলা যায়। যেখানে অপরাধীরা একে অপরের ‘উপকার’ করছে; পরবর্তীতে নিজেরা সেই ‘উপকার’ থেকে সুবিধা লাভের আশায়। একটু খেয়াল করলেই রাস্ট্রের উপর কাঠামো থেকে শুরু করে একেবারে সমাজের নিচু লেভেল পর্যন্ত এদের লিংক দেখতে পাবেন। কোন অপরাধে যখনই সেই লিংকটা বের হয়ে যাচ্ছে ঠিক তখনই অপরাধটাকেও ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে।

রাজধানীর বনানীতে জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চললেও ছুটিতে রয়েছেন বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) …। তার ছুটিতে যাওয়ার কারণ ‘একান্ত পারিবারিক’ বলে জানিয়েছেন গুলশান বিভাগের (গুলশান জোন) এডিসি …।

টুকটাক বিচার যেগুলোর হচ্ছে সেগুলোতে দেখা যায় সমাজের গরীব ও রাজনৈতিক লিংক নাই এমন মানুষেরা জড়িত।

“দেশ থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে”– এই খবর প্রকাশ হওয়ার পর বলা হয়েছিল এই ঘটনা উদঘাটনে সরকার একটা তদন্ত কমিটি করবে! আচ্ছা কেউ কি বলতে পারবেন, এই তদন্ত কমিটির খবর কী? জানি কেউ এর উত্তর দিতে পারবেন না!

যেমন পারবেন না আর কয়েকদিন পর এই ধর্ষণকান্ডের পরবর্তী আপডেট দিতেও!

দুঃখজনক হলেও সত্যি >>>

০৯/০৫/২০১৭