ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, “ধরাকে সরা জ্ঞান করা”- অর্থাৎ পৃথিবীটাকে একটা ‘সরা’র মত মনে করা! আমরা সাধারণত ভাতরান্নার ডেকচি অথবা চাল রাখার হাঁড়ি ঢাকা দেওয়ার ঢাকনাটাকে ‘সরা’ বলে থাকি। এই প্রবাদটা হয়ত এখান থেকেই উৎপত্তি হয়েছে।

অথবা, চৈত্রমাসে হিন্দুধর্মালম্বীরা ‘চৈতপূজা’র জন্য ‘পাট ঠাকুর’ নামায়। মাসব্যাপী এই উৎসবে একজন পুরুষ সন্যাসী কালীমূর্তির বেশে ও তাঁর মুখোশ লাগিয়ে ডান হাতে রাম দা আর বাম হাতে একটা সরা নিয়ে কালীনৃত্য প্রদর্শন করেন। সেই নৃত্যে দেখানো হয়- কীভাবে কালীমাতা অসুরদের মাথা কেটে তাঁর বাম হাতে রাখা সরাটায় তাদের পড়তে থাকা রক্ত ধরছে। এই প্রবাদটা সেই নৃত্য থেকেও উৎপত্তি হতে পারে।

তবে আমি যাই ধারণা করি না কেন, প্রবাদটার উৎপত্তি ও এর অর্থ, আমার স্বল্প জ্ঞানে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। তবে প্রচলিত অর্থে যেটুকু বুঝি- তাতে বলতে পারি, “যারা যতটুকু নয়, তারচেয়ে নিজেদের অনেক বড় ভেবে বসাটাই হচ্ছে এই প্রবাদের মূল প্রতিপাদ্য”।

আমি হঠাৎ করেই কেন ধান ভানতে শিবের গীত গাইতে বসলাম? এর মাজেজা হলো আজকের খবরটা-

… সুপ্রিম কোর্ট থেকে ভাস্কর্য সরানোর প্রতিবাদের মিছিল থেকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে স্লোগান ওঠায় গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারকে পেটানোর হুমকি দিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতারা। সোমবার রাতে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠনটির মিছিল থেকে শাহবাগে ইমরান সরকারকে অবাঞ্ছিতও ঘোষণা করা হয়। শাহবাগে মিছিল শেষে সমাবেশে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, “এই ইমরান এইচ সরকারকে শাহবাগে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে যেখানে ইমরান এইচ সরকার ও সনাতনকে (সংস্কৃতিকর্মী) যেখানেই দেখা হবে, সেখানে কুত্তার মতো পেটানো হবে।”

খবরটা পড়ামাত্রই মনে মনে বললাম, কেন রে ভাই? ওকে কেন পেটাতে হবে? আর কুত্তার মত করেই কেন পেটাতে হবে? ইমরান কোন অন্যায় করে থাকলে তাকে আইনের হাতে সোপর্দ্য করুন। সেটা না করে শুধু শুধু তাকে মারবেন কেন? একটা গণতান্ত্রিক দেশে, একটা গনতান্ত্রিক দলের ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি হয়ে আপনাদের এই আচরণ ভাল অর্থ বহন করছে না! উপরন্তু এই ‘আচরণ’ উপরে বলা সেই প্রবাদটাকেই প্রতিনিধিত্ব করছে।

রাজনৈতিক মতপার্থক্য কী রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করা উচিত নয়? সেটা না করে, কুত্তার মত পেটাতে হবে?

৩০/০৫/২০১৭