ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

আমাদের দেশেও অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য চিকিৎসা-পদ্ধতি চালু আছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে একই সঙ্গে চালু আছে অপচিকিৎসা। বিশেষ করে, ভেষজ বা হারবাল চিকিৎসার নামেই এসব অপচিকিৎসা করা হয় বেশি। রাস্তার ফুটপাত থেকে শুরু করে বিভিন্ন অলিগলিতে গজিয়ে ওঠা এক-দুই রুমের ‘চেম্বার’ থেকে এসব চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা প্রদানকারী ‘চিকিৎসক’ নিজেকে নানা রকম আজগুবি উপাধিতে ভূষিত করেন। নিজেকে চিকিৎসক দাবি করলেও এঁদের সিংহ ভাগেরই ন্যূনতম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জ্ঞানটুকুও নেই। তবে মানুষকে ঠকানোর জন্য যথেষ্ট ফন্দিফিকির তাঁদের জানা থাকে।

add-3

তাই কেউ কাল্পনিক স্থান থেকে চিকিৎসা শিখে আসার দাবি করেন, কেউ বা বংশপরম্পরায় চিকিৎসা জ্ঞানসম্পন্ন হিসেবে পরিচয় দেন, কেউ ধর্মগ্রন্থকে জ্ঞানের উৎস হিসেবে দাবি করেন, কেউ বা স্রেফ স্বপ্নেই ওষুধের সন্ধান পেয়ে যান। এমনও দেখা যায়, বড় কোনো ওলি-আল্লাহর নাম ব্যবহার করে তাঁর কাছ থেকে পাওয়া ওষুধ হিসেবে চালিয়ে দেন। এসব হারবাল চিকিৎসার মধ্যে যৌন চিকিৎসা নিয়ে আমাদের মাঝে লোকলজ্জ্বা থাকায় এধরণের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদেরকেই তারা মূল লক্ষ্য বস্তু হিসেবে বিবেচনা করে। সবচেয়ে অবাক লাগে, স্থানীয় ক্যাবল চ্যানেলে এসব যৌন রোগ বিষয়ে অযাচিত ও অনভিপ্রেত বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে, যা আসলে সকল বয়সী মানুষের জন্য প্রযোজ্য নয়।

add-4

সম্প্রতি বিলিকৃত বিজ্ঞাপনে দেওয়া মুঠোফোন নাম্বারে এক কবিরাজ সাহেব কে কল করেছিলাম। তিনি আমায় আশ্বস্ত করলেন যে, তার এই হারবাল ঔষধ ১০০% কার্যকর। শুধু তাই নয় তিনি আমার গোপন সমস্যা সমাধানে বোর্ড বসিয়ে আলোচনা করে, বিবেচনার সহিত গ্যারান্টি সহকারে ঔষধ প্রদান করবেন। কিন্তু যখন তার গভঃ রেজিঃ ও WHO কর্তৃক প্রাপ্ত সনদের ব্যাপারে জানতে চাইলাম, তখনই তিনি কোন প্রকার যথার্থ উত্তর ছাড়াই কথার ধরণ পরিবর্তন করে ফেললেন। সবশেষে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কিছু না বলে লাইনটাই কেটে দিলেন। এই হচ্ছে আমাদের দেশের “জীবনের শেষ চিকিৎসা” নামে প্রচারিত দাওয়াখানার কবিরাজদের ভুয়া যোগ্যতার চালচিত্র!

add-1

সর্বোপরি, চিকিৎসার নামে এসব অপচিকিৎসা ও ভোগান্তি বন্ধে কি কোন সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ নেই? নাকি তারা সংশ্লিষ্ট সকল স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই স্বদর্পে এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে, বুঝতে পারিনা! অবাক লাগে যখন বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে প্রলুব্ধ করতে World Health Organization (WHO)এর মতো বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রাপ্ত সনদ প্রাপ্তির কথা উল্লেখ করতেও তারা দ্বিধান্বিত হন না!  নাকি এভাবেই চলবে হারবাল বা স্বপ্নে পাওয়া চিকিৎসার নামে এই অপচিকিৎসার বাণিজ্য? জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তিরোধে কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কিছুই করার নেই?

 

সুমিত বণিক, জনস্বাস্থ্যকর্মী

ঢাকা।

sumitbanikktd.guc@gmail.com