ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

 

সবাই  এক সাথে বেড়াতে জাফলং গেলে কেমন হয়? সবাইকে আমন্ত্রণ করে ব্লগে পোস্ট করার জন্য উৎসাহিত করেছেন সম্মানিত নুর ইসলাম রফিক ভাই। সত্যিই অপরূপ সৌন্দর্য বেষ্টিত ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষে খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশ জাফলং -এ একবার বেড়ানোর জন্য সবাই উদযোগি হলে কেমন হয়? খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড় এর প্রকৃতি কন্যা জাফলং।  ব্লগ এবং ব্লগ টিম ও সংশ্লিষ্ঠকেও সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি আমন্ত্রণ।

শীতের ভোরে কুয়াশায় সবাই একসাথে সিলেটে ট্রেনে করে চলে আসলেন (ঢাকা থেকে)। সিলেটে (দক্ষিণ সুরমা রেল স্টেশন) আসার পর খানিকটা ভালো মানের হোটেলে অবস্থান করে সকাল ৮টার দিকে বেড়াতে যাব জাফলং। সিলেট শহর থেকে জাফলং এর দুরত্ব ৬২ কি: মি:। যেতে সময় লাগবে দেড় ঘন্টা। হোটেল থেকে অথবা যাবার পথে জৈন্তাপুরে সকালের নাস্তা সেরে নেয়া যাবে।  সবাই মিলে ৩০ থেকে ৪০ জন হলে মিনি মাইক্রোবাস নেয়া যাবে। রিজার্ভ মাইক্রোবাসের ভাড়া  ৭ থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা (সিলেট-জাফলং-সিলেট)। গাড়ী নির্ভর করবে লোকসংখ্যার সংখ্যার ওপর। সবাই মিলে দুপুরের খাবার সেরে নেয়া যাবে জাফলং। অবশ্য সেখানে খাবারের সুব্যবস্থা আছে।

আর আমি সিলেটে থাকি। সিলেট থেকে রান্নার ব্যবস্থাটাও করে নিতে পারি। আপনাদের সকলের অনুমতিক্রমে। জাফলং এ যাবার পথে শ্রীপুর, মুকামপুঞ্জি, লালাখাল, ও জৈন্তাপুরের ঐতিহ্যবহুল জায়গাগুলো ঘুরে দেখা যাবে।

আগে জেনে নিন জাফলং যাবার পথে প্রথমে কোন জায়গা পর কোন জায়গা পড়বেঃ 

সিলেট থেকে যেতে প্রথমেই পড়বে হজরত শাহপরানের (রা:) মাজার। তারপর হরিপুর গ্যাসফিল্ড (গাড়িতে বসে দেখা যাবে) ইচ্ছে করলে কিছুক্ষণ দাড়িয়ে দুর থেকে দেখতে পারবেন। এরপর, সারি নদীর ব্রিজে থেকে ডান দিকে লালাখাল, লালাখাল নদী (সিলেটের নীলনদ নামে পরিচিত) পার হয়ে লালাখাল টি-স্টেট। লালাখালে নৌকা ভ্রমন করা যায়, তবে সেখনেও অনেক থাকতে হবে।  সেখানে ২ ঘন্টার মত সময় লাগবে দেখতে। এরপর জৈন্তাপুর বাজার, জৈন্তাপুর ঐতিহ্যবাহি সব স্থান দেখতে সময় লাগবে প্রায় দেড় ঘন্টা। শ্রীপুর ও মুকামপুঞ্জি পাশাপাশি। শ্রীপুর ও মুকামপুঞ্জি (খাসিয়া অধ্যুষিত এলাকা, পান চাষ বা জুমচাষ) দেখতে সময় লাগবে ১ ঘন্টার মত। শ্রীপুর পাথর কুয়ারি। সেখান থেকে জাফলং এর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে তামাবিল জিরো পয়েন্ট (তামাবিল-ডাউকি বর্ডার) গাড়িতে বসে দেখা যাবে (ছবি তুলতে চাইলে সময় ব্যয় হবে)। তারপর গন্তব্য জাফলং। সেখানে পৌছার পর পিয়াইন নদী ধরে (নৌকা করে ভাড়ায়) জিরো পয়েন্টে সেই ঝুলন্ত ব্রিজ শতবর্ষ পুরাতন দেখা, স্বচ্ছ পানিতে ইচ্ছে করবে গোসল করার। জাফলং থেকে ফেরা: সময় কষে সন্ধ্যার পর আবার সিলেটে সন্ধ্যারাত ৮টা থেকে সাড়ে ৮টায়। ইচ্ছে করলে রাতেই ট্রেনে ঢাকা রওয়ানা হতে পারেন…।

প্রকৃতি কন্যা হিসেবে সারাদেশে এক নামে পরিচিত সিলেটের জাফলং, ছবি-সুমন দে।(৬জানুয়ারি ২০১৭)

ছবি-সুমন দে। জাফলং, পিয়ান নদী ধরে (নৌকা করে ভাড়ায়) জিরো পয়েন্টে সেই ঝুলন্ত ব্রিজ শতবর্ষ পুরাতন।

লালাখালঃ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ লীলাভূমি- লালাখাল

 

ছবি-সুমন দে। ছবি ওঠানোর জন্য আমাকে মনোনিত করলে আছিই তো।

ছবি-সুমন দে। জাফলং-এ ছবি ওঠানোর জন্য আমাকে মনোনিত করলে, আছিই তো 🙂 ।

158

ছবি-সুমন দে। গুসলের জন্য অল্প থেকে গভীরতা রয়েছে। সাঁতার জানা থাকলে ভালো না জানা থাকলেও সমস্যা নেই, স্বল্প গভীরেও স্বাদ নেয়া যাবে স্বচ্ছ জলের (ঝর্ণা থেকে নেমে আসা) পিয়াইন নদীর।

সিলেট জাফলং সড়কে শত বর্ষ পুরাতন জৈন্তা রাজাত্ব কালে তৈরী।

ছবি-সুমন দে। জৈন্তা পান্থশালা। সিলেট জাফলং সড়কে শত বর্ষ পুরাতন জৈন্তা রাজাত্ব কালে তৈরী।

sripur1

শ্রীপুর: শীতের সময় পানি এতটা নেই। তবুও কোলাহল মুক্ত প্রকৃতিতে মিলে মিশে কিছুটা সময় পার করলে খারাপ হবেনা।

 

sripur2

শ্রীপুর: ভোরের শীতের সময়। প্রকৃতিতে মিলেমিশে আছে সুদৃশ্য শ্রীপুর ।

যোগাাযোগ করতে পারেন ইনবক্সে:   https://www.facebook.com/sylsumon ।

জাফলং- বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার অন্তর্গত, একটি এলাকা। জাফলং, সিলেট শহর থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে, ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষে খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত, এবং এখানে পাহাড় আর নদীর অপূর্ব সম্মিলন বলে এই এলাকা বাংলাদেশের অন্যতম একটি পর্যটনস্থল হিসেবে পরিচিত।