ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

Bangladesh+Bank_042016_0009বাংলাদেশে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি যতটা দৃশ্যমান, ঠিক ততটাই ঋন খেলাপি প্রতিয়মান। ডিজিটাল যুগে আবর্তন ঘটছে নব কৌশলে ব্যাংকগুলোতে দুর্ণীতি। সরকার দিনের পর দিন ডিজিটাল বাংলাদেশের রুপরেখায় সুদৃশ্য বাস্তবায়নের দিকে। ব্যাংকগুলোতে তখন ডিজিটাল দুর্ণীতির কৌশল ২০০৭ সাল থেকে শুরু হয়ে গেছে। ২০০৭-তে জাতীয় পরিচয় পত্র বাংলাদেশের মানুষের, নাগরিকত্ব পরিচয় বহনে এনে দিয়েছে যুগপোযোগী পরিবর্তন।

২০০৯ সালে, জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটো কপির মাধ্যমে পরবর্তীতে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যাংক গুলোতে কৃষকদের ১০টাকা দিয়ে হিসেব খোলার সুযোগ করে দেয়। সাধারণ জনগণ শুধু জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটো কপির মাধ্যমে ব্যক্তি পর্যায়ের ব্যাংকে হিসেব খোলার সুযোগ পায় সহজে। বানিজ্যিক ব্যাংকগুলো ব্যাক্তিগত লোন বা ঋন দেয়ার জন্যে ব্যাংক হিসেবের সঞ্চিত অর্থ ও স্টেটম্যান্ট এর উপর কনজিউমার, হোম লোন, কার লোন, ভ্রমন লোন ইত্যাদি দিয়ে থাকে। ব্যাংক সেই সব ঋনের ক্ষেত্রে সিআইবি রিপোর্ট আগে মেন্যুয়েলি ছিল; বর্তমানে অনলাইনে পেয়ে থাকে। সেটা পেতে, নাম, পিতার নাম, জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার দিয়ে যাচাইকৃত হয় বলে ব্যাংক সুত্রে জানাযায়।

দুর্ণীতিবাজ এক শ্রেনীর লোক জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটো কপিতে নাম্বার উলট-পালট করে, অথবা পিতার নাম, টাইটেল ইত্যাদিতে পরিবর্তনের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষাতের ঋন গ্রহন করেছে।

ব্যাংক সুত্রে জানাযায়, বর্তমানে মাস তিনেক যাবত নির্বাচন কমিশন ব্যাংক কর্তৃক জাতীয় পরিচয় পত্রের যাচাই এর মাধ্যমে হিসেব খোলার অনলাইনের মাধ্যমে করতে পারছে ব্যাংকগুলো।

কিন্তু বিভিন্ন ধরণের ঋনের দূর্ণীতিবাজ গ্রহিতা, যখন ঋন খেলাপি হয়েছে, ব্যাংক এনআইএক্ট ধারায় মামলা করাতে বিপর্যয়ে পড়ছে সাধারণ জনগন। ঋনখেলাপি হিসেব খোলার সময় জালিয়াতি করেছে। তাই ব্যাংকের দূর্ণীতিবাজ গ্রাহক জাতীয় পরিচয় পত্রের নির্বাচন কমিশন প্রদত্ত যাচাই বাছাই না করাতে; অন্য ঠিকানা, অন্যলোকের নাম, পিতার নামের সাথে মিল থেকে যায়। সেই কারণে ব্যাংক কর্তৃক মামলার সময় ভুয়া জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম ঠিকানা দিয়ে মামলা করা হয় অর্থঋন আদালতে। আদালত সমন জারি করে ব্যাংক কর্তৃক মামলায় উল্লেখিত নাম, ঠিকানা দিয়ে। আদালতের সমন, যথাযথ লোক না পেয়ে, ভূয়া নামের লোক না পেয়ে গ্রেপ্তার করার আদেশ জারি করেন আদালত। নামের মিল, ঠিকানার মিল ইত্যাদি দেখে আদালতের আদেশক্রমে পুলিশি হয়রানির ভুক্তভোগী হতে হয় সাধারণ মানুষের।

বাংলাদেশের প্রত্যেকটি ব্যাংকের সকল হিসেবের নাম ও নাম্বার অনুযায়ী বর্তমান নির্বাচন কমিশন প্রদত্ত অনলাইন সুযোগ গ্রহনের মাধ্যমে যাচাই, বাছাই পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন না করা হলে; ডিজিটাল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয় যতটা ঘটেছে তা রোধ করার আর সময় পাবে না!  অর্থমন্ত্রনালয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশু ব্যববস্থা গ্রহনের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ পথ চলাতে দৃঢ় ভূমিকা রাখা আবশ্যক। বাংলাদেশ বিশ্বে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়তে সহায়ক হোক অর্থমন্ত্রনালয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর যথাযথ পদক্ষেপে ।