ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

বাংলাদেশে ছাত্র সংসদ নির্বাচন ১৯৯০ সালে সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলে সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচন হয়েছিল। ৯০’র গণ-অভ্যুত্থানের পর পালাক্রমে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দেশ শাসন করলেও কোনো সরকারই ছাত্র সংসদ নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়নি। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোতে ওঠে এসেছে পরিবারতান্ত্রীক নেতৃত্ব। অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে নেতৃত্বে এসেছে সস্ত্রাসীরা, স্থান পেয়েছে রাজনৈতিক দল গুলোতে। সব দলের শাসন আমলে তাদের ছাত্রসংগঠনের আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে মানুষ ছাত্র রাজনীতি বন্ধের কথা তুলেন। এ বড় অন্যায় দাবি। ছাত্ররা রাজনীতি না করলে দেশ ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাণ্ডারি হবে কোথা থেকে !

সাম্প্রতি “জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কমিটিতে বয়সসীমা নির্ধারণের পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে কমিটি করার চিন্তা ভাবনা করছে দলটি। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলে বেশিরভাগ শিক্ষিত থাকলেও জেলা-মহানগর পর্যায়ে এ বিষয়টি খুব বেশি গুরুত্ব দেয়া হতোনা। একারণে অতীতে কিছু কিছু জেলা ও মহানগর কমিটিতে অশিক্ষিত এবং অর্ধশিক্ষিতরাও নেতা হয়েছেন। এবার অন্যান্য ছাত্র সংগঠণের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সক্রিয়তার পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টিও নির্ধারণ করা হচ্ছে।

সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং অান্দোলনের জন্য তরুণদের উপর ভরসা করছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। এ কারণে জেলা – মহানগর পর্যায়ে বয়স্কদের বাদ দিয়ে ২০০০ সালে এসএসসি পাশ করা ছাত্রদের দিয়ে জেলা – মহানগর কমিটি গঠণ করার বিষয়টি চুড়ান্ত করা হয়েছে। এই নিয়মে ইতিমধ্যে ২০ টি কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে। প্রক্রিয়াধীন রয়েছে অারো বেশ কয়েকটি কমিটি। তবে এক্ষেত্রে কিছু কিছু জায়গায় ৯৮/৯৯ সালে এসএসসি পাশ করা নেতারাও কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন। নবগঠিত ২০ টি কমিটিতেও শিক্ষিতদেরকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।” এমন সংবাদ প্রকাশ পেয়েছে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে, সংবাদটি প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু বাংলাংদেশে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোন নীতিনির্ধারণের জন্য একটি শব্দও ব্যবহৃত হয়নি!

আমরা অতীতেও দেখেছি এখনও দেখছি, উজ্জ্বল মেধাবী ছাত্রনেতা যারা এখনও রাজনীতির হাল ধরে আছেন, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন। যে কারণে এ ছাত্রনেতারা ভাষা আন্দোলনে রক্ত দিয়েছেন, শিক্ষা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে পেরেছেন। স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে সামনে দাঁড়িয়ে আন্দোলনকে বেগবান করেছেন।

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সালে একটি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়ঃ “শিক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সামরিক শাসনামলে যদি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্র সংসদ নির্বাচন করার সাহস দেখাতে পারে, গণতান্ত্রিক আমলে পারবে না কেন? আসলে ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশই প্রাধান্য পেয়েছে। ক্ষমতাসীনেরা তাঁদের অনুসারী ছাত্রসংগঠনটির প্রতি ভরসা রাখতে পারছে না বলেই ছাত্র সংসদগুলোর নির্বাচন আটকে আছে।”

ক্ষমতাধর নীতিনির্ধারকরা না চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে পারবে না। সুতরাং আমরা এখনও নীতিনির্ধারণ করতে পারলাম না বিশ্ববিদ্যালয় ও হলগুলোতে ছাত্র সংসদ করে দিয়ে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি করব, নাকি দলীয় রাজনীতির লাঠিয়ালদের হাতে তুলে দেব ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব? আমাদের দেশের ক্ষমতাপ্রিয় রাজনৈতিক দলের পরিচালকরা চান যার যার মতো করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে। দেখে মনে হয় ক্ষমতায় যাওয়া বা টিকে থাকার একটি অন্যতম প্রধান স্তম্ভ বিশ্ববিদ্যালয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণতন্ত্র চর্চা হোক বা না হোক, সুস্থ রাজনীতি চর্চার পরিবেশ তৈরি হোক বা না হোক, দলীয় অঙ্ক না মেলা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদের নির্বাচন হতে পারবে না?