ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, শিল্প-সংস্কৃতি

 

18254327_785371974958046_1939483240_n

পহেলা মে ছিল সুষমা দাসের ৯০তম জন্মদিন। সুষমা দাস বঙ্গাব্দ ১৩৩৬ বাংলা (১লা মে ১৯৩০ সালে) সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা থানার পুটকা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা রসিক লাল দাস, মাতা দিব্যময়ী দাস। বঙ্গাব্দ ১৩৫২ সালে শাল্লা থানার চাকুয়া গ্রামে প্রাণনাথ দাসের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর গ্রামীণ মেয়েলি আসরে ধামাইল, কবিগান ও বাউলগানের পাশাপাশি হরি জাগরণের গান, গোপিনী কীর্তন, বিয়ের গানসহ ভাটি অঞ্চলে প্রচলিত লোকজ ধারার সকল অঙ্গনের গান গেয়ে এলাকায় একজন নন্দিত শিল্পী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন তিনি। এছাড়াও তিনি গুষট, বাল্যলিলা, রাখালবনের খেলা, বকবধ, কালিদয়, মুক্তালতাবলী, সুবলমিলন ইত্যাদি বিভিন্ন সময় পরিবেশন করেন।

সুষমা দাসের লোকগান সংগ্রহের ছিল এক বিরাট অবদান। তিনি নৌকার মাঝি, পথেঘাটে যখনই কোন গান শুনে তার ভাল লাগত, সেই গান সংগ্রহ করা ছিল তার আরেকটি মহৎ গুণ (নেশার মত)। এইভাবে তিনি প্রায় চারশত লোককবির গান সংগ্রহ করেন। একুশে পদক প্রাপ্ত হওয়াতে তার অনুভূতি জানতে চাইলে বলেন, ’আমি খবই খুশি, আমি চাই আমাদের আগামি প্রজন্ম আমাদের হারিয়ে যাওয়া গান, কথা ও সুরগুলো সংরাক্ষণ করবে, আমদের ঐতিহ্য লালন করবে।’

18280908_1302997669738048_1011574392_n

 

লোকসংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ৫ জুন ২০১৬ সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি হতে গুণীজন সম্মাননা- ২০১৫ লাভ করেন। শিল্পকলায় (সংগীত) বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৭ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ৯০ বছর বয়সী সুষমা দাসকে একুশে পদকে ভূষিত করেন। তিনি চার পুত্র ও এক কন্যার জননী। অবসর সময়ে তিনি পুত্র-কন্যা ও নাতি-নাতনি নিয়ে গানে গানে মেতে থাকেন।