ক্যাটেগরিঃ কৃষি

 

সুনামগঞ্জবাসীর মুখে প্রচলিত একটি কথা আছে যে, মৎস্যপাথর-ধান, সুনামগঞ্জের প্রাণ। ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি হাওর বেষ্টিত এই জেলার বেশিরভাগ মানুষ কৃষি কাজের সাথে জড়িত। বোরো ধান তোলার পর কৃষকের মুখে থাকত হাসি। কিন্তু সেই হাসি আজ মলিন হয়ে আছে আকস্মিক বন্যার কারণে

সুনামগঞ্জে ছোটবড় মিলে মোট ২৬৬ টি হাওর আছে যার বেশির ভাগই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই আকস্মিক বন্যায় কিন্তু প্রশ্ন হল এটার জন্য প্রকৃতি দায়ি নাকি মানুষ? হ্যাঁ, এটা সত্য যে, প্রকৃতির বিরুদ্ধে মানুষের কিছু করার নাই, কিন্তু মানুষের বিরুদ্ধে তো কিছু করার আছে।

02_Sunamganj_Haor_Flood_embankment_230417_0026

.

বাঁধ নির্মাণের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কি কিছুই করার ছিল না? আর থাকলেই বা কি? উনাদের চিন্তা থাকে কিভাবে বাঁধ নির্মাণের নামে টেন্ডার দিয়ে বড় অংকের টাকা লুটপাট করা যায় এদের কোন সঠিক জবাবদিহিতাও নাই যা বছরের পর বছর ঘটে আসছে। সঠিক সময়ে যদি বাঁধ নির্মাণ হত তাহলে আজ সুনামগঞ্জবাসীর এই দুর্দশা হত না, কষ্টের সোনালী ফসল গোলায় তুলতে পারত কৃষক।

আমাদের দেশের সাহিত্যিকরা খুব সুন্দর করে বিভিন্ন কবিতায় প্রবন্ধে কৃষকদের জয়গান করেছেন এবং তাতে কৃষকদের সম্মান খ্যাতি প্রকাশ পেয়েছে সত্যিকার অর্থে তাদের সেটা পাওয়ার কথা। কারণ, তারা কষ্ট করে ফসল ফলিয়ে দেশের কোটি কোটি অন্ন জুগিয়ে আসছেনঅ তারা কোন দুর্নীতি, কালোটাকা প্রভৃতির সাথে জড়িত না, তাদের মন পরিস্কার তাহলে কেন তারা আজ দুর্নীতির স্বীকার হয়ে খাদ্য সংকটে ভুগবে? তাদের পরিশ্রমের ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাবে?

সাধুবাদ জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ কে। উনারা স্বচক্ষে সুনামগঞ্জবাসীর দুর্দশা দেখে গেছেন এবং ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তবে ত্রাণ কার্যক্রম আরও ভাল হত যদি তা সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হত। সেই সাথে ভাল হত যদি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেই কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা যেত। প্রতি বছর সঠিক সময়ে বাঁধ নির্মাণ হোক এটাই হাওরবাসীর প্রত্যাশা