ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

নিতাই দা আপনাকে প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই এ জন্য যে, আপনি বর্তমানের পাবলিক পরীক্ষার গ্রেডিং পদ্ধতি বুঝেন না, কিন্তু জানতে চেয়েছেন। কোন বিষয়ে সঠিক ধারণা না থাকলে জেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। আমি গ্রেডিং পদ্ধতি বিস্তারিত বর্ণনা করব তবে আমার মনের কিছু দুঃখ প্রকাশ করে নেই। ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও সাধারণ জনগণ বাদ দিয়ে শুধু শিক্ষকদের কথা বলিঃ আমরা যারা শিক্ষকতা করি তাদের মধ্যে ৮০% শিক্ষক গ্রেডিং পদ্ধতি বিস্তারিত বুঝিয়ে দিতে পারবে না। কেন পারবে না তা আমি জানিনা। আমি জানি এ জিনিসটা নিয়ে একটু চর্চা করলেই পারা যায়। এ হিসাবটা প্রথমে শিক্ষককে আয়ত্ব করতে হবে এবং পরে ছাত্র-ছাত্রীকে শিখাতে হবে। অনেক শিক্ষক এ হিসাব পারে না, আপনার বিশ্বাস না হলে কয়েকজন শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করে দেখতে পারেন। যাক এসব কথা বাড়িয়ে আর লাভ নেই। আসল কোথায় আসা যাক।
GP= গ্রেড পয়েন্ট; GPA= গ্রেড পয়েন্ট এভারেজ। প্রত্যেক বিষয়ে মোট ৫টি পয়েন্ট থাকে। ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫ পয়েন্ট অর্জন করতে পারে। অর্থাৎ যদি কোন ছাত্র ৮০-১০০ নম্বর অর্জন করে তাহলে সে পয়েন্ট পাবে ৫। নিচে একটি ছকের সাহায্যে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। তবে একটি বিষয় জানা থাকতে হবে যে, যদি কোন ছাত্রের অতিরিক্ত বিষয় থাকে তাহলে সেই বিষয় থেকে ২ পয়েন্ট বাদ দেয়া হবে । আর যা অবশিষ্ট থাকবে তা থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী পয়েন্ট নিয়ে আবশ্যিক বিষয়ের সাথে যোগ করা হবে এ+ পাওয়ার জন্য। আর যদি ২ বা ২-এর কম পয়েন্ট পায় তাহলে আবশ্যিক বিষয়ের সাথে কোন পয়েন্ট যোগ হবে না। আবশ্যিক বিষয়ে যা পাবে তাই তার জিপিএ হবে।
বর্তমান পাবলিক পরীক্ষায় ৭টি গ্রেডে ফলাফল দেয়া হয়। ১০টি বিষয়ের পয়েন্ট যোগ করার পর ১০ দিয়ে ভাগ করলে যে ফল পাওয়া যাবে তাই হল একজন ছাত্রের প্রাপ্ত জিপিএ। ৭টি গ্রেড ছকের সাহায্যে দেখানো হল-
ক্রমিক নং——–গ্রড————গ্রেড পয়েন্ট——— নম্বরের ব্যাপ্তি
১।—————–(A+)—————- 5—————— 80-100
২।—————–(A-)—————–4——————–70-79
৩।—————-(A)—————— 3.5—————– 60-69
৪।—————- (B)——————-3——————–50-59
৫।—————-(C)——————–2—————— 40-49
৬।—————(D)——————–1——————–33-39
৭।—————-(F)——————-00——————- 00-32
আপনি লিখেছেন যে, “গেল কয়েক মাস আগে আমার এক ছোট সালার মেয়ে এবার ২০১৬ সালে জেএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখা গেল সব কয়টা বিষয়ে খুব ভাল রেজাল্ট করে A+ পেয়েছে ৷ শুধু ধর্ম বিষয়ে A পেয়ে, মোট গ্রেট পয়েন্ট পেয়েছে ৪.৮৬ ৷ অনেক জনকে জিজ্ঞেস করেছি যে এই ৪.৮৬ পয়েন্ট কী করে হলো!! কোন বিষয়ে কত পয়েন্ট পেয়ে মোট ৪.৮৬ পয়েন্ট হলো? ৷ সঠিক উত্তর পাইনি ৷”
আসলে ২০১৬ সালে নয়, কথাটা হবে ২০১৫ সাল। ২০১৬ সালের জে,এস,সি পরীক্ষা এখনও হয়নি। ভাল রেজাল্ট করে A+ পায়নি, আসলে পেয়েছে A। কারণ তার জিপিএ হল ৪.৮৬। তার পরীক্ষা মনে হয় আরো আগে দিয়েছে। কয়েক বছর আগে অতিরিক্ত বিষয় ছিল না। আর এ জন্যেই আপনার শালার মেয়ের রিজাল্ট ৪.৮৬ হয়েছে। কোন বিষয়ে কত পয়েন্ট পেয়ে তার রিজাল্ট ৪.৮৬, তা বলা যাবে যদি সব বিষয়ের পয়েন্ট জানা যায়। এস,এস,সি পরীক্ষার ফলাফলের একটি ছক নিচে দেয়া হল। ছকটি বিশ্লেষণ করলে ফলাফলের বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার কথা।
ক্রমিক নং– বিষয়ের নাম —প্রাপ্ত নম্বর—– গ্রেড— পয়েন্ট—– নম্বরের ব্যাপ্তি
১। ———–বাংলা———- —৭৭ ———— A — –৪———-৭০-৭৯
২।————ইংরেজি ———–৭৫———— A——- ৪———৭০-৭৯
৩।———– গণিত———– -৯২———– –A+– —৫———৮০-১০০
৪।———— ধর্ম————- -৮১———– –A+– —৫———৮০-১০০
৫।– বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়—৮৫———– –A+——৫——— ৮০-১০০
৬।——– পদার্থ বিজ্ঞান——–৯০———– –A+——৫——— ৮০-১০০
৭।——— রসায়ন বিজ্ঞান——৮৭———– –A+——৫———-৮০-১০০
৮।——– উচ্চতর গণিত——-৯৫————- A+—– ৫———-৮০-১০০
৯।——— শারীরিক শিক্ষা——৮৩————- A+—- ৫———–৮০-১০০
১০।- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি–৪২– (মোট ৫০) A+— ৫———–৪০-৫০
১১।— ক্যারিয়ার শিক্ষা———-৪৫– (মোট ৫০) A+—-৫———— ৪০-৫০
সকল বিষয়ে——————————–মোট পয়েন্ট =৫৩
১২। জীব বিজ্ঞান ( চতুর্থ বিষয়)–৮৫———— A+—- ৫————- ৮০-১০০
জিপিএ [২ পয়েন্ট বাদ দেয়ার পর প্রয়োজন অনুসারে যোগ করা হয়েছে] ( ৫৩+২)=৫৫÷১১= ৫
‘জে,এস,সি পরীক্ষার রেজাল্টের একটি ছক আপনাদের বুঝার সুবিধার জন্য দেয়া হলঃ
ক্রমিক নং– বিষয়ের নাম———— প্রাপ্ত নম্বর— ——-গ্রেড—- পয়েন্ট—– নম্বরের ব্যাপ্তি
১।———- বাংলা ——————–১২৫(মোট ১৫০)— A+—— ৫———– ৭০-৭৯
২।———- ইংরেজি ——————-১২২(মোট ১৫০)— A+—— ৫———– ৭০-৭৯
৩।———- গণিত———————৯২ (মোট ১০০)— A+——-৫———– ৮০-১০০
৪।———– ধর্ম———————- ৮১ (মোট ১০০)— A——– ৪————৮০-১০০
৫।—- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়——–৮৫(মোট ১০০)—- A+——৫————৮০-১০০
৬।——— বিজ্ঞান———————৯০ মোট ১০০)—–A+——৫————-৮০-১০০
৭।—– কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা——– ৪৫ (মোট ৫০)—– A+——৫————-৮০-১০০
৮।—– চারু ও কারুকলা————–৪৫ (মোট ৫০)——A+——৫————-৮০-১০০
৯।—— শারীরিক শিক্ষা— ————৪৩ (মোট ৫০)—– A+——৫———— ৮০-১০০
১০।—- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি——৪৫ (মোট ৫০)——A+——৫————-৪০-৫০
সকল বিষয়ে——————————————– মোট পয়েন্ট =৪৯
জিপিএঃ [অতিরিক্ত বিষয় ছিল না অথবা কোন পয়েন্ট যোগ হয়নি] (৪৯÷১০) =৪.৯০