ক্যাটেগরিঃ ইতিহাস-ঐতিহ্য

 

ইতিহাস-ঐতিহ্য ও শিল্প-সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করার জন্য বাস্তব অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুতবপূর্ণ। তাই আমি ছাত্র জীবন থেকেই ঘুরে ঘুরে ভ্রমণ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। প্রতিটি ব্যক্তির উচিত এভাবেই বাস্তব দক্ষতা অর্জন করা। আমার মেয়েদের আমি এভাবেই শিক্ষা দিতে চাই। তারাও এভাবেই শিখতে আগ্রহী। বড় মেয়ে নাবিলাকে সঙ্গীত শিক্ষায় ভর্তি করেছি, বাংলাদেশ শিশু একাডেমী, ঢাকা। প্রথম দিন নাবিলাকে ভর্তি করার পর গেটের বাইরে এসে তাকে বললাম, “ চল, আজ আমরা একটু ঘুরবো।” আমার কথা শুনে সে বললো, “বাবা আমি তোমাকে বেড়ানোর জন্য প্রস্তাব করতাম, ভালই হল তুমিই আগে প্রস্তাব করলে।” আমি বললাম, “আজ আমরা আশেপাশের কিছু দশর্নীয় জায়গা দেখবো।”
নাবিলা বললো, “দোয়েল চত্বরের নাম শুনেছি কিন্তু আজ তা দেখলাম, ভালই লাগলো।” দোয়েল চত্বরের কিছু ছবি তুলে আমরা চলে গেলাম একটু উত্তরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কোণায় তিন নেতার মাজারের কাছে।
নাবিলা অবশ্য দুই নেতার নাম বলতে পেরেছে, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শের-এ-বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক। আমি বললাম, “ঠিক আছে, আর একজনের নাম আমি বলে দিচ্ছি, খাজা নাজিমুদ্দিন। আর তাদের সম্পর্কে কিছু তথ্য হলঃ খাজা নাজিমুদ্দিন একজন বাঙালি রাজনীতিবিদ। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মুহাম্মদ আলি জিন্নাহর মৃত্যু হলে ১৯৪৮ সালে তিনি পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল হন। ১৯৫১ সালে প্রধান মন্ত্রী লিয়াকত আলি খানের মৃত্যুর পর তিনি পাকিস্তানের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী হন। তার সরকার মাত্র দুই বছর ক্ষমতায় ছিল।”
এখন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর কথায় আসি, তিনি ছিলেন বিখ্যাত বাঙ্গালী রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী। ১৯২৪ সালে কলকাতা পৌরসভার ডেপুটি মেয়র হন। খাজা নাজিমুদ্দিনের মন্ত্রীসভায় তিনি শ্রমমন্ত্রী, পৌর সরবরাহ মন্ত্রী ছিলেন। পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৪৮- এ পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র লীগ এবং ১৯৪৯-এ পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করেন। ১৯৫৩ সালে তিনি একে ফজলুল হক এবং মাওলানা ভাসানীর সাথে একত্রে যুক্তফ্রন্ট গঠন করেন। তিনি এক বছর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৬৪ সালে ৭০ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এর পর শোন, শের-এ-বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক এর কথা, তিনিও একজন বাঙালি রাজনীতিবিদ। বরিশাল পৌরসভা ও জেলা বোর্ডের নির্বাচনের মাধ্যমে এ. কে. ফজলুক হকের রাজনৈতিক জীবনে সূত্রপাত। তিনি রাজনৈতিক অনেক পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তার মধ্যে কলকাতার মেয়র, অবিভক্ত বাংলার মূখ্যমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ইত্যাদি।” তিন নেতার মাজারের ছবি উঠানোর পর বাংলা একাডেমীর বর্ণনা দিতে দিতে আমরা উত্তর দিকে হেঁটে হেঁটে টি,এস,সি এর দিকে গেলাম। তখন নাবিলা বললো, “বাবা, টি,এস,সি কী?” আমি বললাম, “ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘টিচার্স স্টুডেন্টস কনফারেন্স’ আর আমরা এ চৌরাস্তার মোড়কে বলি টিএসসি মোড়।” তার পর নাবিলা দেখতে পেল টিএসসি-এর মোড়ে একটি বড় ভাস্কর্য। সে এ ভাস্কর্য সম্পর্কে জানতে চাইলে আমি বললাম, “ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজু সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত হয় ১৯৯২ সালে। ভাস্কর্য তৈরী শেষ হয় ১৯৯৭ সালে। আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। । তার স্মরণে সন্ত্রাস বিরোধী আন্দোলনের এটি একটি প্রতীকী ভাস্কর্য, ভাস্কর্যটির নাম রাজু স্মারক ভাস্কর্য। এটি নির্মাণ করেন ভাস্কর শ্যামল চৌধুরী ও সহযোগী গোপাল পাল।” আজ আর সময় না পেয়ে বাসায় চলে আসি। (চলমান)