ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

এখনকার সমসাময়িক বিষয় রোহিঙ্গা নিয়ে কিছু ভাবনা আপনাদের সাথে বিনিময় করব বলে আমার এই লেখা, প্রথমেই আসুন আমরা জেনে নেই রোহিঙ্গা আসলে কারা। আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের লাগোয়া বার্মার আরাকান রাজ্যের দুটি বড় জাতিগোষ্ঠী অধিবাসীর একটি হচ্ছে রোহিঙ্গা, যারা ধর্ম মতে মুসলিম, অপরটি রাখাইন যারা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। যদিও রোহিঙ্গা শব্দটির উৎপত্তি নিয়ে অনেক বির্তক আছে তবে রোহিঙ্গা ইতিহাসবিদ খলিলুর রহমানের মতে রোহিঙ্গা শব্দের উৎপত্তি হয়েছে আরবি শব্দ ‘রহম’ থেকে, যার পেছনের গল্প হলোঃ- খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে কিছু আরব জাতিগোষ্ঠীর লোক সম্ভবত বনিক শ্রেনীর, একটি জাহাজে করে সমুদ্র পথে এই অঞ্চলে প্রবেশ করেন, কিন্ত দুর্ভাগ্য বশতঃ তাদের জাহাজ ধ্বংস প্রাপ্ত হয়ে আরাকানের নিকটবর্তী রামরী নামক দ্বীপের ঊপকূলে পৌছায়, অতঃপর তারা আরাকানের রাজা কর্তৃক আটক হন এবং তিনি তাদের হত্যা করার আদেশ দেন। তখন আরব বনিকেরা তাদের নিজেদের ভাষায় রাজার কাছে অনুগ্রহ প্রার্থনা করে চিৎকার করে বলতে থাকেন ‘রহম’ ‘রহম’। সেই থেকে তাদের রহম বলে ডাকা হতো, কালক্রমে ‘রহম’ থেকে ‘রোহাং’ এবং পরবর্তীতে তা ‘রোহিঙ্গা’ এর রূপ নেয়। কারও কারও মতে পুরাতন আরাকান রাজ্যের পূর্ব নাম ছিল মরোহং সেই থেকে রোহাং এবং এর অধিবাসীরা রোহিঙ্গা নামে পরিচিত। কিন্ত বার্মার ইতিহাসবিদেরা তা স্বীকার করেন না তাদের মতে রোহিঙ্গারা বাঙ্গালী জাতিগোষ্ঠীর লোক যারা জীবন জীবিকার তাগিদে উপনিবেশিক আমলে এই অঞ্চলে চলে আসেন।

Arakan

রোহিঙ্গারা তাদের নিজেস্ব ‘রোহিঙ্গা’ ভাষায় কথা বলে যার সাথে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার খানিকটা মিল পাওয়া যায়। এমনকি লিখিত ভাবে প্রকাশের জন্য তাদের নিজেস্ব অক্ষরও আছে যার সাথে বাংলার কোন মিল নেই।

রোহিঙ্গা এবং রাখাইনদের মাঝে জাতিগত দাঙ্গার ইতিহাস অনেক দীর্ঘ ও পুরানো। রোহিঙ্গারা দীর্ঘ সময় ধরে এই অঞ্চলে বসবাস করেও কখনো এর যথায্থ নাগরিকের মর্যাদা পায়নি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময় এই দাঙ্গা আরও ভয়াবহ আকার ধারন করে, যখন জাপানিরা বার্মা আক্রমন করে বসে, ব্রিটিশ সৈন্যরা তাদের অবস্থান থেকে পিছু হটে এ অঞ্চল ছেড়ে চলে যায়, ফলে বার্মার কোন কোন অঞ্চলে শাসন ব্যাবস্থায় এক ধরনের শূন্যতার সৃষ্টি, হয় সেই সুযোগে এই দুই জাতিগোষ্টির দাঙ্গায় উভয় পক্ষের হাজার হাজার মানুষ মারা যায়। পরে জাপানিরা যখন বার্মার নিয়ন্ত্রন নেয় তখন ব্রিটিশ সৈন্যদের পক্ষ অবলম্বন করার জন্য জাপানি বাহিনী ও রাখাইনদের দ্বারা রোহিঙ্গারা ব্যাপক ভাবে খুন, ধর্ষন ও নির্যাতনের শিকার হয়। সেই সময় প্রায় ৪০০০০ জন রোহিঙ্গা আরাকান ছেড়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলে চলে আসে।

নির্যাতনের সকল মাত্রা ছেড়ে যায় বার্মার সামরিক জান্তার সময়, ১৯৭৮ সালে বার্মার সামরিক জান্তা অপারেশন ‘নাগামিন’ (Dragon King) নামে অভিযান শুরু করে যার লক্ষ্য ছিল প্রত্যেক নাগরিককে যাচাই বাছাই করে বের করা তারা সেই দেশের, নাকি ভিন দেশের নাগরিক। ফলাফল হলো ভয়াবহ সামরিক সরকারের সরাসরি নির্যাতনের শিকার হলো মুসলিম ধর্মালম্বী রোহিঙ্গারা- ব্যাপক ভাবে হত্যা, ধর্ষন, লুটতরাজ চলতে থাকল, সেই সাথে জায়গায় জায়গায় মসজিদ ভেঙ্গে দেয়া হলো। সেই সময় ২০০০০০ এর ও বেশী রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে শরনার্থী হিসেবে আশ্রয় নেয়। এরপর আবার ১৯৯১-৯২ সালে নির্যাতনের আরেক মাত্রা শুরু হয় সেই সময় বার্মিজ সেনাবাহিনী দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের নামে বিভিন্ন কর্মকান্ড শুরু করে যাতে রোহিঙ্গাদের ধরে ধরে বিনা পারিশ্রমিকে মানবেতর ভাবে খাটানো হয় সেই সাথে চলতে থাকে গুম, খুন, ধর্ষন ও বিভিন্ন প্রকারের অমানবিক নির্যাতন। ফলে আরেক দফা শরণার্থীর ঢেউ ভেঙ্গে পরে বাংলাদেশের উপর, সেই দফায় বিভিন্ন ভাবে প্রায় ২৫০০০০ এর অধিক রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটে।

এইসব রোহিঙ্গারা জাতি সংঘ ও বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় বাংলাদেশের শরনার্থী শিবির গুলোতে আশ্রয় পায়। এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়ে গেলেও বার্মার সরকার এদের ফিরিয়ে নেয়নি বরং এইরকম ভাব করেছে যেন এরা তাদের দেশেরই নাগরিক না। এইদিকে দীর্ঘ সময় সুবিধা বঞ্চিত হয়ে থাকলে যা হয়, শরনার্থী শিবির থেকে অনেকে পালিয়ে যেয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে যেতে থাকে, তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে মাদক চোরাচালান। আর এখন তো সবারই জানা আছে ‘ইয়াবা’ নামক বিভীষিকার নাম, আমাদের দেশের যুব সমাজের একটা বড় অংশ এই ভয়াবহতার শিকার যার প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট হচ্ছে বার্মা এবং মাধ্যম হচ্ছে রোহিঙ্গারা। এছাড়া আমাদের আইন প্রয়োগ কারী সংস্থার দূর্নীতি ও উদাসীনতার কারনে, অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশী পাসর্পোট নিয়ে বিভিন্ন দেশে যেয়ে নানা রকম অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়েছে আর নাম হচ্ছে আমাদের দেশের। সৌদি আরব যেখান থেকে আমাদের রেমিটেন্সের একটা বড় অংশ আসতো এই রোহিঙ্গাদের কারনে সেখানে লোক নিয়োগ একপ্রকার বন্ধের পথে। এ ছাড়া আরও অনেক সামাজিক সমস্যা তো রয়েছেই।

প্রথমত আমরা একটা গরিব দেশ, আমরা আমাদের নিজেদের লোকদেরই অনেক ক্ষেত্রে ন্যূন্যতম সুবিধা দিতে পারি না, সেখানে বছরের পর বছর আমাদের পক্ষে অন্যদেশের সমস্যা বয়ে বেড়ানো সম্ভব না, অনেকে বলবে জাতি সংঘ এর ব্যায়ভার নেয়, তা ঠিক ব্যয়ভার নেয় কিন্ত দায়ভার না, তা ছাড়া একটা সময় পরে সবাই একধরনের উদাসীনতা দেখাতে থাকে এবং যথারিতি আমরা গড্ডায় পরে যাই। অনেকে বলবে ১৯৭১ এ আমরা এক কোটি লোক ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলাম তা ঠিক কিন্ত তখন প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন এবং যুদ্ধের পরেই আমাদের সব লোকই আবার ফিরে এসেছিল। কিন্ত এ ক্ষেত্রে তা হচ্ছে না একবার আমাদের সীমান্তে প্রবেশ করলেই বার্মার সরকার রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশী বানিয়ে দিচ্ছে। আমি লেখার শুরুতেই রোহিঙ্গাদের ইতিহাস বলেছি এই কারনেই যে সেই দিকে তাকালেই আমরা বুঝতে পারব, রোহিঙ্গাদের বার্মার সরকার কখনোই তাদের আপন ভাবতে পারেনি, তারা সবসময় চেয়েছে জাতিগত শুদ্ধি করতে এবং এটা তাদের দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার অংশ, তারা সময় সময় এক একটা গণ্ডগোল বাধিয়ে এদের দেশ থেকে উচ্ছেদের পরিকল্পনা করেছে। এমনকি অং সান সুচি’র সাম্প্রতিক কোন বক্তব্যেও রোহিঙ্গাদের নিয়ে কোন প্রকার বিবৃতি দিতে দেখা যায়নি।

রোহিঙ্গাদের সাথে যা করা হচ্ছে তা নিঃসন্দেহে অমানবিক, মানবিক কারনেই এরা যে কোন জায়গায় আশ্রয় পাবার দাবীদার, কিন্ত কি মূল্যে আমাদের সেটা ভেবে দেখতে হবে। বছরের পর বছর এরা শরনার্থী হিসেবে আসতেই থাকবে এবং আমরা আশ্রয় দিতেই থাকব সেটা আমরা কেনো বিশ্বের কোন দেশের পক্ষেই সম্ভব না আর এটা কোন সমাধানও নয়। বরং জাতি সংঘের উচিৎ এই সমস্যার স্থায়ী কোন সমাধান করা, সেটা বার্মাকে বুঝিয়ে হোক আর শান্তিরক্ষী পাঠিয়েই হোক। বার্মাকে বুঝতে হবে তার সমস্যা তাকেই সমাধান করতে হবে অন্যের ঘাড়ে ঝেড়ে ফেলে কখনোই কোন সমস্যার সমাধান করা যায় না।

২৩ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. আব্দুল করিম বলেছেনঃ

    আরাকানে মুসলিম নির্যাতনঃ আমাদের করণীয়

    আল্লাহ বলেছেনঃ “তোমাদের কি হল যে, তেমারা আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করছ না অসহায়-দুর্বল সেই পুরুষ, নারী ও শিশুদের পক্ষে যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদিগকে এই জনপদ থেকে নিষ্কৃতি দান কর; এখানকার অধিবাসীরা যে, অত্যাচারী! আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য ওলী (বন্ধু) নির্ধারণ করে দাও এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দাও”। [সুরা নিসাঃ ৭৫]
    এই আয়াত অনুযায়ী, আরাকানের মুসলিমদের উদ্ধারের জন্য যুদ্ধ করা আমাদের উপর ফরজ।
    কিন্তু আমরা কিভাবে তা করবো? আমাদের কাছে অস্ত্র নেই। কারণ আমাদের এসব তথাকথিত রাস্ট্রযন্ত্র শুধু নিজের পোষাবাহিনী ছাড়া সবার কাছে অস্ত্র রাখা নিষিদ্ধ রেখেছে। সেটা সমস্যা হতো না, যদি রাস্ট্র সেই পোষা বাহিনীকে আরাকানের মুসলিমদের উদ্ধারের জন্য পাঠাতো।(!!)
    কিন্তু, নির্মম পরিহাসের উদাহরণ হলো, তা না করে এই জালিম, মুর্তাদ শাসকরা আরাকানের মুসলিমদের সাহায্যের করার বদলে তাদের পালিয়ে আসার পথও বন্ধ করে রেখেছে। এখানে যেন জালিম নাসাকা বাহিনীর আরেক সাহায্যকারী বাহিনী হিসেবে কাজ করছে আমাদের গর্বের বিডিআর, কোষ্টগার্ড এবং সেনাবাহিনীর পার্বত্য জেলার ইউনিটগুলি।
    এসব নরপশু বাহিনী, যারা দুই টাকার বেতনের জন্য নিজের বুদ্ধি-বিবেক সব কিছু শঁপে দিয়েছে ‘সরকারী আদেশ’ নামক ‘দেবতার’ পায়ে, তাদেরকে বলিঃ যদি কোন গ্রামে তোমাদের মা-বোনদেরকে আটকে রেখে কোন ডাকাত দল বলাৎকার করতে থাকে, আর হাসিনা-দীপু মণিরা তোমাদেরকে বলে, তোমরা এদেরকে এই গ্রামের বাইরে আসতে দিবে না। হে নরপশুর দল, তখনও কি তোমরা সরকারী আদেশ আছে – এই কথা বলে নিজের মা-বোনদের ডাকাত দল থেকে পালিয়ে আসতে দিবে না। বরং পালিয়ে আসলে তাদেরকে ফিরত দিবে।
    আল্লাহ তো এসব বর্ডার তৈরী করেন নি। আমাদের বর্ডার তো ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদিদের আঁকা। এই বিটিশ-কাফিরদের আঁকা বর্ডারকে কিভাবে আমরা নিজের মা-বোন-বাবা-সন্তানের জীবনের চেয়ে বেশী মূল্যবান মনে করতে পারি ?
    আর শেখ হাসিনা আর খালেদা জিয়া – এরা তো তাদের বাবার আর স্বামীর মৃত্যুর জন্য পারলে পুরো বাংলাদেশকে শাস্তি দিবে কিন্তু আরাকানে শত শত মুসলিম মারা গেলেও ভারতীয়-কাফির মনমোহন সিং এর ইশারা ছাড়া তারা কোন কথা বলবে না।
    এই জঞ্জালগুলিই এদেশের মুসলিমদেরকে তাদের উপর ফরজ দায়িত্ব আদায় করতে দিচ্ছে না।
    তাই সবার আগে এসব জঞ্জালের অপসারণ জরুরী।
    তারপর আসে আরেকটি কথাঃ কোন ফরজ কাজে কোন বাঁধা থাকলে সেটা দূর করাও ফরজ হয়ে যায়। তাই বাংলাদেশের কোন পেট-পুজারী সরকারী বাহিনী যদি আরাকানের মুসলিমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে বাঁধা দেয়, তবে এসব পেটপূজারী, স্বার্থপর বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

    আমরা সবাই জানি, কোন অন্যায় কাজ দেখলে প্রথমে হাতের দ্বারা সেটা দূর করা উচিত। সেটা না পারলে মুখে আর শেষ পর্যায় হলোঃ অন্তরে পরিবর্তন করার চেষ্টা করা, সেই কাজকে ঘৃণা করা।
    বাংলাদেশে যাদের সামর্থ আছে, যাদের কাছে অস্ত্র আছে, তাদের সবার উচিত জালিম নাসাকা বাহিনীর হাত থেকে আরাকানের মুসলিমদের উদ্ধারের জন্য সেদিকে যাত্রা করা। পথিমধ্যে কোন পেট-পুজারী, নরপশু দায়িত্বের দুহাই দিয়ে সেই যাত্রায় ব্যাঘাত করলে, সেই নর-পশুদেরকে শায়েস্তা করা।
    আর যাদের অস্ত্র নেই, তাদের উচিত অন্ততঃ মুখে এটার প্রতিবাদ জানানো। বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলিম একটু মারামারি হলে এদেশের পত্রিকাগুলি পাগল হয়ে যায়। এখন দ্বিমুখী চরিত্রের ঐ সব মুনাফিক পত্রিকা কি করছে?
    কোথায় আমাদের শান্তি-নিরাপত্তার সবক দেয়া বিদেশী কাফির রাস্ট্রদূত গুলি?
    কোথায় জাতিসংঘ কিংবা অন্যান্য মানবতাবাদি সংগঠনগুলো?
    কোথায় আমাদের পার্বত্য অঞ্চলে কাজ করে যাওয়া মানবতাবাদি এনজিও গুলো?
    আসলে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সব কাফির একজোট। এটাই মহানবী (সাঃ) বলে গেছেন। এতাই সত্য, এটা কখনো মিথ্যা হতে পারে না।
    তাই আমাদের উচিত এদেশের বার্মার সকল স্থাপণা ঘেরাও করা, বার্মার সকল পণ্য বর্জন করা, বার্মিজদেরকে এদেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়া। এটা হলো চোখের বদলে চোখ, প্রাণের বদলে প্রাণের হিসাব।
    কোথাও আমাদের আন্দোলনকারী ইসলাম পন্থী ভাই-বোনরা?
    কোথায় আমাদের খিলাফাহ কামনাকারী ভাই বোনরা?
    কোথায় আমাদের বিভিন্ন মুসলিম সংস্থা, সংগঠনগুলো??
    তাই, জণগণকে এজন্য রাস্তায় নেমে আসতে হবে। প্রতিবাদ জানাতে হবে।
    আর যাদের সেই কাজেরও সামর্থ নেই, তাদের উচিত ঐ জালিমদেরকে আর ঐ জালিমদের সাহায্যকারী, বর্ডার বন্ধকারী ছাগলদেরকে অন্তর দিতে ঘৃণা করা, এদেরকে পরিবর্তনের জন্য পরিকল্পণা করা, এদের বিরুদ্ধে মানুষকে সজাগ করে তোলা।
    আল্লাহ আমাদের সবাইকে আমাদের করণীয় কাজসমূহ করার তৌফিক দিন।

  2. rustom 77 বলেছেনঃ

    মানুষ মানুষের জন্য, রোহিঙ্গাদের নৌকা ছবিগুল দেখে খালি মনে হয় অমইও তো হতে পারতাম তাদের একজন। আমার খালি একটাই আক্ষেপ তারা যদি মুসলমান না হয়েয়া অন্য কোনও দ্র্মলম্বী হতেন তাহলে হয়ত কোস্ট কিসুটা কম হতো।

    আমার মতে বাচচাদেড়কে বাংলাদেশ এ প্রবেশ করান অতীব জরুরী।

  3. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    @আব্দুল করিম, সুদানে চলে যান। ওখানে মুসলমান মেরে সাফ করে ফেলছে! ওইদেশে অস্ত্রও ফ্রি পাওয়া যায়। আল্লাহর দুনিয়ায় যে কোন খানে আল্লার ফরজ নির্দেশ পালন করলেই সওয়াব পাবেন!

  4. জাহেদ-উর-রহমান

    জাহেদ-উর-রহমান বলেছেনঃ

    রিয়াজ ভাই, হালে আলোচিত রোহিঙ্গা ইস্যুর মূল রোহিঙ্গাদেরকে নিয়ে বেশ কিছু তথ্য পেলাম আপনার পোষ্টে। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

  5. মাহমুদ কবির বলেছেনঃ

    হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেন@আব্দুল করিমঃ
    “সুদানে চলে যান। ওখানে মুসলমান মেরে সাফ করে ফেলছে! ওইদেশে অস্ত্রও ফ্রি পাওয়া যায়। আল্লাহর দুনিয়ায় যে কোন খানে আল্লার ফরজ নির্দেশ পালন করলেই সওয়াব পাবেন!”

    আমি@হৃদয়ে বাংলাদেশঃ
    তাহলে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আল্লাহর কথা শুনতে কি সমস্যা? আপনার কথার উপর ভিত্তি করে, আমার সুদানে যেতে ইচ্ছা করছে না, কারণ সুদান অনেক দূরে, অপরদিকে বাংলাদেশ অনেক কাছে, আল্লাহর দুনিয়ায় যেকোনখানেই যদি ফরজ পালন করে সওয়াব পাওয়া যায়, তাহলে তো বাংলাদেশেই করাটা সবচাইতে সহজ দেখা যাচ্ছে! একই কাজ করার জন্য এতদূরে যাব কেন যখন কাছেই সওয়াব আছে! চলেন জিহাদ করি আমাদের ভাই-বোনদেরকে অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য, কারণ সওয়াব এখানেও যা সুদানেও তা।

  6. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    অপরাধপ্রবন রোহিঙ্গাদের আনা মানে ঘাড়ে করে বাঘ আনা। ভাইজান, সুদান দুরে না কাছে সেকথা বড় নয়। বড় হচ্ছে জেহাদ। সেটি পালন করতেই আপনাকে তাগিদ দিয়েছি।

  7. জিনিয়া বলেছেনঃ

    রিয়াজ, তথ্য সমৃদ্ধ লেখাটির জন্য অনেক ধন্যবাদ। যেদেশের মানুষ ন্যূনতম বেসিক নিড মেটাতে পারে না, সে দেশের কখনোই উচিত হবে না সেধে ঝামেলা টেনে আনার। আর হিলারি বেগম এখন চুপ কেন? এমনি সময় তো সবখানে দেওয়ানিগীরি করে..

  8. নুরুন্নাহার শিরীন

    নুরুন্নাহার শিরীন বলেছেনঃ

    অনেক ধন্যবাদ ভাই রিয়াজ, অত্যন্ত সমসাময়িক জরুরী বিষয়টি নিয়ে লেখার জন্য। সত্যটি উঠে এসেছে। আমারও সহমত যে এখানে মানবিক-অমানবিক মুখ্য নয়, মুখ্য এই যে বাংলাদেশ অন্য রাষ্ট্রের সমস্যা নিজের কাঁধে নেবার ঝুঁকি বহন করার প্রশ্নটি কেন আসছে !! কারা অযথা এটি বাংলাদেশ-এর ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে চাইছে !! কেন এমন অন্যায় আবদার এই প্রশ্নটি আজ তাদের কাছেই জবাবদিহিতার জন্য সবার পক্ষ থেকেই উত্থাপিত হউক ..

    • সৈয়দ রিয়াজ বলেছেনঃ

      অনেক অনেক ধন্যবাদ শিরীন আপু, কোন ব্লগে এটিই আমার প্রথম পোষ্ট, আপনার উৎসাহ ব্যাঞ্জক কথা আমাকে লেখতে আরও উৎসাহ যোগাবে। জ্বি আপু দেশের প্রশ্নে আমরা কখনো সবাই মিলে একই সিদ্ধান্ত নিতে পারি না, এটাই আমাদের সমস্যা, এই সুযোগটাই সবাই নেয়। গুটিকয় মানুষের মূর্খতার কারনে আমরা গোটা জাতি দ্বিধাবিভক্ত। আপনি দেখেন এই পরিস্থিতিতেও আমাদের রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বরা কোন প্রকার যৌথ বিবৃতি দিচ্ছে না!

      ৮.১
  9. মাদ্রাসায় পড়ি বলেছেনঃ

    দুঃখিত! লেখকের সাথে জিহাদের শাব্দিক/আভিধানিক অর্থের ব্যাপারে একমত হতে পারছিনা না।

    জিহাদ শব্দের আভিধানিক/শাব্দিক অর্থ হল সংগ্রাম করা।

    আপনি বলতে পারেন যে, যেকোন সংগ্রামকেই যদি জিহাদ বলে বিবেচনা করি (অর্থাৎ আভিধানিক অর্থানুসারে বিবেচনা করি), তবে অন্তরকে পাপ থেকে দূরে রাখার সংগ্রামও জিহাদ। জী, এ হিসেবে ঠিক আছে।

    কিন্তু, এখন আমি যদি বলি, নামায/সলাত মানে হল যে যে পজিশনে আছেন (অর্থাৎ শুয়ে থাকলে শুয়ে, বসে থাকলে বসে) ঐ পজিশনে থেকে শুধু সাচ্চা দিলে আল্লাহর কাছে দু’হাত তুলে দুআ করা, তাহলে আমাকে সবাই বলবে এটা ভুল, এটা একটা অলস মানসিকতা থেকে আসা যুক্তি! কারণ সবাই নামায/সলাত বলতে বুঝেন তাকবীর থেকে সালাম ফেরানো ও এর মধ্যবর্তী কর্মকান্ড। কারণ সবাই এটাই শিখে এসেছে। তাহলে আমার কথা কি ভুল? যে নামায মানে দুআ করা? না! সলাত/নামাযের আভিধানিক অর্থ দুআ করা, কিন্তু শরিআতের পরিভাষায় নামায/সলাত মানে হচ্ছে তাকবীর থেকে সালাম ফেরানো ও এর মধ্যবর্তী কর্মকান্ড। আর মুসলিমদের জীবনে মূলত একটি শব্দের অর্থ শরিআতের পরিভাষায় যা হয় সেই অর্থই মেনে চলতে হয়। কারণ একটি শব্দের দ্বারা আমরা কি বুঝব তা নির্ধারন করেছেন আল্লাহর রসূল (সঃ), আর সাহাবীগণ এরপর থেকে ঐ শব্দের শরয়ী অর্থানুসারেই কাজ করেছেন।

    একইভাবে শরিআতের পরিভাষায় জিহাদের মানে হল, আল্লাহর কালিমা পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা। যাতে কাফিরদের দম্ভ/অহংকার ভূপতিত হয়, তাদের কুকর্ম নিয়ে গর্ব করা যাতে থেমে যায়, আর যাতে আল্লাহর ইসলামের দ্বারা দুনিয়াতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। পৃথিবীতে যেন শুধু আল্লাহরই প্রশংসা/মাহাত্ব্য বর্ণিত হয়।

    সূরা ফাতিহার প্রথম আয়াতে বলা আছে “সকল প্রশংসা শুধুমাত্র জগতসমূহের প্রতিপালকের”।

    সূরা বাকারা, তওবাহ – এ পরিষ্কারভাবে বলা আছে জিহাদের কথা, এটা একটা ফরয ইবাদাত, মুসলিমরা নিরাপদ থাকলে কিফায়া, আর নিরাপদ না থাকলে আইন

    একবার কিছু মহিলা সাহাবী রসূলের (সঃ) কাছে এসেছিলেন এই কথা নিয়ে যে, পুরুষলোকেরা জিহাদ করে, আল্লাহর রাস্তায় সওয়াব অর্জন করে, আমরা মহিলারাও এরকম সওয়াব অর্জন করতে চাই। তখন রসূল (সঃ) বললেন যে, তোমাদের জিহাদ হল হাজ্জ। লক্ষ্য করুন, যদি জিহাদ মানে অন্তরকে পাপ থেকে দূরে রাখার প্রচেষ্টাই হয়ে থাকত, তবে মহিলারা আলাদা করে পুরুষদের কথা বলতেন না, কারণ এটা সবাই করতে পারে।

    আর ভাই, হ্যা, অন্তরকে পাপ থেকে রক্ষা করার সংগ্রামও করতে হবে, ঐটাও জিহাদ, তবে ঐটা পালনের পদ্ধতি মূল অর্থকে অবজ্ঞা করে নয়।

    যখন কোন বাড়িতে আগুন লাগে, তখন ঐ বাড়ির নিকটবর্তী কেউ যদি বলে, পাখি গান গায়, চাঁদ অনেক সুন্দর; তবে তার কথাগুলো সত্য তো বটে! কিন্তু এখন এই সত্যগুলো বলাটা নিন্দনীয়, এখন বলা উচিত, পানি ঢালো, বেশী করে পানি ঢালতে হবে।

    আমি যুক্তিগুলো ব্যবহার করেছি, বিষয়টি বুঝানোর উদ্দেশ্যে, যেন আল্লাহ আমাদেরকে এর থেকে লাভবান হবার তৌফিক দান করেন, আর যে সকল অন্তর তার রবকে ভয় করে, তাদেরকে হিদায়াত করেন।

    • সৈয়দ রিয়াজ বলেছেনঃ

      আরবি শব্দ জিহাদ এর আক্ষরিক মানে ‘জোর প্রচেষ্টা করা’ এটা একটা নাম বাচক শব্দ এর একবচনীয় অতীত হচ্ছে ‘জাহাদা’। অন্য কথায় আমরা বলতে পারি জিহাদ মানে হচ্ছে কোন ভালো কাজের জন্য জোর প্রচেষ্টা করা। আরবি তে ধর্ম যুদ্ধের অর্থ হচ্ছে ‘হারাবাম মুক্বদ্দাসা’ যে শব্দটা পবিত্র কুরআন ও হাদীসে কোথাও নেই। ‘ক্বিতাল’ শব্দটি বিভিন্ন ভাবে ব্যাবহৃত হয়েছে যার অর্থ ‘যুদ্ধ করা’।
      উদাহরন সরূপ পবিত্র কুরআন এর একটা আয়াত বলিঃ
      “ অ অছ্‌ছোয়াইনাল্‌ ইন্‌সা-না বিওয়া-লিদাইহি হুস্‌না-; অইন্‌ জ্বা-হাদা-কা লিতুশ্‌রিকা বী মা-লাইসা লাকা বিহী ‘ইল্‌মুন্‌ ফালা-তুত্বি’হুমা-; ইলাইয়্যা মার্‌জ্বি’উকুম্‌ ফায়ুনাব্বিয়ুকুম্‌ বিমা-কুন্‌তুম্‌ তা’মালূন্‌। -২৯:৮
      বাংলা- “আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্বব্যাবহারের নির্দেশ দিয়েছি, তবে তারা শরীক করলে, বল প্রয়োগ করলে তাদের আনুগত্য করবে না। আমার কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে; তোমাদেরকে তোমাদের কৃতকর্মের খবর দেয়া হবে”।

      এখানে আপনার কি মনে হয় তরবারি নিয়ে যুদ্ধ করতে বলা হয়েছে? সর্ব প্রচেষ্টা দিয়ে আল্লাহ্‌র পথে চলাও জিহাদ তবে শব্দগত পার্থক্য ঐ খানেই এরমানে ধর্ম যুদ্ধ না। আশাকরি বুঝতে পেরেছেন। আরও ভালো করে যাতে বুঝতে পারেন সেই জন্য দুইটা লিঙ্ক দিলাম পরে দেখেন ভালো লাগবে আশা করি।

      http://www.quranicstudies.com/jihad/the-meaning-of-jihad/

      http://www.irf.net/index.php?option=com_content&view=article&id=419%3Asimilarities-between-islam-and-hinduism-part9&catid=76%3Aqueries-on-islam-may-2011&Itemid=199

      ৯.১
  10. Bangladesh বলেছেনঃ

    দন্যবাদ মি। রিয়াজ, আমি আপনার লিখা টা পড়লাম কিসু কিসু সত্ত লিখছেন ..যেমন সৌদি আরব এর কথা গলো আমি একমত হতে পারলাম না….। আমরা না হলেও সৌদি তে মাসে 2 বার যেতে হই.। তাই আমি জানি অ্যাবউট রোহিঙ্গ্যা বেপারে.। যত গলো রোহিঙ্গ্যা সৌদি তে থাকে তারা মদিনা অণ্ড মাককহ থাকে ..র আমরা বাঙালির যত খারাবই করি সব সৌদি রাজধানী রিয়াধ আ করি..যত খারাপ বেবসা আসে সব আমরা বাঙালি র করি চুরি থেকে শুরু করে যত খারাপ কর্ম কান্ড আসে আমরা করি। প্রমাণ হিসাবে আমি দেই আপনাকে এক সাতে আট জন বাংলাদেশী কেটে ফেলা টা কী সটটি নয়…। আবার সৌদি সরকার রোহিঙ্গ্যা দের কে রোড পেরমন্ত ও ডিসে যেটা কে আরাবিক ভাষায় বলে একমা ….। পিএলএস রিয়াজ ভাই যা লিখবেন সত্ত যাচাই করে লিখবেন। দন্যবাদ আপনাকে

    ১১
    • সৈয়দ রিয়াজ বলেছেনঃ

      ধন্যবাদ বাংলাদেশ ভাই, আমি যতটুকু পারি চেষ্টা করেছি সঠিক তথ্য দিতে, মানুষের নিজ নিজ ধারনা থাকতেই পারে, রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে আপনার একটা দূর্বলতা আছে সেটা বুঝতে পারছি এটা দোষের কিছু না, আমার দেশের লোকের প্রতিও আমার প্রবল দূর্বলতা আছে। আমি আপনাকে একটা লিঙ্ক দেই পড়ে দেখেন তাহলেই বুঝতে পারবেন আমার দেয়া তথ্যে কোন ভুল নেই, আপনি চাইলে আরও অনেক দেয়া যাবে একটাই আশা করি যথেষ্ট হবেঃ

      http://www.thedailystar.net/newDesign/news-details.php?nid=131829

      শেষ প্যারাটা পরবেন। প্রমান হিসেবে আপনি যে উদাহরন দিলেন শুধু ৮ জন কেন আরও অনেক বাঙ্গালীর শাস্তি হয়েছে তার মধ্যে যে কোন রোহিঙ্গা নেই সেটা বুঝলেন কিভাবে?! পাসর্পোট নিয়ে তো রোহিঙ্গারা বাংলাদেশী হয়ে গেছে। আর যে খানে ৪০,০০০০০ এর ও উপরে বাংলাদেশী কাজ করে কেউ কেউ তো অপরাধ প্রবন থাকতেই পারে প্রতি বছর ওরা কতজন বিদেশী শ্রমিক এর গলা কাটে তা কি জানেন?

      ১১.১
  11. Bangladesh বলেছেনঃ

    ব্রাদার আমি মানবতা কে ডেকচি……আপনি আমাকে কী বুজতে চাসছেন আমি নিজেই ভাল জানেন। আমি তাদের কে সাপোর্ট করছি না।আমরা মুসলিম হিসাবে তাদের পাশে দাড়াতে পারি…। র আপনি সৌদিতে আছেন থাকেন তারপর বুজবেন.। যাই হক নিজের চোখে না ডেকলে বুজবেন না। রাইটার অনেক কিসু লিকতে পারে কিন্তু সব যে সটীক হবে টা না…..আরেকটা কথা বলি আমাদের বাঙালি কে সৌদি সরকার কেমন চোখে দেখে টা আপনি যে কোনও সৌদি প্রবাসী কে জিজ্ঞাস করতে পারেন…দন্যবাদ আপনাকে আপনার লিঙ্ক এর জন্য.। আপনি আরেকটা কথা বলেছেন যে আট জন .। সব কিন্তু কমিল্লার.। ব্রাদার আমি আপনার সাতে তর্কে যেতে চাই না…
    আমার দুর্বল টা কোথায় জানেন ব্রাদার –মানবতা আর কিসু নয়…

    ১২
    • সৈয়দ রিয়াজ বলেছেনঃ

      ভাই দেখেন রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে আমার ব্যক্তিগত কোন বিদ্বেষ নাই, ওদের জন্য আপনি যেমন কষ্ট পাচ্ছেন আমিও ঠিক সেইরকম কষ্ট পাচ্ছি। মানবিক কারনেই ওরা যেকোন ধরনের সাহায্য পাবার দ্বাবিদার। কিন্ত আপনি সামগ্রিক ভাবে আমাদের দেশটার কথা চিন্তা করেন, বছরের পর বছর আ্মাদের এই সমস্যা বইবার সামর্থ্য নাই, আমাদের দেশ এবং পুরো বিশ্ব সমন্বিত ভাবে কিছু একটা করুক যাতে বার্মার সরকার এদের উপর নীপিড়ন বন্ধ করে। এখন সাময়িক ভাবে আমরা যদি ঢুকতে দেই ওদের এই সমস্যা চিরদিনই চলতে থাকবে বন্ধ হবে না।

      ১২.১
  12. মাদ্রাসায় পড়ি বলেছেনঃ

    @লেখকঃ

    প্রথমত, আমি পূর্বেই স্বীকার করেছি যে, তরবারী বিহীন জিহাদও আছে, সেটা নফসের বিরুদ্ধে, বা আরও অনেক ক্ষেত্রে। যেমন ধরুনঃ

    রসূল (সঃ) একটি হাদীসে বলেছেন যে, যদি তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের নির্ধারিত স্থানে অবস্থান কর এবং জিহাদ কর, তবে গোসল করা ফরজ হয়ে পড়বে।

    অর্থাৎ, এখানে বলা হচ্ছে যে, স্ত্রীর সাথে দৈহিক মিলন করলেই গোসল ফরয হয়ে যায়। সুতরাং, এখানেও কি তরবারীর জিহাদ বুঝাচ্ছে? মোটেও না।

    কিন্তু এর সাথে জিহাদের মূল অর্থ পরিবর্তিত হয়ে যাবার কোন সম্পর্ক নেই! ঠিক যেমনঃ যখন আমরা বলি হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যার মানে হলঃ হযরত মুহাম্মাদের উপর আল্লাহর সলাত ও সালাম বর্ষিত হোক। এখানে সলাত মানে হচ্ছে রসূলের প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টি। এর জন্য এখন আমরা সবাই মিলে বলব না যে, আমরা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট, আর এটাই সলাত। বরং, নিজেদের সলাতের জন্য রসূল সলাত বলতে শরিআতে যা বলেছেন, তাই করব। যা আমি পূর্বে বলেছিলাম যেঃ
    আর মুসলিমদের জীবনে মূলত একটি শব্দের অর্থ শরিআতের পরিভাষায় যা হয় সেই অর্থই মেনে চলতে হয়।

    এর মানে এই নয় যে, আমি অন্যান্য জায়গায় ব্যবহৃত আভিধানিক অর্থগুলোতেও শরিআতের অর্থ ব্যবহার করতে বলছি। আমি বলছি না যে, এখন স্ত্রীর সাথে তরবারী নিয়ে যুদ্ধ করতে হবে। ঠিক যেমনঃ আমি বলি না যে, ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ মানে আল্লাহর এখন রসূলের উদ্দেশ্যে নামায পড়তে হবে আর এরপর শান্তি বর্ষন করতে হবে!

    আপনি যে আয়াতের দলীল দিয়েছেন, সেটা মাক্কী যুগের আয়াত, এখানে জিহাদ বলতে জোরজবর্দস্তি অর্থেই বোঝানো হচ্ছে, কিন্তু দয়া করে একটি মাদানী যুগের সূরায় জিহাদ শব্দটি দেখুন আর এর তাফসীর দেখুন। আপনার উল্লেখকৃত আয়াতটির সময়কালে জিহাদের কিংবা সিয়াম/রোজা-এর অর্থ নির্ধারিত হয়নি। কারণ জিহাদের শরয়ী অর্থ কিংবা সিয়াম/রোজা-এর শরয়ী অর্থ নির্ধারিত হয়েছে মাদানী যুগে।

    কিন্তু দীন এখন পরিপূর্ণ এবং এটির আর হ্রাস-বৃদ্ধি হবে না, যা হবার তা রসূলের জীবদ্দশাতেই হয়েছে। এখন আমরা যেমন সিয়াম/রোজা পালন করি, একইভাবে জিহাদও করতে হবে।

    আর খুব খুশী হয়েছি যে, আপনি ‘ক্বিতাল’ শব্দটির উল্লেখ করেছেন, আর এর সঠিক অর্থও বলেছেন। যা হল যুদ্ধ, আর যুদ্ধে প্রতিপক্ষকে হত্যা করা হয়। আর শরিআতের পরিভাষায়, আল্লাহর পাক কালিমার প্রতিষ্ঠার জন্য কাফিরদের বিরুদ্ধে ঠিক এই ক্বিতালকেই জিহাদ বলা হয়।

    আপনি একটি বাংলা কুরআনে দেখবেন কিতালের বাংলায় জিহাদই লিখা হয়, আর এটা দীনের শিক্ষাপ্রাপ্ত সব মুসলিমই জানে যে, জিহাদ ফরয, হয় কিফায়া আর নইলে আইন, তা সূরা বাকারার ২১৬ নং আয়াতের উপর ভিত্তি করে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই আয়াতের মূল আরবীতে “ক্বিতাল” শব্দটিকেই ব্যবহার করা হয়েছে, যার মানে দাঁড়ায় যে, আমাদের উপর যুদ্ধ করাই ফরয করা হয়েছে, যেন আর কোন প্রকারের সন্দেহই না থাকে। আল্লাহ আকবার! তিনি সত্যিই কুরআনকে খুব স্পষ্ট ভাষায় নাযিল করেছেন। এরপর শুধু তারাই পথভ্রষ্ট হয়, যাদের হবার কথা পূর্বেই নির্ধারিত হয়ে আছে। আপনি দয়া করে সূরা বাকারার ২১৬ নং আয়াতটি সম্পূর্ন পড়ুন, আসলে সবাইকেই পড়ার জন্য অনুরোধ করছি, যেন সবাই লাভবান হন। তাহলে অনেক কিছু বুঝতে পারবেন আশা করি।

    আপনার তথাকথিত ধর্মযুদ্ধ করতে হবে না, যেটির বাংলা থেকে আরবীতে আপনি অনুবাদ করে শেষ পর্যন্ত দেখালেন যে সেই আরবী কুরআন বা হাদীসে নেই! :D আপনি মূল আরবীতে নাযিল করা ক্বিতাল শব্দটিই পালন করুন। কাফিরদের বিরুদ্ধে ক্বিতাল করুন, আর তা করতে না পারলে অন্তত অপরজনকে ধর্মযুদ্ধের আরবী করে বোকা বানাবেন না।

    ১৩
    • সৈয়দ রিয়াজ বলেছেনঃ

      ভাই আপনাকে একটা মাদানী সূরার আয়াত উল্ল্যেখ করি ৪৯:১৫ এখানেও অজ্বাহাদু শব্দটা ব্যাবহার করা হয়েছে ক্বিতালু না এবং আয়াতটাও খুব স্পষ্ট। যাই হোক আপনাকে রেফারেন্স দুইটা পড়তে বলেছিলাম বোঝাই যাচ্ছে পড়েনি।

      আমরা কথা বলছিলাম জিহাদ নিয়ে যার মানে ধর্ম যুদ্ধ না। ধর্ম যুদ্ধ করত মধ্য যুগীয় কিছু খ্রীষ্টান নাইট, সেই যুদ্ধে পরাজিত সবাইকে সেই ধর্ম গ্রহন করতে হতো অথবা মৃত্যু। আমাদের জিহাদ এর মানে সেটা না এটাই বোঝান মুখ্য ছিল। ইসলাম একটা শান্তির ধর্ম এটা আমাদের নবিজী কখনো কাউকে গ্রহন করতে জোর জবস্তি করতে বলে নাই, যুদ্ধ তো দুরের কথা। উনার উপর যখন যুদ্ধ অবশ্যভাম্বী হয়েছে তিনি যুদ্ধ করেছেন এই নিয়ে অনেক আয়াত ও নাজিল হয়েছে। ২:২১৬ আয়াতে বলা হয়েছে তোমাদের প্রতি যুদ্ধের বিধান দেয়া হল খেয়াল করেন এখানেও ক্বিতালু শব্দটা ব্যাবহার করা হয়েছে আর এর মানে এই না আপনি বিনা কারনে যুদ্ধ করতে থাকবেন আপনার উপর যুদ্ধ উপনীত হইলেই আপনি যুদ্ধ করবেন।
      এই নিয়ে আর বেশী কথা বলব না, আপনি লিঙ্ক দুইটা পড়বেন আশা করি, আর এই নিয়ে আরও কিছু বলার থাকলে নতুন করে পোষ্ট দেন।
      আরেকটা কথা ভাই আপনি আমাকে ক্বিতাল করতে বলতেছেন আর আপনি বসে আছেন ব্লগে ব্যাপারটা ঠিক বুঝলাম না! আপনার তো এতখনে বার্মার বর্ডার ক্রস করে কাফেরদের বিরুদ্ধে ক্বিতাল করার কথা!!!

      ১৩.১
  13. মাদ্রাসায় পড়ি বলেছেনঃ

    আমিও আর বেশী কিছু বলতে চাইনা, কারণ বিষয়টি শিক্ষার জন্য, তর্কের জন্য না, তর্ক করে মজা নিতে আমার ভাল লাগে না! আর এর আগে ইসলামেও নিছক তর্কের উদ্দেশ্যে জ্ঞান আহরণ করা নিষেধ।

    আমার মূল কথা ছিল, শরিআতের পরিভাষায় জিহাদের অর্থ, আর এ ব্যাপারে সাহাবীগন (রদিঃ) থেকে শুরু করে সকল মাজহাবের ইমামগণ (রহিঃ) একমত। জিহাদ মানে কি, সেটা বুঝার জন্য রসূলের (সঃ) হাদীস, সাহাবীদের (রদিঃ) আমল, ন্যায়পরায়ন আলিমদের (রহিঃ) এ অনুযায়ী শিক্ষা দেখতে হবে। আমাদের দীনের শিক্ষা এবং ইতিহাস অনেক ধনী, অনেক পরিপূর্ণ।

    কিন্তু আমরা দীনের অনেক আমল ছেড়ে দেওয়ায় আমাদের উপর আল্লাহ লাঞ্চনা চাপিয়ে দিয়েছেন, আর এর থেকে উত্তরণের উপায়ও হল, যে আমল ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সেটিকে আবার চালু করা। আপনি সূরা মাইদাহ (৫ নং সূরা) এর ৫৪ নং আয়াতটি দেখুন। এতে বুঝাটা সহজ হবে।

    জিহাদ আর ক্রুসেড আলাদা, ইসলাম শান্তির ধর্ম, রসূল জিহাদ করেছেন যখন জিহাদ করা অবশ্যম্ভাবী হয়েছে—এই কথাগুলো সঠিক, কিন্তু আংশিকভাবে। যখন দীনের সম্পর্কে কাউকে প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হয়, তখন শুধুমাত্র এই কথাগুলো বললে সে বিভ্রান্ত হওয়াটা স্বাভাবিক। আর এই কথাগুলো আংশিক সত্য নির্দেশক হবার ফলে, কাফিররাও চায় যেন মুসলিমরা দীনের মূল ধরন সম্পর্কে যেন এরকমই ভাবে। :(

    তাই আমি সহায়ক হিসেবে এই কথাগুলো বলছিঃ

    ইসলাম শান্তির ধর্ম, কিন্তু ইসলাম মানে শান্তি নয়। সালাম মানে শান্তি, আর ইসলাম মানে আত্মসমর্পণ করা। আল্লাহর কাছে একান্তভাবে আত্মসমর্পন করেই প্রকৃত মুমিনরা শান্তি পায়। কাফিররা ইদানিং ভয়াবহ আকারে প্রচার করে যে, ইসলাম মানে শান্তি, যাতে আমরা ওদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামও না নেই :D

    রসূলের (সঃ) উক্তি শুনুন। তিনি (সঃ) বলেছেন যে, “আমাকে পাঠানো হয়েছে কিয়ামতের পূর্ব (অর্থাৎ, রসূল আসার পর কিয়ামতের আর খুব দেরী নেই) মুহুর্তে, একটি তরবারী দিয়ে, যেন আমি মানুষের বিরুদ্ধে জিহাদ করি, যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা ঘোষণা দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল এবং সলাত আদায় করে এবং যাকাত দেয়। যদি তারা তা করে তবে তারা তাদের রক্তকে আমার থেকে নিরাপদ করে নিল, তবে সে ছাড়া যার উপর নির্ধারিত হয়ে পড়েছে (অর্থাৎ, যে এসব মেনে চলেও অপর কোন ভুলের কারণে আর নিরাপদ থাকতে পারবে না, যেমনঃ যদি সে অন্যায়ভাবে অপর মুসলিমকে হত্যা করে থাকে, বা অন্য কোন কুফর বা শিরক করে বা শরিআতের দ্বারা শাসন করা পরিত্যাগ করে)।

    যতক্ষণ না সমগ্র পৃথিবীর সব জাতি আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পন করছে, ততক্ষন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা অব্যাহত থাকবেঃ
    “আর তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যতক্ষণ পর্যন্ত না ফিতনাহ (শির্‌ক)-এর অবসান হয় এবং দীন শুধুমাত্র আল্লাহ্‌র জন্য হয়…”
    -সূরাহ্ আল-বাক্বরাহঃ ১৯৩, সূরাহ্ আল-আনফালঃ ৩৯

    যদি মুসলিমরা নিরাপদ না থাকে, তবে তাদের হিফাজত করার জন্য জিহাদ ফরজ আইন হয়ে যায়। আর স্বাভাবিকভাবে যদি, সমস্ত মুসলিম ভূখন্ড কাফিরদের হাত থেকে মুক্ত থাকে, তখন জিহাদ ফরজ কিফায়া। তখন প্রতি একবছরে অন্তত একবার কাফিরদের সাথে যুদ্ধ করতে হবে। উমার (রদিঃ)-এর যুগকে ইসলামের স্বর্ণযুগ বলা হয়, সেযুগে সবচাইতে বেশী ইসলাম ছড়িয়েছে, কিভাবে? (আক্রমনাত্মক) জিহাদের দ্বারা। তখন খুব অল্প কাফির ভূখন্ডই ইসলামের বিরুদ্ধে পূর্বে যুদ্ধ শুরু করেছে। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে পূর্বে উমার (রদিঃ)-ই মুজাহিদ পাঠিয়েছিলেন। আর উমার (রদিঃ) হচ্ছে তিনি, যার ব্যাপারে রসূল (সঃ) বলেছেন, আমার পরে কেউ নবী হলে সে হত উমার। এর থেকে বুঝা যায় যে, জিহাদ ইসলামের সাথে এক অবিচ্ছেদ্য আমল। ইহা দুই প্রকারঃ (ক) রক্ষনাত্মক, যা ফরজ আইন এবং (খ) আক্রমনাত্মক, যা ফরজ কিফায়া। এখন আমাদের উপর এটি ফরজ আইন হয়ে আছে।

    আক্রমনাত্মক বা কিফায়া জিহাদের পদ্ধতি হলঃ কাফির জাতিকে ইসলাম গ্রহনের জন্য আহবান করা হবে। তারা মেনে নিলে তাদের ভূমি তাদের, তারা মুসলিম হিসেবে সম্মান ও নিরাপত্তা পাবে। যদি তারা মেনে না নেয়, তবে জিযিয়া (এক ধরনের ট্যাক্স, যা কাফিরদের উপর আল্লাহর প্রদানকৃত লাঞ্চনার প্রতীক) প্রদানের আহবান করা হবে, যদি তারা মেনে নেয়, তবে তাদের ভূখন্ড মুসলিমদের, আর তাদেরকে নিরাপত্তা দেওয়া হবে, আর যদি তারা এটাও মেনে নিতে অস্বীকার করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা হবে, তাদের যোদ্ধাদেরকে হত্যা করা হবে, তাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হবে, তাদের ভূখন্ড মুসলিমদের হবে, এরপর তাদেরকে বাধ্য করা হবে জিযিয়া প্রদানে। আর তাদের ভূখন্ডে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হবে। এতে আল্লাহর ইচ্ছায় অনেকেই হয়ত ইসলাম গ্রহন করবে। কারণ বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই কাফির শাসক ইসলাম সম্পর্কে জনগণকে ভুল ধারণা দেয়। জনগণ যখন দেখবে ইসলামের মূল রূপ (মানুষের দাসত্বের পরিবর্তে আল্লাহর দাসত্ব), তখন তাদের অনেকেই ইসলাম গ্রহন করবে। এভাবেই ইসলাম ছড়িয়েছে। জিহাদ করে একটি ভূখন্ড দখলের পরে অত্র ভূখন্ডের কাফিরদের উপর ইসলাম গ্রহনের জন্য জবরদস্তি করা হয়নি, কারণ অন্তরের উপর জবরদস্তির প্রভাব নেই, আর এর আগে ইসলামে জবরদস্তি করা নিষেধ। জিহাদ করে জিযিয়া প্রদানে বাধ্য করার হুকুমের দলিল অনেক আছেঃ এর মাঝে একটি হলঃ সূরা তাওবাহ (৯ নং সূরা)-এর আয়াত নং ২৯।

    আমার এগুলো বলার উদ্দেশ্য দৃশ্যপট আরও স্পষ্ট করা, দীনের বুঝ আরও স্পষ্ট করা।

    নবিজী (সঃ) বলেছেনঃ আমার জীবিকা আমার বর্শার নীচে। অর্থাৎ, জিহাদ করে প্রাপ্ত গনিমতের মালই তার (সঃ) জীবিকা।

    আক্রমনাত্মক জিহাদ কোন ব্যক্তিবিশেষকে ইসলাম গ্রহন করানোর জন্য করা হয় না, বরং এতে একটি জাতিকে ইসলাম গ্রহনের জন্য আহবান করা হয়। আশা করি বুঝতে পারছেন।

    কোন কাফির জাতি যেন পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে চলতে না পারে, মুসলিমরা যেন তাদের আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাসের কারণের তাদেরকে পরাজিত করে তাদের ভূখন্ড দখল করে, যুদ্ধে তাদেরকে হত্যা করে তাদের যোদ্ধাদের সম্পদ দখল করে, এবং তাদেরকে জিযিয়া প্রদানে বাধ্য করে, এটাই আল্লাহর নির্দেশ। এটাই ইসলামের চূড়া।

    রসূল (সঃ) বলেছেন, আমি কি তোমাদেরকে বিষয়টি সম্পর্কে বলব না? বিষয়টি হল ইসলাম, নামায/সলাত হল এটির স্তম্ভ এবং জিহাদ হল এটির চূড়া।

    আর কথা বাড়াতে চাই না, অনেক কথা অনেক কিছু নির্দেশ করে, ইসলাম সম্পর্কে বুঝকে অস্পষ্ট করে দেয়, তাই আমি কিছু স্পষ্টতা আনার চেষ্টা করেছি। আল্লাহ যেন আমাদেরকে হিদায়াত দান করেন এবং আমরা যে দুর্দশার মাঝে আছি সেটা বুঝার তৌফিক দান করেন। আমিন।

    ১৪

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...