ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, মতামত-বিশ্লেষণ

আজকে থেকে সকল Common Gender’দেরকে কথা দিলাম। আপনাদেরকে দেখে কখনও উল্টোদিকে হাঁটবোনা। এই সমাজ হয়তো আপনাদেরকে “মানুষ” হিসেবে যেই সম্মানটুকু প্রাপ্য তাও দেয়নি। কিন্তু আমরা বর্তমান প্রজন্ম অবশ্যই দেবো। আপনাদের অধিকার আদায়ের এই আন্দোলনে আমাদেরকে সবসময় পাশে পাবেন। কারণ আমরা জানি, সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিকে কখনও অবহেলা করা যায় না। শুরুতেই বলে দিচ্ছি, যেই “হিজরা” শব্দটিকে আপনারা গালি হিসেবে ব্যবহার করেন সেই শব্দটিকে অন্তত আমি এখন থেকে আর গালি হিসেবে ব্যবহার করবো না!

আর সবাইকে বলছি, হিজড়া বলে তাদেরকে দূরে সরিয়ে দেবেন না প্লিজ। তারা হিজরা তো কি হয়েছে? বিয়ে করতে পারে না…. এটাই তো?? অনেক পুরুষ বা নারী আছে যারা বিয়ে না করে সারাজীবন একা একা পার করে দেয়। এইভাবে যদি হিসাব করেন তাহলে তারাও কি হিজরা?

না। তারা তা নয়। ইসলাম ধর্মের কথা বললে, আমরা “আশরাফুল মাখলুকাত”। সৃষ্টির সেরা জীব! আমাদেরই একটা অংশকে আমরা কিভাবে অস্বীকার করবো? এটা করা কি সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে আমাদের মানায়?

আচ্ছা! বাদই দিন নাহয় ধর্মকে, সাধারণ বিবেক-বুদ্ধি দিয়েই বিবেচনা করুন! আপনি খেটে খেতে পারেন। কারণ আপনি পুরুষ! আপনার ঘরের মেয়েটা হয়তো একসময় ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে পারে। আপনি স্বপ্ন দেখতে পারেন। মানুষ হিসেবে এটা আপনার অধিকার। তারাও তো মানুষ…. তাদের কি স্বপ্ন নেই? ভালোবাসা নেই?? মায়ের জন্যে কি তাদের মন কাঁদে না???

অবশ্যই কাঁদে। একজন মায়ের অনুভুতি আমি জানি না। তবে এইটুকু জানি যে একজন মা কখনও তার শিশু ছেলে নাকি মেয়ে, নাকি কমন জেন্ডারের তা নিয়ে মাথা ঘামায় না। তার কাছে “সন্তান” পরিচয়টাই সবার উপরে। এই সন্তানকে তিনি ১০ মাস ১০ দিন গর্ভে ধারণ করেছেন। যেমনটা ছেলে বা মেয়ে হলে ধারণ করতে হতো। তিনি এই সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ পান করিয়েছেন। বড় করেছেন। সামান্য কিছু হরমোন! সামান্য…… এই কয়টা হরমোন কি একজনের পুরো জীবনটাকে তছনছ করে দিতে পারে?? হয়তো পারে, কিন্তু আমরা এই কয়েকটা হরমোনের কারণে কাউকে ত্যাগ করবো না!

তাদেরকে বুঝুন, তাদের সেই বুক ফাটা আর্তনাদ শুনুন। তারপর নিজে থেকেই বিচার করুন। তাদেরকে কিভাবে আপনি ফেলে দেবেন এ সমাজ থেকে? সেই কথাটা মনে আছে তো?

“””সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।”””

এই চরিত্রটি সবচেয়ে বেশি বেদনাদায়ক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যায়।।

করুণা দেখাবেন না তাদের প্রতি। তাদের করুণা দেখানোর মতো যোগ্যতা আপনার আমার নাই। এটা স্রষ্টাই কেবল করতে পারবেন। তাদেরকে করুণা না, বরং সমর্থন দিন। সাহস দিন।। যাতে করে তারা একটা সুন্দর জীবনে ফিরে আসার চেষ্টা করতে পারে।

আর ততোদিন? আমরা ১৫কোটি জনতা। তারা চাঁদা তুলতে আসে তো?? হাজার টাকা চায়? শত টাকা চায়?? চায় না! তারা চায় দুই, পাঁচ, দশ টাকা। লাখ টাকার গাড়ি কিনতে পারেন, পকেটের ক্রেডিট-ডেবিট কার্ডটায় সবসময় হাজার হাজার টাকা থাকে। একটা শার্ট কিনতে পারেন দুই হাজার টাকা দিয়ে। আমাদের সমাজের এই অংশটাকে মাত্র ৫টা টাকা দিতে পারবেন না? দিয়েই দিন না ভাই! তারা তো খেটে খেতে পারে না। তাদের পেটটা কি পেট না? তাদের বেঁচে থাকার জন্যে কি খাবার লাগে না? লাগে তো!

মাত্র কয়েকদিন আগের একটা ঘটনা মনে পড়লো। যতদূর মনে পড়ে বৃষ্টি হচ্ছিলো। একজনকে দেখলাম বাঙালী মেয়েদের অফিস পোশাক পড়ে আসছে। তার চোখে-মুখে ভয়! আশেপাশের প্রত্যেকটা মানুষকে দেখে তার ভয়। আমার পাশ দিয়ে গেলো…..মনে হলো ওড়নার নিচে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে! কারওয়ান বাজারের আন্ডারপাসের ঘটনা সেটা। দরজা থেকে বের হয়ে ঘুরে যখন যাচ্ছিলো তখন একনজরের জন্যে তাকলো। তার সেই অসহায় দৃষ্টি দেখে আমার মনে হচ্ছিলো আমি মরে যাই। আমার দেশের একজন মানুষ এতোটা অসহায় হবে? সেতো কোনো পাপ করেনি। হিজরা হয়ে জন্মগ্রহণ করা কি পাপ?? আমার দিকে যখন তাকালো তখন আমি বুঝতেও পারলাম না যে আমার ডান হাতটা কপাল পর্যন্ত চলে এসেছে। “স্যালুটের” ভঙ্গিটা হাসিমুখে বেশ ভালো করেই দেখালাম। হঠাৎ মনে হলো তার সমস্ত ভয় কেটে গেলো। বিষাদময় চেহারা গিয়ে সেখানে হালকা একটু হাসির আভাস দেখতে পেলাম। সে সেই হাসিটুকু নিয়ে হারিয়ে গেলো জনসমুদ্রে। ।

তাদের একটা অংশ প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে যাচ্ছে সমাজের একটা অংশের সাথে। নিজেকে মাঝেমধ্যে খুব ভাগ্যবান বলে মনে হয়। নিজেকে অন্তত “ছেলে” বলে পরিচয় দিতে পারি। কিন্তু সাথে সাথে একটা দ্বায়িত্ববোধও এসে ভর করে। তাদের জন্যে কিছু একটা করার ইচ্ছা! এই ইচ্ছাটুকুতে বাস্তবায়িত করতে আপনার হাজার টাকা খরচ করে ক্যাম্পেইন করতে হবে না। শুধুমাত্র নিজেকে প্রস্তুত করুন। ঐ যে আগেই বললাম, তাদের সাথে স্বাভাবিকভাবে কথা বলুন। তাদের খোঁজ-খবর নিন। এইটুকুই তাদের জন্যে যথেষ্ট!

আমার স্কুললাইফে এক বন্ধু ছিলো। নাম মেরাজ, আরোও ছিলো সামীর, আবির। । । সামীর আর মেরাজের কাজে আমরা অনেকসময় হাসাহাসি করতাম। কিন্তু এখন যদি ও সামনে থাকতো। তাহলে ওর সেই কাজের জন্যেই ওকে স্যালুট করতাম! যেই হিজরাদের দেখে অনেকের কলিজায় পানি থাকেনা সেই হিজরাদের সাথে সে গল্প করতো। তাদের খোঁজ-খবর নিতো। ওর মধ্যে কোনো সংকোচ ছিলো না। বন্ধু, সত্যি করে একটা কথা বলছি। তাদের সাথে এই বন্ধুত্বটাকে হয়তো তোর চাইতে ভালো করে আর কেউ অনুভব করতে পারবে না।

জানি যে এটা একটা অনেক দীর্ঘ প্রসেস। বেশিরভাগ ছেলেরা মেয়েদেরকেই “মাইয়া মানুষ” এর দৃষ্টিতে দেখে, শুধুমাত্র “মানুষ” হিসেবে দেখতে পারে না!! তাহলে কমন জেন্ডারদের সম্পর্কে তাদের কি ধারণা থাকে?

যেতে চাই না সেই প্রসঙ্গে। শুধু চাই; আমার দেশের প্রত্যেকটা মানুষ যেনো ভালোভাবে, মিলে-মিশে থাকতে পারে। মানুষের ভেতর যেনো সেরকম আন্তরিকতা থাকে। একের বিপদে যাতে দশজন এগিয়ে আসে! সে ছেলে হোক, মেয়ে হোক…কিংবা হোক, কমন জেন্ডার!

-ভালো থাকুক, নিরাপদে থাকুক আমার দেশের প্রত্যেকটা নারী, প্রত্যেকটা পুরুষ, প্রত্যেকটা “কমন জেন্ডার”

– - – - – - – - – - – - – - – - – - – - –

ফেসবুকে স্ট্যাটাস হিসেবে দেওয়া হয়েছিলো:::
facebook.com/tajulislam/posts/3886696694368

***
ফিচার ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহিত

২২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. জিনিয়া বলেছেনঃ

    মুন্না ভাই, এই চমত্কার পোস্ট এর জন্য আপনাকে স্যালুট..প্রথম যখন কমন জেন্ডার নামের নাটকটি নেটে দেখেছিলাম..গলার কাছে দলা পাকানো কান্না কিছুতেই আটকে রাখতে পারছিলাম না..মুভিটি এখনো দেখিনি..আমিও প্রতিজ্ঞা করেছি, কখনোই তাদের প্রতি ভিন্নকোন দৃষ্টিতে থাকবো না..তারাও আমাদের মতই মানুষ.।

    আপনার জন্য শুভকামনা..

  2. এস দেওয়ান বলেছেনঃ

    যারা সন্তান জন্ম দিতে পারছে তাঁরাই অপরিকল্পিত ভাবে সন্তান জন্ম দিয়ে দেশটাকে ডোবাচ্ছে । এই কমন জেন্ডাররা অপ্রয়োজনীয় সন্তান জন্ম দিয়ে দেশের যে বারোটা বাজাচ্ছে না নিঃসন্দেহে এটি একটি ইতিবাচক দিক । অপরিকল্পিত ভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধিই বাংলাদেশের দারিদ্রতার মূল কারণ । দেশের কল্যাণের জন্য কমন জেন্ডারদের আরো বেশি জন্ম হোক এই প্রত্যাশাই রইলো । :lol: :lol: :lol: :lol: :lol:

  3. সত্যমে-ব-জয়তে

    সত্যমে-ব-জয়তে বলেছেনঃ

    লিখাটি অবশ্যই ভাল । হিজড়াদের কোমন জেন্ডার বলে একটা সিনেমা তৈরি করা হয়েছে । আপনার দোষ নেই , তবে যিনি সিনেমা তৈরি করেছেন তার জানা উচিত ছিল হিজড়া-রা কোমন জেন্ডারের মধ্যে পরেনা । উহারা ক্লিব জেন্ডারের অন্তর্ভুক্ত । ! হইত-বা ভাববেন, জড়পদার্থ না হয়েও কেন ক্লিব হল । আসলে যাদের যৌন ক্ষমতা নেই তারাও ক্লীব হয় । হিজড়া রা কোন ক্ষমতার অধিকারী নোন । তাদের না আছে পূরুষত্ব, না আছে নারীসত্ব । তারা সন্তান জন্ম দিতেও জানেনা, জন্মদানে কাজ করতেও পারেন না । যদি উভয় লিঙ্গ বা কোমন হতো , তবে এক একজন হিজড়া কারো সহায়তা ছাড়াই সন্তান জন্মদিত , কেননা, তাদের উভয় ক্ষমতাই থাকত । .। বিশ্বাস না হলে দেখুন হিজড়া শব্দটির উৎপত্তি । এটা হিন্দি শব্দ থেকে এসেছে , এটা ক্লীব লিঙ্গ ।

  4. জহিরুল চৌধুরী বলেছেনঃ

    জিনিয়ার নির্দেশে নাটকটি দেখলাম। খুব চমৎকার। বাবু’র সাহসিকতাপূর্ণ অভিনয়ের জন্য অনেক সাধুবাদ। যারাই অভিনয় করেছেন, তারা সময়ের সাহসী সন্তান।
    যাই হউক, ইংরেজীতে এই আদম সন্তানদের বলে ট্রান্স জেন্ডার। যারা জীব বিজ্ঞান পড়েছেন, তারা জানেন প্রাণী জগতে জেন্ডারাইজেশনে কিছু ‘বায়োলজিক্যাল এরর’ থেকে যায়। ফলে স্ত্রীপুরুষের ভাগাভাগি সরল রেখা টানা অসম্ভব। এই ভাগাভাগির জায়গাটিতে আমরা কিছু আদম সন্তান পেয়ে যাই। আমাদের সমাজে এরা যারপর নাই কস্টের মধ্যে আছে। এদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, এবং বেড়ে ওঠার কাজে আমরা সবাই সাহায্য করতে পারি। ব্লগ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ, ফিচার পোস্ট করার জন্য।

  5. নুরুন্নাহার শিরীন

    নুরুন্নাহার শিরীন বলেছেনঃ

    তাজুল, ভাই, অভিবাদন আপনাকে চমতকার এই পোস্টের জন্য। যে দেশে কন্যাজন্ম আজও প্রিয়তা পেলোনা, সেই দেশেই কমন জেন্ডার যাদেরকে আমরা ছেলেবেলা থেকেই “হিজড়া” হিসেবে জানি, অত্যন্ত তুচ্ছতায় তাচ্ছিল্যভরে দূরে সরিয়ে দিতে অভ্যস্ত, অথচ ওরাও সমাজের অংশ। ওদেরও রয়েছে মানুষ হিসেবে নূন্যতম সন্মান নিয়ে বাঁচার অধিকার। নিশ্চয় আমাদের তাদের ন্যায্য অধিকারটি দিতে আপত্তি থাকা অন্যায়, বড়োই অন্যায়। একবার অন্ততঃ ভাবা উচিত আজ, আমিও কিন্তু “হিজড়া” হয়ে জন্মাতে পারতাম …তাহলে কেন অযথা তাদেরকে এমন মানবেতর জীবন বয়ে বেড়াতে হবে …নিজেকে দিয়ে বিচার করলেই হয়তো কমন জেন্ডার হওয়া যে মোটেও কোনও অপরাধ না, এই সত্যটি হৃদয়ঙ্গম সহজ হয়।

  6. রীতা রায় মিঠু বলেছেনঃ

    অসাধারণ বিষয় নির্বাচন, মন ক্ষয়ে যাওয়া অনুভূতি। মানুষের স্বভাবধর্ম হচ্ছে ‘না পাওয়ার অতৃপ্তি’তে ভোগা। আমরা যারাই সব সময় ‘ জীবনে কিছুই পেলাম না’ জাতীয় অতৃপ্তিতে ভুগি, এই পোস্টটি তাদেরকে একটু সময়ের জন্য হলেও ধাক্কা দেবে মনে ও চেতনায়! এক মুহূর্তের জন্য হলেও মনে হবে, আমি সব পেয়েছি, আমি একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে হয়ে জন্মেছি, আর কী চাই! অবশ্য এক মুহূর্তের ভাবনা মুহূর্ত পরেই মিলিয়ে যাবে, আবার নেমে পড়বো ‘সব পাওয়ার’ প্রতিযোগীতায় অথবা ডুবে থাকবো ‘কিছুই পেলাম না’ হতাশায়! বিনাদোষে এই সম্প্রদায়ের মানুষগুলোও বরাবরের মত থেকে যাবে সমাজে অবহেলিত, অনাদৃত এবং একঘরে হয়ে!
    তাজুল ইসলাম মুন্নাকে অনেক ধন্যবাদ, আমাদেরকে এক মুহূর্তের জন্য হলেও ‘খুব জোর’ এক ধাক্কা দেওয়ার জন্য এবং ব্লগ টীমকে ধন্যবাদ মুন্নাকে এ কাজে সহযোগীতা করার জন্য। হোক না মুহূর্তের চেতনা, তবুও আমাদের চেতনা জাগ্রত হোক, দুই একজন তো এগিয়ে আসবেই এই অসহায় মানুষগুলোর প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে :-D

  7. নীলকন্ঠ জয়

    নীলকন্ঠ জয় বলেছেনঃ

    নাটকটা দেখেছি আর চোখে জল ধরে রাখতে পারি নি শেষ কয়েকটি দৃশ্য দেখে। ওরা যে সত্যিকারের মানুষ হয়ে উঠবে আমাদের একটু সহযোগীতা পেলে।আমাদের মত ওদেরও সুন্দর একটি মন আছে।তাই তাদেরকে আতঙ্ক না ভেবে নিজেদের সমাজের একজন ভাবুন দেখবেন ওদের সুন্দর মনের পরিচয় কত সহজেই পেয়ে যাবেন।
    একবার একজনকে প্রশ্ন করেছিলাম, ”গাল-মন্দ খাওয়ার চেয়ে কাজ করা ভালো না?”উনি আমার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বলেছিলেন,”তোমাদের সমাজ আমাদের শিক্ষার অধিকার দেয়না,ভালোভাবে বঁচার মর্যাদা দেয় না,কাজ চাইলে কাজ দিবে কে?” কি যে কষ্ট পেয়েছিলাম এই নিষ্ঠুর সমাজের একজন হয়ে বোঝাতে পারব না।মাথা নিচু করে ছিলাম লজ্জায়।
    লেখক মন থেকে আপনাকে ধন্যবাদ জানাই এত সুন্দর একটা পোষ্টের জন্য।
    ভালো থাকুন।

    ১১
  8. আব্দুল মালিক বলেছেনঃ

    শুধু চাই; আমার দেশের প্রত্যেকটা মানুষ যেনো ভালোভাবে, মিলে-মিশে থাকতে পারে। মানুষের ভেতর যেনো সেরকম আন্তরিকতা থাকে। একের বিপদে যাতে দশজন এগিয়ে আসে! সে ছেলে হোক, মেয়ে হোক…কিংবা হোক, কমন জেন্ডার!

    শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

    ১২
  9. Md Enamul Haque বলেছেনঃ

    ধন্যবাদ লেখক, মন থেকে আপনাকে শুভেচ্ছা জানাই এত সুন্দর একটা পোষ্টের জন্য। এবং তাদের প্রতি সমবেদনা জানাইতেছি ।

    ১৩
  10. নারায়ন সরকার

    নারায়ন সরকার বলেছেনঃ

    @লেখক একটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ও ভালো বিষয়ের অবতারণা করেছেন এ জন্য তাকে অনেক ধন্যবাদ। আমাদের সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত একটি অংশ হলো এরা। আমাদের মতো তথাকথিত স্বাভাবিক মানুষেরা প্রতি মূহুর্তে তাদের প্রতি বৈষম্য, অবিচার ও নির্যাতন করে থাকে। আর দশটা মানুষের মতো তাদের মানবিক ও জৈবিক চাহিদা গুলোর প্রতি আমরা সর্বদাই উদাসীন থাকি। তাদেরকে ঘৃণা ও ভয়ের চোখে দেখি এবং আমাদের সন্তানদেরকেও শিখাই। কিন্তু তাদের মধ্যেও যে সুন্দর মানুষ থাকে তা কখনও খুঁজে দেখি না। হিজরা তথা ট্রান্সজেন্ডারদের বিষয়ে আরো গভীর ভাবে জানতে আমি পাঠকদেরকে বন্ধু ওয়েলফেয়ার সোসাইটি কর্তৃক নির্মিত “আমরা কি এতই ভিন্ন” ডকুমেন্টেরী ফিল্মটি দেখার অনুরোধ করছি।

    ১৪
  11. শাহ আবদালী বলেছেনঃ

    “করুণা দেখাবেন না তাদের প্রতি। তাদের করুণা দেখানোর মতো যোগ্যতা আপনার আমার নাই। এটা স্রষ্টাই কেবল করতে পারবেন। তাদেরকে করুণা না, বরং সমর্থন দিন। সাহস দিন।। যাতে করে তারা একটা সুন্দর জীবনে ফিরে আসার চেষ্টা করতে পারে।”
    —– চিন্তার জড়তা কেটে দিলেন। অনেক অনেক ধন্যবাদ ।

    ১৫
  12. dastagir বলেছেনঃ

    আসলে যে বাবা মায়ের ঘরে এরা জন্ম নেন, তারা কেন তাদের নিজেদের সন্তানকে হিজড়া পল্লীতে পাঠিয়ে দেন ? মূলত তাদের সমাজের বোঝা বানাচ্ছে তাদেরই বাবা মা । কমন জেন্ডার হয়ে পৃথিবীতে জন্ম নিয়ে তারা তো কোন অন্যায় করেনি । তবে কেন তাদেরকে এভাবে শাস্তি দেয়া হয় ? আমার মতে যাদের ঘরে এদের জন্ম হয়েছে তাদের ঘরেই এদের ফিরিয়ে নিতে হবে, তাদের সম্পদেরই অংশীদার হবে এরা । তারা তাদের বাবা মায়ের অন্যান্য সন্তানদের মতই সমান স্বীকৃতি পাবার বৈধ হকদার। সরকারের উচিত এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া । এভাবে একটা সন্তানকে অনিরাপদ অবস্থায় নিক্ষেপ করা বড় ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত ।

    ১৬
  13. মজিবর বলেছেনঃ

    মুন্না ভাই চমত্কার বিষয় নির্বাচনের জন্য ধন্যবাদ। একটিই যুক্তি তারা মানুষ মানুষ মানুষ .. এর বাইরের নন। তাদের মানুষ হিসাবেই থাকুক এই সমাজে। যারা ঘৃণা বা অবহেলা করে তাদের নিকট মাত্র একটি প্রশ্ন আপনার জন্ম ঐ অবস্থায় হলেও তো হতে পারতো? এখন সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দিয়ে সমাজে নারী, পুরুষ, হিজড়া বা বিহলক্কা যেই হোকনা কেন নির্যাতিত অবহেলিত যেকোনে সম্প্রদায়কে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসুন।
    পৃথিবীতে কেউ করুণা পাবার জন্য নয়, প্রততেকের অধিকার আছে সমভাবে বাঁচার।

    ১৭

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...