ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

আমার ছোট্ট জীবনেই দেখেছি বিজয় দিবস এক সময় পালন করা হতো সীমাবদ্ধতায়। সেখানে অনুপুস্থিত থাকতো বঙ্গবন্ধুর কথা, জাতীয় চার নেতার কথা, মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের পূর্ণাঙ্গ কথা, একাত্তরে নেতৃত্ব দেয়া রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগের কথা, গোপন করা হতো রাজাকারদের বীভৎসতার পূর্ণাঙ্গ চিত্র। সে সময় তুলে ধরা হতো আংশিকভাবে কিছু ইতিহাস, করা হতো ইতিহাস বিকৃতি।

এখন মানুষ মন খুলে বিজয় দিবস উদযাপন করছে এটা দেখতে আমার খুব ভাল লাগছে। আমার গ্রামে যেখানেই বসছি সেখানেই ঘুরেফিরে স্বাধীনতা সংগ্রামের গল্প হচ্ছে। যারা রাজনীতি করে তারা তো পালন করছেই বিভিন্ন প্রোগ্রামের মাধ্যমে আর যারা আমরা সাধারণ তাদের মাঝেও আলোচনা হচ্ছে ইতিহাসের নানান বাঁক নিয়ে।

fb_img_1481892602449

ফেইসবুক খুলেও দেখতে পাচ্ছি বিজয় দিবস নিয়ে উৎসাহ-উদ্দীপনা। ফেইসবুক হলো বিভাজনের জায়গা! এখানে অনেকেই বিজয় দিবস কে ঘিরে প্রোফাইল পিক দিচ্ছে। আরেকদল তার বিরোধীতা করছে। তাদের যুক্তি এটা দিবস কেন্দ্রীক দেশপ্রেম! তারা কোনো ইতিহাস জানেনা! যদি ধরে নেই এটা দিবস কেন্দ্রীকই, তারা ইতিহাসও জানেনা; আচ্ছা পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস জানেনা বলে কি তারা বিজয় দিবস উদযাপন করবেনা? সারা বছরে প্রোফাইল পিক পতাকায় রাঙায়নি বলে কি তাদের দেশপ্রেম প্রশ্নের সম্মুখীন হবে? বা কেউ কি এই দিনটি ঘিরে আনন্দের সাথে ইতিহাসের পথে হাটতে পারেনা? ব্যক্তিগত ভাবে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমার যেকোনো রকম পজিটিভ উদ্দীপনা দারুণ লাগে। এই দিন সবার যেমন ইচ্ছে আইনের মধ্য থেকে উদযাপন করা উচিৎ। হয়তো এই একদিন সারা জীবনের জন্য কারো মনে দেশপ্রেমের প্রদীপ জ্বালাবে। কেউ নিজে অথবা তার অনুসারী কেউ হতে পারে সেই আলোয় আলোকিত।

মুক্তিযুদ্ধের আদর্শিক যে চেতনা সেটা আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে সব ক্ষেত্রে। এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদার বিকাশ ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করাই তো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। আমাদের প্রথম সংবিধানে যা প্রতিফলিত হয়েছিল মূল চার নীতিতে ‘গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদে।’

সবাইকে বিজয় দিবসের প্রাণঢালা শুভেচ্ছা জানাই। সেই সাথে স্মরণ করি সকল শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের। স্মরণ করি জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।