ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

ঈশ্বরদী রেল জংশন পাবনার অনেক বড় প্রাপ্তি। বৃটিশ আমলে এটা স্থাপিত। হার্ডিঞ্জ ব্রীজ আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে তার সংস্কারও হয়। পাবনা সদর হতে ঈশ্বরদী উপজেলার দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। এজন্য পাবনাবাসীর বহুদিনের চাওয়া ছিল যেন পাবনা সদর থানায় রেল লাইন স্থাপন হয়।  বহুদিনের সেই আশা পূরণ হয় ২০১১ সালে রেল লাইন প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হওয়ার মধ্য দিয়ে।

এর পরেই কাজ শুরু হয় এই প্রকল্পের। ৭৮ কিলোমিটার দৈর্ঘের এই রেল লাইন হবে ঈশ্বরদী থেকে পাবনা হয়ে ঢালার চর পর্যন্ত।এই প্রকল্পের কাজ সরেজমিনে শুরু হয় জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে। অধিগ্রহণ শেষে মূল কাজ শুরু হয় মাটি ও বালু দিয়ে রেল লাইনের ভিত্তি প্রস্তুতের মাধ্যমে। আর এই জন্য প্রয়োজন পরেছে প্রচুর বালু ও মাটি। এ জন্য একশ্রেণীর প্রভাবশালীরা নদী খনন করতে শুরু করেছে অপরিকল্পিত ভাবে।

16144872_10210394582373867_662217051_n(1)
অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে

যার জন্য পরিবেশের উপর কুপ্রভাব পড়ছে। আবাদি জমি নষ্ট হচ্ছে। আগামী বর্ষায় নদীর তীরবর্তী বাড়ীঘর হুমকির সম্মুখীন হবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। সেই সাথে ধ্বংস হচ্ছে লোকাল রাস্তা যা বালু ও মাটিবাহী ভারী ট্রাকের ভার বহনে সক্ষম নয়। এভাবে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে উঠেছে।আগে যে রাস্তা গ্রামীণ জীবনের সহজ সমাধান ছিল যাতায়াতের জন্য তা এখন হয়ে উঠেছে চলাচলের অনুপযুক্ত। এ ধরণের বড় প্রকল্প গ্রহণ করার পূর্বে প্রশাসনের যথেষ্ট প্রস্তুতি নেবার প্রয়োজন। যার ফলে জনজীবনে যাতে দুর্ভোগ নেমে না আসে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট জিনিসপত্র কোথা হতে সংগ্রহ করা হবে, কোন পথে সংগ্রহ করা হবে, কারা সেই উপকরণ সরবারহ করবে তার একটি সুন্দর পরিকল্পনা থাকা দরকার। এক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কার্যক্রম তদারক করা প্রয়োজন যাতে তারা পরিবেশের ক্ষতি না করে নির্মানের উপকরণ সংগ্রহ করে সঠিক উৎস থেকে। যাতে সরবরাহের রাস্তার সম্ভাব্য ক্ষতি না হয় সেই ভাবে গড়ে তুলতে হবে। এই সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যবসায়ী যেন পরিবেশের ক্ষতি না করে সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদারক করতে হবে।

সড়ক বালুবাহী ভারী যান চলার কারনে ধ্বংস প্রাপ্ত হয়েছে
প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত ভারী যানের চলাচলের ফলে ধ্বংস প্রাপ্ত রাস্তা
16128930_10210394582693875_479009736_n

এ ধরণের প্রকল্প দক্ষ কন্ট্রাক্টর দিয়ে হয়তো করানো হয় কিন্তু দেখা হয় না সেই সব কন্ট্রাক্টর কোথা হতে, কিভাবে নির্মানের উপকরণ সংগ্রহ করছে। যার ফলে তারা বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতি করে নির্মান উপকরণ সংগ্রহ করছে। এতে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি শুধু সাধিত হচ্ছে না, সেই সাথে উন্নয়নের নীচে ধসে যাচ্ছে সম্পদ।

16129343_10210394582493870_220238818_o

প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত ভারী যানের চলাচলের ফলে ধ্বংস প্রাপ্ত রাস্তা

প্রশাসনের কাছে আমার চাওয়া থাকবে এ ধরণের বড় প্রকল্প হাতে নেয়ার আগে যথেষ্ট হোম ওয়ার্ক করে যেন নেয়া হয়। যেন প্রকল্পের কারনে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো সমস্যার উদ্ভব না হয় এবং সেই সাথে পরিবেশের যেন কোনো ক্ষতি না ঘটে।