ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

বর্তমানে সকল বিশিষ্ট জনের মুখে মুখে একই কথা চাকুরীর পিছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হন যেমনটা দুইদিন পূর্বে আমাদের গভর্নর স্যারও বলেছেন। আমি দ্ব্যর্থহীন ভাবে এর পক্ষে। তবে সাহেবরা জানেন কি আমাদের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য কতটুকু সহায়ক? নোবেল বিজয়ী ড.মোহাম্মদ ইউনুস, স্যার ফজলে হাসান আবেদ তাদেরও চাকরি দিয়েই জীবন শুরু। আজকের গভর্নর তিনি হয়ত জানেন না চাকুরী পাইছিলেন বলেই আজ আপনে গভর্নর। আসলে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় উদ্যোগী হওয়ার মতো কিছু নেই। বিস্তারিত আলোচনার পূর্বে যারা না জানেন তাদের উদ্দেশ্যে বলি উদ্যোক্তা (Entrepreneur) শুধু ব্যবসায়িক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত না, যে ব্যক্তি একটি গান কিংবা কবিতা লিখেন, পাঠদানের নতুন নতুন পন্থা উন্মোচন করেন কিংবা নতুন কিছু বৈজ্ঞানিক বিষয় আবিষ্কার করেন তিনিও একজন উদ্যোক্তা। আমার মতে মুক্তিযোদ্ধারা সব থেকে বড় উদ্যোক্তা। যেকোন বয়সেই উদ্যোক্তা হওয়া যায়। যা হোক চাকুরীর পিছনে না ছুটে একজন, উদ্যোক্তা তখনই হতে চাইবে যখন:-

১.শুরু থেকেই পাঠ্যপুস্তক এ উদ্যোক্তা হওয়ার জন্যে জোর দিতে হবে। গতানুগতিক গদ্য, পদ্য উপন্যাস বাদ দিয়ে প্রতিটি বিষয়ে innovative বিষয় যোগ করতে হবে।

২.পরীক্ষার পশ্নপত্রে কবিতার ভাবার্থ, বিলাসির/ হৈমন্তীর চরিত্র, Journey by Boat, Rainy Season, Winter Morning এ সব বিষয় যানতে না চেয়ে প্রশ্ন করা হবে একই ভাবার্থ এর একটা কবিতা নিজে থেকে লিখুন, নৌকা অনুসরন করে একটা জাহাজ নির্মানে কি কি লাগে লিখুন। বর্ষায় ও শীতে কোন সব্জি কিভাবে আপনে চাষ করবেন লিখুন।

৩.যেকোন বিষয়ের পরিক্ষা হবে- ৫০% ব্যবহারিক, ৫০% লিখিত। পরিক্ষা কেন্দ্রে প্রতিটি বিষয়ের সরাসরি মৌখিক পরিক্ষা নেয়া উচিৎ।

৪.দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত কোন বিভাগ থাকবে না সবাই মানবিক, বানিজ্য, বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিতে মৌখিক পরিক্ষার মাধ্যমে নির্দিষ্ট বিষয়ে পড়তে নয় গবেষণা করতে দেয়া হবে।

৫.বিশ্ববিদ্যালয়ে যে যে বিষয়ে গবেষণা করেছেন তাকে সেই ক্ষেত্রের বাহিরে কোন চাকুরীর আবেদনের সুযোগ দেয়া হবে না। প্রয়োজনে অধ্যয়নকালীন বিষয় পরিবর্তন করতে পারবেন।

৬.সমাজে একজন বিসিএস ক্যাডারের থেকে একজন কৃষক উদ্যোক্তাকে সম্মান বেশি দিতে হবে।

৭.মেয়ের পরিবার চাকুরিজীবীর থেকে একজন উদ্যোক্তার কাছে মেয়ে বিয়ে দিতে আগ্রহী হতে হবে।

৮.সরকারকে মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি একজন উদ্যোক্তাকেও তার নতুন উদ্ভোবনের জন্য আলাদা ভাবে সম্মানিত করতে হবে। কারণ দেশ স্বাধীন করছে মুক্তিযোদ্ধারা দেশকে উন্নত করবে উদ্যোক্তারা।

৯.উদ্যোক্তাদের আর্থিক- অনার্থিক প্রণোদিত করতে হবে।

১০.পিতা-মাতার স্বপ্নই হবে সন্তান উদ্যোক্তা হন।

পরিশেষ, মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নত দেশ তখনি হবে যখন এ দেশের মানুষ সত্যিকার অর্থে চাকুরীর পিছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হবেন। এটা দেশের সরকার জানেন, গভরণর জানেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় উপায় কি তা জানলেও প্রয়োগ করেন না। যদিও উন্নত দেশের পূর্বশর্ত উদ্যোক্তা বাড়ানো। তবে এটা বলতে পারি যেহেতু আমরা বাংলাদেশি উন্নত দেশ না হওয়া অবধি আমারা চাকর হওয়ার লোভ সামলাতে পারবো না।