ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

84cea1c8aa09a60df0408abb7d7bc5b4-5

মাত্র চার বছর বয়সী একটি শিশু। যে তার সবথেকে আপন, সবথেকে নির্ভরযোগ্য আশ্রয় মায়ের হাতটি ধরে আছে। মা, যে কিনা নিজের জীবন বাজি রেখে সন্তানকে বাঁচান। সেই মা ই কিনা এমন অবোধ একটি শিশুকে টোপ বানায় পুলিশ সদস্যদের হত্যা করতে!

মানুষ কতটা হিংস্র, কতটা অমানুষ, কতটা উন্মাদ হলে পড়ে এটি করতে পারে? যারা এই সব অমানুষ; এই সব হিংস্র জানোয়ার তৈরি করছে। যারা পবিত্র ধর্মের এমন কুৎসিত অবমাননা করছে তাদের চেহারা কি কোনদিন উন্মোচিত হবে?

এইসব উন্মাদদের মেরে ফেলুন, চরম শাস্তির আওতায় আনুন এতে হয়ত জঙ্গিবাদ কিছুটা দমিয়ে রাখতে পারবেন। কিন্তু এই এদের যারা তৈরি করছে তাদের খুঁজে বের করতে না পারলে এই অমানুষ তৈরির প্রক্রিয়া বন্ধ হবে না। শিশু সাবিনারা কোনদিন নিরাপদ থাকতে পারবে না। নিরাপদ থাকবে না এ সমাজ, এ দেশ।

ধর্মের সারকথা শেখান আপনার সন্তানদের, আপনার স্বজনদের। কোন ধর্মই উগ্রবাদ সমর্থন করে না। উগ্রবাদের মাধ্যমে পৃথিবীতে কোন ধর্মই প্রতিষ্ঠিত হয়নি। যারা এটা করাচ্ছে তারা পার্থিব হীন স্বার্থ চরিতার্থ করতেই এটা করাচ্ছে। আর যারা করছে তারা বিভ্রান্ত। এর থেকে পরিত্রাণের জন্য এগিয়ে আসা প্রয়োজন ধর্মীয় নেতাদের। তারা যে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন না এর জন্য তাদেরকেই জবাবদিহি করতে হবে। একই সাথে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া সময়ের দাবি।

সরকার এর জন্য যে বিএনপির উপরে দায় চাপাচ্ছে সেটাও সুবিবেচনাপ্রসূত নয়। তাদের কাছে যদি প্রমাণ থেকেই থাকে তাহলে তাদেরকে কেন আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না? আর যদি প্রমাণ নাই থাকে তাহলে এভাবে ব্লেইম গেম খেলে প্রকৃত দোষীদের কেন পার পাইয়ে দেয়া হচ্ছে?

আমরা জানি না প্রশাসন কি জঙ্গিবাদ নির্মূলকে টার্গেট করে লড়ছে নাকি জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণকে টার্গেট করে লড়ছে। যদি জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণ উদ্দেশ্য হয় তাহলে খুব বেশি কিছু আশা করা ঠিক হবে না। মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয় যেমন বলেছেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কোনোভাবেই জঙ্গিদের সংগঠিত হতে দেবে না।

এই যদি হয় অবস্থান তাহলে তা তো জঙ্গিদের জন্য স্বস্তির বার্তা। তারা সংগঠিত হতে না চাইলেই যদি নিরাপদ থাকেন তাহলে তারা বিচ্ছিন্ন থেকেই তাদের শক্তি সঞ্চয় করে যাবেন আর সময়ের অপেক্ষায় থাকবেন। এটা নিশ্চয়ই সাধারণ মানুষের চাওয়া নয়।

হলি আর্টিজান হামলার আগ পর্যন্ত সরকারের গা ছাড়া ভাব আমরা দেখেছি, আর এখনো যে জঙ্গি নির্মূলের কোন সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তেমনটি দেখতে পাচ্ছি না। সরকার নিজেই কি তবে জঙ্গিবাদ নির্মূলের বিষয়ে দ্বিধায় আছে?

জঙ্গিবাদ নির্মূল যদি উদ্দেশ্য হয় তাহলে শুধু প্রশাসন নির্ভর হয়ে থাকলে চলবে না। একটি সুপরিকল্পিত সুসংগঠিত সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে। যেখানে ভূমিকা থাকবে ধর্মীয় নেতাদের, সকল রাজনৈতিক দলের, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে প্রতিটি সামাজিক প্রতিষ্ঠানের। জরুরী সমাজের সকল স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ।

মৃত্যু অবধারিত কিন্তু সে মৃত্যু হোক স্বাভাবিক। কোন অস্বাভাবিক মৃত্যু কাম্য নয়। বেঁচে থাক শিশু সাবিনারা। একরাশ ঘৃণা নিয়ে বেঁচে থাক এই সব উন্মাদ আর তাদের স্রষ্টাদের উপর।

kmgmehadi@gmail.com