ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

bnp20160228054447
যে কোন আন্দোলনের পেছনে হয় থাকতে হবে আদর্শিক ভিত্তি নয়ত অর্থনৈতিক। বিএনপির কর্মীদের সামনে এ দুটোর একটিও নেই, কেন তারা নিজেদের বিপদ ডেকে আনতে অযথা আন্দোলনে নামবে? বিএনপি না পারছে কোন দর্শন দিতে, না পারছে টাকা উড়াতে অথচ দলটির কর্মী সমর্থকের জন্মই হয়েছিল লাভা লাভের বিচারে। এখন যেখানে লাভের খাতা শূন্য সেখানে নেতাকর্মীদের দিয়ে আখের গোছানোর চিন্তা করাই তো তাদের বাতুলতা।

বিএনপির নেতৃত্ব হয়ত ভাবছে এক কালের ঋণ শোধের দায় থেকে নেতা কর্মীরা দল বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পরবে। তাদের এটা মনে রাখা উচিত যারা শুধু মাত্র অর্থের লোভে অথবা অন্য কোন বিশেষ প্রাপ্তির আশায় একদা দলে ভীর জমিয়েছিল আর যাই হোক তাদের মধ্যে ভাল মানুষের কোন উপাদান ছিল না। আর দায় শোধের ভাবনাটা তো নিছক ভাল মানুষদের কাছ থেকেই আশা করা যায়।

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক যে বিশেষ শক্তিগুলি ক্ষমতাবান ছিল আজকের বাংলাদেশে সেই শক্তির কোন অস্তিত্ব নেই। সে সব অপশক্তির অস্তিত্ব লোপ পেয়েছে বলেই এখন নানা নামে নানান ঢঙ্গে নতুন নতুন অপশক্তির জন্ম দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এ সব শক্তি যে খুব বেশি গেঁড়ে বসতে পারছে না তা তো সহজেই অনুমেয়। তার প্রধান কারণটি হল শেখ হাসিনা। তার সময়োপযোগী কিছু সাহসী সিদ্ধান্ত যে বাংলাদেশকে বিশ্বে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে তা তার ঘোর শত্রুও স্বীকার করতে বাধ্য। শেখ হাসিনা এখন কেবল আওয়ামীলীগেরই কাণ্ডারি নন। পিতার মতই তিনিও দলীয় বৃত্ত ভেঙ্গে দল মত নির্বিশেষে জাতির কাণ্ডারি হয়ে উঠেছেন।

বিএনপির ঘোড় সমর্থক এমনকি তৃণমূলের নেতা কর্মীদের সাথে কথা বললেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিএনপির তৃণমূলের একটি বড় অংশও মনে করে এই মুহূর্তে দেশের স্বার্থে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বিকল্প নেই। জাতির জন্য স্বস্তির হলেও এটা বিএনপির নেতাদের জন্য অশনিসংকেত। বিএনপি নেতৃত্ব ব্যক্তিগত এবং দলীয় লাভের বাইরে নেতা কর্মীদের সামনে এমন কোন আশার আলো দেখাতে পারেন নি যা তাদের নেতাদের প্রতি বাধ্য গত করে রাখতে পারে। উল্টো শেখ হাসিনার দেশপ্রেম, সততা, নিষ্ঠা আর সাহস তাদেরকেও প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছে।

কাজেই বিএনপিকে ক্ষমতার স্বপ্ন দেখতে হলে কেবল গণতন্ত্রের নামে অন্তঃসার শূন্য আন্দোলনের চেষ্টা করে লাভ হবে না। সাধারণ মানুষকে স্বপ্ন দেখাতে হবে আর সে স্বপ্ন হতে হবে আওয়ামীলীগের দেখানো স্বপ্নের থেকেও আরও বেশি আকর্ষণীয়। বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির সাথে বাঁধা গাঁটছড়া খুলতে হবে। বিএনপিকে হলফ করে বলতে হবে তারা দুর্নীতিকে তো প্রশ্রয় দেবেই না বরং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করবে।

তাদেরকে বলতে হবে বিএনপিকে ক্ষমতা দান করলে তারা আওয়ামীলীগের থেকে কোন কাজটা ভাল করবেন। তারা দেশকে কতটা এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন। একই সাথে কথাগুলো বিশ্বাস যোগ্য হতে হবে। শুধুমাত্র আওয়ামীলীগ বিরোধিতা যে কোন আদর্শ নয় এটা বিএনপিকে বুঝতে হবে। আজ এতদিন পরে এসে বেগম জিয়া বলেন, ‘বিএনপি-আওয়ামী লীগ বুঝি না, হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। কে মরলো সেটি বড় কথা নয়, সব মৃত্যুই কষ্ট দেয়। তাই সব হত্যা বন্ধ করতে হবে।’

তার আজকের এই বোধদয় যদি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির আগে হত তাহলে অন্তত ১২৩ জন হতভাগ্য মানুষকে মরতে হত না। তারপরেও তার এই বোধোদয়কে সাধুবাদ জানাই। একই সাথে সেই সব প্রতিক্রিয়াশীল সাংবাদিকদের প্রতি জানাই ক্ষোভ যারা পুরো ২০১৬ সালে কোন হরতাল না হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করে আর্টিকেল ছাপিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, এই সব হলুদ সাংবাদিকতাও ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার অন্যতম প্রধান কারণ। বলা বাহুল্য সেখান থেকেও অনেকটাই উত্তরণ ঘটেছে।

কাজেই এখন হালকা ভাবে বললে বলা যায়, উপায় আরও একটা আছে আর তা হল, আওয়ামীলীগের দেশ বিরোধী বা সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিরোধী ভয়ঙ্কর কোন অন্যায় আচরণ করা। প্রশ্ন হল আওয়ামীলীগ কেন তা করবে? আওয়ামীলীগ তো খুব ভালভাবেই জানে আওয়ামীলীগের ভুল ছাড়া ক্ষমতার বৈতরণী পার হওয়ার মত কোন ট্রাম কার্ড বিএনপির হাতে নেই। তারা জেনেশুনে এমন কাজ কেন করবেন?

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা যখন নিজেদের প্রধান বিরোধী দল প্রমাণ করতে পারলেই নিজেদের সফল বলে তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে শুরু করেন তখন সাধারণ নেতাকর্মীদের আর তাদের ভবিষ্যৎ বুঝতে তো বাকি থাকে না। এ অবস্থায় এরশাদ সাহেবের মত স্বপ্ন বেগম জিয়াও দেখতেই পারেন কিন্তু স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনায় নীল হওয়ার কোন কারণ দেখি না।

kmgmehadi@gmail.com