ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

সনদ যদি চাকুরি ক্ষেত্রই তৈরি না করতে পারে সে সনদের কী লাভ? এই স্বীকৃতির সাথে কী শর্ত যুক্ত করে দেয়া হয়েছে যে তাদের সিলেবাসেও সমমানের সাধারণ পাঠ্যসূচী সংযুক্ত করতে হবে? সম্ভবত নয়। তাহলে কী হল; কওমি মাদ্রাসা থেকে লেখাপড়া শেষে সেই সনদে দরখাস্ত করা যাবে কিন্তু সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিতদের সাথে লড়াই করে হেরে যেতে হবে। অর্থাৎ চাকুরীর সোনার হরিণ অধরাই থেকে যাবে। অনেকে হয়ত বলবেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় শিক্ষকের প্রয়োজনীয়তার কথা। সেক্ষেত্রে বলব, বর্তমানেও কি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্ম শিক্ষক নেই?

আছেন, তারা কওমি থেকে আসেননি। এসেছেন আলিয়া মাদ্রাসা থেকে। কওমির পাঠ্যসূচি যদি যুগোপযোগী না করা হয় তাহলে আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্রদের সাথেই তো কওমি মাদ্রাসার ছাত্ররা হেরে যাবেন। কাজেই আমি বলব কওমি শিক্ষার্থীদের সাথে এটা স্রেফ একটা প্রতারণা করা হল। তাদেরকে এই সনদ স্বীকৃতি প্রদান করে সরকার যেমন প্রতারণা করল একইভাবে তাদের শিক্ষা গুরুরাও তাদের সামনে একটি মুলা ঝুলিয়ে দিল।

বর্তমান কওমি মাদ্রাসায় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ এক পর্যায়ে কওমি মাদ্রাসা ছেঁড়ে দিয়ে আলিয়া মাদ্রাসা এমনকি সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষা অর্জনের চেষ্টা করে যার প্রধান কারণ হল চাকুরীর বাজারে নিজেদের যোগ্য করে তোলা। এখন কওমির শিক্ষক গন ঐ সব ছাত্রদের এই বলে আটকে দেবে যে, কওমি পড়ালেখা করেও তোমরা সমান শিক্ষা সনদ পাবে অতএব কওমিতেই শিক্ষা জীবন শেষ কর। অনেকেই সেটা করবেনও ফলশ্রুতিতে তারা যখন চাকুরীর বাজারে প্রবেশ করবেন তখন দেখবেন তাদের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না। অথচ তখন তাদের আর কিছুই করার থাকবে না।

প্রশ্ন হল সরকার কি এভাবে একটি প্রজন্মকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিতে পারে? ইসলাম তো সাধারণ শিক্ষাকে নিরুৎসাহিত করে না তাহলে কওমি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাকারীরা কেন কুরান-হাদিস এর পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার প্রতিও সমান জোর দিয়ে একজন শিক্ষার্থীকে যুগোপযোগী করে গড়ে তুলছে না?