ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

isupportimg_1497971527247
কোন অবস্থাতেই ডাকসু নির্বাচন দেবেন না। মনে রাখবেন আজ ডাকসু নির্বাচন দিলেই কাল রাকসু। তার পরদিন সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে হবে। আর এক বার যদি সেটা হয়ে যায় তাহলে আজ যারা দেশে রাজ করছেন কাল তাদের টিকিটিও খুঁজে পাওয়া যাবে না। যেচে বিপদ কেন ডেকে আনবেন?

যে দেশের রাজনীতি একজন রিকশাচালকের ছেলেকে মাত্র দুই-তিন বছরে রাতারাতি কোটিপতি বানিয়ে দেয়। চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, দখলবাজি ও জুয়ার আসর বসানোর সুযোগ করে দিয়ে। স্বনামে বাহিনী গড়ে তুলতে সাহায্য করে। সে দেশের রাজনৈতিক নেতাদের চরিত্র বুঝতে খুব বেশী বিদ্বান হতে হয় না। তবে রহস্য একটা থেকেই যায় আর তা হল, এই সব রাজনীতিবিদদের হাতে এমন কি যাদুর কাঠি আছে যার ছোয়াতেঁ দেশের কোটি কোটি মানূষ তাদের পালিত ভেড়া বনে থাকেন যুগের পর যুগ ধরে! রহস্যটি রহস্য হয়েই থাক। আবার যদি তেমন কোন ক্যারিশমাটিক নেতৃত্ব ছাত্র নেতৃত্বের পাইপলাইন থেকে বেড়িয়ে আসেন তাহলেই তো বিপদ! যদি তাঁর স্পর্শে এই যাদুর কাঠিটি ভেঙ্গে টুকরো হয়ে যায়, তখন কী হবে?

আমরা তো দেখেছি নব্বইয়েরগণ আন্দোলন এই ছাত্রদের হাত ধরেই শুরু হয়েছিল এমনকি সফলতার মূলেও ছিল সেদিনের ছাত্র নেতারা। কাজেই এ দেশে আর যেন কোন দিন কোন ছাত্র নেতা তৈরি হতে না পারে সেদিকে আপনাদেরই যত্নবান হতে হবে। ছলেবলে কৌশলে যে করেই হোক ডাকসু নির্বাচন ঠেকিয়ে রাখতেই হবে।

এরশাদ ক্ষমতায় থাকতে যদি একটিও ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন সেটি ছিল এই ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে অসংখ্য ছাত্রনেতা তৈরি হতে দেয়া। এরশাদকে বধিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেদিন যারা বেড়ে উঠছিল শেষ পর্যন্ত এরশাদের পতন তাদের দ্বারাই সম্ভব হয়েছিল। আপনারা সেই ভুলটি কস্মিন কালেও করবেন না যেন।

নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে রেশাদের শাসনামলের দীর্ঘ ৯ বছর ধরে মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই এরশাদ বিরোধী আন্দোলন চাঙ্গা রেখেছিল যার ফলশ্রুতিতে শেষপর্যন্ত নব্বইয়ের গন অভ্যুত্থান সংঘটিত হতে পেরেছিল। আপনারাও নিশ্চয়ই নিজেদের জন্য এমন দিন দেখতে রাজি নন! অতএব কোন অবস্থাতেই এ দেশে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হতে দেয়া যাবে না। আর সে কারণেই কোন ছাত্র সংসদ নির্বাচন নয়।

এরশাদের পতনের পর আওয়ামী লীগ-বিএনপি উভয়েরই যথার্থ উপলব্ধি হয়েছিল যে এই ছাত্র নেতারাই ক্ষমতার পালা বদলের প্রধান নিয়ামক শক্তি। অতএব যথেষ্ট হয়েছে আর নয়। তারপর থেকে গত ২৭ বছর ধরে দল দুটি তাদের সব থেকে সফল কর্ম সূচি হিসেবে ডাকসু নির্বাচন ঠেকিয়ে রেখেছে।

আজ যারা ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পক্ষ কথা বলছেন তাঁরা হতে পারেন দেশ প্রেমিক কিন্তু আওয়ামী লীগ বা বিএনপি কোন দলেরই যে শুভাকাঙ্ক্ষী নন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অতএব নিজ নিজ দলের স্বার্থকে প্রাধান্য দিন। দলীয় লুটপাটকারী নেতাদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রাখুন একই সাথে যে নেতৃত্ব আপনারা রেখে যাচ্ছেন তারা যে কতটা গ্রহণযোগ্য তা তো আপনারা ভালোই জানেন তাদের ভবিষ্যৎ পথ মসৃণ করেও তো রেখে যেতে হবে, তাই না? দেশে অনেক নেতা আছে তাদের সামলানোই দায় নতুন করে আর কেন উপদ্রব তৈরি করা। এ সব নেতারা তো আবার যা বলবেন তাই গলাধঃকরন করবেন না। তাঁরা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবেন। তাঁরা দুর্নিতিমুক্ত সমাজ চাইবেন তাঁরা গণতান্ত্রিক পরিবেশ চাইবেন আরো কত কি!
কোন দরকার নেই এদের সুযোগ করে দেয়ার তাঁর থেকে বরং যা করছেন সেটাই করুন। যেভাবে অশিক্ষিত, বর্বর, তোষামোদকারী, দুর্নীতিপরায়ন তরুনেরা রাজনীতিতে আসছে তারাই আসতে থাকুক। আর যাই তারা কোনোদিনই নেতার কর্মকাণ্ড নিয়ে মাথা ঘামাতে আসবে না। কোনদিনই নেতাকে চ্যালেঞ্জ করে বসবে না। অতএব ভাল আছেন ভাল থাকুন!