ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

যে অপরাধগুলোর কারণে পুলিশ বিনা পরোয়ানায় অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পারে, ১৫৪ ধারায় মামলা করতে পারে, ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়াই তদন্ত পরিচালনা করতে পারে সেই সকল অপরাধসমুহকে আমলযোগ্য অপরাধ বলে জানি।

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অপরাধগুলো আমলযোগ্য অপরাধ, অর্থাৎ পুলিশ এক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক মামলা করতে পারে, করে থাকে। উল্টোপথে গাড়ি চালানো নিঃসন্দেহে ট্রাফিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।

ওয়ানওয়ে রোডগুলো যখন আমরা পার হই, তখন আমরা সঙ্গত কারণে একদিকে তাকাই, কারণ বিপরীত দিক থেকে গাড়ি আসার কোনো সুযোগ থাকার কথা নয়। বিশেষ কারণে তেমন ব্যবস্থা করলে সেক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা করার কথা।

স্বাভাবিক যান চলাচলের সময় এরকম উল্টোদিক থেকে গাড়ি চলে আসা রীতিমত প্রাণঘাতী। আমার তো মনে হয়, এরকম ক্ষেত্রে ঘনবসতিপূর্ণ এই শহরে দুর্ঘটনা ঘটার পঞ্চাশভাগ সম্ভাবনা থাকে। ছোটখাট দুর্ঘটনা অহরহ ঘটছে, যেগুলো আলোচনায় আসে না।

বাংলামটরে সংগঠিত দুর্ঘটনাটি মারাত্মক এবং সেটি ঘটেছে হাইকোর্টের একজন বিচারপতির গাড়িতে বলেই এত আলোচনা। কিন্তু এই আলোচনা সমালোচনায় আসলে লাভ কী হল? জনগণ কী বার্তা পেল?

যেহেতু “আপোষ হয়েছে বলে” চালককে ছেড়ে দেওয়া হল, তাহলে তো জনগণ এই বার্তাই পেল যে প্রভাবশালী কারোর গাড়ি উল্টো দিক থেকে যেতে পারবে এবং সেটি দুর্ঘটনা ঘটালেও কোনো বিচার হবে না।

এটি তো ফৌজদারী অপরাধ, এক্ষেত্রে চালকের সাথে দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তির স্বজনদের আপোষ হওয়ার সুযোগ কোথায়? মামলা তো করবে প্রথমত পুলিশ। এবং মামলাটি হওয়ার কথা চালক এবং গাড়ির মালিক উভয়ের বিরুদ্ধে। পুলিশ কি মামলা করেছে?

যদি না করে থাকে, তাহলে পুলিশ কেন মামলা করল না, বা করতে পারল না?

উল্লেখ্য, হাইকোর্টের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম’র ব্যবহৃত গাড়িটি উল্টোদিক থেকে এসে মটরসাইকেল আরোহী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আইটি বিভাগের কর্মকর্তা ফয়সালকে চাপা দেয়, যখন চালক কামাল ছাড়া আর কেউ গাড়িটিতে ছিল না।