ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

একজন নাছোড়বান্দা’র প্রেসক্রিপশন উদ্ধার!

ফেসবুক ওয়ালে এক বন্ধুর সাম্প্রতিক পোস্ট- ঘটনা নিতান্ত সামান্য। এক ব্যক্তি সুদূর সিলেট থেকে রোগীসহ ঢাকা আসেন দুপুরে। পূর্বে নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী বিকেলে একজন বড় চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হন। রোগী দেখিয়ে, সেই দিন সন্ধ্যার পর তিনি সিলেট ফিরে যান। পরদিন সকালে, সিলেট থেকে ওষুধ কিনতে যেয়ে তিনি ভয়াবহ সমস্যায় পতিত হন।  ছোট বড় সকল ফার্মেসি- ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনটির মর্ম উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়।

সেই ব্যক্তি তখন দিশেহারা হয়ে প্রথমে প্রেসক্রিপশন প্যাডে লিখিত ফোন নম্বরে ফোন দেন- ফোন বন্ধ পান। তারপর চেম্বার সহযোগী’র নম্বরে ফোন দিলে- সহযোগী এই বিষয়ে করণীয় কিছুই নাই, জানিয়ে দেয়। অগত্যা নিরুপায় হয়ে ব্যক্তিটি ডাক্তারের ফেসবুক একাউন্ট খুঁজে বের করেন, সেখানে ইনবক্স করেন। কিন্তু প্রায় তিন ঘণ্টা পরেও কোন রেসপন্স না পেয়ে- তিনি ডাক্তারের ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্ট বেছে ডাক্তার এবং তার নিকট বন্ধু প্রায় ৩৫০ জনের কাছে প্রেসক্রিপশনের ছবি এবং সমস্যা লিখে ইনবক্স করেন। অবশেষে একঘণ্টা পরেই নাছোড়বান্দা’র অপারেশন সফল হয়, ডাক্তার তাকে ফোন দিয়ে সমস্যা সমাধান করে দেন।

prescription

 

সহজ প্রেসক্রিপশন, মন্ত্রণালয়কে সার্কুলারের নির্দেশ হাইকোর্টের

চিকিৎসকদের স্পষ্ট অক্ষরে বড় হরফে ‘পড়ার উপযোগী করে’ ব্যবস্থাপত্র লেখার বা ছাপা ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ৩০ দিনের মধ্যে সার্কুলার জারির নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে রোগীর ব্যবস্থাপত্রে ওষুধের জেনেরিক নাম লিখতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি হয়েছে।

‘দুর্বোধ্য ব্যবস্থাপত্র: ভুল ওষুধ গ্রহণের ঝুঁকিতে রোগীরা’ শিরোনামে গত ১৭ ডিসেম্বর ২০১৬ বণিক বার্তায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন যুক্ত করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ গত সপ্তাহে হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন করে। রিট আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার এই আদেশ দেয়। (সূত্র বিডিনিউজ২৪.কম)

হাইকোর্ট আদেশে মেডিক্যাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া’র সিদ্ধান্ত – ক্যাপিটাল লেটারে প্রেসক্রিপশন

ভারতের তেলেঙ্গানা প্রদেশের নালিগন্ডা জেলাটি, ভারতের অন্যতম অবহেলিত একটি জেলা। সেই জেলার একজন ফার্মাসিস্ট তার নাম চিলুকুড়ি পরমাত্মা। তখন পর্যন্ত ভারতে যে লিখন পদ্ধতিতে ডাক্তার রুগীকে প্রেসক্রিপশন প্রদান করে আসছিলেন, যাতে অনেক ক্ষেত্রেই প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ দিতে গিয়ে দোকানীর মারাত্মক ভুলে রুগীর মৃত্যু পর্যন্ত কোন অস্বাভাবিক ঘটনা ছিল না। এই বিষয়ে বিচলিত ছিলেন ফার্মাসিস্ট চিলুকুড়ি পরমাত্মা।

সেটি ছিল ২০১৪ সালের প্রথম দিকের ঘটনা। ‘ভিদ্যানগর’ ছিল ভারতের হায়দ্রাবাদের বিখ্যাত একটি মেডিকেল চেইন স্টোর। দোকানের সবার ইংরেজি জ্ঞান নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হওয়ার কোন কারণ ছিল না, তথাপি সেই দিন ‘ভিদ্যানগর’ স্টোর কর্মী, রোগীর প্রেসক্রিপশন পাঠ পূর্বক রোগীর জন্য ‘Trental’ এর বদলে ‘Tegrital’ দিয়ে দেয়। রোগী ছিলেন একজন গর্ভবতী মা। ট্রেন্টাল (Trental) ছিল রক্ত প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ, আর টেগ্রিটাল (Tegrital) ছিল উঁচু মেজাজ বা মৃগীরোগ চিকিৎসার ওষুধ। ফলশ্রুতিতে রোগীর গর্ভপাত হয়ে যায় এবং এক পর্যায়ে রোগীর জীবন বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে। পরমাত্মা ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এক পর্যায়ে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র লিখনের প্রচলিত পদ্ধতি’র বিরুদ্ধে হায়দ্রাবাদ হাইকোর্টে আপিল করেন।

২০১৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি, মহামান্য বিচারকের দুই সদস্যের হাইকোর্ট বেঞ্চ মেডিক্যাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া’কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করে। সেই অনুসারে ২০১৪ সাল ২৮ মার্চ মেডিক্যাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া এই মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে- ডাক্তারগণকে এখন থেকে শুধু মাত্র বড় হাতের অক্ষরে (ক্যাপিটাল লেটার) ব্যবস্থা পত্র লিখতে হবে।

 

hy01handwrighting-1-001

ফার্মাসিস্ট চিলুকুড়ি পরমাত্মা হায়দ্রাবাদ হাইকোর্টে প্রায় ১০০ টি ওষুধের নাম সাবমিট করেছিলেন, যে সব ওষুধে ইংরেজি বর্ণের সামান্য হেরফেরেই হয়ে যেতে পারে মারাত্মক বিপর্যয়! Buscopan হচ্ছে পাকস্থলী চিকিৎসার  ওষুধ, কিন্তু কাছাকাছি Busuphan হচ্ছে ক্যান্সারের ওষুধ। Hifen হচ্ছে নাক কান গলার ওষুধ অথচ Hipen হচ্ছে সাধারণ ক্ষত-সাড়ার ওষুধ।

তার মানে ডাক্তারের ইংরেজি হাতের লেখা অসুন্দর, কিংবা তিনি পেঁচিয়ে লেখেন- বিষয়টা শুধু তাতেই সীমাবদ্ধ নয়। ওষুধের সাথে ওষুধের  কাছাকাছি বানানে, এখানে আছে বড় ধরনের বিভ্রান্তির অবকাশ- যা ডাক্তার এবং রোগী দুই পক্ষের জন্যই যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। তাই স্পষ্ট অক্ষরে সহজেই পড়া যায়- এমন ইংরেজি বড় অক্ষরে লেখা হোক প্রেসক্রিপশন।