ক্যাটেগরিঃ অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড - ব্লগ সংকলন, আইন-শৃংখলা

 

অতিসম্প্রতি বাংলাদেশে ঘটনা বা অঘটনার অন্যতম হলো ডঃ অভিজিৎ রায় হত্যা । দীর্ঘদিন যাবৎ একটি মহল তথা একটি গোষ্ঠি ডঃ অভিজিৎ রায়কে হত্যার জন্য বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিয়ে হত্যার জন্য চেষ্টা করে আসছিল যা নাকি প্রকাশ্যই। বিভিন্ন ব্লগসহ ফেইসবুকে এক-এক সময় একেক ভবে ডঃ অভিজিৎ রায়কে হত্যার জন্য ঐ চক্রটি অত্যন্ত তৎপর ছিল । পরবর্তীতে ঐ অপশক্তি তাদের লক্ষে পৌছতে সক্ষম হয়েছে । ঐ অপশক্তি বিভিন্ন ভবে তাদের মতবাদ প্রতিষ্ঠিত করার জন্য একেক সময় একেক ভবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাবে আঘাত করে আসছে মুক্ত চিন্তা তথা মুক্ত বিবেকের মানুষদের। কিন্তু প্রসাশনিক দুর্বলতা তথা প্রসাশনের গাফলতির করনে আমাদের এই এলাকাতেই ঐ অপশক্তি তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সার্থক হচ্ছে। বিশেষত আমি বলবো আমাদের বাংলাদেশের কথা স্বাধীনতার পর থেকেই ঐ অপশক্তির কাছে বার বার হার মানতে হচ্ছে মুক্ত চিন্তার মানুষগুলোকে ।

 

যেমন ধরা যাক কবি দউদ হায়দারের কথা সামান্য একটি ‘কালো সূর্যের কালো জ্যোৎসায় কালো বন্যায়’ নামে কবিতা লেখার অপরাধে ১৯৭৪-এর ২২ মে একটি সদ্য স্বাধীন দেশ থেকে চিরতরে বিতারিত হতে হয়েছে । কার স্বার্থে কিসের জন্য তৎকালীন জাতির জনকের সরকার কবি দউদ হায়দারকে বাংলাদেশ থেকে বিতারিত করেছেন তা আজো আমার বোধগম্য নয় । যদি কবি দউদ হায়দার কোন অপরাধ করেই থাকেন তার জন্য দেশে রাখেই তার বিচার করা সম্ভব ছিল । ঠিক একই দশ হয়েছে প্রখ্যাত নারীবাদি লেখিকা তসলিমা নাসরীনের বেলা ও তার কোন ব্যতিক্রম হয়নি । তারা আজো চাতকপাখির মত মাতৃভূমিতে জেরার প্রতীক্ষায় কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্রের অত্যাচারে তাদের প্রতীক্ষা আদৌ সমাপ্তি হবে কিনা সেটাই বড় প্রশ্ন । মৌলবাদের অপশক্তির কাছে রাষ্ট্রযন্ত্র ও আজ বিকল । কবি শামসুর রহমান, ডঃ হুমায়ুন আজাদ রা ও মৌলবাদের অপশক্তির হাত থেকে রক্ষা পায়নি ।

ব্লগার রাজীব হায়দারকে জীবন দিতে হয়েছে দানবের হাতে যার সর্বশেষ শিকার ডঃ অভিজিৎ রায় । দীর্ঘ একমাস পাড় হয়ে গেলেও সরকার ডঃ অভিজিৎ রায়ের হত্যার মূল হোতাদের গ্রেফতার ও সত্যিকার রহস্য বের করতের পুরাপুরি ব্যর্থ হয়েছে যেমনটি আমরা দেখেছি স্বনামখ্যাত সাংবাদিক, ব্লগার সাগর সরওয়ার ও তাঁর স্ত্রী এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনির হত্যার ব্যপারে । দীর্ঘদিন যাবৎ যেখনে একটি উগ্র মৌলবাদি গোষ্টি ডঃ অভিজিৎ রায়কে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল সেখনে দেশে আসার পর কিভাবে সরকার নিরাপত্তাহীন ভবে ছেড়ে দিল খ্যাত নামা এই লেখক কে ।আর কিভেবে বা পুলিশ বেষ্টনীর মাত্র কয়েক গজের মধ্যে খুন হতে হলো ডঃ অভিজিৎ রায়কে ।

যেখনে পেট্রলবোমা বা ককটেল ফাটিয়ে পালানোর সময় পুলিশের গুলিতের খুন হন সেই দুস্কৃতিকারিরা অথচ টিএসসির মত স্পর্শকাতর এলাকাতে দেশের অন্যতম আয়োজন বইমেলা চলাকালীন সময় প্রকাশ্যে এক জন খ্যাতনামা লেখক কে খুন করে পালিয়ে গেল খুনিরা সেটা কী করে সম্ভব? ডঃ অভিজিৎ রায়ের খুনিদের বিচার হবে এটা জাতি অবশ্যই প্রত্যাশ করে জাতির দাবি ও এটা যে প্রতিটা নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা দিবে সরকার । তার পর ও আজ আমাদের বড় প্রশ্ন আদৌ কি আমরা বাংলাদেশের সরকার ও রাষ্ট্রের কাছে নিরাপদ?