ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

শার্লি হেবদোর পর আারো সন্ত্রাসীহামলার স্বীকার হলো ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস, তবে আরো ভয়াবহ ভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরে এটাই ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় নৃশংস হত্যাযজ্ঞ এতে জীবন দিতে হয়েছে অন্তত ১৩২ জন নিরীহ মানুষকে। ইতোমধ্যে এ হমালার দায় স্বীকার করে নিয়েছে ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট বা আইএস। সাম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলামিক স্টেটের হামলা যে ভাবে রাড়ছে তাতে চিন্তিত সমগ্র বিশ্বের নিরিহ মানুষ ইতোমধ্যে আমাদের দেশে ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি নৃশংস ঘটনা ও বিভিন্ন ধর্মীয় উগ্র জঙ্গি সংগঠনের এসব ঘটনার দায় স্বীকার আমাদের জাতীয় জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে ও বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আমাদের সরকারের মন্ত্রী এমপি ও প্রশাসন এ হামলা গুলিকে মোটে ও বিভিন্ন ধর্মীয় জঙ্গি সংগঠন বিশেষ করে ইসলামিক স্টেটের কাজ হিসেবে অস্বীকার করে রাজনৈতিক ঘটনা তথা সরকার বিরোধীদের তৎপরতা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে । কিন্তু প্যারিসের ঘটনার পর আমরা মোটেও সরকারে মন্ত্রী এমপি ও প্রশাসনের কথায় চিন্তামুক্ত হতে পারছি না ।

বিশেষজ্ঞদের মতে বর্তমান সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলামিক স্টেট পরিচালিত আক্রমণের ধারা যেভাবে বাড়ছে তা সত্যিই উদ্বেগ জনক আর প্যারিসের ঘটনা এতে নতুন মোড়যোগ করছে । আল-কায়দা থেকে ইসলামিক স্টেট জন্ম লগ্ন থেকে ই তাদের মূল লক্ষ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যে তাদের একটি নিজস্ব অঞ্চল সৃষ্টি করা যেখানে তাদের খেলাফত প্রতিস্ঠা করে নিজেদের নিয়ন্ত্রন ও কতৃিত্ব বজায় রাখতে পারে । এজন্য তারা ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখল করে নিয়েছে। ইউরোপ সহ অন্যান্য দেশের অনেক মানুষের ভিতরে ধর্মীয় অনুভুতি কাজে লাগিয়ে তাদের অন্তরে জায়গা করে নিয়েছে আইএস। এর ফলশ্রুতিতে ইউরোপ আমেরিকা সহ বিশ্বের নানা দেশ থেকে অনেক যুবক-যুবতী ই নানা কৌশলে সিরিয়া এসে আইএসের সাথে তাদের তথা কথিত জিহাদে শরিক হয়ে নিজেদের জিহাদি খাতায় নাম লেখিয়েছে।

বর্তমানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশনের উপর্যুপরি বিমান হামলার কারণে প্রচন্ড চাপের মধ্যে পড়া ইসলামিক স্টেট এখন তারা চাইছে ইউরোপ সহ অন্যত্র আক্রমণ পরিচালনা করে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে। তাই ইউরোপ সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের উগ্রপন্থী জিহাদিদের মনের ভিতর তাদের জন্য যে সহানুভূতির সৃষ্টি হয়েছে আইএস চাচ্ছে সেটা কে পুরোপুরি কাজে লাগাতে , তারা এখন চাচ্ছে যে তাদের অনুসারীরা সিরিয়ায় এসে যুদ্ধে যোগ না দিয়ে বরং নিজ নিজ দেশে আক্রমণ পরিচালনা করে শক্ত অবস্হানে আসতে ।

গত জুনে তিউনিসিয়ায় একটি সমুদ্রসৈকতে বন্দুকধারীর আক্রমণে ৩৮ জন পর্যটক নিহত হওয়ার দায় স্বীকার করে নিয়ছে ইসলামিক স্টেট ।অক্টোবরের তুরস্কের আংকারার আত্মঘাতিক বোমা হামলায় ১০২ জন নিহত হওয়র জন্য ও তুরস্ক সরকার ইসলামিক স্টেটকে দায়ী করেছে । গত ৩০ অক্টোবর মিশরের সিনাই অঞ্চলে থেকে ২২৪ জন যাত্রী নিয়ে রুশ যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত করার ও এর মাত্র কয়েকদিন আগে লেবাননে যে বোমা হামলায় ৪৩ জন নিহত হয় তার সম্পুর্ন দায় স্বীকার করে নিয়েছে ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন আইএস। সম্প্রতিক কার্যক্রমে এটাই প্রমান হয় যে আইএস এখন আর আঞ্চলিক হুমকি হিসেবে নয় বৈশ্বিক হুমকি তে পরিনত হয়েছে ।

আর আন্তর্জাতিক ভাবে এসব নৃশংস ঘটনা গুলি আইএস এমন সময় ঘটাচ্ছে যখন সিরিয়ার লাখ লাখ মুসলিম শরণার্থী জীবন বাজি রেখে স্রোতের সাথে পাল্লাদিয়ে ইউরোপে ঢুকছে। এসকল শরণার্থীদের নিয়ে ই্উরোপ সহ বিশ্বের অন্যান্যদের বিরুপ প্রতিক্রয়ার সৃষ্টি হওয়াটাই স্বাভাবিক কিন্তু মনে রাখতে হবে যে তারা আইএস কিংবা বাশার আল-আসাদের সহিংসতার শিকার হয়েই নিজ মাতৃভুমির মায়া ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন , তাদের প্রতি ও সহায়তা গুটিয়ে নেয়া ঠিক হবে না । বিশ্বের পরাশক্তি রাষ্ট্র গুলি নিজেদের ক্ষমতা জাহির করার জন্য আল-কায়দা কিংবা ইসলামিক স্টেট দুষ্টক্ষতের সৃষ্ঠি করছে তা আজ ভয়াভ ক্যান্সার রুপ ধারন করছে রক্ত সাগরে ডুবতে বসেছে বিশ্ব মানব সভ্যতা ।সিরিয়া ইরাক আফগানস্হান থেকে আল-কায়দা বা আইএস শেষ করে দিলেই জঙ্গিবাদের অবসান হবে না আবার হাত গুটিয়ে নিলেও ব্যর্থতার পথ ছাড়া অন্য গন্তব্য নেই ।তাই সময় এসেছে সম্মলিত ভাবে আলো কে আলো আর অন্ধকার কে অন্ধকার ভেবে জঙ্গিবাদের দুষ্টক্ষতের বিরুদ্ধে একযোগে লড়াই করা আর তাতেই জঙ্গিবাদের দুষ্টক্ষতের বিরুদ্ধে বিজয় হওয়া সম্ভব ।