ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

জানি, এখনও আমরা ব্যস্ত আছি হেফাজতে ইসলামের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বৈঠকের পর ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে সমালোচনা করতে, বিস্ময় প্রকাশের ভান করতে কিংবা পক্ষে সাফাই গাইতে। এই ঘটনার নীচে অনেকটাই চাপা পড়ে গেছে  প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর এবং সেখান থেকে ফিরে আসার পরের সংবাদ সম্মেলন। এ এক কৌশল, যেটা ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের সরকার গঠনের পর থেকে আমরা দেখছি – কোন ‘গরম’ ঘটনা, যেটায় সরকারের কোন সমালোচনা হয়, সেটাকে ধামাচাপা দেয়া হয় (কিংবা ধামাচাপা পড়ে?) আরেকটা ‘গরম’ ঘটনা দিয়ে। যাক, হেফাজত সংক্রান্ত ঘটনাবলীর ‘ধামা’টা সরিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে কিছু কথা বলা দরকার বলে মনে করছি।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে খুব স্বাভাবিক কারণেই নানাদিক থেকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা-ব্যবচ্ছেদ হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া তার মতো করে ভীষণ সরব থেকেছে এই বিষয়ে। এর মধ্যে একটা আশংকা অনেকের লিখায় দেখা গেছে, তারা মনে করেন বাংলাদেশ ভারতের অঘোষিত অঙ্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে (বা হচ্ছে)। দুঃখিত, যারা এরকম সম্ভাবনা দেখছেন, তারা ভীষণ ভ্রান্তির মধ্যে আছেন। এটা নিশ্চিত, ভারত কোনোভাবেই আমাদেরকে তার অঘোষিত/ঘোষিত অঙ্গরাজ্য বানিয়ে ফেলছে না। ভারত আমাদেরকে যা বানিয়ে ফেলছে, সেটা বুঝতে পারলে সেটার পরিবর্তে অঙ্গরাজ্য বানানোর আশঙ্কাটা অনেক কম খারাপ বলে মনে হতো। ভারত কী বানাতে চাইছে আমাদের, যেটার পথে তারা অনেকটা অগ্রসর হয়ে গেছে এরই মধ্যে?

ভারত সফরের পর দেশে ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, দেনা-পাওনার হিসাব মেলাতে তিনি ভারত যাননি, গেছেন ভারতের বন্ধুত্বের আশায় এবং সেটা নাকি তিনি পেয়েছেন। সেটা ব্যক্তিগতভাবে তাঁর মনে হতেও পারে। প্রচলিত রীতি ভেঙে তাঁকে প্রেসিডেন্ট ভবনে রাখা, বিমানবন্দরে নরেন্দ্র মোদি উপস্থিত হয়ে ‘সারপ্রাইজ’ দেয়া এসব ঘটনাকে ভিত্তি করে তাঁর একটা বন্ধুত্বের ইল্যুশন হতেও পারে। আমাদের দেশের কতিপয় ‘বিশেষজ্ঞ’ এসব উদাহরণ দিয়ে বন্ধুত্বের জয়গান গেয়েছেন, যেটা রীতিমত উদ্ভট, হাস্যকর। প্রশ্ন হলো আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা যখন ‘বন্ধুত্ব’ শব্দটা ব্যবহার করি সেটা কি আদৌ ঠিক?

কেউ কেউ বলবেন, এখন নানা ক্ষেত্রে টানাপোড়েন থাকলেও ভারত ১৯৭১ সালে আমাদের সত্যিকার বন্ধু ছিল – মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র-প্রশিক্ষণ, কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়া ইত্যাদি জানিয়ে বলা হয় এজন্য ভারতের কাছে আমাদের অনেক ঋণ আছে। উল্লেখ্য অনেকের কথার টোন এরকম যে, এই ঋণ অপূরণীয়, তাই চাহিবামাত্র ভারতকে সবকিছু দিতে বাংলাদেশ বাধ্য থাকবে। আশার কথা, কিছুদিন থেকে কিছু মানুষ ‘স্বাধীনতাবিরোধীদের দোসর’ জাতীয় খেতাবপ্রাপ্তির আশংকা থাকার পরও আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের সাহায্যের আসল কারণ নিয়ে কথা বলছেন; বলা বাহুল্য, সেটা অবশ্যই বন্ধুত্ব নয়, স্রেফ কৌশলগত স্বার্থ। জন্মগত ‘শত্রু’ পাকিস্তানকে ভেঙে দিয়ে ভবিষ্যৎ কোন যুদ্ধে দুইটি ফ্রন্টে যুদ্ধ করার হাত থেকে ভারত বেঁচে গিয়েছিল। এটা যৌক্তিকভাবেই বলা যায়, আমাদের স্বাধীনতার জন্য ভারতের কাছের ঋণ সেদিনই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিশোধ করা হয়ে গেছে, যেদিন আমরা স্বাধীন হয়েছিলাম।

খেয়াল করলে দেখবো, ভারত এখন একই কাজ করছে পাকিস্তানের বালুচিস্তান নিয়ে। বেশ কিছুদিন আগে থেকে ভারত প্রকাশ্যে বালুচিস্তান এর স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বালুচিস্তান এর ক্ষেত্রে ভারতের ‘স্বাধীনতাকামীদের বন্ধু’ হবার কারণ কী? এখানেও আছে পাকিস্তানকে আরও দুর্বল করে দেবার পুরোনো অংক, আর সাথে আছে  বালুচিস্তান এ অবস্থিত গোয়েদার বন্দর নিয়ে হিসেব-নিকেশ। চীনের ‘স্ট্রিং অব পার্লস’ এর এক অতি গুরুত্বপূর্ণ ‘মুক্তো’ এই এই গোয়েদার বন্দর চীনের কাছে কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা। বালুচিস্তানকে স্বাধীন করতে পারলে আর সেই সরকারের সাথে খাতির জমাতে পারলে ‘শত্রু’ চীনের বিরুদ্ধে ভারত কৌশলগত দিক থেকে বেশ খানিকটা এগিয়ে যাবে।

ভারত যদি সত্যিকারভাবে স্বাধীনতাকামীদের খুব বন্ধু হলে তো কাশ্মীর স্বাধীন হতো। কিন্তু বিশ্ববাসী জানে, সেখানে স্বাধীনতার (তাদের ভাষায় বিচ্ছিন্নতাবাদী) সংগ্রাম দমন করা হচ্ছে বীভৎসভাবে, যেটা ভারতেরই বিখ্যাত পাবলিক ইন্টেলেকচুয়াল অরুন্ধতী রায়ের মতে ‘পৃথিবীর অন্যতম বর্বরতম সামরিক অভিযান’। অরুন্ধতী রায় এর মত অনেক মানুষ প্রকাশ্যে এটাও বলেছেন, কাশ্মীর কোনোভাবেই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ নয়। কী পরিস্থিতিতে ভারত কাশ্মীর দখল করেছিল, আর কীভাবেই বা সেটাকে দখলে রাখছে, সেটা জানি, তাই তাদের মতামত শতভাগ যৌক্তিক মনে হয়। কাশ্মিরবাসী কী ধরনের অন্যায়-অত্যাচারের শিকার হচ্ছে, সেটা কিছুটা হলেও আমাদের অনুধাবন করার কথা ছিল (আমাদেরও তেমন অতীত আছে), তাদের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করার কথা ছিল। যদিও আমাদের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানিদের নিপীড়ন যতটা ছিল কাশ্মীরিদের ওপর ভারতের নিপীড়ন তার তুলনায় অনেকগুন বেশি। কই আমাদের কম সরকার তো এই ব্যাপারে ন্যূনতম কথাও বলে না, কাশ্মিরীদের স্বাধীনতার দাবিকে সমর্থন করা দূরেই থাকুক। হ্যাঁ, আমাদের সরকারগুলোও স্বার্থের হিসাব নিকাশ করেই এটা করে না।

আরেকটা ‘ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব’ এই প্রসঙ্গে একটু দেখে নেয়া যাক। দীর্ঘকাল ভারতের ‘বন্ধু’ ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন (সে জায়গা পরে নিয়েছিল রাশিয়া), আর পাকিস্তানের ক্ষেত্রে ছিল আমেরিকা। গত বেশ কয়েক বছর ধরে আমেরিকার সাথে ভারতের ঘনিষ্ঠতা আমরা দেখছি, আর তার প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া ক্রমশঃ পাকিস্তানের কাছ আসছে। কিছুদিন আগে যখন ভারত-পাকিস্তান সীমিত পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল, তখন পাকিস্তানের সাথে একটা পূর্বনির্ধারিত সামরিক অনুশীলন বাদ দিতে রাশিয়াকে ভারত বেশ চাপ দিয়েছিল, কিন্তু রাশিয়া সেটা বাতিল করেনি।

হ্যাঁ, এভাবেই দুইটি দেশের মধ্যে পারষ্পরিক সম্পর্ক নির্ধারিত হয় স্রেফ প্রয়োজনের (বাণিজ্যিক, কৌশলগত ইত্যাদি) নিরিখে, এখানে বন্ধুত্ব শব্দটাই প্রয়োগিকভাবে ভুল।

পরবর্তী আলোচনায় যাবার আগে আসুন ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট কুয়ামী এনক্রুমা এর একটা চিন্তার সাথে পরিচিত হওয়া যাক। এনক্রুমাকে এই পৃথিবী নানা কারণে মনে রেখেছে, ভবিষ্যতেও রাখবে, কিন্তু তাঁকে সম্ভবতঃ অমর করে রাখবে তাঁর নিও-কলোনিয়ালিজম বিষয়ক ডিসকোর্স। এনক্রুমাই আমাদেরকে প্রথম জানিয়েছিলেন নিও-কলোনিয়ালিজম শব্দটি, জানিয়েছিলেন শক্তি প্রয়োগ করে কোন দেশ দখল করে সেটাকে উপনিবেশ বানানোর কলোনিয়াল গত হবার পর এখন সেটার জায়গা নিয়েছে নিও-কলোনিয়ালিজম। এরপর জাঁ পল সাঁত্রে, এবং নোয়ম চমস্কি এই ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কাজ করেছেন। ইউরোপীয় কলনাইজাররা তাদের সাবেক কলোনীগুলো ছেড়ে যাবার পরও সেগুলোতে তাদের সাবেক সব স্বার্থ চরিতার্থ করছিলো নিও-কলোনিয়ালিজম এর মাধ্যমে। কোন রাষ্ট্রের কলোনাইজার হবার অতীত ইতিহাস না থাকলেও নিও-কলোনিয়ালিজম এর যুগে তারা নতুন করে কলোনাইজার হয়ে উঠতে পারে – আমেরিকা যার দারুণ উদাহরণ।

এক কথায় বলতে গেলে নিও-কলোনিয়ালিজম হলো একটা শক্তিশালী দেশ কর্তৃক রাজনৈতিক-সামরিক ক্ষমতা, পুঁজিবাদ, বিশ্বায়ন, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ইত্যাদির মাধমে দুর্বল একটা দেশের ওপর পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। বলা বাহুল্য এর উদ্দেশ্যই হল অধীন দেশ হতে এমন সব স্বার্থসিদ্ধি করা যেটা একটা সত্যিকার স্বাধীন দেশের কাছ থেকে সম্ভব হয় না।

ফিরে আসা যাক বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের আলোচনায়। একথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্ক কোনোভাবেই ন্যূনতম পারষ্পরিক রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনের ভিত্তিতে হচ্ছে না। এটা একটা ভারতীয় পরিকল্পনারই অংশ। মনে করি ২০১৪ সালের কথা যখন ভারত আওয়ামী লীগকে ‘বেছে’ নিয়েছিলো। ভারত যে সে সময় প্রকাশ্যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেছিলো। ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং দেশে এসে নির্বাচনে অংশ নেবার জন্য এরশাদকে হুমকি-ধামকি দেয়া দেখেই এটা একেবারে স্পষ্ট হয়েছিলো। সাথে যুক্ত করি সে সময়কার ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী সালমান খুরশীদের ‘দ্য আদার সাইড অব দ্য মাউন্টেইন’ বইয়ের একটা উদ্ধৃতি –

“বাংলাদেশে ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে রাজপথে একদিকে সরকার সমর্থক ও তরুণ উচ্চাকাঙ্ক্ষী জাতীয়তাবাদী (গণজাগরণ মঞ্চ) এবং অন্যদিকে কট্টর জামায়াতে ইসলামীর কদর্য সংঘাতের ঘটনায় প্রাথমিক সেসব ইতিবাচক লক্ষণগুলো গুলিয়ে যায়। আর সে সময় আমাদেরকে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ শিবিরের দিকে ঝুঁকতে হয়। ভারতের এটি বেছে নিতেই হয়েছে। এক্ষেত্রে অবস্থান নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হওয়া এবং সেজন্য সুযোগ হারানোটা সত্যিই বিপজ্জনক ছিল”।

এতে কোন সন্দেহ নেই বাংলাদেশের সবগুলো সরকারই ক্ষমতায় থাকার সময় কম-বেশি ভারত-তোষণ নীতি পালন করেছে। বিদ্যমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানই বলে ২০১৪ সালে এরকম যাচ্ছেতাই একটা ‘নির্বাচন’ এর মাধ্যমে বর্তমান সরকারটিকে ক্ষমতায় রেখেছে ভারত, যাতে সরকারের পায়ের নীচে মাটি (জনগণের ভোটের শক্তি) না থাকে। এমন একটা দেশকে নিয়েই যাচ্ছেতাই করা সহজ। ভারতের কাছ থেকে আমাদের ন্যায্য অধিকারের একটিও না পাওয়া আর ভারত যা চাইছে (যেগুলো তাদের অধিকারও নয়) বিনা বাক্যব্যয়ে সেটা দিয়ে দেয়া প্রমাণ করে সবকিছুই ভারতের পরিকল্পনা মতোই এগোচ্ছে।

হ্যাঁ, ভারত বাংলাদেশকে নিশ্চয়ই অঙ্গরাজ্য বানাতে চাইছে না, চাইছে কলোনি বানাতে, যাতে তারা অনেকটা এগিয়েও গেছে। অঙ্গরাজ্য বানানো ভারতের দিক থেকে লস, কারণ অঙ্গরাজ্যেরও অনেক অধিকার থাকে। সেটা ওই রাষ্ট্রেরই অংশ, এবং সেখানেও ভোটের রাজনীতি থাকে। দেখুন এক পশ্চিমবঙ্গকে তোয়াজ করতে গিয়ে এমনকি একটা দায়সারা গোছের (গঙ্গা চুক্তির মতো – চুক্তি আছে, কিন্তু পানি নেই) তিস্তা চুক্তিও ভারত সরকার স্বাক্ষর করছে না। ওদিকে কলোনি বানাতে পারলে এসবের দায় নেই, স্রেফ সব রস শুষে নিয়ে ছিবড়ে বানিয়ে ফেললেই হয়।

কুয়ামী এনক্রুমা নিও-কলোনিয়ালিজমকে সাবেকী কলোনিয়ালিজম এর চাইতেও ভয়ঙ্কর বলেছেন, কারণ সাবেকী কলোনাইজাররা তাদের কলোনীর ব্যাপারে ন্যুনতম দায়বদ্ধতা দেখাতো, কারণ তাদের অনেকে ওই কলোনিগুলোতে বসবাস করতো, সেই কলোনি যেহেতু প্রকাশ্য থাকতো, তাই সেসবের ব্যাপারে নিজ দেশে বা দেশের বাইরে জবাবদিহিতার প্রশ্ন ছিল। কিন্তু নিও-কলোনিয়ালিজম এর ক্ষেত্রে ওসবের বালাই নেই, যাচ্ছেতাই করা যায়। বলা বাহুল্য আমরা এই ভয়াবহ বিপদের মধ্যে আছি।

আমাদের যথেষ্ট দেরি হয়ে গেছে, ভারতকে আমরা যথেষ্টরও অনেক বেশী পেয়ে বসতে দিয়েছি এর মধ্যেই। আমরা যদি এখনও যথেষ্ট সচেতন না হই, প্রতিবাদী না হই, তাহলে আমরা আমাদের দেশকে ভারতের কলোনি হয়ে যাওয়া থেকে বাঁচাতে পরবো না। নিও-কলোনিয়ালিজম এর ডিসকোর্সে একদিন আমাদের দেশের নামও যুক্ত হতে পারে উদাহরণ হিসাবে। সেদিন আমাদের মনে হতেও পারে, এর চাইতে ভারতের অঙ্গরাজ্য হওয়াটাই কি ভালো ছিল না?

 

পূর্ব প্রকাশিতঃ নতুন কাগজ