ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

আজ থেকে ঠিক ৮০০ বছর আগে, প্রথম ম্যাগনা কার্টার সময় সামন্ততান্ত্রিক ইংল্যান্ডে রাজার হাতে একচ্ছত্র ক্ষমতা থাকার বিরুদ্ধে ব্যরনদের প্রতিবাদ হয়েছে, রাজাকেও আইনের অধীনে আসতে হয়েছে, আইন মানতে হয়েছে। এর পথ ধরে প্রায় আড়াই শো বছর আগের ফরাসী বিপ্লব রাজতন্ত্রকে উৎখাত করে গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল, ভিত্তি স্থাপন করেছিল উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার।

এই পথচলায় নানাভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে, মানুষ জানতে পেরেছে রাষ্ট্রের ক্ষমতার বিযুক্তকরণ (Separation of power) কার্যকরভাবে করা না গেলে সেটা আখেরে একজন রাজাই তৈরি করবে। ক্ষমতার বিযুক্তকরণ করার ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রগতি নেই বললেই চলে। তাই শ্রদ্ধেয় ডঃ আকবর আলী খান স্পষ্টভাবেই বলেন আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীরা মধ্যযুগীয় সম্রাটদের মতো ক্ষমতা ভোগ করেন। আমাদের বিদ্যমান ব্যবস্থাটিই প্রথম ম্যাগনাকার্টার সময়কার একজন কুখ্যাত রাজা জন তৈরি করার জন্য যথেষ্ট। আর এমন সর্বময় ক্ষমতার পরিণতি কী, সেটা রায়ে বিচারপতি মির্জা হুসাইন হায়দার Lord Acton এর বিখ্যাত উক্তিটি দিয়ে আমাদের আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন – ‘Power tends to corrupt; absolute power corrupts absolutely’.

এই সব অপ্রাপ্তির মধ্যেও সামান্য কিছু আলোর রেখার মধ্যে একটি ছিলো কোনো অসামর্থ্য কিংবা অসদাচরণের কারণে বিচারপতি অপসারণ করতে হলে সেটা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে করা। বিচার বিভাগের হাতের এই ক্ষমতাটি কেড়ে নিয়ে এটাকেও সংসদ (পড়ুন একজন ব্যক্তির) এর হাতে নিরঙ্কুশভাবে নিয়ে যাবার চেষ্টা মানে দেশকে অনেকটা পিছিয়ে নিয়ে যাওয়া। নাগরিক হিসাবে এটা আমাদের কাছে স্বস্তির বিষয়, এই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর থেকে বিশেষত এর পর্যবেক্ষনগুলোকে নিয়ে ক্ষমতাসীন দলটির তীব্র অসন্তোষ শুরু হয়েছে, যদিও পঞ্চম, অষ্টম এবং ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়েও অনেক পর্যবেক্ষণ থাকার পরও সেসব রায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কাছে হয়েছিলো ‘ঐতিহাসিক’। প্রশ্ন হলো, এই আদালতের এই পর্যবেক্ষণগুলো কি মাত্রই শুনলাম আমরা? এর মধ্যেই আমরা পর্যবেক্ষনগুলোর অনেগুলো জেনে গেছি। আসুন চোখ বুলাই কয়েকটিতে –

১. ‘কোনো জাতি বা দেশ একজন মানুষকে নিয়ে বা একজন মানুষ দ্বারা তৈরি হয় না। আমরা যদি সত্যিই আমাদের জাতির পিতার সোনার বাংলার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই, তাহলে আমাদের আমিত্ব এর আত্মঘাতী আসক্তি থেকে মুক্ত থাকতে হবে। আমিত্ব মানে একজন ব্যক্তিই সবকিছু করছেন ইত্যাদি’

‘এতে কোনো সন্দেহ নেই আওয়ামী লীগের নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন, কিন্তু হাতে গোনা কিছু উন্মত্ত ধর্মীয় ভাবাদর্শী এবং তাদের খারাপ সঙ্গী ব্যতীত সমাজের সব ক্ষেত্রের মানুষ যেমন দিনমজুর, শ্রমিক, জেলে, গৃহিণী, কয়েদি, শিক্ষাব্রতী, ছাত্র, শিল্পপতি, বুদ্ধিজীবী, পুলিশ, আর্মি, আনসার, বিডিআর এবং অন্য রাজনৈতিক দলের সমর্থকগণ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলো।’

২. ‘শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গগনচুম্বী অট্টালিকা, প্রকান্ড ফ্লাইওভার-সেতু রাষ্ট্রের স্থায়িত্ব এবং বিকাশ নিশ্চিত করতে পারে না, বরং এই ক্ষেত্রে সবচাইতে বেশি প্রয়োজন “সামষ্টিক রাজনৈতিক প্রজ্ঞা’।

৩. ‘সংবিধানের ৭০ ধারা অযৌক্তিকভাবে সংসদদের শৃঙ্খলিত করেছে। এই ধারা তাদের ওপর এমন রাজত্ব করছে যে তারা কোনো ইস্যুতে দলের মতামতের বাইরে যেতে পারেন না।’

৪. ‘১১৫ এবং ১১৬ ধারা তার আগের জায়গায় ফেরত না নেয়া গেলে নিম্ন আদালত  প্রশাসনের অধীনস্তই থাকবে।’

৫. ‘অদূরদর্শী রাজনীতিকায়ন একটা ভাইরাসের মতো, যেটা আমাদের সমাজের অনেকের মধ্যে, বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভবিষ্যৎ না দেখতে চাওয়ার এই প্রবণতায় আমাদের রাজনৈতিক নেতারা তাদের সংকীর্ণ গোষ্ঠীস্বার্থকেই সবার ওপরে স্থান দেয়; তারা দেশে একটা ছদ্ম গণতন্ত্র কায়েম করেছে, যেটা দিয়ে তারা নির্লজ্জভাবে সংবিধান থেকে অন্যায্য সুবিধা গ্রহণ করে।’ এটাকে তাঁরা গণতন্ত্র বলছেন না; বলছেন ‘ছদ্ম গণতন্ত্র’।

৬. সংসদকে ডিসফাংশনাল এবং ইমম্যাচিওরড বলা হয়েছে।

৭. দুইটি সামরিক সরকারের সময়কালকে ব্যানানা রিপাবলিক বলা হয়েছে, যদিও আমি মনে করি বর্তমান বাংলাদেশও আদতে একটা ব্যানানা রিপাবলিকই। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ব্যানানা রিপাবলিকের সংজ্ঞাটা এখানে যুক্ত করছি – ‘ব্যানানা রিপাবলিক হচ্ছে রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল, সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদের একটা দেশ যেখানকার বেশিরভাগ মানুষ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল, এবং তারা শাসিত হয় রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, সামরিক-বেসামরিক আমলার একটা গোষ্ঠী দিয়ে। এই গোষ্ঠী সরকারের একনায়কতান্ত্রিক শক্তি ব্যবহার করে রাষ্ট্রের সব সম্পদে নিজেদের  অন্যায় অধিকার প্রতিষ্ঠা করে এবং শ্রমিক শ্রেণীর শ্রম শোষণ করে।’

৮. ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে নানা জায়গায় আমাদের সংবিধানের প্রস্তাবনার উল্লেখ করা হয়েছে। যথার্থভাবেই এই প্রস্তাবনাকে তাঁরা বলেছেন এটা আমাদের ম্যাগনাকার্টা। তাঁরা বলেন – ‘মাত্র ২১৩ শব্দের মাধ্যমে একটা সদ্য স্বাধীন হওয়া জাতি লিখেছিলো ঠিক কেমন একটা সমাজ এবং রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখে তারা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলো, যেটাকে একজন প্রথিতযশা শিল্পীর শিল্পকর্মের সাথে তুলনা করা যায়।’ রায়ে উল্লেখ করা প্রস্তাবনার একটা অংশের বাংলা ভার্সন – ‘সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হইবে’। এই হতাশাও তাঁদের বক্তব্যে বার বার এসেছে যে, ভুল নেতৃত্বের  হাতে পড়ে আমাদের রাষ্ট্র সেই কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রের আশেপাশেও নেই।

আমরা মনে করতে পারবো ষোড়শ সংশোধনীর প্রাথমিক রায়ের সময় সংসদ অধিবেশন চলছিলো এবং তখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের  বিচারপতিদের, বিশেষ করে মাননীয় প্রধান বিচারপতিকে যাচ্ছেতাই ভাষায় আক্রমণ করে হয়েছিলো। এরপর এখন পূর্ণাঙ্গ রায় বের হলো, আর এর প্রতিক্রিয়ায় সরকারি দলের মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় (বিস্তারিত দেখুন) যে ভয়ঙ্কর আক্রমণ করছেন বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে সেটা অবিশ্বাস্য। এক আইনমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ ন্যুনতম সভ্যতা দেখাচ্ছেন না দেশের সর্বোচ্চ আদালত আর মাননীয় প্রধান বিচারপতির প্রতি। এটা দেখে অনুমান করাই যায়, আসছে অধিবেশনে সংসদের ভেতরে বক্তব্যের তথাকথিত দায়মুক্তির সুযোগ নিয়ে তাঁরা কী করবেন।

এদিকে অবিশ্বাস্যভাবে সরকারি তোপ দাগানোতে যোগ দিলেন আইন কমিশনের চেয়ারম্যান, সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক। অবসরের পর লাভজনক পদে থাকার সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও তিনি লাভজনক পদে আছেন, যেটা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। এমন মানুষ আর যাই হোক চড়া গলায় কথা বলবেন, এটা দেখলে আক্ষরিক অর্থেই পিত্তি জ্বালা করে। ত্রয়োদশ সংশোধনীর রায়ে তাঁর অনিয়মের ফিরিস্তি এখানে বিস্তারিত লিখছি না (আগ্রহীরা এই লিখা দুইটি পড়তে পারেন – ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ই পূর্বপরিকল্পিত; যেন আরও একটি অবসর-উত্তর রায়!)। তবে এটা উল্লেখ না করলেই না, সেই রায়ে তিনি অনেক পর্যবেক্ষণ দিয়েছিলেন, যেগুলোকেও তখন অনেকেই রায়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে সমালোচনা করেছিলেন। সেই তিনি আজ এসেছেন ……

শুরুতে প্রশ্ন করেছিলাম, ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পর্যবেক্ষনগুলো কি আদৌ নতুন শুনছি আমরা? এসব কথা কি দীর্ঘ সময় ধরে আমরা আমাদের চারপাশে নানাভাবে শুনছি না? আসলে এসব কথা শুধু এই সরকারের সময়ই না, শুনেছি আগের সরকারগুলোর সময়ও। আমি মনে করি এই পর্যবেক্ষণগুলোতে স্বধীনতার অব্যহতি পর থেকেই আমাদের জাতীয় জীবনের নানা ব্যর্থতার স্বরূপ সন্ধান করার চেষ্টা করা হয়েছে; আছে দিকনির্দেশনাও। এই রায়ে বিচারপতিদের এই পর্যবেক্ষণ মোটেও থলের বিড়াল বের করেনি, বিড়াল থলের বাইরে ছিলো অনেক কাল আগে থেকেই।

পর্যবেক্ষণ এর সব বক্তব্য কোনোভাবেই কোনো বিশেষ দলকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়নি। কিন্তু সরকারের প্রচণ্ড গাত্রদাহ হচ্ছে। এই দেশে গণতন্ত্র নেই, গণতন্ত্রের নামে যা আছে সেটাকে ইউফেমিস্টিক ভাষায় আমাদের বিচারপতিগণ ‘ছদ্ম গণতন্ত্র’ বলেছেন, কিন্তু একেবারে রাখঢাক না করে বললে বলতেই হয় বর্তমানে এই দেশে যা চলছে এটা স্পষ্ট অথোরিটারিয়ান রাজনৈতিক ব্যবস্থা। আর একটা অথোরিটারিয়ান সরকার কোনো ভীন্নমতকে ধারন করা দূরেই থাকুক সহ্যই করবে না। কিন্তু বিচারপতিরা সরকারের জন্য এক অভিনব সমস্যা তৈরি করেছে।

এই মুহূর্তের বাংলাদেশের সবচাইতে বড় ব্ল্যাসফেমি হচ্ছে সরকারের ন্যূনতম সমালোচনা, এবং বাংলাদেশের ঐতিহাসিক যে কোন ঘটনায় আওয়ামী লীগের বয়ানের বাইরে কোনো ভিন্নতা দেখানো। কেউ সেটা করা মাত্রই তার গায়ে ‘স্বাধীনতা বিরোধীদের দোসর’, ‘মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারী’, ‘দেশের উন্নয়ন বানচালকারী’ এরকম কোনো একটা তকমা লাগিয়ে দেয়া হয়; ব্যস বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই কেল্লাফতে হয়ে যায়। অনেকেই থেমে যায়। সমস্যা হলো এই তকমা বিচারপতিদের গায়ে লাগানো যাচ্ছে না। আমাদের সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের সাতজন বিচারপতির সবাই হাইকোর্ট বিভাগে নিযুক্ত হয়েছেন/স্থায়ী হয়েছেন এই সরকারের আমলে। আর সবাই আপীল বিভাগে নিযুক্ত হয়েছেন এই সরকারেরই আমলে।

২১ বর্গকিলোমিটার আয়তন আর ১৩,৫২৮ জনসংখ্যার নাউরু আর ১৭৪ বর্গকিলোমিটার আয়তন আর ২,১৪,২৬৫ জনসংখ্যার সামোয়া এসেছে ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের আলোচনায়। এই কলামে (ষোড়শ সংশোধনী বাতিলে ক্ষুব্ধ হওয়ার কিছু নেই) আমরা জানতে পারি কমনওয়েলথভুক্ত কিছু দেশে সংসদের হাতে বিচারপতি অভিশংসনের ক্ষমতা আছে, কিন্তু প্রায় সব দেশে সংসদে অভিযোগ উত্থাপনের পরে এবং সংসদ কর্তৃক অভিশংসনের আগে সেটার তদন্ত করে বিচার বিভাগ। কিন্তু আমাদের ষোড়শ সংশোধনীতে ছিলো অভিযোগ উত্থাপন, তদন্ত এবং অভিশংসন এই সব কাজ শুধুমাত্র সংসদই করবে – কোনো পর্যায়ে বিচার বিভাগের কোনো সম্পৃক্ততা ছিলো না। আমরা যেমন করেছিলাম, ওই তিনটি কাজ শুধু সংসদই করে এমন দুইটি ‘অসাধারণ’ গণতান্ত্রিক দেশ এই পৃথিবীতে আছে – নাউরু আর সামোয়া।

ষোড়শ সংশোধনী রাষ্ট্রকে ওই দুই রাষ্ট্রের কাতারে ফেলে দিয়েছিলো। বিচারপতিদের ধন্যবাদ, তাঁরা বিচারবিভাগকে এই বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছেন। ওই দুই দেশের কাতারে থাকতে না পেরে সরকারি দলের সর্বস্ব হারানোর অনুভূতি হতে পারে; কিন্তু আমরা, এই দেশের সাধারণ মানুষ মনে করি এই রায় আমাদের রাষ্ট্রের গনতান্ত্রিক বিকাশের পথে এক বড় মাইলফলক হয়ে থাকবে। আশা করবো, সংবিধানের ১১৫ ও ১১৬ ধারা আদি অবস্থানে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে নিম্ন আদলতকে সুপ্রীম কোর্টের অধীনস্ত করার মাধ্যমে বিচারবিভাগের পৃথকীকরণ প্রকৃত অর্থে সম্পন্ন হবে।

রাষ্ট্রের ক্ষমতার বিযুক্তকরণ পুরোপুরি সম্পন্ন করা ছাড়া আমাদের স্বপ্নের একটা উদারনৈতিক গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করা কোনোভাবেই সম্ভব না। তথাকথিত ‘কম গণতন্ত্র, বেশি উন্নয়ন’ ক্ষমতাসীনদের লুটপাটে সাহায্য করতে পারে, রাষ্ট্রের জনগণের কোনো কল্যাণ করে না। আর একটা উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক সমাজেও সুষ্ঠু উন্নয়ন হয়; বরং সেই উন্নয়ন আমাদের ব্যানানা রিপাবলিকের মতো মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের কাছে না গিয়ে সমাজের সব মানুষের কাছে সুষমভাবে বন্টিত হবে।