ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

’রাজিব ডট কম’- এর রাজিবকে জিজ্ঞাসা করলাম, ভাই সিম রি-রেজিস্ট্রেশন বাবদ কোম্পানি কোন ভর্তুকি দিচ্ছে কি? –হ্যাঁ, দুই টাকা। এর মধ্যে সরকার ভ্যাট নিচ্ছে ১৮%। অর্থাৎ আমরা পাচ্ছি ১ টাকা ৮২ পয়সা।

এখন ভিক্ষুককে ২ টাকার কম দিলে মুখ ভার করে চলে যায়, সেখানে “হাওয়া” বিক্রি করা মোবাইল কোম্পানিগুলোর প্রতিটি সিম রিরেজিস্ট্রেশন বাবদ রিটেইলারদের ২ টাকা সম্মানি উপযুক্তই বটে (!)। এক একটা সিম রিরেজিঃ করতে একজন রিটেইলারকে কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় ব্যয় করতে হয়। এর ওপর ফিঙ্গার প্রিন্ট না মেলা, সার্ভার সমস্যার ঝক্কি তো ছিলই। এসব কাজ তাদের মূল রিচার্জ ব্যবসাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। উপরন্তু আন্তরিকভাবে কাজ সম্পন্ন করে বিনয়ের সাথে ২০ টাকা দাবী করাটাকে আমাদের কাছে খুবই অনৈতিক মনে হয়েছে। এটা খুবই স্বাভাবিক। অনেকে ৫টা ৭টা সিমও রেজিস্ট্রেশন করিয়েছেন। তার তো অনেক গুলো টাকা নষ্ট হয়েছে। কিন্তু একবারও ভাবিনি যারা রিরেজিঃ করে টাকা দাবী করেছেন তারা আমাদের সমাজেরই। এবং এরা কোন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নন। রিচার্জ ব্যবসায় যারা যুক্ত, আমার মনে হয় তারা যথেষ্ট পুঁজির অভাবেই এ ব্যবসা করছেন। কিছু না করে বখে যাওয়ার চেয়ে, নেশার জগতে জড়িয়ে পড়ার চেয়ে কিছু একটা করছেন মন্দ কী। অথচ কোম্পানীর ২ টাকা খয়রাতি-অনুদান আর ( ফ্রি’র নামে ২০ টাকা দাবীর কারনে) আমাদের “বাটপার” গালমন্দ যেন উপযুক্ত পাওনা।

সরকারি সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সিম রেজিষ্ট্রেশনের পুরো প্রক্রিয়াটি কলুষিত করেছে স্ব স্ব মোবাইল কোম্পানিগুলো। রিটেইলারদের কাছে প্রতিনিধির মাধ্যমে কারা ভুয়া এনআইডি ও ছবি সরবরাহ করত? সিম বিক্রির অবৈধ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থেকে কারা ভুয়া বিজ্ঞাপণ তৈরি করত? আমাদের দুর্ভাগ্য, এই দেশে সাধারণ মানুষ কখনোই রাষ্ট্রের কাছে মর্যাদা পায়নি। এ কারনে যাদের আত্ম সম্মানে লেগেছে তারা মিথ্যা বলেছেন এই বলে যে, ভাই কোম্পানীর দেয়া ডিভাইসটি নষ্ট অথবা ঠিকমত কাজ করছে না অথবা সার্ভারে সমস্যা হচ্ছে। মানুষ নিরুপায় হয়ে উপায় খুঁজে নেয়।

আবারো সময় বেড়েছে রিরেজিস্ট্রেশনের। আমরা যেন অবহেলায় শেষ মুহূর্তে ভিড় না বাড়াই। মন চাইলে ফ্রি কাজটি টাকা দিয়ে কইরেন। যেন ’ঘোড়ায় চড়িয়া মর্দ্দ হাঁটিয়া চলিল….’