ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

সুপ্রিয় রাজ্জাক ভাইকে বলছি। ‘কাকের মাংস কাকে না খেলেও পুলিশে খায়’ – শিরোনামে আমার লেখায় আপনার মন্তব্যটি ব্লগ টিম কীভাবে এপ্রুভ করেছেন তা আমার কাছে বোধগম্য নয়। কারন মন্তব্যটিতে আপনি ব্যক্তিগতভাবে আমাকে আক্রমন করেছেন। এটি যে কোন ধরনের সাংবাদিকতার রীতি পরিপন্থী। আমার লেখায় আমি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ তুলেছি। ১) উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অধঃস্তনদের কাছে মাসিক নির্দিষ্ট মাসোহারা চান বা দাবী করেন। ২) প্রেমিক-প্রেমিকাদের নিতান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করে থাকে এবং এটির শেষ পরিণতি টাকা বাগানো। দুটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকার পরও আপনি একটি সম্পর্কেও কোন ব্যাখ্যা/ মতামত না দিয়ে সরাসরি আমাকে আক্রমন করেছেন। এটি কোন ধরনের শিষ্টাচার এবং নাগরিক জার্নালিজমের কোন রীতিতে পড়ে তা আমার জানা নেই।

আমার বন্ধু না হয় বাড়িয়ে বলেছেন। কিন্তু আপনি তো সেটার বিপক্ষে কোন মতামত দেননি। তার মানে আমি যে অভিযোগ তুলেছি তা সত্য। রাজ্জাক ভাই আপনি নিজের প্রতি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে এই অবস্থায় পৌঁছলে সাধারণ পুলিশের কী অবস্থা হবে? আমরা আম জনতা কি ধোয়া তুলসী পাতা? প্রকৃতপক্ষে করাপশনটা শুরু হয় আমাদের মধ্য থেকেই। তাহলে সব পাখি মাছ খেলেও মাছরাঙার ওপর দোষ কেন? দোষ এই জন্য যে, মাছরাঙা কেবলই মাছ খায়। পুলিশকে আমরা এজন্য দায়ী করি যে, সে আইনের রক্ষক। আইন সম্পর্কে তারা সাধারণের চেয়ে ভাল জানেন। তার নীতি-নৈতিকতা, ব্যবহার, পারস্পরিক আচরণ অন্যদের চেয়ে ভাল হবে- এটাই তো কাম্য। ধরুন একজন লোক কোন পাবলিক প্লেসে ধূমপান করছে। একজন পুলিশ তাকে জরিমানা করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন। কিন্তু একজন পুলিশ যদি পাবলিক প্লেসে ধূমপান করেন তবে সাধারণ জনগন সেই অধিকার সংরক্ষণ করেন কি? এই ক্ষমতা যেহেতু আমাদের নেই, সুতরাং আমরা পুলিশকে ঐ অবস্থায় দেখতে চাই না। কোন পুলিশের বাপের টাকা থাকলে সে কোটি টাকা দিয়ে চাকরি নিক। আমাদের আপত্তি নেই। কারন আমার বাপের টাকা থাকলে ঐ রকম চাকরি আমারও থাকত। এটি কোন গর্বের বিষয় নয়। বিষয়টা হল- ঘুষ দিয়ে চাকরি নিয়ে সেই টাকা উসুল করতে আপনি যা খুশি তাই করবেন, এটা হতে পারে না। আমার বন্ধুটিকে জয়েনিং- এর এক বছরের মাথায় আাবার সারদা, রাজশাহীতে পাঠানো হয়। এটি কেন হয়েছে তা সে গোপণ রেখেছে, মুখ খোলেনি। পুলিশ হেড কোয়ার্টারে দেড় লক্ষ টাকা বখশিশ ( ঘুষ বললে তো আবার আপনাদের আঁতে লাগে) দিয়ে চট্টগ্রামে জয়েন করে। এরপরও বলবেন-” সতীন আমার ছালুনে নুন দেয়”।

Sir Walter Scott এর “Patriotism” কবিতাটি নিশ্চয়ই পড়েছেন। যুদ্ধজয়ী বীরকে জনসাধারণ যেমন ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে ভুল করে না, তেমনি সামান্য ভুলের জন্য দেশ ছাড়া করতেও দ্বিধা করে না। আমি শুকর খাওয়া মানুষ হলেও ঘুষ খাওয়া পুলিশ নই। শুকর খেয়ে না হয় নিজেকে কলুষিত করেছি, জাতিকে নয়।

পরামর্শঃ আপনি দেশে ফিরে লঞ্চঘাট, বাস স্টেশন, রেল স্টেশনে পোস্টাল বক্সের মত বক্স স্থাপন করে তাতে লিখে দিবেন-” পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে নির্ভয়ে লিখুন”। দেখবেন কত ধানে কত চাল হয়। অর্থাৎ এক পুলিশের বিরুদ্ধে হাজারটা অভিযোগ।।