ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি দিতে গিয়ে সরকার এক নজিরবিহীন অভিজ্ঞতা উপহার দিচ্ছে আমাদের। এটি চরম অমানবিক ও দুঃখজনক ঘটনা। পৃথিবীর আর কোন দেশে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার ইতিহাস আছে কিনা সন্দেহ।

এটা তো এমন যুগ নয় যে, হেমলগ থেকে বিষ বানিয়ে নিজের তৈরি বিষ নিজেকে পান করতে হবে। অথবা এমন নয় যে, মৃত্যুদণ্ড দেয়ার জন্য নিজের ক্রশ-কাঠ নিজেকে পিঠে করে বধ্যভূমি পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে। সময় অনেক দূর গড়িয়ে এসেছে। এখন মৃতদেহেরও কতকগুলো অধিকার রয়েছে। মানবতাকে সমুন্নত রাখতেই এসব অধিকার আমাদের রক্ষা করে চলতে হয়। মানবতা বিরোধী অপরাধের কারনে যাদেরকে ফাঁসি দেয়া হচ্ছে আমার মনে হয়, এই ফাঁসির কাজটি সম্পন্ন করতে গিয়ে সরকার একটি মানবতা-বিরুদ্ধ কাজ করছে। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে কারা কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় ও ব্যক্তিবর্গ। এবং কাজটি সম্পন্ন হবে অতি সঙ্গোপনে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি কার্যকরে সরকারের ভূমিকা, আমার দৃষ্টিতে জঘন্য। সরকার পারলে যেন পুরো ঘটনাটি লাইভ টেলিকাস্ট করে। মিডিয়াকে দাওয়াত দিয়ে, তথাকথিত গণজাগরণ মঞ্চের অবস্থান ঘটিয়ে তাদের দিয়ে হাততালি, শ্লোগান, হাসিঠাট্টার মধ্য দিয়ে ফাঁসির মঞ্চে হাজির করা হচ্ছে নরঘাতককে। যেন মধ্য যুগীয় বর্বরতা। এ ধরনের ঘটনা একজন অপরাধীর মানবাধিকার লঙ্ঘন। একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে গিয়ে সরকার যেন আরেকটি ভিন্ন রকম উপমায় পরিণত হচ্ছে।

যুদ্ধকালীন মানবতা বিরোধী অপরাধীর শাস্তি মৃত্যুদণ্ডও যেন অনেকটা কম। তারপরও মানুষ বলে মানবতাকে সম্মান দেখাতে হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর ওদের মৃতদেহ যদি পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেয়া যেত তাহলে আমরা আরো শান্তি পেতাম। কিন্তু তা যখন করা যাচ্ছে না, লাশ যখন ওদের অপছন্দের মাটিতেই রাখতে হচ্ছে তখন এইটুকু করে কেন নিজেদের নোংরা করছি। আশা করি, সরকার ভবিষ্যতে এই উদারতা দেখাতে কার্পণ্য করবে না। আর গণজাগরণ মঞ্চের মাতলামিটা যেন বন্ধ থাকে।।