ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

মান সম্মত ঔষধ তৈরি করতে না পারায় আদালত দুই দফায় বেশ কিছু কোম্পানীর লাইসেন্স বাতিল ও কতিপয় কোম্পানীর এণ্টিবায়োটিক উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। এই পদক্ষেপ জনস্বাস্থ্যের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো নিষিদ্ধের তালিকায় ‘এলবিয়ন’ (Albion) কোম্পানির নাম না থাকায় হতাশ হলাম। কোম্পানিটি এক দিনে যে পরিমাণ ঔষধ বিক্রি করে, আমার মনে হয় স্কয়ার কোম্পানি তা এক সপ্তাহে বিক্রি করে। বাংলাদেশে এমন কোন ফার্মাসিস্ট (রেজিস্টার্ড ও ননরেজিস্টার্ড) নেই যিনি এলবিয়নের ঔষধ দিয়ে (ব্যাড) প্রাকটিস করেন না। অবশ্যই এর ব্যতিক্রম আছে। কিন্তু তা স্থূল সংখ্যায় হিসেব করতে হবে।

যে কোম্পানির যে ঔষধটি ব্রান্ড লিডার ALBION তার সুচারু নকল ঔষধ তৈরি করে। যেমন: ধরুন, কিটোরোলাক গ্রুপের যে ঔষধটি বাংলাদেশে ব্রান্ডলিডার তার নাম Rolac-10mg, ঔষধটির প্রস্তুতকারক রেনেটা লিমিটেড। আর এলবিয়নের ঔষধটির নাম korac। korac শব্দটি ছোট করে লেখা। জেনেরিক নেম Ketorolac যথাসাধ্য বড় করে লেখা।

এবার আসি দামের প্রসঙ্গে। রেনেটার রোলাক প্রতিটি ট্যাবলেট কোম্পানি থেকে কেনা পড়বে ৮.৮০টাকা। বিক্রি ১০টাকা। এলবিয়নের প্রতিটি ট্যাবলেট কেনা পড়বে ১ টাকা, কিন্তু বিক্রি ১০টাকা। মিডফোর্টের পাইকারি বাজারে এলবিয়নের প্রতিটি ট্যাবলেট এক টাকারও কম পড়ে।

এভাবে এলবিয়ন প্রতিটি কোম্পানীর ব্রান্ডলিডার প্রোডাকটির প্রায় হুবহু নকল ঔষধ তেরি করে বাজারজাত করছে। তাদের কোন মার্কেটিং নেটওয়ার্ক নেই। নেই মেডিকেল প্রমোশন অফিসার (এম.পি.ও)। তবে ভেজাল ও নকল ঔষধ তৈরির লাইসেন্স আছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মতে, যদি কোন কোম্পানির প্রস্তুতকৃত ঔষধের গায়ে DAR. NO…. থাকে তবে তা মজুৃদ, বিপণন ও সরবরাহ করা যাবে অর্থাৎ ঔষধটি হালাল। ALBION এর প্রত্যেক প্রডাক্টয়ের গায়ে DAR. NO মুদ্রিত আছে। কোম্পানিটি আবার ISO সনদপ্রাপ্ত।

ডাক্তার ফ্রন্টে কাজ করে এলবিয়নের এমন একটি লোকও নেই। অর্থাৎ এদের ঔষধ প্রেসক্রিপসন হয় না। তাহলে বিপুল পরিমাণ ঔষধ কীভাবে চলে? উপরে উল্লেখিত এলবিয়নের korac কী উপাদানে তৈরি যা কি না এক টাকারও কমে বিক্রি করা সম্ভব। আটা অথবা ময়দা? এ তো আমাদের নিত্য দিনের খাবার। সুতরাং নির্ভয়ে খাওয়া যেতে পারে এলবিয়নের জীবনরক্ষাকারী ঔষধগুলো। সম্ভবত এ কারনেই তা নিষিদ্ধ তালিকায় স্থান পায়নি।

সতর্কতা: ঔষধ কেনার সময় চোখ কান খোলা রাখুন যাতে ফার্মাসিষ্ট আপনাকে albion এর প্রোডাক্ট গছিয়ে না দেন।