ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

“বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তে সুপার স্পিড ইন্টারনেট নিয়ে পাশে আছে বলেই গ্রামীণফোন আজ বাংলাদেশের এক নম্বর নেটওয়ার্ক।”

গ্রামীণফোনের ফেসবুক পেজ থেকে কথাগুলো নেয়া। এছাড়া বেশ কিছু টিভি চ্যানেলে গ্রামীণফোনের একটি বিজ্ঞাপন চলছে, “গ্রামীণফোন বাংলাদেশের এক নম্বর নেটওয়ার্ক”। আশা করি সবার নজরে পড়বে। প্রশ্ন হল- কীসের ভিত্তিতে, কে তাকে এক নম্বর নেটওয়ার্কের সার্টিফিকেট দিয়েছে? নিজে নিজে বিজ্ঞাপন বানিয়ে এভাবে এক নম্বর বলা- প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়। জনগণকে ধোকা দেয়া। আশা করি, বিটিআরসি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবে।

এবার আসি মূল কথায়। গত ৯ মার্চ রাতে বান্দরবনের লামা থানাধীন সরই ইউনিয়নে অবস্থিত কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের “কোয়ান্টামম” ভ্রমণে যাই। বাসায় যেহেতু ইন্টারনেটের জন্য ব্রডব্যান্ড ব্যবহার করি, ফলে অনলাইন পত্রিকা পড়া ও ব্লগে লেখালেখির জন্য আমার ব্যক্তিগত গ্রামীণফোন নম্বরে ঐ দিন ৯৪ টাকায় ১ জিবি ডাটা ক্রয় করি। অবশ্য অন্যান্য কোম্পানির এক জিবি আরো কম মূল্যে পাওয়া যায়। যা হোক ১০ মার্চ শুক্রবার সকালে যখন লামার গন্তব্যে পৌঁছলাম, মোবাইলে গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক সিগনাল নেই। সৌভাগ্যবশত আমার অন্য নম্বরটি রবি হওয়ায় কিছুটা রক্ষা পেয়েছি। ওখানে কেবলমাত্র রবির নেটওয়ার্ক (টুজি) স্ট্রং। বাংলালিংক আর টেলিটক- এই আছে এই নাইরে। এই হচ্ছে বাংলাদেশের এক নম্বর নেটওয়ার্ক- গ্রামীণফোনের বাস্তব অবস্থা।

এই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিটি জন্মলগ্ন থেকে এর গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করে আসছে। বহুমাত্রিক ছিল সে প্রতারণা, এখনও চলছে সমানতালে। যেমন- এক পয়সা প্রতি সেকেন্ড অফারে অন্য অপারেটরের চেয়ে গ্রামীণফোন বেশি পয়সা কেটে নেয়। কিন্তু কেন? তা অজানা।

বাংলাদেশের মোবাইল কোম্পানিগুলো যখন টুজি থেকে থ্রি জিতে প্রবেশ করল তখন নেটওয়ার্ক আপগ্রেডেশন না করেই একযোগে সব কোম্পানিগুলো টিভি- বিজ্ঞাপণ দ্বারা গ্রাহকের কোটি কোটি হাতিয়ে নিয়েছে বা এখনও নিচ্ছে। এর মধ্যে শীর্ষে গ্রামীণফোন। কেননা আমি ১৯৯৯ সন থেকে গ্রামীণফোনের সাথে যুক্ত আছি। ফলে তাদের হরেক রকম বাটপারির নীরব সাক্ষী এই আমি।

এই পকেটমার কোম্পানির আরেকটা উদাহরণ তুলে ধরছি। এরা কত সুকৌশলে ১২ মাসকে ১৩ মাসে রূপান্তরিত করেছে দেখুন। তখন গ্রামীণফোনের ৩০ দিনের আনলিমিটেড ডাটা প্যাকের মূল্য ছিল ৯৫০টাকা (সঠিক ফিগার মনে নেই) বা এর কাছাকাছি। হঠাৎ এরা বিজ্ঞাপণ দিয়ে আরও গ্রাহক-বান্ধব ইন্টারনেট প্যাকেজ পুণঃনির্ধারণ করল। এতে আমার ব্যবহৃত প্যাকেজটি ৩০ দিনের পরিবর্তে ২৮ দিন মেয়াদ করা হল। (সম্ভবত ডাটা ভলিউম ৫ জিবিতে সীমাবদ্ধ করা হল)। আপনি হয়তো ভাববেন দু দিন কম এ আর তেমন কি? কিন্তু হিসাব দেখুন- ৩১ দিনের ৭ মাস থেকে পাওয়া যাবে (৩*৭)=২১দিন, বাকি ৩০ দিনের ৪ মাস থেকে পাওয়া যাবে (২*৪)=৮ দিন। ফলাফল ২১+৮=২৯ অর্থাৎ ২৮ দিনের আরো একটি নতুন মাস!