ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

পাঠক মূল বিষয়ে যাওয়ার আগে চলুন দেশের জনসংখ্যা নিয়ে কিছু মূল্যবান তথ্য জেনে নেই।

২০১১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম আদমশুমারি ও গৃহগণনা অনুসারে বর্তমানে বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যা ১৪ কোটি ৯৭ লক্ষ। দেশের বাইরে প্রায় এক কোটি লোক বাস করছে। তার মানে সব মিলিয়ে দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি। জনসংখ্যা বৃদ্ধির বার্ষিক হার ১.৩৪ শতাংশ। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৬৭.২। এর মধ্যে পুরুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৬৬.১ এবং মহিলাদের ৬৮.৭ বছর। গড় আয়ু বাড়ার পাশাপাশি শিশু মৃত্যু ও প্রসুতি মাতৃ মৃত্যু হার ও কমেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ৩৯ জন ও মাতৃমৃত্যু হার প্রতি লক্ষে ১৯৪ জন।

তথ্য উপাত্ত তো জানলাম, জেনে গেলাম উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে গেছে জনসংখ্যা বৃদ্ধিহার। তাহলে যেখানে যাই এত মানুষ দেখি কেন? যেন চারিদিকে গিজগিজ করছে মানুষ। এর প্রকৃত কারণ কী? গড় আয়ু বৃদ্ধি কিংবা শিশু মৃত্যুহার কমে যাওয়া, নাকি পরিবার পরিকল্পনা নামক প্রকল্পের ব্যর্থতা, নাকি জনগণের সচেতনতার অভাব?

জনসংখ্যা নিয়ে কথা উঠলেই অবশ্যম্ভাবীভাবে চলে আসে পরিবার পরিকল্পনার কথা। কেউ হয়তো বলবেন দেশে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি জোরদার হচ্ছে না, কিংবা উন্নয়নকর্মীরা তাদের দায়িত্ব ঠিকমত পালন করছেন না, কিংবা সব দোষ বরাবরের মতই প্রশাসনের উপর চাপিয়ে দিয়ে বলতে পারি যে সরকার জনসংখ্যা কমানোর জন্য সঠিক নির্দেশনা প্রদান করছেন না। কিন্তু আসলেই কী তাই?

পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির কারণে অবশ্যই বাংলাদেশের মানুষের মানসিকতায় ও ভাবনায় “ছোট পরিবার সুখী পরিবার ” এরকম একটি ভাবধারার বিকাশ হয়েছে। শহর ও গ্রামাঞ্চলের শিক্ষিত-শিক্ষাবঞ্চিত মানুষের মাঝে পরিকল্পিত পরিবার গঠনের জন্য কিছুটা হলেও সচেতনতা তৈরি হয়েছে। আর এর প্রমাণ আমরা জন্ম বৃদ্ধিহার হ্রাস পাওয়ার উপাত্ত থেকেই অনুধাবন করতে পারছি। মহিলাদের সন্তান জন্ম দানের চিন্তা ভাবনয়ে এসেছে আমূল পরিবর্তন। আজকের বিডিনিউজ24 অনলাইন সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী দেশের বিবাহিত নারীদের দুই তৃতীয়াংশই আর সন্তান নিতে চান না। সরকারী জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৫ শতাংশ বিবাহিত নারীই আর সন্তান না নেওয়ার ইচ্ছার কথা বলেছেন। এর মধ্যে দুই সন্তানের জননীদের মধ্যে এই হার ৮২ শতাংশ, আর তিন বা তার বেশি সন্তানের মায়েদের মধ্যে ৯০ শতাংশ। কিন্তু দেখা গেছে যে অসাবধানতার কারণে অনেক নারী অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারন করে থাকেন।এর জন্য বৃদ্ধি পায় পরিবারের সদস্য সংখ্যা। বৃদ্ধি পায় দেশের জনসংখ্যা। কাজেই অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণজনিত সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য আবার আমাদের ফিরে যেতে হয় সেই পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিতে।

এক্ষেত্রে একটি বিষয় উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ অত্যন্ত জনবহুল দেশ বলে বিশ্বে পরিচিত হলেও আমাদের দেশের পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি কখনোই বাধ্যতামূলক ভাবে জনগণের উপর চাপিয়ে দেয়া কোনও আইন নয়। যা আমরা গণচীনে “এক সন্তান নীতি ” কর্মসূচীতে দেখতে পাই। জোর জবরদস্তি করে সেখানে পরিবার পরিকল্পনা নীতি জনগণের উপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে এবং আইন ভঙ্গ করলে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা আছে। যা অনেক সময়ই অমানবিক এবং হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম দেয় বলে আমরা পত্র পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারি।

অন্যদিকে আমাদের দেশে পরিবার পরিকল্পনা হল জনগণের স্বাধীন ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। আমি কয়টি সন্তান নেব, তা সম্পূর্ণ ভাবে নির্ভর করছে আমার উপর। রাষ্ট্রের কোনও ভূমিকা এতে নাই।এক্ষেত্রে আমরা অন্যান্য উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর মতই পূর্ণ গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ভোগ করছি। তাই আমাদের জনগণকেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দেশে জন্মহার কমেছে এ নিয়ে আত্মতৃপ্তিতে ভোগার কোনও কারণ নেই। জন্মহার কমে গেলেও বর্তমানে যে হার আছে সেভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকলে ধারনা করা হচ্ছে যে আগামী ৫০ বছরেই জনসংখ্যা দ্বিগুণ হবে। এক্ষত্রে ক্ষুদ্র এই দরিদ্র দেশটার খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, আবাসন, পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, বিদ্যুৎ সরবরাহসহ সব ধরনের সেবা ও অবকাঠামোয় যে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হবে, তা সহজেই অনুমেয়।

কাজেই সরকারের যেমন দায়িত্ব জনগণকে এই বিষয়ে সচেতন করে তোলা, ছোট পরিবারের সুযোগ সুবিধাগুলি জনগণের কাছে তুলে ধরা, সেই সাথে জন্ম নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা সমূহকে জনগণের কাছে সহজলভ্য করে তোলা, ঠিক তেমনি আমাদের জনগণকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে ছোট পরিবার গঠন ও সন্তান সংখ্যা নির্ধারণে। দেশের স্বার্থেই হোক আর নিজের স্বার্থেই হোক জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শুধুই সচেতনতা বৃদ্ধি।

তথ্য সুত্র: বিডি নিউজ 24 এবং বিবিএস।


২০ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. মাহবুব বলেছেনঃ

    জিনিয়া আপনাকে ধন্যবাদ সুন্দর একটা বিষয় তুলে ধরার জন্য। আমাদের দেশের জনসংখ্যা বাড়ার মূল কারণ শুধুই শিক্ষা বা জ্ঞানের অভাবই নয়, আমাদের মানসিকতা একটা বড় সমস্যা! কারণ অনেক শিক্ষিত, সচ্ছল পরিবার আছে যাদের কাছে মনে হয় সচ্ছলতা জাহির করার প্রবনতাও আছে, তাই তারা পরিবার বড় করতে চান! এখানে হয়তো ঐ পরিবারের কোনই সমস্যা হচ্ছে না, কিন্তু মুখ বাড়লে যে আহার বারে তারা সেটা আমলে হয়তো নিচ্ছেন না। আমাদের এই সীমিত উৎপাদনের দেশে মুখ বাড়ার কষ্টটা তাই দরিদ্র শ্রেণির উপর গিয়েই পরে, কারণ তখন খাদ্যর দামটা তাদের নাগালের বাইরে চলে যায়!
    এছাড়া সংখা বাড়লে সেই অনুযায়ী মৌলিক চাহিদা যোগান দেয়াটা রাষ্ট্রের জন্য সম্ভব হয়ে উঠে না! আর মানুষ বেঁচে থাকার জন্য মাঝে মাঝে এমন সব অনৈতিক পথ অবলম্বন করছে যা দেশের উন্নয়নকেও বাধা গ্রস্থ করছে! আমি যখন আমার বিদেশী বন্ধুদের বলি যে আমি যে শহরে জন্মেছি সেখানে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ২৭ হাজার লোক বাস করে তখন ওরা অবাক হয়ে যায় কিভাবে আমদের পক্ষে একজন আরেকজনের গায়ে ধাক্কা না দিয়ে হাঁটা সম্ভব! আর আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি হচ্ছে সেটাও কিন্তু বাড়তি জনসংখ্যার চাপটা অনেকাংশেই দায়ী! কারণ প্রতি ১২০০ লোকের জন্য আমাদের দেশে মাত্র একজন করে পুলিশ আছে! কখনো কখনো ভাবি সৃষ্টি কর্তার অশেষ কৃপা আছে বলেই বাংলাদেশটা টিকে আছে! যদিও জানিনা জনসংখ্যা কমাতে নিজে কতোটা ভূমিকা রাখতে পাড়ব, কারণ আমার বউও ডাইনিং টেবিল ভরা একটা পরিবার পছন্দ করে, যেটা নিয়ে আমাদের দুজনের একটা ঠাণ্ডা লড়াই চলছে! দোয়া করবেন যাতে আমি জয়ী হই তাতে আমাদের দুজন থেকে একজনের বেশি হাওয়ার সুযোগ থাকবেনা! আর যদি বউ জিতে যায়, তাহলে মনে হয় জনসংখ্যা দ্বিগুণ হতে পঞ্চাশ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না :D :D :D :D

  2. জিনিয়া বলেছেনঃ

    মাহবুব ভাই, ধন্যবাদ। আমিও তাই বলছি, আমাদের প্রয়োজন সচেতনতা। আপনার বউ মনে হয় জরিপের পার্সেন্টেজ এ বাদ পড়া মহিলাদের মাঝে পড়েন। আপনাদের জন্য শুভকামনা।

  3. মাধুকর বলেছেনঃ

    লেখিকা, বিষয়টি অবতারনা করায় ধন্যবাদ!
    জানিনা আপনি মাঠ পর্যায়ের তথ্য সম্পর্কে অবগত কিনা! পরিবার পরিকল্পনা এদেশে ব্যার্থ হতে বাধ্য কারন এই অধিদপ্তরে রয়েছে শতাব্দীর সীমাহীন দুর্নীতি!
    একটু দেখুনঃ
    সালঃ ১৯৮৭, জুলাই মাস
    স্থানঃ শ্রীমঙ্গল
    বাংলাদেশের সর্বত্র সরকারী পরিবার পরিকল্পনা বিভাগই প্রধান পরিবার পরিকল্পনা সেবাদানকারী হিসেবে কাজ করে ও অন্যান্য বেসরকারী হাসপাতাল ও এনজিও সঙ্গঠনগুলি সহযোগীতার মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনার সম্পূর্ন কাজটি সাধারনতঃ করে থাকে!
    শ্রীমঙ্গলে একটি অতি পূরোন ও নামকরা বিশাল চা কোম্পানীর ৩০টি হাসপাতালের মাধ্যমে এবং সরকারের প্রনদোনার সাথে নিজস্ব প্রদত্ত প্রনদোনার মাধ্যমে পূরো উপজেলার বেশীর ভাগ কাজই করে থাকে! একজন উল্লেখযোগ্য চিকিতসক ব্যাক্তিত্ব সেই কোম্পানীর প্রধান চিকিতসা কর্মকর্তা হিসেবে ১৯৮৭ সালের মে মাসে যোগদান করেন! এবং কোম্পানীর অন্যান্য জোনের চিকিতসকদের নিয়ে তাদের পুর্ব থেকে প্রচলিত ধারা অনুযায়ীই প্রতি বুধবার সরকারী সহযোগীতায় পরিবার পরিকল্পনার দীর্ঘ মেয়াদী কার্যক্রম অক্ষুন্ন রাখার সার্জারী চালিয়ে যেতে ও বৃধি করতে বিশেষভাবে সচেস্ট হন যা তাদের কোম্পানী কর্তব্যের অতিরিক্ত কাজ হিসেবে তারা করে থাকেন!
    সরকারী প্রনদোনা, যার ওপর নিরক্ষর ও দরিদ্র জনগোষ্ঠির পরিবার পরিকল্পনায় অংশ গ্রহন বহুলাংশে নির্ভর করে, তা কখনওই নিয়মিত আসেনি সেখানে! বেশ কয়েক মাসের টাকা একবারে যেয়ে ধর্না দিয়ে আনতে হত! অথচ কোম্পানীর প্রনদোনা ততখনাত প্রদান করা হতো, আর সরকারী প্রনদোনা বাকি থাকতো, ভ্যাসেকটমী ও লাইগেশনের সেবা গ্রহনকারীরা মাসের পর মাস ঘুরতে থাকতো সরকারী প্রনদোনার জন্যে!
    এবার জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে সরকারী প্রনদোনার টাকার আনার জন্যে ও সরকারী পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সামান্য ওষুধ ও সূচ, সূতো ইত্যাদি আনবার নতুন নিযুক্ত কোম্পানীর প্রধান চিকিতসক সাহেব সরবরাহকৃত সরকারী ফরমেটে বিল করে পাঠালেন যাতে সেবা গ্রহনকারীরা তাদের টাকাটা পায় এবং জন্ম নিয়ন্ত্রনে তাদের সমাজে কেউ আগ্রহ না হারিয়ে ফেলে!
    বিল পাঠানোর কয়েকদিন পরে কোম্পানীর প্রধান চিকিতসক সাহেব হঠাত তার মূঠোফোনে একটি ফোন পেলেন, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কেরানী প্রবর ফোন করেছেন যে এবার তাদের প্রসেসিং মানি হিসেবে শতকরা ৪৫ টাকা কেটে রাখবেন, কারন আগের শতকরা ৪০ টাকায় তাদের পোষাচ্ছে না! অর্থাৎ ভ্যাসেক্টমী বা লাইগেশনের সার্জন ফি, সহকারী সার্জনের ফি, প্যারামেডিকের ফি, নার্সের ফি সর্বোপরি ভ্যাসেকটমী ও লাইগেশনকারী ক্লায়েন্টের ফি বাবদ যে টাকা পাওয়া যেত তার ৪৫% টাকা এবার থেকে মেরে দেবেন সরকারী পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ (আগে ৪০% নিয়ে নিতেন!)!
    কোম্পানীর প্রধান চিকিতসক সাহেব একটু রাশভারী সৎ মানুষ ছিলেন বোধ হয়, তিনি ফোনে কেরানী মহোদয়কে একটি কড়া ধমক দিয়ে হুঁশিয়ার করে দেন ও পরবর্তীতে শ্রীমঙ্গলের দ্বায়িত্-প্রাপ্ত সামরিক টাস্ক ফোর্স, যেটি তখন মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজে অবস্থান করছিল, তাদের অফিসারকে অবহিত করেন! সময়টি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়! পরবর্তী ফলাফল হল সেই কেরানীটির ট্রান্সফার ও স্ট্যান্ড রিলিজ! কিন্তু কেরানীটির ভুমিকা ছিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সরকারী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার, সরকারী পরিবার পরিকল্পনা চিকিতসক (এম ও এম সি এইচ) ও জেলার দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারী পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালকের মূহপাত্র হিসেবে!
    লেখিকা, আপনাকে জানতে হবে বাংলাদেশের পরিবার পরিকল্পনার অর্থের মূল অংশ যায় আমলাদের পেটে কেমন করে নিয়মিত যাচ্ছে, চিকিতসক সাহেবদের ওই অধিদপ্তরের সাক্ষী গোপাল হিসেবে রাখা হয়েছে যাদের ক্ষমতা নিতান্তই সীমিত শুধু এমওএমসিএইচ (মেডিকেল অফিসার, এম,সি,এইচ) সাহেবরা ছাড়া, যাদের কাছ থেকে আবার সারা বাংলাদেশে এই শত শত কোটি টাকা লুঠের নিয়মিত বখরা পেয়ে থাকেন সরকারী আমলা ও মন্ত্রী সাহেবদের সাঙ্গোপাঙ্গোরা!

    এই যেখানে হাল, সেখানে আপনার এসব লেখালেখির কি ফায়দা? এসব তো ওপেন সিক্রেট! ডাটা এরা নিজেরা তৈরী করে নিজেদের সাফল্য দেখাতে, কাজীর গরুর মতো এদের সাফল্য শুধু এদের কেতাবের মধ্যেই! সর্ষেতে ভূত ঢুকলে তা তাড়ানো মুশকিল! আর এই পরিবার পরিকল্পনা বিষয়টি যেহেতু প্রজনন স্বাস্থ্যের অন্তর্গত একটি বিষয় যার সঙ্গত কারনেই স্বাস্থ্য-অধিদপ্তরের আওতাধীনে পরিচালিত হওয়া উচিত, কিন্তু যেহেতু বাইরের টাকা আর বিদেশ ভ্রমন এই দপ্তরে স্মরণকাল থেকেই সবচেয়ে বেশী, তাই এটিকে নিয়ে পরিবার পরিকল্পনা নামে একটি আলাদা অধিদপ্তর তৈরী করে যুগ্ন সচিবের পদমর্যাদার একজন আমলাকে সেটির মহাপরিচালক ও অন্যান্য আমলাকে বিভিন্ন বিষয়ক পরিচালক হিসেবে রেখে আজীবন এই লূঠপাঠের ব্যাপারটি সূচারু রূপে চলছে!
    আপনিই বলুন, মতস অধিদপ্তর থেকে আসা একজন যুগ্ন সচিব কি প্রজনন স্বাস্থ্য একজন অভিজ্ঞ চিকিতসকের চাইতে ভাল বুঝবেন? এইই পরিবার পরিকল্পনার বাংলাদেশী মাদারীর খেল!

    একটু খেয়াল করলেই দেখতে পাবেন উচ্চ ও মধ্যবিত্ত পর্যায়ে কিন্তু সন্তান একটি, দুটি বা খুব কম ক্ষেত্রেই বড়জোর তিনটি, কিন্তু বাকি প্রায় ৮০% দরিদ্র পরিবারে সন্তান সংখ্যা মধ্যবিত্তের দ্বিগুন বা তিনগুন! এদের এই প্রবনতা ঠেকাতে মারাত্মক দূর্নীতি পরায়ন পরিবার পরিকল্পনার আমলারা নয়, দরকার রেজিমেন্টেড পদক্ষেপের! একটি বা দুটি সন্তান হলে কর্মস্থলে প্রমোশন বা ইঙ্ক্রিমেন্ট বা নিযুক্তিতে অগ্রাধিকার, বোনাস দেয়া, ব্যাত্যয়ে সে সব প্রত্যাহার সহ অন্যান্য সামাজিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ইত্যাদি এখনও ভেবে দেখা যেতে পারে!
    যদিও বলা হচ্ছে জনসংখ্যা ১৫ কোটি, কিন্তু সংশ্লিস্ট মহল মাত্রেই জানেন তা এই মূহুর্তেই কমপক্ষে ২০ কোটির কাছাকাছি!

    এ দেশে এখন সবচে বেশী প্রাপ্যতা মানুষেরই, আর সবই অপ্রতুল, আর অদক্ষ নিরক্ষর-স্বল্প শিক্ষিত মানুষই তাই বারংবার ব্যাবহার হচ্ছে রাজনীতিবিদদের ক্ষমতা্য ওঠার সিড়ি হিসেবে! এই অতি বৃহত মানব গোষ্ঠি মানব সম্পদ নয়, এরা আগাছা, এদের জন্যে পুস্ট হয়ে ফুলে ফলে পত্র পল্লবে বিকশিত হয়ে উঠতে পারছে না সম্ভাবনাময় নতুন নেতৃত্ব!

    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      মাধুকর, আপনার চমত্কার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আসলে এই সেক্টর এর দুর্নীতি নিয়ে লেখা আমার পোস্ট এর উদ্দেশ্য ছিলনা। ছিল ব্যাক্তি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি। সব কিছু তো এক পোস্ট এ তুলে ধরা সম্ভব না। তবে আপনার কাছ থেকে অনেক কিছু জানলাম এবং আপনার চমত্কার মন্তব্য নিঃসন্দেহে আমার পোস্টটিকে আর ও সমৃদ্ধ করেছে।

      আপনার জন্য শুভকামনা।

      ৩.১
  4. পাগল মন বলেছেনঃ

    একসময় জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের খুব তোড়জোড় ছিল, এখন তা ঝিমিয়ে আসছে। আজ এক পত্রিকায় দেখলাম এ বিষয়ে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে সিলেট এবং চট্টগ্রাম বিভাগ। গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় অত্যন্ত সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছিস। না!! তুই ব্যাহের দেশের মান রাখবি ইনশাআল্লাহ!! ভাল থাকিস।

  5. সুলতান মির্জা বলেছেনঃ

    অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ থেকে বাচাতে সিদ্ধান্ত নিব আমি বিয়ে করা থেকে বিরত থাকবো।
    জিনিয়া, ঠিক আছে না ?

    ধন্যবাদ জিনিয়া বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে জনসংখ্যা বিষয়ে একটি পোস্ট লেখার জন্য। আমি লগইন করেছিলাম লেখার জন্য কিন্তু তোমার পোস্ট দেখে লেখা থেকে বিরত থাকলাম। খুব ভাল হইছে।
    ধন্যবাদ আবারো, ভাল থেক।

  6. জাহেদ-উর-রহমান

    জাহেদ-উর-রহমান বলেছেনঃ

    আমাদের দেশের যাবতীয় সব সমস্যা কোন না কোনভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে জড়িত। কিন্তু কোন একটা অদ্ভুত কারণে ইদানিং এটা নিয়ে তেমন কোন উচ্চবাচ্চ করা হচ্ছে না। অথচ আমার স্পষ্ট মনে আছে আমাদের ছোট বেলায় স্পষ্ট দেখতাম পরিবার পরিকল্পণা নিয়ে চারদিকে নানা কর্মকান্ড হচ্ছে।

    খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় নিয়ে লিখেছিস। অনেক শুভকামণা তোর জন্য।

  7. মাধুকর বলেছেনঃ

    লেখিকা, সত্যিকারের জনসচেতনতা বাড়াতে হলে ভেততরের চিত্র আপনি জানবেন না? না হলে কি করে জনগনকে উদবুদ্ধ করবেন? “এভিডেন্স বেজড সাক্সেস স্টোরী” ছাড়া তো জনগন উদ্ভুদ্ধ হবে না, আর তা করতে গেলে এসব তৃনমূলের বিষয়ে পদক্ষেপ ছাড়া তা কি ভাবে হবে তা অনূগ্রহ করে আর একবার লিখবেন কি?
    পার্ট আড্রেস করে লাভ হবে সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গী ছাড়া?
    নিশ্চিত থাকতে পারেন, এদেশের উত্তরন পথের সবচে বড় শত্রু এদেশের বিশাল এবং অদক্ষ জনতা, এই ধরনের গন বিষ্ফোরনে ধংস হয়ে গেছে পৃথিবীর অনেক সম্ভাবনাময় জনপদ, বাংলাদেশ সতর্ক না হলে তার কপালেও তাইই আছে!

  8. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    ইয়ে আমি একটু বলি? অ্যাঁ? জনসংখ্যা কি আদতে একটি সমস্যা? হ্যা, এ মুহুর্তে লজিস্টিক্সের অপ্রতুলতা হেতু এবং সকল কর্মের সুযোগ শহরগুলোতে হওয়াতে, জনসংখ্যার বিপুল অংশ শহরমুখী। কিন্তু বাংলাদেশের পললভূমি বৃদ্ধি পাচ্ছে, মানুষের অর্থোপার্জনের আকাঙ্খা বাড়ছে। এই বিশাল জনসংখ্যাকে পপুলেশন না মনে করে হিউমান ক্যাপিট্যালে রূপান্তর করলে এককোটির চেয়ে অনেক বেশি মানুষ তাদের প্রশিক্ষিত শ্রম নিয়ে বিশ্ব শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে পারে। তবে, আমার এই সবটুকু ভাবনা, একটি দেশপ্রেমিক, উদ্যোগী, নিবেদিতপ্রান সরকার ক্ষমতায় আছে ধরে নিয়ে লেখা। ঠিক আছে এটি একটি ইউটোপিয়ান লেখা।
    [এ্যাই জিনিয়া, ছাতা জুতা দিয়া তুমি কি করবা? তাও ভালো, সাথে একটা লুঙ্গি চাও নাই। তবে মির্জা সাব বিবেচক ছেলে, হয়তো শাড়ি একখান কিনে দেবে। তাই হাল ছাইড়োনা। যখন জোয়ান পোলারা সমানে কইতে থাকে বিয়াই করুমনা বা কুড়াল দিয়ে খাট কাটে আর কয়, এতোবড় খাটের আমার কী দরকার? তখন জানবা, সময় সন্নিকটে।]

  9. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    @জিনিয়া, বুঝলাম না। ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় লুঙ্গি পড়তা নাকি? ম্যাগো ম্যা!
    পার্ট-টাইম না, এইডা হইলো ফুলটাইম ডাক্তারি। বাড়িতে বিবাহযোগ্যা কন্যা থাকার দুশ্চিন্তার মতো আব্যিয়াইত পোলা থাকাও দুশ্চিন্তা। তোমারে টিপস দেই, মির্জার জন্য বউ আনতে হইবো আলাস্কা থাইক্যা এক্সিমো মাইয়া। পোলার মাথা যে গরম, হেই ছেমড়ি একবার মাথায় হাত বুলাইলেই, আহ্‌, কি ঠান্ডা!
    @মির্জা সাব, তাইলে ছাতি-লাঠি-জুতার সাথে লুঙ্গিও একটা দিয়া ঘটক বিদায় কইরেন।

  10. মাধুকর বলেছেনঃ

    @প্রিয় লেখিকা, আপনি লেখিকা বলে সম্বোধন করায় কি অসন্তষ্ট হয়েছেন? তা হলে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, বলুন কি ভাবে সম্বোধন করবো?
    হ্যাঁ, আপনিও লেখাপড়ার কথা তুলে কি খোটা দিচ্ছেন, বেশ তো, এমন ও তো হতে পারে যে আমি অন্ততঃ আপনার চেয়ে কম শিক্ষিত না হতে পারি? তবে বাঁকা কথাটি কেন লিখলেন? আপনার কাছে এট ধরনের উক্তি অনেকেই আশা করে না!
    হ্যা, পৌরানিক যুগ থেকেই অতি জনসংখ্যার কারনে অনেক নগর রাস্ট্র ধংশ হয়ে গেছে বলে ধারনা করা হয় (তখন নগর রাস্ট্রে ই প্রচলন ছিল, এবং সে সব থাক তো প্রাকার বা দেয়াল পরিবেস্টিত! কারন রাস্ট্র নামক কাঠামো যা নাগরিকদের পুর্ন নিরাপত্তা বিধান করে তার বিকাশ আর ও অনেক পরে!)
    যাই থেবস ও অন্যান্য টলেমীয় নগর রাস্ট্র সমুহ ধংসের অন্যতম কারন হিসেবে জনসঙ্খ্যা বিষ্ফোরন কে দ্বায়ী করা হয়, এক ই সাথে অ্যাসিরিয়, সুমেরীয় ও ব্যাবেলনীয় নগর রাস্ট্রের ধসের অন্যতম কারন এক ই, গিল্গামেশের উপাখ্যান পড়ে দেখুন, ছিঁটে ফোটা পেয়ে যাবেন! টা ছাড়া ও আপনি বর্তমানে যে অঞ্চলে থাকেন সেখান কার পলিনেশিয়ান-মেলোনেশিয়ান বহু পৌরানিক নগর রাস্ট্রের ও এক ই অবস্থা ঘটেছে! ভারত বর্ষে হরপ্পা ও মোহেনজোদারোতেও অতি জনসঙ্খ্যা ধংসের একটি অন্যততম কারন হিসেবে বিবেচিত হওয়!
    এক্টি লিমিটের মধ্য জনসঙ্খ্যা জন সম্পদ হতে পারে, তার বাইরে গেলে তা সভ্যতা বিধংসী! বহু যুগ থেকেই অতি জনসঙ্খ্যাকে জনসম্পদ হিসেবে দেখানোর চেস্টা হচ্ছে যা পদ্ধতিগত ও তাত্ত্বিক ভাবে ভূল! আমি আমার অগ্রজ ও শ্রদ্ধেয় শিক্ষক সমতূল্য ড. সামিম মওলার অনূরোধ ক্রমে আপনার জনসংখ্যা বিষয়ক পোষ্ট টিতে কমেন্ট করেছি, আপনার এখানে করা অন্যান্য কমেন্ট গুলো ও দেখলাম, আপনার মনঃপূত না হলে আমি এখানে আর কমেন্ট করবো না!

    ১০
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      মাধুকর, আপনার প্রিয় লেখিকাকে তাহলে এখনো আপনি চিনতে পারেন নি..আমি খুব সাধারণ। প্যাচ দিয়ে কিংবা খোচা দিয়ে আমি কথা বলতে জানি না..আমি যা মনে ধারণ করি তাই প্রকাশ করি। সব বিষয়ে আমার দক্ষতা নাই, সেটা আমি অকপটে স্বীকার করি। আমি যে বিষয়ে দক্ষ নই, সেটা অন্য কেউ হতে পারেন..তিনি তার মতামত প্রদান করেন..আমি সেখান থেকে শিখি..অন্য পাঠকরাও শেখেন..এভাবেই তো আমরা সমৃদ্ধ হই।

      আপনার প্রতিটি মন্তব্য থেকে আমি শিখেছি..বিশ্বাস করা না করা আপনার ব্যাপার।

      আমাকে দয়া করে প্রতিপক্ষ ভাববেন না। আমি অনেক বন্ধুবত্সল।আপনার জন্য অনেক শুভকামনা।

      ১০.১
  11. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    @মাধুকর, ইউরোপের ইতিহাস বা বলা ভালো ইউরোপের পৌরানিক ইতিহাস প্রায় জানিইনা। সেজন্য গ্রীক নগর-রাষ্ট্র ধ্বংসের যে কারন দিয়েছেন, তা নিয়ে মন্তব্য করছিনা। আমি যা জানি, তা হচ্ছে ভারত ভূখন্ডের ইতিহাস। জনসংখ্যার চাপে হরপ্পা-মহেনজোদারো ধ্বংস হয়েছিলো, এটি আমার জন্য একটি নুতন তথ্য। আমার এদ্দিন জানা ছিলো, প্রায় নিরস্ত্র, কৃষিজীবি এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হরপ্পা-মহেনজোদারো রাষ্ট্রগুলো আর্য আক্রমনে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিলো। একটু মেহেরবানী করে যদি আপনার সুত্রটি কোন্‌ ইতিহাস পুস্তক থেকে জেনেছেন, তা আমাদের জানাতেন, তাহলে আমরাও আলোকিত হতাম।
    অগ্রিম ধন্যবাদ।

    ১১

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...