ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বর্তমানে বাংলাদেশে একাত্তরে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দেশত্যাগে বাধ্য করা, ধর্মান্তরিতকরণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযম, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা ও বর্তমান নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ দলটির চার নেতার বিচারকাজ চলছে। এছাড়াও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীসহ ১৩ ব্যক্তি এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ ২০১২ সালের ২২ এপ্রিল গঠিত আরেকটি ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি। বাংলাদেশের ইতিহাসে ঘৃণিত যুদ্ধাপরাধীদের কাঙ্খিত এক বিচার ব্যবস্থা আদালতে যখন প্রক্রিয়াধীন আছে, রাজপথে যখন রাজাকারদেরকে নিয়ে গড়া রাজনৈতিক দল জামাতকে প্রতিহত করতে সাধারণ মানুষ পথে নেমেছে, ব্লগ ও সামাজিক মিডিয়ায় সচেতন জনগণ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হচ্ছে, ঠিক তখনই বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার জামাতকে নিয়ে বক্তব্য দেখে হতাশ হতে হয়, রাগে দুঃখে ক্ষোভে ফেটে পড়তে ইচ্ছে হয়। বিরোধীনেত্রীর জামাতের উপর অগাধ বিশ্বাস দেখে স্তম্ভিত হতে হয়।

বিরোধীনেত্রীর বক্তব্যে থেকে জানলাম যে তিনিও নাকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চান!!!। কিন্তু মাননীয় নেত্রী, আপনার নিম্নোক্ত কথা কী সেই চাওয়ার প্রতিফলন প্রকাশ করে?

“জামায়াত শক্ত অবস্থানে আছে। ঠিক আছে।”

জামাতকে এই শক্ত অবস্থানে কে এনেছে? আমরা জানতে চাই কেন এনেছেন? রাজনৈতিক ফায়দা লোটা ছাড়া জামাত বাংলাদেশকে কী দিয়েছে? আপনারা যারা রাজনীতির সাথে জড়িত তারা কী কিছু ভেবে বলেন, নাকি মনে যখন যা চায় তাই বলেন?

জামাতের সকল ঘৃণ্য কমকাণ্ডে বিএনপি নেত্রীর নির্লজ্জ সায় দেখে ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। বিরোধীনেত্রীর কাছে আমার মত অনেকেরই জিজ্ঞাস্য, জামাতের ঘৃণ্য কর্মকান্ডে সায় দিচ্ছেন কেন? নিজেদেরকে শক্তিশালী করা ছাড়া ওরা আপনার দলের কী এমন উপকার করেছে!!! যাদের জন্য রাজনীতি করেন বলে দাবি করেন সেই “ম্যাংগো জনগণের” কথা না হয় বাদই দিলাম। কিন্তু ওদের সাথে আতাত করে প্রজন্মের পর প্রজন্ম শুধু ঘৃণা ছাড়া আর কিছুই পাবার নেই। মাঝখান থেকে আপনার দলকে সিড়ি বানিয়ে ইসলামের কথা বলে বাংলাদেশকে পাকিস্তান কিংবা আফগানিস্থান বানানোর জামাতি উদ্দেশ্য সফলে এগিয়ে যাবে।

খালেদা জিয়ার বক্তব্য অনুসারে আওয়ামীলীগ নাকি তলে তলে জামাতের সাথে আতাত করে ক্ষমতায় আসতে চাইছে? কী জানি এত তথ্য কই থেকে তিনি পেলেন, জানিনা। আওয়ামি কোন কোন কর্মকান্ডে বিএনপির মনে হচ্ছে যে আওয়ামি জামাতকে নিয়ে নির্বাচন করতে চাচ্ছে? এর স্বপক্ষে কী আদৌ কোনও যুক্তি তাদের আছে? যদি থেকে থাকে কী সে গুলো?

বিরোধী নেত্রী আরও বলেছেন, আওয়ামিলীগ ১৯৯৬ সালে জামায়াতকে সাথে নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়েছিল, জামাতের সাথে আতাত করেছিল। হ্যা করেছিল জন্য স্বাধীনতার স্ব্পক্ষের এই দলটিকে চরম মূল্য দিতে হয়েছিল।সেসময় রাজাকার নিজামীকে নিয়ে করা আওয়ামীলীগের আন্দোলনের জবাবও জনগণ ব্যালটের দ্বারা দিয়েছিল। এখনো অনেক সাচ্চা আওয়ামি সেদিনের সেই আতাতের ঘটনায় লজ্জা পায়। তারা ভুলে যেতে চায় সেই ইতিহাস। আপনার তলে তলে আওয়ামি-জামাতের আতাতের সুত্র ধরে জানতে চাই, তবে কী ১৯৯৬ এর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি আবার হবে?

আজ জামাতকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে যখন শেখ হাসিনাও তাদের সাথে আতাত করেছিল বলে উদাহরণ টানা হয় তখন আপনাদের দু দলকে “ম্যাংগো জনতার” পক্ষ থেকে বিনীতভাবে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হয়, শেখ হাসিনা বৈঠক করলেই কী রাজাকার নিজামীর একাত্তরের ভূমিকা বদলে যাবে? আওয়ামি যদি জামাতের সাথে মিলেও যায়, তাহলেই কী জামাতের সবাই মুক্তিযোদ্ধা হয়ে যাবে? একাত্তরে কৃত ওদের অপরাধ মুক্ত হয়ে যাবে? আপনারা রাজনৈতিক দলগুলো ফুটবলের মত জামাতকে নিয়ে লাথি মারলেও, আমরা তো জানি একাত্তরে জামাতের নেতাদের ঘৃণ্য ভূমিকা। যতই ওদের স্বপক্ষে আপনারা গলা ফাটান, ওদের ঘৃণ্য ইতিহাস কখনোই বদলাবে না..জানি সেদিন আর বেশি দূরে নেই, মাননীয় নেত্রী যেদিন আপনারা প্রধান দুদল বিবৃতি দেবেন যে, জামাত হল মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে গড়া দল। রাজনৈতিক স্বার্থে কত নিচে আপনারা নামতে পারেন, কালকের বক্তব্য তার একটা মাইলফলক হয়ে রইল। এর জন্য হয়তো আপনাদের চরম মূল্য দিতে হতে পারে।

“ম্যাংগো জনগণ”কে এখনই সচেতন হতে হবে। জামাতের সাথে আতাতকারীদেরকেও আমাদের বর্জন করতে হবে। না, রাজনৈতিক কোনও ভাবাবেগ নয়, আমাদের সবার আগে দেখতে হবে দেশের ভবিষ্যত।হেনতেন ভাবে ক্ষমতায় যাবার জন্য দুদলের নির্লজ্জ অসুস্থ প্রতিযোগিতা দেখতে দেখতে আমরা তিক্ত বিরক্ত জনগণ তাই সমস্বরে জ্বলে উঠে বলতে চাই, যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে গঠিত দলটিকে নিয়ে নির্লজ্জ টানাটানি বন্ধ করুন।

সুত্র: বিডিনিউজ২৪।