ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

আজকের প্রথম আলোয় সদ্য ছেলে হারানো মা লিপি মণ্ডল এর আহাজারি আর তার আদরের বুকের ধন পরাগ মণ্ডলের ছবি দেখে ও ঘটনাটি পড়ে বুকের মধ্যে কেমন যেন একটা হাহাকার অনুভব করছি। হতে পারে আমার ছেলের বয়স পরাগের কাছাকাছি জন্য। হতে পারে লিপির স্থানে নিজেকে কল্পনা করে আমার মধ্যে এই কষ্টকর অনুভূতির সৃষ্টি। কিন্তু অনুভূতি তো মিথ্যে নয়। আজ আমার ছেলেকে নিয়ে আমিও তো সকাল সাতটায় কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা পশ্চিমপাড়ায় গলির মোড়ে গাড়িতে করে ছেলেকে স্কুলে পৌছানোর জন্য দাড়িয়ে থাকতে পারতাম!!! এ নির্মম ঘটনাটি তো আমার সাথেও হতে পারত। যে কারও সাথে যেকোনো সময়েও ঘটে যেতে পারতো । বুকের ভিতরে আগলে রাখা ছেলেকে অপহরণকারীর হাত থেকে বাচানোর জন্য বুকে গুলি খেয়ে আমিও তো আজ বক্ষব্যাধি হাসপাতালে নিজের শারীরিক এবং মানসিক মৃত্যুর মুখোমুখি হতে পারতাম..

আর মোটর সাইকেলে অস্ত্রধারী ওই সন্ত্রাসীরা যারা পরাগকে নিয়ে গিয়েছে কিভাবে রেখেছে কে জানে!!আদরের ধন, যে কিনা মায়ের হাত ছাড়া ভাত খায় না..মাযের ওম ছাড়া যার ঘুম হয় না, দিনে কতবার যে ওকে মায়ের বুকে জড়িয়ে ধরে আদর করতে হয় তার হিসাব নেই..সেই পরাগ বাবা-মা-দিদিদের ছেড়ে কেমন আছে? যে আদরের ধনকে বাসায় কেউ ফুলের টোকাই দেয়নি, ওকে কী সন্ত্রাসীরা মাযের কাছে যেতে বায়না ধরার জন্য মারবে? যে দুরন্ত পরাগের পিছনে খাওয়া নিয়ে ছুটতে ছুটতে মা সারাদিন ব্যস্ত থাকে, সেই পরাগকে কী ওরা কিছু খেতে দিয়েছে? বাচ্চাটা কী সারাদিন স্কুলের জামা পরেই থাকবে? আজকাল নাকি বিকৃত মানসিকতার পুরুষদের হাতে ছেলে শিশুরাও নিগৃহিত হয়। তাহলে পরাগকেও কী!!! কী করবে ওরা পরাগকে নিয়ে? বেচে দেবে কী আস্ত পরাগকে কিংবা টুকরো পরাগকে? কী করবে ওরা?

এত শত প্রশ্নের ভিড়ে একটাই প্রশ্ন দাপিয়ে মারছে, দেশে আমরা কোথায় নিরাপদ? রাস্তার কথা বাদ দিলাম, বেডরুমেও নিরাপদ নয়। বাড়ির ভিতর জবাই করে কতশত জনকেই তো সন্ত্রাসীরা মেরে ফেলে রাখছে। কোথাও কোনও বিচার নেই। কারণ, বেডরুমে মরে পড়ে থাকলে সরকার নিরাপত্তা দিতে পারবে না, সাফ জানিয়ে দিয়েছে। বাড়ির সামনে আর গলির মোড়ে সাত সকালে মাযের বুক থেকে অপহরণ করা শিশুর নিরাপত্তা কী আমরা চাইতে পারি? চাইতে পারলে কার কাছে চাইবো বলুন তো? পাঠক, জবাবটা জানা থাকলে জানাবেন।

তথ্য ও ছবি সুত্র: দৈনিক প্রথম আলো অনলাইন এডিশন.

৪৯ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. হাসান মসফিক বলেছেনঃ

    একই প্রশ্ন এখন এদেশের মানুষের প্রত্যেকের প্রশ্ন।
    আমরা আসলে কোথায় নিরাপদ! বা সাধারণ মানুষের
    নিরাপত্তা দেওয়ার ভার, কার?
    আপনাকে শুভেচ্ছা, বিষয়টিকে নিজের সাথে মিলিয়ে আমাদের
    দৃষ্টিগোচর করার জন্য।

  2. শিবলী বলেছেনঃ

    পাকিস্তানিরা পাকিস্তান থেকে ধীরে ধীরে অন্য দেশে চলে যাচ্ছে কারন পাকিস্তানে এখন নিরাপত্তার খুব অভাব, আমাদের ও কি এমন সময় আসবে যখন আমাদেরও দেশ ছেঁড়ে অন্য দেশের আশ্রয় নিতে হবে…। :(

  3. আসাদুজজেমান বলেছেনঃ

    রাজনৈতিক আর নৈতিক দেওলিয়াত্বে এ প্রশ্নের অধিকার অনেক আগেই হারিয়েছি…..আমাদের রাজনীতি, সংখ্যাগতভাবে ক্ষুদ্র কিন্তু তুলনায় সংগঠিত ওপরতলার মানুষের স্বার্থ সুরক্ষার রাজনীতি। এর বিপরীতে বৃহত্তর অংশের অসংগঠিত সাধারণ মানুষের স্বার্থ যেখানে অরক্ষিতই রয়ে যায়…………।
    আমি জানি, এ দেশের আর আট-দশটা দিনের মতোই, দিন চলে যাবে….মায়ের বুধ থেকে সন্তান অপহরনের এই হৃদয়হীনতা আমাদের ভোতা অনুভুতিকে সামান্যই স্পর্শ করবে!!!! পরাগের জন্য আজ কোথাও মিছিল হবে না, মানববন্ধন হবে না, হবে না কোন আলোচনা সভা, রাতের পাখিদের টকশোতেও পরাগ আসবে না!!!
    কিন্তু আজ কোথাও না কোথাও ধর্ম প্রতিষ্ঠার নামে রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে, কোথাও না কোথাও নেত্রী বন্দনার তেলে ভাসবে রাজপথ, রাজপথের ধুলা আর তেলে মাখামাখি কাঁদাতে হবে কাদা ছোড়াছুড়ি…..কোথাও না কোথাও পল্লীবন্ধুকে বানানো হবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অগ্রদূত!!! আমাদের প্রতিটি দিন এমনই আবেগহীন………!!!
    পরাগ অপহরন হয়েছে গতকাল কিন্তু আমাদের মূল্যবোধ থেকে পরাগেরা অপহরন হয়েছে অনেক আগেই………..।

    ধন্যবাদ @জিনিয়া,
    সকাল বেলা নিউজটি পড়ার পর থেকে মনটা খারাপ হয়ে আছে, পরাগের জন্য শুভকামনা ছাড়া আর কি বা করতে পারি! আশা করছি, এ শুভকামনা যেন তার পরিবারের ওপর সমবেদনা হয়ে না আসে…….আমাদের এ অসহায়ত্ব কি বুঝবে কেউ??? কিম্বা বুঝবো কি আমরা নিজেরাই, কোনদিন???

    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      মন্তব্যের জবাব পরে দিচ্ছি, আগে বল ঈদ করতে পাবনা গিয়ে হাওয়া হয়ে গিয়েছিলে কেন? তোমাকে না বলছি অন্তত একবার হলেও ব্লগ ছুয়ে যেও। কথা শোন না কেন?

      পোস্ট লেখার সময় আমার শুধু পরাগের যায়গায় আমার জাইম এর কথা মনে হচ্ছিল। বাচ্চাটিকে পাওয়া যাবে তো? ভেবে দেখ, রাতে ঘুমানোর আগে কিংবা সকালে ঘুম থেকে উঠেও কী ওরা একবার ভেবেছিল, ছেলেটা কিড্ন্যাপ হবে?মা আর মেয়ে গুলি খেয়ে মৃত্যুর সাথে লড়বে? নিমেষেই হাসিখুশি একটা পরিবার চিরদিনের মত হারিয়ে গেল!!!এর জন্য দায়ী কে? কারা?আজ ওদের পরিবারে এই দুর্যোগ, কাল যে তোমার আমার পরিবারে হবে না এর কী কোনও গ্যারান্টি কেউ দিতে পারে?

      ভাল থেকো। শুভকামনা।

      ৪.১
  4. বাঙলাদেশ থেকে বলেছেনঃ

    এ দেশে শান্তিতে বসবাসের অনউপযোগী । এর একমাত্র কারন বেসামাল ভাবে রাজনীতি অস্তিরতা। রাজনৈতিক দলগুলো যতদিন পযন্ত মানুষিক পরিবর্তন না হবে ততদিন দেশের অবস্থা কারাপে দিকে যাবে।আজ আমাদের সমাজের এ বর্বতার এক মাত্র কারন।আর ও যে কত মায়ের কান্না দেখতে হয় আল্লাহ ভাল জানে।

  5. মাধুরী শিকদার বলেছেনঃ

    জিনিয়া আপু,
    এই প্রশ্নগুলো আমার ভিতর ও প্রায়ই ঘুরপাক খায়। কোথায় আমরা নিরাপদ? জানি শুধু সহমর্মিতা, শঙ্কায় দিন যাপন আর কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের প্রশ্ন করা ছাড়া আর কিছু করার নেই আমাদের। কারন, এই সব সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা যাদের হাতে তারা ঠুটো জগন্নাথ হয়ে বসে আছে। আর যত কষ্ট, যত হারানোর বেদনা আমাদেরকেই ভোগ করতে হয়।
    ভালো থাকবেন সব সময়।

    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      মাধুরী, বিশ্বাস কর পোস্ট লেখার সময় আমার পাঁচ বছরের ছেলে জাইম এর মুখটা কেবলি ভেসে উঠছিল। ওকে ছেড়ে একটা দিন থাকার কথা কল্পনা করতে পারিনা..সব মায়ের কাছেই তো সন্তান নিজের জীবনের থেকে প্রিয়। লিপি নিজে গুলি খেয়েও বুকের ধনকে বুকে আগলে রাখতে পারলনা..মা হিসেবে এই ব্যর্থতা লিপির নয়, এই ব্যর্থতা গোটা জাতির।

      ভাল থেক আপু..শুভকামনা।

      ৬.১
  6. Mango man বলেছেনঃ

    শুনলে আমার খুব হাসি পায় মেয়ে নাকি নিরাপত্তা চায় :( আপনার এতো বড় সাহস হল কিভাবে ? আপনি এই অভাবের সময়ে এত বড় দামি জিনিস কিভাবে চাইতে পারলেন ?

    একটি কথা মন দিয়ে শুনুন আপনার, আমার মা, বাবা, ভাই, বোন এবং ভালবাসার মানুষ আছে তাই আমাদের নিরাপত্তা চাই

    কিন্তু

    যে বা যিনি নিরাপত্তা দিবেন তার বা তাদের যদি মা, বাবা, ভাই, বোন এবং ভালবাসার মানুষ না থাকে তবে তার বা তাদের থেকে কিভাবে এই মূল্যবান জিনিস আশা করেন ?

    আশা করি বোধগম্য হয়েছেন ।

    ভাল থাকবেন :)

    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      আপনি ঠিক ই বলেছেন রে আম ভাই, আমার আসলেই সাহস বাড়ছে..এই দামী জিনিসটা নিয়ে কথা বলার আগে ভাবতে হতো অনেকবার। তেনাদের নিজেদের ছেলে মেয়েরা যেমন কেউ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে না, আর তাই ওগুলাতে কী হল না হল ওদের যায় আসে না..ঠিক তেমনি ওদের ছেলে মেয়েরা দেশে থাকে না জন্য দেশের পোলাপাইনদের কী হল না হল এগুলা নিয়েও ওরা মাথা ঘামায় না!!!

      শুভকামনা।

      ৭.১
  7. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    লেখককে চমৎকার আবেগের সাথে এক মায়ের আকুতি তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ। দেশে যারা শিশুসন্তানসহ বসবাস করেন তাদের সবারই অন্তর ছুঁয়ে যাবে এই পোস্ট কিন্তু একইসাথে বাস্তব কারনে এক আতংকও ঘিরে ধরবে।
    আমাদের মধ্যে যাদের সুযোগ ছিলো তারা নির্লজ্জের মতো ল্যাজখানা দুপায়ের ফাকে ঢুকিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছি। এই পলায়নের পেছনে সবচেয়ে শক্তিশালী ড্রাইভিং ফোর্স ছিলো সন্তানের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতা। প্রবাসে এসে অবর্ণনীয় বিভিন্ন কস্টের মধ্যে একটিই পরিতৃপ্তি যে আমার সন্তানের নিরাপত্তার দায়িত্ব এদেশের সরকারের এবং তা পালনে সরকারের শৈথিল্য নেই। তাই দেশী সাহেবীয়ানা ছেড়ে দিয়েও আমার কোন আক্ষেপ নেই। এর অর্থ এই নয় যে আমি সবাইকে দেশত্যাগের ডাক দিচ্ছি। বরং আমি সবাইকে আরো সতর্ক হওয়ার সাথে সাথে কমিউনিটিভিত্তিক নিরাপত্তা বৃদ্ধির চেস্টার আহ্বান জানাচ্ছি। সরকার যে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেনা তা স্ফটিক স্বচ্ছ। আর সরকারের এ বিষয়ে আগ্রহ থাকবেই বা কেন? তাদের সন্তানদের বসবাসের দেশ আমেরিকা, কানাডা, আয়ারল্যান্ডে তো আর তাদের সন্তানেরা নিরাপত্তা সংকটে ভোগেনা। তাই সরকারের কি ঠ্যাকা?

    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      ধন্যবাদ। হ্যা কথা সত্য। আগে শুনতাম ছেলে বিদেশ যাবে শুনলে বাবা -মাযেরা দুনিয়ার অসুখ বিসুখ বাধায় শয্যাশায়ী হতেন। এখনকার বাবা-মায়েরা ছেলে-মেয়ে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ পেলে কানে মন্ত্র দিয়ে দেয়, যদি পারো ওখানেই থেকে যাও..দেশে আসার দরকার নেই।দেশের বাইরে জীবনযাত্রা অনেক কষ্টের কোনও সন্দেহ নাই..কিন্তু তবুও শান্তি যে খোলা মাঠে ছেলেটা ইচ্ছেমত হাত-পা ছুড়ে খেলছে দিনভর।

      শুভকামনা।

      ৮.১
  8. বোতল বাবা বলেছেনঃ

    সবাই দেখি রাজনীতিকে দোষারোপ করছেন । আচ্ছা আপনারা একজন এত জনসংখ্যার দেশের পরিচালনার ভার নিয়ে দেখেন না, কেমন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন । যেখানে দেশের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে গিয়েই হিমশিম খাইতে হচ্ছে, সেখানে নিরাপত্তা অনেক কঠিন । আর এই কারণেই ছেলে-মেয়ের কথা চিন্তা করে অনেকে বাধ্য হচ্ছেন দেশ ছাড়তে।

    তৃনমূল থেকে শুরু করে দেশের মানুষের বেশিরভাগেরই মাথা খেলছে টাকা কেন্দ্রিক । দেশে অনেকে সুনাম ও বিক্রি করে দিচ্ছেন টাকা দিয়ে । এইজন্যই দেখা যায় ক্ষমতার আগে একরূপ, ক্ষমতা নেওযার পরে অন্যরূপ ।

  9. আসাদুজজেমান বলেছেনঃ

    ধন্যবাদ@জিনিয়া,
    প্রথমত, আমি ডেস্কটপ ব্যবহার করি, তাই পরিবহন সম্ভব হয় না!
    দ্বিতীয়ত, আমি নিয়মিত ব্লগে ঢু মেরেছি, তবে অন্যের পিসিতে ফ্রন্ট সমস্যার কারনে মন্তব্য করা হয়নি!
    তৃতীয়ত, পূজা, ঈদ এবং খারাপ আবহাওয়ার কারনে বন্ধুদের সঙ্গে এত জমপেস আড্ডা হয়েছে যে, আমার দিনযাপন হিসাব এবং আগ্রহগুলি হারিয়ে গেছে…।হা…হা…..।
    এবং চতুর্থত, আমার পিসির বেশ কিছুদিন হলো নষ্ট আছে, তাই ইচ্ছা থাকলেও উপায় হয়ে ওঠেনা জিনিয়া হোসেন* :D :D (*পড়তে হবে গোলাম হোসেন। অবশ্য জাহেদ সাহেব যদি হোসেন হয়ে থাকেন তবে জিনিয়া হোসেন ই সই!!!!) :D :D

    ১০
  10. ফরীদ আহমদ রেজা বলেছেনঃ

    রাষ্ট্র যদি নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে পারেনা তা হলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। কারণ এটা সরকারের দায়িত্ব। এটা নিয়ে কোন বিতর্ক নেই। কেউ বিতর্ক করলে বুঝতে হবে তিনি একগুয়েমি করছেন।

    ১১
  11. আমজাদ hossain বলেছেনঃ

    কিসুদিন আগে একটা খবরে পরেসিলম সন্ত্রাসীরা একটা বাছাকে সামলাতে না পেরে, একটা বাড়ির দরজার সামনে rekhe গেসিল। পরাগ keu এমন kore রেখে গেলেউ চলবে। সবাই যেন খেয়াল রাখে ora কোথায় রেখে গেল কিনা , কেউ পেলে তাড়াতাড়ি পুলিস station এ খবর দিবেন। অথবা take নেয়া নিউ৛ মেডিয়াতে যোগাযোগ করবেন। অনেক কোস্ট লাগে এসব লেখা পড়ে। aj আমিও দেশের বাইরে আসি। আমার কিড্স or স্কুল এ যাই এক eka। আমার অবুঝমন ও অনেক কথা bole। ভাল লাগে না এগুলা.

    ১২
  12. সত্য কথক বলেছেনঃ

    আরে জিনিয়াপু কি শুরু করলা? সরকারের কি খেয়ে দেয়ে আর কোন কাজ নেই সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে ভাববে?
    ওনাদের কতো কাজ…প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে স্যরি বলাবে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াবে, কর্তাব্যক্তিরা বিদেশ ভ্রমণ করবে, অনুন্নত দেশগুলোর সংস্থার নেতৃত্ব দেবে, শেয়ার মার্কেট ঠিক করবে, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াবে, ভি আইপিদের নিরাপত্তা দেবে, পরবর্তী নির্বাচনের নীলনকশা প্রণয়ন করবে, ইন্ডিয়ার সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করবে ( :roll: )………………আরো শুনতে চাও?
    সত্যি হতাশ আমরা, খুব বেশী হতাশ।

    ১৩
  13. বাংগাল বলেছেনঃ

    জনাবা জিনিয়া , পোস্ট পড়ে মন্তব্য লিখতে ইচ্ছা হারিয়ে ফেলেছিলাম । কিছুক্ষণ আগে পরাগকে জীবিত পাওয়া গেছে জেনে প্রাণ ফিরে পেয়েছি । আমার মনে হয় সকলেই শিশুটার জীবনের জন্য প্রার্থনা করেছে ।

    শিশুটি যেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে সেই যায়গার নাম এনটিভির খবরে শোনার পর আমার স্ত্রী বলে উঠল , মুখ দেখাবো কী করে? এলাকা আমার স্ত্রীর গ্রামের বাড়ি , সে জন্য । সত্যি ,কী লজ্জার বিষয় আমাদের জন্য । আমরা পশুর চেয়ে অধম হয়ে গেলাম । এর আগেও গত দুই বছরের মধ্যে আরও দুটি স্কুল পড়ুয়া শিশু অপহৃত হয়ে খুন হয়েছে , কেউ ভয়ে মুখ খুলতে পারেনাই। ভাগ্যক্রমে একই এলাকার আরও দুটি শিশু জীবিত উদ্ধার হয়েছে ,কিন্তু উল্টা পুলিশের ভয়ে থানায় জানাতে পারেনাই এই ঘটনা গুলো ।
    আপনি ঠিক বলেছেন , কোথায় নিরাপদ আমরা ?

    ১৫
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      বাংগাল ভাই, ভাবীকে আমার পক্ষ থেকে বলে দেন যে, শুধু ওনার একার নয়..সারা দেশের মানুষের মুখ দেখাতে সমস্যা হচ্ছে..একটা শিশুকে উদ্ধার করতে যখন আমাদের শক্তিশালী কালো কাপড় বাহিনী উপস্থিত থেকে গুণ্ডাদের মুক্তিপণ দিয়ে আসে এবং তাদেরকে ধরতে ব্যর্থ হয়..সেখানে লজ্জা আমাদের ভাবীর একার নয়..আমাদের সবার..যাদের এত টাকা নেই তাদের কী হবে বলুন তো!!!কিংবা বিমল বাবুই যদি এত টাকা সেসময় ম্যানেজ করতে না পারত, তাহলে কী ইনজেকশন দিয়ে দিয়েই বাচ্চাটাকে সন্ত্রাসীরা রেখে দিত!!!ভাবলেই ভয় লাগে.।

      শুভকামনা।

      ১৫.১
  14. নাগরিক বলেছেনঃ

    লেখক, কোন ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান সরকারের শীর্ষ পর্যায় হতে তৃণমুল পর্যন্ত সকলেই আগের সরকারের রেফারেন্স টেনে আনেন । তাহলে এ সরকারের ভালোটা কি বলতে পারেন ? এদেশের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিতরা (বিশেষকরে ডক্টরেট আর বুদ্ধিজীবী) যখন মিডিয়া এবং সমাবেশে ডাহা মিথ্যা কথা বলেন এবং আক্রমণাত্মক ভাষণ দেন তখন মুর্খ্য-সুর্খ্য মানুষ হিসেবে আমদের প্রতিক্রিয়া কি রকম হতে পারে বলতে পারেন কি ? আসলে রাষ্ট্র যন্ত্র যে শিক্ষিত রাজনৈনিক ব্যত্তিত্ব দ্বারা পরিচালিত হয় তাদের অধিকাংশই খারাপ, প্রচন্ড খারাপ । আমি এদের ধীক্কার দিই । লেখক নিরাপত্তা চাচ্ছেনতো ? সেটা একমাত্র কবরে ।

    ১৬
  15. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    আমাদের নিরাপত্তা কোথায় তা আমাদের মহামান্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বচনেই জানা গেলো……টাকা। আমাদের মহামান্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৎ মানুষ তাই সততার সাথে জানিয়েছেন (খুব শিগগীরই অস্বীকার করবেন), অপহরনকারীদের সব শর্ত মেনেই মায়ের বুকের ধন মায়ের বুকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ধন্য ধন্য! অবশ্য মহামান্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সৎ হওয়ার কারন আছে। সবাই বলে জিয়া খুব সৎ ছিলেন। তো সেই জিয়ার ভাবশিষ্য ম খা আলমগীরও সৎ হবেন তাতে কেন কেউ আশ্চর্য্য হবে? বরং খোদা না খাস্তা যদি আপনাদের সন্তান অপহৃত হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে যোগাযোগ করবেন, তাঁরা সাফল্যের সাথে দরাদরি করে অপহরনকারীদের দাবী কমিয়ে এনে সে দাবী পুরন করেই আপনার সন্তানকে আপনার কাছে ফিরিয়ে দেবেন।

    ১৮
  16. জুলফিকার জুবায়ের

    জুলফিকার জুবায়ের বলেছেনঃ

    প্রিয় জিনিয়া আপু,
    লেখক যখন লেখে তখন একটা প্রত্যাশা থাকে পাঠক তা পড়বে। তবে পড়ে মন্তব্য করতেই হবে সে রকম কোন দাবী হয়ত থাকে না। কিন্তু আপনি যেহেতু পাঠককে শেষ মুহূর্তে প্রশ্ন করে ফেলেছেন এবং আমি যেহেতু হঠাৎ করে লেখাটা পড়েই ফেলেছি সুতরাং আমার নৈতিক একটা দায়িত্ব থাকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দেই। সে দায়িত্ববোধ থেকে মন্তব্যের ঘরে উত্তর দিচ্ছি।

    প্রশ্নঃ কোথায় নিরাপদ আমরা?
    উত্তরঃ সবচেয়ে নিরাপদ শুধু মাত্র মায়ের কোলে।

    প্রশ্নঃ আমাদের নিরাপত্তা দেবে কে?
    উত্তরঃ কে দেবে জানি না, তবে এটা জানি সরকারের এ বিষয়ে মাথা ব্যাথা নাই। পরের বার কিভাবে ক্ষমতায় আসা যাবে সেটা নিয়েই মাথা ব্যাথা।

    প্রশ্নঃ বাড়ির সামনে আর গলির মোড়ে সাত সকালে মাযের বুক থেকে অপহরণ করা শিশুর নিরাপত্তা কী আমরা চাইতে পারি?
    উত্তরঃ না চাইতে পারেন না। (ক্ষমতা ধরে রাখাটা সরকারের প্রধান দায়িত্ব না হয়ে জনগণের ভাত-কাপড়ের সু-ব্যাবস্থা করা যদি সরকারের প্রধান কর্তব্য হতো তাহলে আপনি তেমনটা চাইতে পারতেন। এখন চাইলে অনধিকার চর্চা হবে।)

    প্রশ্নঃ চাইতে পারলে কার কাছে চাইবো বলুন তো?
    উত্তরঃ পূর্ববর্তী প্রশ্নের উত্তর অনুসরণ করুন।

    আপনার হৃদয়ের শেষ অনুরোধঃ পাঠক, জবাবটা জানা থাকলে জানাবেন।
    আমার শেষ কথাঃ প্রিয় লেখিকা, জবাবটার পুরোটাই আমার জানা আছে। আমরার পূর্ণাঙ্গ জবাব মূল লেখাটির চেয়ে বড় হয়ে যাবার সম্ভাবণা আছে। তাই আপনার বিরক্তি এড়াতে বিরত রইলাম।

    ১৯
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      জুবায়ের ভাই, আপনি কেমন আছেন? মাঝে মাঝে কোথায় ডুব মারেন বলুন তো? জানি তো শিশুরা মায়ের কাছে সব চেয়ে বেশি নিরাপদ..কিন্তু এক্ষেত্রে তো সেই নিরাপদ আশ্রয়স্থল প্রশ্নের সম্মুখীন হল ভাই..মায়ের কাছ থেকেই তো ছিনিয়ে নেয়া হল পরাগকে..তাহলে? আর বাকি প্রশ্নের উত্তরে ১০ এ ১০।আমি আবার হাতখুলে স্টুডেন্টদের নম্বর দেই..এ ব্যপারে আমার যথেষ্ট সুনাম আছে.. :D :D যদিও ক্লাসের সব থেকে রাগী শিক্ষক হিসেবে আমার যথেষ্ট দুর্ণামও আছে.. :( :(

      হঠাত্‍ করে লেখাটি পড়ে ফেলেছেন এবং নৈতিক দায়িত্ব থেকে মন্তব্য করেছেন জন্য ধন্যবাদ। শুভকামনা।

      ১৯.১
  17. জিনিয়া বলেছেনঃ

    জুবায়ের ভাই, প্রোফাইল পিকচার ঘন ঘন পাল্টানো বলতে পারেন আমার একটা পাগলামি। আমি প্রতিদিন সকালে ছবি তুলি..হি হি হি.।

    আর অনন্তর সাথে আমার প্রোফাইলের নিঃসন্দেহে কোনও যোগসূত্র নাই.. :roll: :roll:

    ২০
  18. জুলফিকার জুবায়ের

    জুলফিকার জুবায়ের বলেছেনঃ

    আমার মাথা খারাপ না, তবে আপনার মত পাগল আছি; তাই ভালো আছি।
    ডুব মারিনি। ভেসেই আছি। ৭-৮ দিন আগে একটা লেখা লিখেছিলাম, কিন্তু পোষ্ট করা হয়নি। একজন প্রিয় প্রমীলা ব্লগারের একটা পোষ্টের বক্তব্যের সাথে আমার দ্বিমত থাকায় “ডিজিটাল বাংলাদেশ দেখা মানে হৃদয়হীন একটা কবিতা পড়া” শিরোনামের একটা লেখা ড্রাফট করেছিলাম। কিন্তু লেখাটা চূরান্তভাবে পোষ্ট করব কি-না সে সিদ্ধান্তে আসতে পারিনি।
    শ্রদ্ধেয় জালাল ভাইয়ের একটি পোষ্টের প্রতিক্রিয়া হিসেবে আমি একটা পূর্ণাঙ্গ লেখা পোষ্ট করেছিলাম। তিনি প্রতুত্তর না দিয়ে সম্ভবত নীরব প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাই কারু মতের বিরুদ্ধে লিখতে আজকাল উৎসাহ পাচ্ছি না।জিনিয়া আপু, আপনি কি আমাকে পরামর্শ দেবেন, গনতন্ত্র চর্চার নামে কাউকে বিব্রত করব, না-কি আমার সত্যগুলো যেভাবে আছে সেভাবেই ধামাচাপা রাখব?

    ২১
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      জুবায়ের ভাই, আমি মনে করি কারও পোস্টের পক্ষে-বিপক্ষে মতামত থাকলে তা অবশ্যই প্রতিক্রিয়া: বা ভিন্ন কোনও পোস্টে আসাই বাঞ্ছনীয় এবং অবশ্যই আমি সে উদ্যোগকে স্বাগত জানাই..আমি নিজেও ব্লগার বিন্দুবিসর্গের পোস্টের প্রতিক্রিয়ায ভিন্ন পোস্ট লিখেছিলাম আমার যুক্তি বিশ্লেষণ করে। বিন্দুবিসর্গের সহায়তাও পেয়েছিলাম আমি সে সময়।কাজেই শিরীন আপুর দেখা ডিজিটাল বাংলাদেশের সাথে আপনার দেখা ডিজিটাল বাংলাদেশ যে একই হবে এমন তো কোনও কথা নেই!!!উনি এক দিক দেখিয়েছেন, আপনার জানা থাকলে আমাদের অন্যদিকটাও দেখিয়ে দিন..আমরা পাঠকরা সমৃদ্ধ হই। আশা করি বোঝাতে পেরেছি.।

      পোস্টের আশায় থাকলাম..শুভকামনা।

      ২১.১
  19. জুলফিকার জুবায়ের

    জুলফিকার জুবায়ের বলেছেনঃ

    চলচিত্র নায়ক জলিল ভাইয়ের সাথে যে আপনার কোন যোগসূত্র নাই তা আমি জানি। জাস্ট খুন শুঁটি করেছিলাম।

    যে প্রশ্নের উত্তরটা আমি সবচেয়ে সঠিক দিয়েছি সেটাতে আপনি শূন্য নাম্বার দিয়েছেন। আমি খাতা পুর্ণমূল্যায়নের আবেদন পেশ করলাম।

    ২২
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      জুবায়ের ভাই, আমি খুনসুটি বুঝি রে ভাই..আপনি আমার সাথে দুষ্টামি করে আবার সে টা জানিয়ে দেন..এতে দুষ্টামির কোনও মজা থাকে না কী..ধুর.।

      এই ছাত্রকে নিয়ে তো দেখি মহা ফ্যাছাদে পড়লাম..এ তো দেখি কাঁঠালের আঠা..জনাব, প্রশ্ন করার সময় সম্ভাব্য উত্তরপত্র আগেই রেডি করে রাখছিলাম..সে উত্তরের সাথে মেলে নাই..তাই নম্বর দেই নাই..বোঝা গেছে?পুনর্মূল্যায়নে শূন্য থেকে ১ দিলাম..আর মূল্যায়নের কোনও সুযোগ নাই. :evil: :evil: :evil:

      ২২.১
  20. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    আইনশুন্য দেশে আপন মাল-জান রক্ষার দায়িত্ব মাল-জানের মালিকের – একথা সৈয়দের আওলাদ মুজতবা আলি বিস্তারিত লিখে গেছেন সেই ১৯২১ সালে কাবুল যাওয়ার পথে কাবুল সরাইয়ে নিশিযাপন কালে (দেশে বিদেশে: পৃষ্টা ৪৩)। অথবা ওয়াইল্ড ওয়েস্টের কালে। নিজের শত্রুকে নিজে মারতে হবে, কেউ এগিয়ে আসবেনা। অধুনা বাংলাদেশও সেই কাবুলি সরাইখানা বা ওয়াইল্ড ওয়েস্টের দেশ। তাই নিজের মাল-জানকে নিজেরই আগলে রাখতে হবে। যেদেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন অপহরনকারীর সব শর্ত মেনে অপহৃত শিশু উদ্ধার করা হয়েছে, সেদেশ ১৯২১ এর আফগানিস্তান বা ঊনবিংশ শতাব্দীর ওয়াইল্ড ওয়েষ্ট ছাড়া আর কি?

    ২৩

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...