ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

আজকের প্রথম আলোয় সদ্য ছেলে হারানো মা লিপি মণ্ডল এর আহাজারি আর তার আদরের বুকের ধন পরাগ মণ্ডলের ছবি দেখে ও ঘটনাটি পড়ে বুকের মধ্যে কেমন যেন একটা হাহাকার অনুভব করছি। হতে পারে আমার ছেলের বয়স পরাগের কাছাকাছি জন্য। হতে পারে লিপির স্থানে নিজেকে কল্পনা করে আমার মধ্যে এই কষ্টকর অনুভূতির সৃষ্টি। কিন্তু অনুভূতি তো মিথ্যে নয়। আজ আমার ছেলেকে নিয়ে আমিও তো সকাল সাতটায় কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা পশ্চিমপাড়ায় গলির মোড়ে গাড়িতে করে ছেলেকে স্কুলে পৌছানোর জন্য দাড়িয়ে থাকতে পারতাম!!! এ নির্মম ঘটনাটি তো আমার সাথেও হতে পারত। যে কারও সাথে যেকোনো সময়েও ঘটে যেতে পারতো । বুকের ভিতরে আগলে রাখা ছেলেকে অপহরণকারীর হাত থেকে বাচানোর জন্য বুকে গুলি খেয়ে আমিও তো আজ বক্ষব্যাধি হাসপাতালে নিজের শারীরিক এবং মানসিক মৃত্যুর মুখোমুখি হতে পারতাম..

আর মোটর সাইকেলে অস্ত্রধারী ওই সন্ত্রাসীরা যারা পরাগকে নিয়ে গিয়েছে কিভাবে রেখেছে কে জানে!!আদরের ধন, যে কিনা মায়ের হাত ছাড়া ভাত খায় না..মাযের ওম ছাড়া যার ঘুম হয় না, দিনে কতবার যে ওকে মায়ের বুকে জড়িয়ে ধরে আদর করতে হয় তার হিসাব নেই..সেই পরাগ বাবা-মা-দিদিদের ছেড়ে কেমন আছে? যে আদরের ধনকে বাসায় কেউ ফুলের টোকাই দেয়নি, ওকে কী সন্ত্রাসীরা মাযের কাছে যেতে বায়না ধরার জন্য মারবে? যে দুরন্ত পরাগের পিছনে খাওয়া নিয়ে ছুটতে ছুটতে মা সারাদিন ব্যস্ত থাকে, সেই পরাগকে কী ওরা কিছু খেতে দিয়েছে? বাচ্চাটা কী সারাদিন স্কুলের জামা পরেই থাকবে? আজকাল নাকি বিকৃত মানসিকতার পুরুষদের হাতে ছেলে শিশুরাও নিগৃহিত হয়। তাহলে পরাগকেও কী!!! কী করবে ওরা পরাগকে নিয়ে? বেচে দেবে কী আস্ত পরাগকে কিংবা টুকরো পরাগকে? কী করবে ওরা?

এত শত প্রশ্নের ভিড়ে একটাই প্রশ্ন দাপিয়ে মারছে, দেশে আমরা কোথায় নিরাপদ? রাস্তার কথা বাদ দিলাম, বেডরুমেও নিরাপদ নয়। বাড়ির ভিতর জবাই করে কতশত জনকেই তো সন্ত্রাসীরা মেরে ফেলে রাখছে। কোথাও কোনও বিচার নেই। কারণ, বেডরুমে মরে পড়ে থাকলে সরকার নিরাপত্তা দিতে পারবে না, সাফ জানিয়ে দিয়েছে। বাড়ির সামনে আর গলির মোড়ে সাত সকালে মাযের বুক থেকে অপহরণ করা শিশুর নিরাপত্তা কী আমরা চাইতে পারি? চাইতে পারলে কার কাছে চাইবো বলুন তো? পাঠক, জবাবটা জানা থাকলে জানাবেন।

তথ্য ও ছবি সুত্র: দৈনিক প্রথম আলো অনলাইন এডিশন.