ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

কাল সারাদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ার মিডিয়াগুলো মুখর ছিল গর্ভপাত সংক্রান্ত আইন নিয়ে। কট্টর ক্যাথলিক দেশ আয়ারল্যান্ডে গর্ভপাত কঠোরভাবে নিষিদ্ধ..কিন্তু ৩১ বছর বয়সী ভারতীয় ডেন্টিস্ট সাভিতা যখন নিজের শারীরিক সমস্যার কারণে গর্ভপাতের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন, আইনের দোহাই দিয়ে সেখানে তার গর্ভপাত করায়নি ডাক্তার। সাভিতার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয় যে, গর্ভধারণের পর থেকে সাভিতা অসহনীয় ব্যাক পেইন অনুভব করতে থাকেন এবং তার প্রেগন্যান্সি টার্মিনেট করার জন্য ডাক্তারদের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু যেহেতু আয়ারল্যান্ডে ভ্রূণ হত্যা নিষিদ্ধ কাজেই তারা সাভিতার আবেদনে সাড়া দেন নি। সাভিতা ক্যাথলিক ছিলেন না কিংবা আইরিশও ছিলেন না.. যেহেতু আয়ারল্যান্ডে সাময়িকভাবে তিনি বাস করছিলেন কাজেই সেদেশের আইন মানতে তিনি বাধ্য। পরিণতিতে প্রেগন্যান্সি সংক্রান্ত জটিলতায় ১৭ সপ্তাহের গর্ভবতী সাভিতাকে প্রাণ দিতে হয়। এখন প্রশ্ন হল যখন কারও জীবন সংশয় দেখা দেয়, তখনও কী আইন বড় হবে নাকি জীবন?

উল্লেখ্য, বিশ্বের অনেক দেশেই গর্ভপাত নিষিদ্ধ। মুসলিম দেশগুলোতে যেমন গর্ভপাত নিষিদ্ধ, ঠিক তেমনি খ্রিষ্টান ক্যাথলিকরা গর্ভপাতকে জঘন্য কাজ হিসেবে দেখেন, এমনকি যে চিকিত্সক গর্ভপাত করান তাঁকে অনেক সময় তারা হত্যা করতেও উদ্যত হয়। আবার রক্ষণশীল ও উন্নয়নশীল কিছু দেশে গর্ভপাতকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এমেরিকাতে গর্ভপাত প্রশ্নে ডেমোক্রেটরা উদার হলেও এ ব্যাপারে রক্ষণশীলরা খুবই স্পর্শকাতর। ইসলামপন্থী অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও গর্ভপাত বিরোধী আইন আছে। বাংলাদেশ দন্ডবিধি আইনের ৩১২ থেকে ৩১৬ ধারা পর্যন্ত গর্ভপাত সংক্রান্ত আইন ও সাজার কথা বলা হয়েছে। এরমধ্যে ৩১২ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো নারী গর্ভপাত ঘটালে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তিন বছর সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদন্ড বা জরিমানা বা উভয় প্রকার শাস্তি পেতে পারে।

ধর্মীয় অনুশাসনে গর্ভপাত বা ভ্রূণ হত্যা মহাপাপ..ঠিক আছে মানলাম, কিন্তু কেন তা আইনত নিষিদ্ধ হবে? ধরুন কোনও নারী অনিচ্ছাকৃতভাবে গর্ভধারণ করল, কিংবা ধর্ষণের স্বীকার হল, পরিণতিতে প্রেগন্যাণ্ট হল, সে ক্ষেত্রেও কেন তার জন্য গর্ভপাত আইনত নিষিদ্ধ হবে? কেন সে অনিচ্ছাকৃত ঘটে যাওয়া ঘটনার মাশুল সারাজীবন বয়ে বেড়াবে? তাছাড়া শুধু অবাঞ্ছিত গর্ভধারণ তো গর্ভপাতের মূল কারণ নয়। সাভিতার গর্ভধারণ অবৈধ ও অবাঞ্ছিত ছিল না..সাভিতা পুত্র সন্তান হবে না বা কন্যা সন্তান হত্যা এই জাতীয় বিষয় সেখানে ছিল না..সম্পূর্ণ শারীরিক অসুবিধাজনিত কারণে গর্ভপাত করানোর জন্য সে আবেদন করেছিল..যা ধর্ম ও আইনের দোহাই দিয়ে নাকচ করে দেয় সে দেশের কট্টরপন্থীরা।গর্ভপাত বন্ধে আইন আছে খুব ভাল কথা। কিন্তু গর্ভধারণজনিত শারীরিক সমস্যায় কেন গর্ভপাত করানো যাবে না?

গর্ভধারণের পর একজন নারী যদি ক্যান্সার কিংবা এইডস এর মত ঘাতকব্যাধি দ্বারা আক্রান্ত হন, তবে কেন তিনি গর্ভপাত করাতে পারবেন না? কেন তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে?কিংবা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হবে? তাছাড়া পুরুষেরা অনেক সময় নারীর সাথে বিয়ের প্রলোভন বা প্রেম জাতীয় সম্পর্ক তৈরি করে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে..বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুরুষ আগত সন্তানের দায়ভার নেয় না বা অস্বীকার করে..সেক্ষেত্রে নারী কেন সারাজীবন একা সন্তান জন্মদান ও তার লালনপালনের ভার নেবে? অবৈধ সন্তানের জন্য নতুন করে সংসার পাতা তো দূরে থাক, সামাজিকভাবে তাকে হেয় ও হেনস্থা হতে হয় প্রতি পদে পদে.. এছাড়াও মুহূর্তের ভুলে জন্ম নেয়া শিশুটির জন্য ভয়াবহ বাস্তব কী অপেক্ষা করছে না? যে সন্তান মায়ের পেটে থাকার সময়ই কাঙ্খিত নয়, কেউ তার জন্ম হোক চাইছে না..তার ভবিষ্যত কী হতে পারে তা সহজে অনুমেয়। এর দায়ভার আসলে কার? নারীর একার নয় নিশ্চয়!! বলাবাহুল্য, নারী বা পুরুষ উভয়কেই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে যেন ভ্রূণ হত্যার মত জঘন্য অপরাধ না ঘটে।কিন্তু অসাবধানতা বসে যদি ঘটনা ঘটেও যায় এবং তার ফলে নারী গর্ভধারণ করে, তাহলে উপায় কী?

আবার অনেক সময় বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে অনিচ্ছা সত্বেও তৃতীয় বা চতুর্থ সন্তান লাভের জন্য স্বামীরা গর্ভধারণে বাধ্য করেন। নারীদের ইচ্ছা অনিচ্ছার কোনও মূল্য অনেক ক্ষেত্রেই প্রাধান্য পায় না। উন্নত গর্ভনিরোধক পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ ও গর্ভপাত রোধ করা সম্ভব হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গর্ভনিরোধক পদ্ধতির মাধ্যমে গর্ভধারণ রোধ করা সত্যিই দু:সাধ্য। কেননা নারীরা অনেক সময় গর্ভধারণ করছে কিনা তা চিহ্নিত করতে পারেনা কিংবা তাদের জীবনের সকল পরিস্থিতিতে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না।ফলে অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ করা মেয়েদের অবৈধ পথে গর্ভপাত করা ছাড়া আর উপায় থাকেনা৷ যা অনেক ক্ষেত্রেই তার জীবননাশক হয়ে দাঁড়ায়।

বিশ্বজুড়ে তাই দাবি উঠছে ধর্মীয় বিধি নিষেধ থেকে গর্ভপাত আইনকে আলাদা করা হোক। অনিচ্ছাকৃত যৌন সম্পর্কে বা ধর্ষণের কারণে গর্ভধারণ করলে বা গর্ভধারণের ফলে নারীর শারীরিক ও অর্থনৈতিক কারণে জীবন সংশয় দেখা দিলে, সেক্ষেত্রে কোনরকম সামাজিক চাপ ও আইনসংক্রান্ত জটিলতা ছাড়াই যেন একজন নারী সিদ্ধান্ত নিতে পারে, কোনো সন্তান তারা চান কি না। যেহেতু অবৈধ সন্তানের দায়ভার পুরুষরুপি পশুটি নিচ্ছে না, অথবা একজন নারী সন্তান জন্মদানের মত বিশাল একটি দায়িত্বে নিজেকে সেই মুহূর্তে শারীরিক বা মানসিকভাবে যথাযথ মনে করছে না, কাজেই গর্ভধারণের মত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবার সম্পূর্ণ অধিকার একজন নারীর হওয়া বাঞ্ছনীয়। আইনের মার প্যাচ নয়, নিরাপদ গর্ভধারণ ও গর্ভপাত হোক একজন নারীর সম্পূর্ণ ইচ্ছাধীন একটি অধিকার।

তথ্য ও ছবি সুত্র: ইন্টারনেট।

৫০ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. সুপ্রসন্ন বলেছেনঃ

    সাভিতার জন্য খারপ লাগছে , আর “ মানুষের জন্য আইন , আইনের জন্য মানুষ নয় ” এই কথা আমরা যে কেন ভূলে যাই জানিনা । লেখককে ধন্যবাদ চমৎকার পোষ্ঠের জন্য ।

  2. শিকদার দস্তগির বলেছেনঃ

    এটা আইরিশ ডাক্তারদের ব্যর্থতা । তাদের পরীক্ষায় যদি এটা প্রমাণিত হয় যে, ভ্রূণ অপসারণ করলেই একটা জীবন বাচবে- সেখানে কেন তাদের তার জীবন বাচানোর চেষ্টা না করে ঐ আইন এখানে কার্যকর হতে দিয়েছে ? এটা অবশ্যই ডাক্তারদের ব্যর্থতা । প্রয়োজনে তারা সবিতার সকল রিপোর্ঠ নিয়ে আইনের কাছে যেতেন । কিন্তু ডাক্তার হিসেবে তারা অবশ্যই দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে । কিন্তু তাদের ব্যর্থতার জন্য জিনিয়ার দাবী মেনে নেয়ার কোন যুক্তি নেই ।

    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      আমার দাবি হল নারী যেহেতু সন্তান ধারণ করছে, কাজেই সন্তান জন্ম দেবার সিদ্ধান্তটা নারীকেই নিতে হবে..আমি বলছিনা যে সে ভ্রূণ হত্যা করুক..যদি সে জন্ম দিতে চায় সেটাও একজন নারীর সিদ্ধান্ত..আর যদি সে ধর্ষণের ফলে অনাকাংখিত সন্তানকে জন্ম দিতে না চায়, সে টা ও একজন নারীরই সিদ্ধান্ত হাওয়াই বাঞ্ছনীয়…।

      শুভকামনা।

      ৩.১
  3. মাহি জামান বলেছেনঃ

    মিসেস জিনিয়া-
    অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় আপনি তুলে এনেছেন। জীবন বাঁচাতে সাবিতার অপরিহার্য্য গর্ভপাত ইসলাম অনুমোদন করে বলেই আমার ধারনা। কারন দু’টি জীবনই যেখানে নিশ্চিত মৃত্যুর পথে তখন অন্ততঃ একটাকে বাঁচানোর স্বার্থে গর্ভপাত করা অবশ্যই যাবে। তবে মায়ের জীবন বাঁচানোর মত জটিল পরিস্থিতি ছাড়া গর্ভপাত মানবিক কারনেই মেনে নেওয়া যায়না। অনাগত শিশুটি অন্যের ভূল বা পাপের কারণে কেন মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত হবে? যে মা নিজের সন্তানকে হত্যা করতে চান তিনিই বা কেমন মা?

  4. আইরিন সুলতানা বলেছেনঃ

    ধর্মীয় মতে (যে কোন ধর্ম) ভ্রুণ হত্যা পাপ। আবার ধর্মমতে (যে কোন ধর্ম), সামাজিক স্বীকৃতিহীন ভ্রণ গ্রহণযোগ্য নয়। সে হিসেবে সমাজে একে অবৈধ বিবেচনা করা হয়। কেউ ধর্ষিত হলে, তার শরীরে জন্ম নেয়া ভ্রুণের দায়ভার তার নয়, কিন্তু সমাজও সে দায় নিতে রাজি হয় না। ধর্ম এখানে কী বলে? যাই বলুক, মোদ্দা কথা, এই ভ্রুণও সামাজিকভাবে অবৈধ/পাপ/অগ্রহণযোগ্য… এ সকল ক্ষেত্রে, ভ্রুণহত্যা করা ছাড়া অন্য কোন পথ থাকে না নারীটির।

    আমি নিশ্চিত নই, ভ্রুণহত্যা নিষিদ্ধ করে যে সকল দেশে আইন রয়েছে, সে আইন প্রবর্তনের কারণ একান্তই কট্টর ধর্মপরায়ণতা কিনা। কারণ ভ্রুণ হত্যার সাথে মানবিক বিষয়টি প্রবলভাবে জড়িত। এবং এখানে দেখা যাচ্ছে পক্ষে-বিপক্ষে দু’টো অবস্থান আছে। ভ্রুণহত্যা যে কেবল, অবিবাহিতদের বেলায় ঘটছে তা নয়, বিবাহিত নারীও করছেন। পারিবারিক সমস্যা, পরিকল্পনাহীনতা ইত্যাদি কারণে পারিবারিক সিদ্ধান্তমতেই নারীটি ভ্রুণহত্যা করেন।

    লক্ষ্যনীয় বিষয়, এখানে নারীর শরীরের উপর ঝুঁকির একটি বিষয় রয়েছে। এবং ভ্রুণহত্যা নিষিদ্ধকরণের আইন প্রণয়নের এটাও একটা প্রয়োজনীয়তা।

    আরেকটি বিষয় হল, মেয়ে ভ্রুণ হত্যার মানসিকতা। পরিণত ভ্রুণ যদি মেয়ে হয়, তবে সম্ভাবনা থেকেই যায়, পরিবার থেকে এই সন্তান জন্মদানে নিরুৎসাহিত করণে, তাই ভ্রুণহত্যা নিষিদ্ধকরণ আইন অত্যন্ত জরুরী।

    সামাজিক লাঞ্ছনার ভয়ে যে সকল ভ্রুণহত্যা হয়, সেটা আসলে কতটুকু সঠিক? নিশ্চয়ই অনেক সম্পর্কই সম্মতিক্রমেই হয়, আবেগে ভেসে গিয়ে হয়। এ ধরণের সম্পর্ক কতটুকু আমি-তুমি-আমরা ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করব, তারচেয়েও স্পর্শকাতর ক্ষেত্রটি হল, পুরুষটি দায়িত্ব স্বীকার না করলে, নারীর শরীরে জন্ম নেয়া ভ্রুণ নামপরিচয়হীন হয়ে যায়। এখন নারীর কি অধিকার নেই সেই ভ্রুণকে নিজের সিদ্ধান্তে জন্ম দেয়ার? এক্ষেত্রে, বরং ভ্রুণহত্যা নিষিদ্ধকরণে নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার কতটুকু উৎসাহিত হয়, আমি নিশ্চিত নই। তবে জানার আগ্রহ আছে।

    বাংলাদেশের গর্ভপাত আইন
    বিশ্বের অন্যান্য ‍অনেক দেশের মত বাংলাদেশের গর্ভপাত আইন (১৮৬০-এর ব্রিটিশ পেনাল কোড) অনুযায়ী- অন্তঃসত্ত্বার জীবন বাঁচানো ছাড়া অন্য কোনো কারণে গর্ভপাত নিষিদ্ধ। এমনকি ধর্ষণ, শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক বা সামাজিক কারণ, ভ্রণের বিকলাঙ্গতা এসব কারণেও গর্ভপাত আইনসিদ্ধ নয়। অবশ্য গর্ভপাতের আইনের উইকি তথ্য অনুযায়ী ১২ সপ্তাহের মধ্যে করলে এ সমস্ত ক্ষেত্রে গর্ভপাত গ্রহণযোগ্য।

    সূত্র: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

    পোস্টে যে ঘটনাটি আছে, সেটা অবশ্য ভিন্ন পর্যায়ের, শারীরিক অসমর্থতা থাকলে, এ ধরণের ক্ষেত্রে মায়ের শরীরকেই প্রাধান্য দেয়ার কথা। আইনও নিশ্চয়ই সেটা মানবিক ও যৌক্তিক উভয় দিক থেকে সমর্থন করবে।

    আমি ব্যক্তিগতভাবে ভ্রুণহত্যা নিষিদ্ধকরণ আইনকে সমর্থন জানাতে ইচ্ছুক, তবে হ্যা, আইনের ধারাগুলো কতটা মানবিক-যৌক্তিকভাবে ‍উপস্থাপিত সেটাও একটা আলোচনার বিষয়। এবং ভ্রুণের বয়সও সাধারণত আইনগত ও মেডিকেলগত দিক দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা।

    বিবিসি’র একটি প্রতিবেদন পড়ে দেখতে পার – লিংক

    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      ধন্যবাদ আইরিন..ভ্রূণ হত্যার পক্ষপাতী আমিও নই। কিন্তু কোনভাবেই যদি কোনও নারী তার অনাকাংখিত শিশুকে জন্ম দিতে না চায়, তবে আইনগতভাবে সে পথ অবশ্যই খোলা থাকা দরকার..আর যদি জন্ম দিতে চায় সেটাও সম্পূর্ণ নারীর ব্যক্তিগত অধিকার হাওয়াটাই বাঞ্ছনীয়। আইন থেকেও কিন্তু ভ্রূণ হত্যা সংগঠিত হচ্ছে অনিরাপদ ভাবে..এতে ঝুকির সম্মুখীন হচ্ছে নারী..ভারতে কন্যাশিশু ভ্রূণ হত্যা হচ্ছে কঠোর আইন থেকেও..পুরুষরা জোর করে করাচ্ছে..কিংবা নারী নিজের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা থেকেও চাইছে না যে আর একটি নারীর জন্ম হোক এবং তার মত কষ্টকর জীবন হোক….কিন্তু আমি মনে করি এখানে নারীর স্বাধীনতা থাকা দরকার..এটা পুরুষদের কোনও চাপিয়ে দেয়া বা আইন করে নিষিদ্ধ করে দেয়া বিষয় নয়..এটা হওয়া প্রয়োজন নারীর নৈতিক অধিকার…. .।

      আলোচনা হোক..অবশ্যই সেখান থেকে বেরিয়ে আসবে সামাজিক এ সমস্যার চমত্কার সমাধান।

      শুভকামনা।

      ৫.১
  5. নুরুন্নাহার শিরীন

    নুরুন্নাহার শিরীন বলেছেনঃ

    ভ্রূণহত্যা শব্দটি বড়ো অমানবিকতাময়, বড়ো ত্রন্দনগময় – এক নিষ্পাপ ভ্রূণের আর্তিভর্তি ক্রন্দন যেন –

    “ আমায় মেরোনা মা …”

    বলতে চাইছে নাড়ীর গভীরতম বন্ধন চিরে … :( :( :(

    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      আপুনি ভ্রূণ হত্যা আমিও সমর্থন করি না..কিন্তু কেউ যদি তার শিশুকে জন্ম দিতে না চায় এবং আইনের জন্য জন্ম দিতে বাধ্য হয়..তাহলে সেই শিশুটির ভবিষ্যত কী? প্রতিনিয়ত দেশে বিদেশে খবর চোখে পড়ে ডাস্টবিনে মোড়ান শিশু কিংবা সিটি কাউন্সিলে টিন এজ মাযেদের অনাকাংখিত শিশুদের তালিকা যেন বেড়েই চলছে..এ তো জন্ম দিয়েই খালাস হবার মত ব্যপার নয়, কিংবা টারজানের মত কোনও দয়ালু গরিলা নেই যে অনাকাংখিত সেই সব শিশুর লালন পালনের ভার নেবে..তাহলে?

      শুভকামনা।

      ৬.১
  6. নুরুন্নাহার শিরীন

    নুরুন্নাহার শিরীন বলেছেনঃ

    জিনিয়া, সে অর্থে বলিনি কিন্তু ! অনাকাঙ্ক্ষিত যে ভ্রূণটি ডাস্টবিনেই নিক্ষেপিত তারও বেঁচে থাকার কথা ছিলো যে – সেই দু:খবোধ কোথায় ফেলি অক্ষম আমি ! আমার এক অনন্ত দু:খবোধ বিষয়টি – সভ্যতা-আধুনিকতা-অক্ষমতা সব অসীম বেদনায় আমায় মুহ্যমান আহত-জখমিত-আক্রান্ত করে ……………………………………………………………………..

  7. মাহি জামান বলেছেনঃ

    আইরিন সুলতানা
    আপনাকে অনেক ধন্যবাদ চমৎকার মতামতের জন্য। ভ্রুনহত্যা নিষিদ্ধকরণ আইনের পক্ষে আপনার যুক্তিগুলোই যথেষ্ট। তবে সামাজিক স্বীকৃতিহীন ভ্রুন যে কোন ধর্মে অগ্রহযোগ্য বলে আপনি যে মন্তব্য করেছেন তার সাথে আমি একটি বিষয় যোগ করতে চাই। ধর্ষণ বা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কারনে যদি কোন সন্তানের জন্ম হয় তবে ইসলাম সেই সন্তানকে কোন ভাবেই দোষী সাব্যস্ত করেনা। বরং মায়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী (আধুনিক কালে ডিএনএ টেস্ট এর মাধ্যমে)উক্ত সন্তানের জনককে সনাক্ত করে পিতৃত্বের পরিচয় এবং সন্তানের ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করা ইসলামী আইনে রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

  8. হাসান মসফিক বলেছেনঃ

    আইনের মার প্যাচ নয়, নিরাপদ গর্ভধারণ ও গর্ভপাত হোক একজন নারীর সম্পূর্ণ ইচ্ছাধীন একটি অধিকার।
    এই বিষয়ে আপনার উল্লেখিত মতামতের সাথে সহমত পোষণ করছি।
    শুভেচ্ছা।

  9. বোতল বাবা বলেছেনঃ

    এত্ত জটিল জিনিস মাথায় ধরতাছে না :roll: । উচ্চমাধমিক উদ্ভিদ বিজ্ঞান : আবুল হাসান এর বই -এ পড়ছিলাম কাচ্চা আনারস খাইয়া লইলেই হয় । ;) সব যে ভুইলা যাইতাছি । কি যে করি ! :(

    সতর্ক সূত্র: ভেজজ গর্ভপাত

    ১০
  10. মাহবুব বলেছেনঃ

    জিনিয়া আপনার বর্ণনার সভিতার মত যেসব ক্ষেত্রে মায়ের জীবন হুমকির মুখে সেখানে ভ্রুণ হত্যাকে সমর্থন করছি! কিন্তু ধর্ষণ বলেন বা যেকোনো যৌন সম্পর্কই বলেন সেখানে প্রতিরোধের বেবস্থা না নিলেও, ৭২ ঘন্টার ভেতর আইপিল খেলেও কিন্তু ভ্রুণ তৈরির সম্ভবনা থাকেনা! এত সব বেবস্থার পরেও যদি ভ্রুণ তৈরী হয় তাহলে কি এই দায়িত্ব মায়ের উপর থাকেনা? ধর্ষণ বেতিরেকে অন্য কোনো কারণে কি ভ্রুনটা অনাকাংখিত হওয়ার কথা? কে কখন কোন অবস্থায় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলো এটা তার একান্তই বেক্তিগত ব্যাপার, কিন্তু এতসব বেবস্থা থাকার পর একটা ভ্রুণ পর্যায়ে যাওয়ার পর সেটাকে আলোর মুখ দেখতে দেয়াটাও বাঞ্চনীয়! এক্ষেত্রে ভ্রুণ হত্যাকে হত্যার অপরাধ হিসাবেই গণ্য করা উচিত! আসলে এসব আইন কঠিন হলে সুবিধা একটাই, সেটা হলো মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়া! তবে ধর্ষণ এবং মায়ের জীবন হুমকির মুখে পরার মত অবস্থা বেতিরেকে বাকি সব অবস্থায়ই ভ্রুণ হত্যার বেপারে কঠোর আইন থাকা বাঞ্চনীয়!

    ১১
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      মাহবুব ভাই, আপনাকে ধন্যবাদ সুচিন্তিত মতামত এর জন্য। আপনি বলেছেন,

      কিন্তু ধর্ষণ বলেন বা যেকোনো যৌন সম্পর্কই বলেন সেখানে প্রতিরোধের বেবস্থা না নিলেও, ৭২ ঘন্টার ভেতর আইপিল খেলেও কিন্তু ভ্রুণ তৈরির সম্ভবনা থাকেনা! এত সব বেবস্থার পরেও যদি ভ্রুণ তৈরী হয় তাহলে কি এই দায়িত্ব মায়ের উপর থাকেনা?

      ধর্ষণের স্বীকার মেয়েটির শারীরিক বা মানসিক কিংবা সামাজিক অবস্থা কী সে সময় পিল খাবার অনুকূলে থাকে কী না ভেবে দেখার বিষয়। আর শেষ লাইনে কেন শুধু মাযের উপর দায়িত্ব বর্তায় বলুন তো? সন্তান উত্পাদনে তো সে কোনরকম ইচ্ছা প্রকাশ করেনি..জোর করে অন্য পুরুষের ঢেলে দেয়া ইচ্ছাকে কেন সে বয়ে বেড়াবে? আর কেনই বা এর দায়িত্বভার শুধুই সে মেয়ের উপর বর্তাবে, বলুন তো? এ কী অন্যায় নয়?

      শুভকামনা।

      ১১.১
  11. মজিবর বলেছেনঃ

    জিনিয়া আপু, যেখানে জীবন নাশ, সেখানে ভ্রূণ হত্যা আমি অবশ্যই সমর্থন করি। আইন যতই আমাকে শাস্তি দিক না কেন।
    “পরিণতিতে প্রেগন্যান্সি সংক্রান্ত জটিলতায় ১৭ সপ্তাহের গর্ভবতী সাভিতাকে প্রাণ দিতে হয়। এখন প্রশ্ন হল যখন কারও জীবন সংশয় দেখা দেয়, তখনও কী আইন বড় হবে নাকি জীবন?”
    অবশ্যই জীবন বড়।
    সৈয়দ ওয়ালিউর এর লাল শালুর সংলাপ, “জীবন যদি না থাকে, রূপ দিয়া কী হইবে?”

    ১২
  12. মাহবুব বলেছেনঃ

    আসলে আমি মায়ের উপর দায় দিতে কথাটা বলিনি! আমি আসলে বলতে চেয়েছি নারীর সচেতনতার বেপারে! একজন নারী জানে যে একমাত্র সেই ভ্রুণের বাহক, যদিও ভ্রুণের দায়টা তার একার নয় কিন্তু অন্য কেউ দায়িত্ব স্বীকার না করলে এর দায়ভার নারীকেই যেহেতু বহন করতে হচ্ছে সুতরাং নারীকে অধিকতর সচেতন থাকতে হবে! সব অবস্থাতেই প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম!

    ১৩
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      হ্যা সচেতনতার বিকল্প নেই মাহবুব ভাই..কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তো অসচেতনতা থেকেই সৃষ্টি হয়!!এবং অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় নারী সেই ঘটনার জন্য বিন্দুমাত্র দায়ী নয়, কিংবা কিশোরী মেয়েরা পরিস্থিতির শিকার হলেও অসচেতনতার জন্য গর্ভধারণ করে..এক্ষেত্রে কী তার নতুন করে জীবন শুরু করার অধিকার আছে কী নেই? সে কী সারাজীবন ছোট্ট একটি শিশুর ভার বয়ে বেড়াবে?

      শুভকামনা..

      ১৩.১
  13. বোতল বাবা বলেছেনঃ

    জিনিয়া আপু আপনি আসলেই অনেক জিনিয়াস, আগেই অনেক কিছু বুঝে ফেলেন :) । এত্ত কিছুর দরকার কি ! বাবা বোতলের পানি পড়ায় এনাফ । :lol: :D :lol:

    ১৫
  14. শাহরিয়ান আহমেদ বলেছেনঃ

    জীবন বাঁচানোর প্রয়োজনে অবশ্যই গর্ভপাত করা উচিত। তবে এ ছাড়া অন্য কোন কারনে এটা গ্রহন যোগ্য হওয়া উচিত না।

    ১৭
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      শাহরিয়ান ভাই,আপনাকে অনেক ধন্যবাদ প্রথম বাক্যটির জন্য..কিন্তু ধর্ষণের ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণে কেন গর্ভপাত করা যাবে না? আর যদি কোনও ১২/১৩ বছরের মেয়ে অনাকাঙ্খিতভাবে ঘটনার শিকার হয়ে গর্ভধারণ করে, তবে কেন সে গর্ভপাত করাতে পারবে না?বাচ্চা জন্ম দিয়ে কী ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে আসবে? নাকি এতিম খানায় দিয়ে আসবে ? নাকি বিক্রি করে দেবে? সমাধান কী?

      শুভকামনা।

      ১৭.১
  15. নূরুল আলম বলেছেনঃ

    আইরিন সুলতানা
    আপনাকে অনেক ধন্যবাদ চমৎকার মতামতের জন্য। ভ্রুনহত্যা নিষিদ্ধকরণ আইনের পক্ষে আপনার যুক্তিগুলোই যথেষ্ট। তবে সামাজিক স্বীকৃতিহীন ভ্রুন যে কোন ধর্মে অগ্রহযোগ্য বলে আপনি যে মন্তব্য করেছেন তার সাথে আমি একটি বিষয় যোগ করতে চাই। ধর্ষণ বা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কারনে যদি কোন সন্তানের জন্ম হয় তবে ইসলাম সেই সন্তানকে কোন ভাবেই দোষী সাব্যস্ত করেনা। বরং মায়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী (আধুনিক কালে ডিএনএ টেস্ট এর মাধ্যমে)উক্ত সন্তানের জনককে সনাক্ত করে পিতৃত্বের পরিচয় এবং সন্তানের ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করা ইসলামী আইনে রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

    ১৮
  16. Abir Hasan বলেছেনঃ

    অবৈধ সম্পরকের কারনে যাতে গর্ভধারণ না হয় , সে জন্য অবৈধ সম্পরক গুলোকে আইন করে নিষিদ্ধ করে দেয়া উচিত ।
    ধর্ষণ বা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কারনে যদি কোন সন্তানের জন্ম হয় তবে ইসলাম সেই সন্তানকে কোন ভাবেই দোষী সাব্যস্ত করেনা। বরং মায়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী (আধুনিক কালে ডিএনএ টেস্ট এর মাধ্যমে)উক্ত সন্তানের জনককে সনাক্ত করে পিতৃত্বের পরিচয় এবং সন্তানের ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করা ইসলামী আইনে রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা এই নিয়ম অনুসরন করতে পারি।

    ২০
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      আবির ভাই, আমাদের অর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে ডি এন এ পর্যন্ত যাওয়া লাগে না রে ভাই..এলাকাবাসী থেকে শুরু করে সবাই জানে ধর্ষকের পরিচয়..কিন্তু কয়জন ধর্ষক সন্তানের ভরণ পোষনের দায়িত্ব নেয়!!!আর আমাদের মত রাষ্ট্রের যত সমস্যা, এই ছোটখাট সামাজিক সমস্যার দায়িত্ব কী নেবে রাষ্ট্র?? তবুও আপনার পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ। শুভকামনা।

      ২০.১
  17. শাহরিয়ান আহমেদ বলেছেনঃ

    @ জিনিয়া আপি,
    ফ্যানের সাথে বারি খেয়ে পড়ে যাওয়া চড়ুই পাখিটাকে ও আমরা সারিয়ে তুলতে চাই, পানি টানি খাইয়ে ছেড়ে দেই। কেন?
    ওই টুকু জীবন বাঁচানোর জন্যই।
    একটা জীবনকে হত্যা করার চেয়ে এতিম খানায় বা সরকারি সাহায্যে বাচিয়ে রাখলে কি কারও কোন ক্ষতি হয়? তোমার ছোট সোনা বাবুটার জন্ম কবে হয়েছে? যেদিন সে পৃথিবীতে এসেছে সেদিন নাকি যেদিন সে তার মায়ের পেটে এসেছে সেদিন?

    যে যে কারনে গর্ভপাতের দরকার হয় তার মধ্যে কিছু কমন কারন এমন হতে পারে -

    ০১। এই মুহুর্তে সন্তান নিতে চাচ্ছিলাম না।
    ০২। আরেকটু নিজের পায়ে দাঁড়ানো দরকার।
    অসচেতনতার/ অসাবধানতার কারণেই মুলত এমন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয় এবং সন্তান পেটে আসে। খেসারত দিতে হয় একটি জানকে।

    ০৩। কন্যা সন্তান নিতে আগ্রহী না হলে
    ০৪। দুইটি বা তিনটি পুত্র সন্তান হওয়ার পর মেয়ে সন্তানের আশায় আবার যখন পুত্র সন্তান পেটে আসে।
    এইটা সামাজিক/ পারিবারিক/ মানসিক পরিস্থিতির কারনে সৃষ্ট সমস্যা এটি।

    ০৫। বৈবাহিক সম্পর্কহীন নারী পুরুষ(বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রেমিক-প্রেমিকা)সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে গিয়ে এবং তাড়াহুড়া করে
    ০৬। বৈবাহিক সম্পর্কহীন নারী পুরুষ(বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রেমিক-প্রেমিকা)- কিছু হবে না বা পরেরটা পরে দেখা যাবে এমন মনোভাবের কারনে

    ৫ এবং ৬ নং এর ব্যাখ্যা দিয়ে লাভ নেই।

    শতকরা কতজন মহিলা জীবন বাঁচাতে গর্ভপাতের জন্য ডাক্তারের কাছে যায়? অধিকাংশ ই ১নং থেকে ৬নং কারনে গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নেয়।

    অতএব গর্ভপাতের বিরুদ্ধে (ভ্রুণ হত্যার বিরুদ্ধে) জনমত গঠনই নৈতিক ও সামাজিক দিক থেকে কল্যাণকর বলে আমি মনে করি।

    ২১
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      শাহরিয়ান ভাই,আমি কিন্তু গর্ভপাতের পক্ষে এই পোস্ট লিখিনি। ভ্রূণ হত্যার সমর্থনেও নয়। মেসেজটা হল সেসব পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে যখন জীবন বিপন্ন হয়ে যায় কিংবা সেইসব পরিস্থিতিতে যখন অনাকাঙ্খিতভাবে গর্ভধারণে বাধ্য করা হয়। সেইসব ক্ষেত্রে একজন নারী সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি সন্তান রাখবেন কী না। যদি তিনি মনে করেন সন্তান তিনি চান সে টা যেমন তার সিদ্ধান্ত আর যদি তিনি মনে করেন এই অনাকাঙ্ক্ষিত সন্তানের ভার বইবার মত তিনি যথার্থ নন, সে টাও হতে হবে তার সিন্ধান্ত..এবং আইন সেক্ষেত্রে তাকে বাধা না হয়ে সহায়তা করুক। এটাই আমার এই পোস্টের মূল মেসেজ। ধন্যবাদ ও শুভকামনা।

      ২১.১
  18. বোতল বাবা বলেছেনঃ

    আচ্ছা আপনি একটা অপরাধ করেন নি কিন্তু চোখে দেখলেন ও আপনার করার কিছুই নাই। আপনার ওপর যদি অপরাধের ভার দেওয়া হয় , আপনি কি ভার নিবেন ! শিশুটি তো অপরাধ করে নি। শিশুটি কেন অপরাধের ভার নিবে ! জীবন বাঁচানোর প্রশ্নে অনেক ক্ষেত্রে দুইটা জিনিসের মধ্যে ঘুরপাক খায় । যেমন আমার এক বন্ধু কে ওর মা জীবন দিয়ে ওকে এই সুন্দর ধরনী দেখার সুযোগ করে দিয়ে গেছেন । আর মা যদি সেলফিশ হয় আমার বলার কিছু নাই । দুই ধরনের মা ‘য় তো চোখে দেখলাম ।

    ২৩
  19. বোতল বাবা বলেছেনঃ

    আর জিনিয়া আপু , এটা আমি অতি জটিল বললাম এই জন্য যে , এটার উপর ভিত্তি করেই সব ধর্মে ‘মা’ কে অনেক বেশি সম্মানিত করা হয়েছে ।এখানে আবার দেখি কেউ আরছেন বৈজ্ঞানিক ব্যাখা নিয়ে । যেখানে হাজার হাজার কবি-সাহিত্যিক, নবী-রসূল, পীর-আউলিয়া গণ চিন্তা করে কূল পাচ্ছেন না, সেখানে আমার মত বোতল বাবার ভেজজ (ভেষজ)~ টোটকা, পানি পড়া , ঝারা -ফুক নিয়েই থাকতে হবে। কিন্তু এইসব গর্ভপাত -তর্ভপাত দেখেই পোলাপাইনরা আজকাল কার মা-বাপের উপর শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলছে। আমার পাশেই তো দেখি, মা মানে মাদার ডে, বাপ মানে ফাদার ডে, আর কিছু না ওদের কাছে । সমাজে সব কিছুতেই বিজ্ঞান নিয়ে আসলে মানুষ, মানুষ কে আর মানুষ মনে করবে না । হারিয়ে যাবে নৈতিকতা !!! :(

    জিনিয়া আপু, আপনার মজা গুলো খুব ভালো লাগছে আমার কাছে । আপনার সাথে আমি ও একটু মজা করছি, মাইন্ড করবেন না আবার । জিনিয়া আপু কে অনেক ধন্যবাদ । :)

    ২৪
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      মায়ের মর্যাদা সন্তান জন্ম দেবার কারণে যে সব চেয়ে বেশি সে টা তো অস্বীকার কেউ করছে না..তবে গর্ভপাতের কারণে মাদার ডে, ফাদার ডে এই টা কিন্তু ঠিক না..এর কারণ ভিন্ন..সে টা তুমিও জানো..আমিও জানি..তাই না?

      বাবা বোতল, মাইনড খাই না রে..মন সেই ১০ বছর আগে জাহিদ নামক এক ব্যক্তিকে দিয়ে দিয়েছি..তিনি রেখে দিয়েছেন আজীবনের জন্য..তবে এমনি এমনি দেই নাই অবশ্য.. :cool: :cool: বিনিময়ে তার মন টি নিয়ে নিয়েছি..কাজেই নো টেনশন.. :D :D :D ..

      ভাল থেকো..শুভকামনা।

      ২৪.১
  20. বোতল বাবা বলেছেনঃ

    আপু, জীবন বাঁচানোর কথাটি থেকে পরের কথাটি আরছে । পুরুষের (বাবা) তো জীবন বাঁচানোর প্রশ্ন আরছে না । অপরাধের ভার কার উপর আমি কিন্তু বলি নি ।

    অপরাধের ভার দুইজনের উপরেই ও ইসলামে দুইজনেরই সমান স্বাস্তি , আমরা সবাই জানি ।

    আর পুরুষের কথা শুরু করলে তো আর একটা পোস্ট লিখতে হবে । জাহেলী যুগে কন্যা সন্তান হত্যা থেকে এখন কার ইন্ডিয়া তে ফিরে আসতে হবে । ডা: জাকের নায়েক এর তথ্য অনুসারে , তামিল নাডু সরকারী হাসপাতালে ১০ টি কন্যা সন্তান এর মধ্যে ৪টি কে হত্যা করা হয় (লিংক)।

    ভালো থেকো আপু :-

    ২৫
  21. বোতল বাবা বলেছেনঃ

    আপু; জীবন বাঁচানোর প্রশ্নে, আমি যা বুঝাতে চাইছি তা আবার একটু বলি তোমাকে । সম্পর্ক বৈধ-অবৈধ যাই হোক ৪ টি ঘটনা হতে পারে :
    ভ্রূণ বাঁচবে, মা বাঁচবে (১)
    ভ্রূণ মরবে, মা বাঁচবে (২)
    ভ্রূণ বাঁচবে, মা মরবে (৩)
    ভ্রূণ মরবে, মা মরবে (৪)
    (১) এর জন্য ভ্রূণ মারা যাবে না । ২ ও ৩ এর জন্য অবশ্যই মা ‘র স্বাধীনতা । (২) সেলফিশ। (৩) সেক্রিফাইস। (৪) এ কারো হাত নাই।

    আপু, তুমি কি মনে কর ?

    ২৬
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      ভাইয়া তোমার সাথে আমি সহমত। জানো, বাচ্চাদের কষ্ট আমি একদম সহ্য করতে পারি না..কোনও বাচ্চার অসহনীয় কষ্ট দেখলে আমার মনে হয় কেন ওর জন্ম হল? এখানে বাবা-মা দুজনই এডিক্টেড এমন কাপল এর বাচ্চা দেখেছি..কী যে কষ্ট হয়েছে দেখে..মনে হয়েছে ওর জন্ম না হলেই ভাল হতো..এভাবে ধুকে ধুকে অন্তত প্রতিদিন মরতে হতো না!!!

      ভাল থেকো..সচেতন থেকো..উন্নত পদ্ধতি ব্যবহারে মনোযোগী হয়েও.. :D :D .. ;) ;) ..শুভকামনা।

      ২৬.১
  22. এস দেওয়ান বলেছেনঃ

    নারীদেরকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে পারলেই আমাদের সমাজ অনেকটা দুর্নীতি মুক্ত হতে পারবে । আমি মনে করি সংসদের ৫০% সিট নারীদের জন্য বরাদ্দ থাকা দরকার । আর পুলিশিএর ১০০ ভাগ কর্মকর্তার পদে নারীদের নিয়োগ দেওয়ার দরকার । এতে করে নারীরা অনেক বেশি অধিকার পাবে এবং সমাজ পুরুষদের বহুমুখি কুস্বভাবের দুর্নীতি থেকে রেহাই পাবে ।

    ২৭

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...