ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

২৬ জুন ২০০০, দশম টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয় বাংলাদেশের । ১০ নভেম্বর ২০০০, প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ।এরপর হাটি হাটি পা পা করে টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে ২০১২তে এসে এক যুগ পূরণ করে বাংলাদেশ। আমাদের সীমিত ওভারের খেলাগুলোতে কিছুটা উন্নতির ছোয়া দেখা দিলেও টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে আমাদের দৈন্যতা চোখে পড়ার মত। সম্প্রতি টেস্ট খেলার এক যুগ পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে ক্রিকেট বোর্ডের নব নির্বাচিত সভাপতিসহ প্রধান নির্বাচক ও সাবেক ক্রিকেটাররাও নিঃসঙ্কোচে সে দুর্বলতার কথা স্বীকার করে গেছেন।এই এক যুগে প্রিয় দলটি ৭৪টি টেস্ট খেলে মাত্র ৩টি ম্যাচে জয় পেয়েছে, ৭টি ম্যাচে ড্র করেছে আর ৬৪টি ম্যাচেই বিশাল ব্যবধানে হেরেছে। আমরা হারিয়েছি শুধু ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ে ও ২০০৯ সালে তথাকথিত ভাঙাচোরা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।

কিন্তু প্রশ্ন হল এক যুগেও আমাদের টেস্ট ইতিহাসের এই দৈন্যদশার কারণ কী? কেন টেস্ট খেলায় উল্লেখযোগ্য কোনও উন্নতি হয়নি? নাইমুর রহমান দুর্জয়ের মতে, “বর্তমানে বাংলাদেশে যে ফ্যাসালিটিজ আছে তা থেকে টেস্টে বহুদূর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।” এখানে ফ্যাসালিটিজ বলতে তিনি কী কী ফ্যাসিলিটিজ এর কথা বলতে চেয়েছেন তা পরিষ্কার নয়। এমন নয় যে, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পিছনে সরকার কম টাকা ঢেলেছে। বরং একটা গরীব দেশের পক্ষে ক্রিকেটের পেছনে যে খরচ করা হয় এবং সার্বিক সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়, সেটাকে অপ্রতুল বলা যাবে না কোনো বিচারেই। তবে ধারনা করে নিতে পারি যে টেস্ট ক্রিকেটের ঊনয়ন না হবার পিছনে অন্যতম কারণ হতে পারে দীর্ঘদিন পর দীর্ঘ পরিসরে ক্রিকেট খেলার অভাব এবং কম টেস্ট খেলা।

এছাড়াও আমাদের সার্বিক ক্রিকেটের ঊনয়নের পশ্চাতে বাঁধা হিসেবে অন্যতম যে সমস্যাটি চিহ্নিত করা হয়, সেটা হল অযাচিত সরকারী হস্তক্ষেপ। অতীতেও আমাদের কোচেরা এ ব্যাপারে অভিযোগ করেছেন। সম্প্রতি সাবেক ক্রিকেট কোচ রিচার্ড পাইবাস তার দায়িত্ব ছেড়ে দেয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে অযাচিত সরকারী হস্তক্ষেপ এবং বোর্ডে রাজনৈতিক চাপ এর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।পাইবাস বলেন যে, “আমার কাজে এমন সব লোকজন বাধা দিয়েছে, যারা ক্রিকেট সম্পর্কে কিছুই জানে না। ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির আচরণ দেখলে মনে হয় জাতীয় দলের কোচের চেয়ে ক্রিকেটটা তারাই বেশি বোঝেন।”

বুঝলাম আমাদের ক্রিকেট কাঠামো পরিবর্তন দরকার, বুঝলাম আমাদের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমাতে হবে, বুঝলাম আমাদের আর্থিক বরাদ্দ বাড়াতে হবে, বিসিবিতে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত আছেন তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। সবই বুঝলাম। কিন্তু খেলার মাঠে আমরা কী দেখতে পাই? পটাপট উইকেট এর পতন। এটা তো আর সরকারী হস্তক্ষেপে হয় না কিংবা টাকার অভাবে। এক জন আউট হলেই বাকিরাও কেবল যাওয়া আসার মিছিলে সামিল হন। বলা হয় তাদের মানসিক সামর্থের অভাব। কিন্তু আর কতকাল ক্রিকেটপ্রেমীরা আমাদের ক্রিকেটারদের মানসিক শক্তির এই দৈন্যদশা করুন মুখে চেয়ে চেয়ে দেখবে?

আর সমস্যা নেই কোন ক্রিকেটিয় বোর্ডে? সব দেশেই কম বেশি ঝামেলা থাকে ম্যানেজমেন্ট কিংবা খেলোয়াড়দের মধ্যে। তারপরও তো তারা এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা কেন পারছি না? দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে একি কাহিনী..হেরে গেলেই বলে সম্মানজনক পরাজয়, পরাজয়ের মধ্যেও ভাল কিছু খুজে পাওয়ার মানসিকতা যেন এক পা এগিয়ে দুই পা পেছনে হাঁটারই নামান্তর।

আজ ২১ নভেম্বর ২০১২, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের সাথে আবারও মুখোমুখি। ক্রিকেটপ্রেমী কোটি কোটি বাংলাদেশী আবারও আশায় চেয়ে থাকবে হালকা পাতলা গড়নের চিরচেনা ১১টি মুখের দিকে তাকিয়ে। পারবে কি অভিজ্ঞ ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে ভাল খেলে জয় জিনিয়ে আনতে? কিংবা নিদেনপক্ষে ড্র করতে? আর কতদিন আমরা শুধু সান্ত্বনার বাণী শুনে আসব যে, হার থেকেও আমাদের প্রাপ্তি অনেক। সময় এসেছে আমাদের নিজেদেরকে জয়ী ভাবার। আমাদের মানসিকতার পরিবর্তনের। হারার আগেই হেরে যাবার মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। আমরা আমাদের ব্যাটিং এর উপর কেন ভরসা করতে পারি না? আমরা জনগণ তো ক্রিকেটারদের পাশেই থাকি সব সময়। ওদের মাথায় তুলে রেখেছি আমরা। অফুরন্ত ভালোবাসা আর শ্রদ্ধায় ভরিয়ে দিয়েছি ওদের। বিনিময়ে আমরা আর সম্মানজনক পরাজয় নামক এই শব্দটি আর শুনতে চাই না। আমরা চাই জয়, শুধুই জয়।


৩১ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. মাহি জামান বলেছেনঃ

    ধন্যবাদ জিনিয়া ক্রিকেট নিয়ে চমৎকার এই লেখাটির জন্য। সত্যিই বলেছেন আপনি, দীর্ঘ এক যুগে আমরা প্রত্যাশিত পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারিনি আমাদের ক্রিকেট বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটকে। ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর অভিষেকের সেই দিন স্টেডিয়ামে বসে টেস্ট ক্রিকেটের যেই স্বপ্নময় যাত্রা দেখেছিলাম তখন ভাবিনি একযুগ পর এখানেই পড়ে থাকবে বাংলাদেশের ক্রিকেট। এজন্য আপনার মত আমিও মনে করি ১ম শ্রেণীর ক্রিকেটের ঘাটতিই মূলতঃ দায়ী। সমস্ত ক্রিকেটবোদ্ধাদেরও একই মত। ক্রিকেট বোর্ডও তা জানে। অথচ ১ম শ্রেণীর ক্রিকেটের কোন উন্নতি হয় না। কবে যে বাংলাদেশে নিয়মিত পূর্ণাঙ্গ পরিসরে ১ম শ্রেণীর ক্রিকেট চালু হবে কে জানে!

    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      মাহি ভাই, আমি হলাম খেলাধুলা পাগল পাবলিক। মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাব আর এসেণ্ডন ফুটবল ক্লাবের মেম্বার। MCG তে প্রায়ই খেলা দেখতে যাই। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ান ওপেন টেনিসে ফেদেরার খেলা দেখার ও সৌভাগ্য হয়েছিল। কিন্তু নিজের দেশের ক্রিকেট সারাদিন সব কাজ ফেলে দেখার পর যখন হারতে দেখি তখন এত খারাপ লাগে!!!সারাটা দিন কিছু করার আর রুচি পাই না..কিন্তু কেন যেন মনে হয় এবার আমরা জিতবই। দুআ করবেন।

      শুভকামনা আমাদের প্রাণপ্রিয় ক্রিকেট দলের জন্য।

      ২.১
  2. আসাদুজজেমান বলেছেনঃ

    ধন্যবাদ@জিনিয়া,
    লেখাটি সুন্দর এবং প্রাসংগিক। বিশেষ করে যখন বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস প্রাপ্তির যুগ পুর্তি এবং টেস্ট সিরিজ চলছে….ভালো হয়েছে, বরাবরের মতোই……..তবে???
    আমরা চাই জয়, শুধুই জয়।
    !!!!!!?????!!!!! এ কথাটির সাথে একমত হতে পারলাম না! আমাদের মনোভাব হিসাবে কথাটি ঠিক আছে কিন্তু আকাংখা হিসাবে এ কথাটিকে ব্যাখা করা ঠিক নয়!!!
    আমাদের বুঝতে হবে, পরাজয়টা খেলার অংশ। পরাজয় বিষয় নয় তবে সেটা খেলা সুলভ উৎকর্ষতায় পৌছাতে হবে…আর জয়, কোনো কথা হবে না….সেটা সব সময়ই আনন্দের……….তবে এ চাওয়া যেনো চাপে পরিনত না হয়।
    প্রাসংগিক ভাবেই নিজের অভিজ্ঞতা বলছি, একসময় খুব ক্রিকেট, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন, দাবা খেলতাম! খুব ভালো নয়, মোটামুটি…।
    এখন এসব খেলা হয়ে ওঠে না, তবে মাঝে মাঝেই কার্ড খেলি…নিজের খেলোয়ারী অভিজ্ঞতা থেকে আমি শিখেছি- জয়ের জন্য নয় বরং শেখার জন্য খেলতে। জয়ের জন্য খেললে চাপ সৃষ্টি হয়, আর শেখার জন্য খেললে মান বারার পাশাপাশি জয় এমনিতেই ধরা দেয়..।

    ***ব্লগে মন্তব্য দেখে আমি বিষ্মিত এবং অভিভুত হয়েছি…..তার থেকেও বেশী অভিভুত হয়েছি ব্যানারে কপোত-কপোতীর ছবি দেখে…দুজনের জন্য রইলো বাকবাকুম শুভেচ্ছা…. :D :D

    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      জেমান, তোমাকে ধন্যবাদ। আসলে লাস্ট ম্যাচে জয়ের কাছে গিয়ে এভাবে মুড় মুড় করে সব ব্যাটসম্যানদের ভেঙে পড়ার আক্ষেপ থেকে লিখেছি যে আমরা এখন শুধু জয় চাই..জানি তো পরাজয় ও খেলার ই একটি অংশ..কিন্তু আমার মনে হয় আমরা জিততে পারি অনায়াসে এই মনোভাব খেলোয়াড়দের মাঝে জাগিয়ে তোলা দরকার।

      ***তুমি কবিতা ভীষণ ভাল লেখ..চালিয়ে যাও..আমার ভাল লেগেছে..শুভকামনা।

      ***আমার প্রিয় জুলফিকার জুবায়ের ভাইয়ের জন্য আপাতত প্রোফাইল বদলাতে পারছিনা..তাই ব্যানারটাকেই বদলে দিলাম.. :D :D ..এটাও বদলে দেব আজ বা কাল.. :D :D ..পাশে বসে থাকা জাহিদকে বাকবাকুম শুভেচ্ছা জানলাম। তোমাকেও শুভেচ্ছা জানিয়েছে..আর বলেছে বিয়ে করা খারাপ না.. :D :D..

      ৫.১
  3. মোঃ গালিব মেহেদী খান বলেছেনঃ

    জিনিয়া, আপনাকে স্বান্তনা জানাতেই আবুল হাসান এর আজকের সেঞ্চুরী। এভাবেই একদিন আমরাও…………………………………। অনেক ভাল থাকবেন।

    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      গালিব ভাই, আপনার এত সুন্দর মন্তব্য সত্যি আমাকে ভীষণ আপ্লুত করেছে..যে কারণেই আবুল হাসান রাজু সেঞ্চুরি করুক..ও যে আমাদের মান বাচিয়েছে এর জন্য ওকে স্যালুট..আর ও নিজেও তো রেকর্ড গড়ল..আজ সকাল থেকে অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়াগুলো আবুলকে নিয়ে রিপোর্ট করছে..কারণ ১১০ বছর আগের যে অজি এই রেকর্ড করেছিলেন তিনি তো মূলত ব্যাটসম্যান ছিলেন..আমাদের আবুলের মত তো বোলার ছিল না..রিপোর্ট দেখে এত ভাল লাগছে..ভীষণ ভাল লাগছে.. :D :D

      প্রিয় টিমের জন্য শুভকামনা।

      ৬.১
  4. মোঃ গালিব মেহেদী খান বলেছেনঃ

    লেখাটি ব্লগার হাসুর, প্রথম আলো ব্লগ থেকে নেয়া।

    ছেলে ডাক্তার হবে। কিংবা ইঞ্জিনিয়ার। অর্থ-যশ-খ্যাতিতে হবে কীর্তিমান। সন্তানকে ঘিরে মধ্যবিত্ত পরিবারের এক বাবার স্বপ্ন তো এ রকমই। সে হিসাবে আবদুল খালেককে মানতে হবে সাক্ষাৎ ব্যতিক্রম। মৌলভিবাজারের প্রত্যন্ত গাজীপুর টি-এস্টেটের এই হেড ক্লার্কের স্বপ্নপ্রবাহ ছুটছিল ভিন্ন পথে। তিন সন্তানের মধ্যে ছোট ছেলেটিকে তিনি ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার বানাতে চাননি। বরং বুনে দিয়েছিলেন ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নবীজ।
    আবদুল খালেক ইহলোক ছেড়ে অচেনা ভুবনে পাড়ি জমিয়েছেন বছর তিনেক। তবে তাঁর স্বপ্নের ক্যারাভান ছুটছে ঠিকই। ছুটিয়ে চলেছেন আবুল হাসান। যে করেই হোক, বাবার স্বপ্ন যে পূরণ করতেই হবে। অচেনা ভুবন থেকে বাবার হাসিমাখা মুখখানি দেখার প্রতীক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন আবুল হোসেন। নিরন্তর।
    আগে ক্যারিয়ার গ্রাফটায় চোখ বোলানো যাক। যার বাঁকে বাঁকে নানা রোমাঞ্চ। পুরোদস্তুর ব্যাটসম্যান থেকে ফাস্ট বোলার হয়ে ওঠার গল্প। শৈশবে চা বাগানের ফাঁকে ফাঁকা মাঠে শুরু আবুল হোসেনের ক্রিকেট-পাঠ। তবে তাঁর পেসার পরিচয়টা তখনো সুপ্ত। পাড়ার ক্রিকেটে বরং উদ্ভাসিত মারকুটে ব্যাটসম্যানের রুদ্ররূপ। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ দলে সুযোগ পেয়েছিলেন মূলত ব্যাটসম্যান হিসেবে। বাড়তি যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হতো তাঁর অফস্পিন। বিকেএসপির এক ক্যাম্পে একদিন কী বুঝে পেস বোলার হিসেবে হাত ঘোরালেন। তাতেই ঘুরে গেল ক্যারিয়ারের গতিপথ। কোচ মিনহাজুল আবেদীন পিঠ চাপড়ে বললেন, ‘রাজু, তুমি পেস বোলার হওয়ার চেষ্টা করো। ওটাই তোমার জায়গা।’ ভাগ্যিস, কোচের কথা শুনেছিলেন! তাই তো বছর কয়েকের ব্যবধানে বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের ভবিষ্যৎ হিসেবে বিবেচিত হয় আবুল হাসানের নাম।
    এই মুহূর্তে তাকে পেসার বলাটা ঠিক হচ্ছে না। কারণ খুলনায় আজ বুধবার টেস্ট ম্যাচের যে সব রেকর্ড গড়েছেন আবুল, তার সবই ব্যাটসম্যান হিসেবে।

    ☼► আবুল হাসান, যার আজকে টেস্ট খেলায় অভিষেক হয়েছে, তিনি ১৩০ বছরের টেস্ট ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় যিনি অভিষেক টেস্ট ম্যাচেই ১০ নাম্বারে নেমে শতক হাঁকিয়েছে!! আগের রেকর্ডটি ছিলো অস্ট্রেলিয়ার রেজি ডাফের।। তবে পার্থক্য হলো রেজি ডাফ একজন জেনুইন ব্যাটসম্যান, আর আবুল হাসান পরিচিত বোলার হিসেবে।।

    ☼► টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে মাত্র ৪জন খেলোয়াড় ১০ নাম্বারে নেমে শতক হাঁকিয়েছেন।। আবুল হাসান তার মধ্যে একজন!! শেষবার এই কীর্তি দেখিয়েছিলেন পাট সিমকক্স (দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিন বোলার)।।

    ☼► ১০ নাম্বারে এটি বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের করা সর্বোচ্চ রান।। আগেরটি ছিলো তাপশ বৈশ্যের করা ৬৬!!

    ☼► আবুল হাসান তৃতীয় বাংলাদেশী হিসেবে অভিষেক খেলায় শতক হাঁকানোর কৃতিত্ব দেখালেন।। এর আগের দুজন হলেন, আমিনুল ইসলাম বুলবুল, এবং মোহাম্মদ আশরাফুল।।

    ☼► টেস্ট ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা দশম উইকেটের জুটির মধ্যে আজকে মাহমুদুল্লাহ উল্লাহ এবং আবুল হাসানের করা ১৭২ রানের জুটিটি ৪র্থ স্থানে রয়েছে।।
    অভিষেক টেস্টে খেলতে নেমে শতক করায় আবুল হাসান রাজুকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    ইতিহাস গড়ার মুহূর্তে তার সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছিল প্রয়াত বাবাকে। প্রথম টেস্ট শতক তাকেই উৎসর্গ করলেন অভিষিক্ত পেসার আবুল হাসান।

    গোটা ক্রিকেট-বিশ্বই আজ চমকে গেছে এই তরুণের ব্যাটিংয়ে

    খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের টেস্ট অভিষেকটা প্রথম দিন শেষেই স্মরণীয়। সপ্তম টেস্ট ভেন্যুর মর্যাদাটা দিনশেষে অন্যমাত্রায় নিয়ে গেলেন আবুল হাসান।

    তাঁকে অভিনন্দন না জানালেই নয় !

    সালাম বাংলাদেশ সালাম

  5. আসাদুজজেমান বলেছেনঃ

    ধন্যবাদ@জিনিয়া এবং জাহিদ,
    কোনো এক কালেই এক লেজ কাটা শেয়াল সবাইকে বলেছিলো, লেজ কাটা খারাপ না!!! এতে নাকি আরো সুন্দর লাগে..হা…হা…হ্যাভ ফান

    @জাহিদ সাহেবের এ অভিজ্ঞতা, আমিও সমর্থন করি। বিয়ে অবশ্যই সামাজিক, পারিবারিক এবং হৃদয় কেন্দ্রিক অসাধারন এক সংযোগ….।
    আমি বিয়ে না করার স্বিদ্ধান্তে আসতে পারি কিন্তু এর বিপক্ষে কোনো কোনো কথা বলতে পারবো না বরং আমাকে পক্ষেই বলতে হবে….।

    কথাটি হয়তো দ্বিমুখি হয়ে গেলো…..কিন্তু এমন দ্বিমোহনা থেকেই আমাদের একটি পথ বেছে নিতে হয় যোগ্যতমের টিকে থাকার অংশ হিসাবে…..এটা চিন্তার এক প্রকার বিবর্তন….।
    বিয়েও এক প্রকার বিবর্তনের অংশ!!! শত শত বছর ধরে শৃংখল সমাজ ব্যাবস্থায় যোগ্যতম উত্তরাধিকার তৈরি করছে, যা মানব সমাজকে টিকিয়ে রেখেছে…..।

    আরে ধুর…..এসব কি লিখছি…..রিসার্চ করা জিনিয়া’র কাজ জেমানের না….হা…হা…

    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      দাড়াও দেশে আসি আগে..তারপর সবার আগে লেজ কাটার ব্যবস্থা করব..জাহিদ সাহেব মাত্রই আমাকে জানালেন যে, আপনার মত তিনিও নাকি বিয়ের আগে বুদ্ধিমতি সঙ্গিনীর খোঁজে ছিলেন এবং তার নাকি কপাল ভাল যে তিনি পেয়েছেন. :D :D :D

      আর বল না রিসার্চ করে করে পাগল হয়ে গেলাম..আর আমার চাকরিটাও এমন যে সারাজীবন বইয়ের মাঝেই ডুবে থাকা ..তারপর ও যে চশমা নাই চোখে এতেই আমি খুশি….

      ৮.১
  6. হাসান মসফিক বলেছেনঃ

    এই সিরিজের আগের টেস্ট’টা হাত ফস্কে বেরিয়ে গেল।
    তবে, পুরো টিম- খেলাটায় আমাদের মন অনেকটা ভরিয়ে দিয়েছে।
    সার্বিক জয় হয়তো খুব কাছেই।
    ভালো লিখেছেন। অনেক শুভেচ্ছা ।

  7. জুলফিকার জুবায়ের

    জুলফিকার জুবায়ের বলেছেনঃ

    প্রিয় জিনিয়া আপু
    একটা বৃক্ষের শুধু ফুলটাকে পরিচর্যা করবেন, সুন্দর রাখবেন তাতো হবে না। পুরো বৃক্ষটাকে সুস্থ-সবল রাখলে তবেই সুবাস ছড়ানো গোলাপটা আশা করতে পারেন। ক্রিকেট দেখে যেটা বুঝেছি, রাজাদের নীতি প্রজাদের কোন কাজে আসে না। এ বিষয়টা নিশ্চিত হয়েছি যখন দেখলাম আকরাম খান অবলীলায় গুরুত্বপূর্ণ পদটা ছেড়ে চলে যেতে চাইলেন।
    খুব বেশি ভালো পোষ্টটির জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

    সম্মানিত সহব্লগারবৃন্দ
    শরৎচন্দ্র ক্যাটাগরির উপন্যাসে না-কি আছে ভালোবাসলে কাঁদতে হয়। এ কথা যে সত্য তা জানতে এখন আর শরৎচন্দ্র পড়তে হয় না। লাল-সবুজের ক্রিকেট দলকে ভালোবেসে বিজয়ের আশা করলে খুব ভালো ভাবে বুঝা যায় ভালোবাসা কষ্ট দেয়, হৃদয়কে ভাঙে।

    শ্রদ্ধেয় মুশফিক ভাই
    হ্যাঁ, আমরা সবাই চাই শুধু জয়; ঘৃণা করে জয় অথবা ভালোবেসে জয়।

    ১০
  8. জুলফিকার জুবায়ের

    জুলফিকার জুবায়ের বলেছেনঃ

    পৃথিবীতে ব্যর্থ প্রেমিক নাই, তাই অনুমান করি ব্যর্থ প্রেমিকাও নাই। জিনিয়া আপু চোখের জল ফেলতে থাকুন। আমরাও ফেলছি। সবগুলো জল মিলে যখন সাগর হবে তখন নতুনের ঢেউ উঠবে।

    ১১
  9. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    ধন্যবাদ ক্রিকেট নিয়ে চমৎকার একটি পোস্টের জন্য। বাংলাদেশের ক্রিকেটের সমস্যা আছে বলেই একযুগেও বাংলাদেশের ক্রিকেট সত্যিকার কিছু অর্জন বা ধারাবাহিক অর্জন করেনি। এই সমস্যাকে আবেগের চাইতে ক্রিকেট মস্তিষ্ক দিয়ে বিচার করে সমস্যাগুলোর তালিকা করা যেতে পারে:
    * ক্রিকেট বোর্ডে সরাসরি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে সরকার বদল হলেই ক্রিকেটের নেতৃত্ব বদল। এটি এক ধরনের রাজনৈতিক বখশিশ। এই বখশিশপ্রাপ্তরা ক্রিকেটের কিছু জানুক আর নাইই জানুক কুরসি পেয়ে যায়। ফলে বাংলাদেশের ক্রিকেট নেতৃত্বে “থিঙ্কট্যাঙ্ক” গড়ে উঠছেনা।
    * পুর্বের কথার সুত্র ধরে বলা যায়, যেহেতু কর্তাভজা ব্যক্তিরা জাতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রন করে, এরা হয় অথর্ব অথবা ব্যক্তিগত লাভার্জনের জন্য লালায়িত। এরা ক্রিকেট সংগঠক হওয়ার যোগ্যতা রাখেনা। অনেকের স্মরণে থাকতে পারে, কে জেড ইসলাম এককভাবে নির্মান স্কুল ক্রিকেট টুর্ণামেন্টের সফল আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয় দলকে অনেক খেলোয়াড় সরবরাহ করেছেন।
    * বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেটে জাতীয় লীগ টুর্ণামেন্ট নামে একটি ঠাট্টা প্রচলিত আছে। ধুলিধুসরিত ঘাসহীন মাঠ, মরা উইকেট যা আন্তর্জাতিক মানের পিচের ধারে কাছেও নয়। সেখানে খেলে জাতীয় দলে নির্বাচিত হতে হয়। আমার গভীর বেদনা জাগে যখন একটি মানহীন মাঠে ক্রিকেট খেলিয়ে অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিশীল প্রায় বালক খেলোয়াড়দের ঠেলে দেয়া হয় আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের সামনে। অবধারিত পরাজয় মেনে নিয়ে সে ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার ও আত্মবিশ্বাস শেষ হয়, জাতির মুখ কালিমালিপ্ত হয় আর ভারতের মতো একটি দ্বিতীয় শ্রেণীর দলের মিডিয়া বাংলাদেশের “অযোগ্যতা”কে দায়ী করে। ব্যর্থ ক্রিকেটারদের ফের সেই অপর্যাপ্ত পিচ ও মাঠে খেলে জাতীয় দলে ফিরে আসতে বলা হয়।
    * ক্রিকেট এখন কাটথ্রোট, নৃশংস ও নির্মম খেলা। আমাদের সংস্কৃতিতে সে ছেলেই “ভালো” যে নম্র, অনাগ্রাসী, প্রদীপ্ত নয়। এই মানসিকতা নিয়ে হামলে পড়া হার্মাদদের সামনে “ভালো” ছেলেরা পাল্টা আক্রমনাত্মক হতে পারেনা (যদিও কিছু খেলো্যাড় মানসিকতা অনেক বদলেছে, কিন্তু এটিকে সামগ্রিকভাবে বদলানোর নিরন্তর বৈজ্ঞানিক পন্থা নিতে হবে!)।
    * শ্বেতকায় দেখলে আমাদের দেশের অনেক মানুষের এখনো “সাহেব ভীতি” দেখা দেয়। আমাদের ক্রিকেটকর্তাদের এখনো সে রোগ আছে। ধুর্ত ও পেশাদার সেইসব শ্বেতকায়েরা অতি শীঘ্র আমাদের সেই দুর্বলতা ধরে ফেলে স্বেচ্ছাচারী আচরন শুরু করে। (ডেভ হোয়াটমোর তো শেষ বছরটি শুধু গলফ খেলে আর মাছ ধরে কাটিয়ে গেলো)। তার উপর আবার এদের সাথে দীর্ঘক্ষন ইংরেজী বলা? বাবাগো!
    ক্রিকেটে সঠিক পরিকল্পনা না থাকলে ধারাবাহিক অর্জন অসম্ভব। শ্রীলঙ্কা আইসিসি’র সদস্য হয়েই প্রথমে মাঠ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটালো। নিয়ে এলো সোবার্সকে। তাঁর প্রশিক্ষনেই কিন্তু দুলীপ ম্যান্ডিস, অরবিন্দা ডি সিলভা, অর্জুনা রানাতুঙ্গাদের গড়ে উঠা। মানুষতো দেখেও শেখে। আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের কর্তাদের বই দেখে পরীক্ষা পাস করা ছাড়া আর কিছু দেখার চোখ নেই!! অথচ কি গভীর আবেগ নিয়ে বাংলাদেশের দর্শকেরা বাংলাদেশ দলের “একটু” ভালো খেলা দেখতে চায়। পরাজয়ে কী মলিন মুখ নিয়ে তাদের পরের কদিন কাটে। এই আবেগের মুল্য দেবে কে?

    ১২
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      ধন্যবাদ মেন্টর..দেরিতে হলেও আমার পোস্ট যে নজর এড়িয়ে যায়নি, এজন্য নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। হ্যা, এটা তো ওপেন সিক্রেট যে আমাদের ক্রিকেট বোর্ডে রাজনৈতিক ও অক্রিকেট সুলভ লোকের হস্তক্ষেপ আমাদের এগিয়ে যাবার পথে প্রধান অন্তরায়..সেই কবেই না শ্বেত/কৃষ্ণ-ইংরেজি জানা কোচগুলো চিত্কার করে পাড়া মাতিয়ে বলে বেড়াচ্ছে সে কথা !!কিন্তু সেই চিত্কার তো এদের কানে যাবে না কখনো..আবার এগুলোর হম্বিতম্বি সব এই বাচ্চা পোলাপানদের সাথে..কোচদের সাথে কী হাত কচলানি রে বাবা..

      পরিকল্পনা দরকার দীর্ঘ মেয়াদী..মাঠে আমাদের ট্যালেন্ট এর অভাব নেই..কিন্তু সবার আগে দরকার এই মাথামোটা পরিকল্পকদের প্রশিক্ষণ..তবেই যদি কিছু হয়!!

      তবুও আশায় বসে থাকি..যদি কিছু হয়!!এবার যদি হয়…শুভকামনা।

      ১২.১
  10. জুলফিকার জুবায়ের

    জুলফিকার জুবায়ের বলেছেনঃ

    আমরা যুদ্ধজয়ী জাতি। প্রাকৃতিক-দুর্যোগ আর বন্যা মোকাবেলায় আমরা পৃথিবী বিখ্যাত। জিনিয়া আপু, আপনার মনে বন্যাভীতি দেখে আমি মর্মাহত। (সাতার জানেন না নিশ্চয়!)

    ১৩
  11. জুলফিকার জুবায়ের

    জুলফিকার জুবায়ের বলেছেনঃ

    জিনিয়া আপু
    আপনার হাফ সেঞ্চুরীর অপেক্ষায় রইলাম ! এবার কবিতা চাই!! প্রথমে দুলাভাইকে প্রেমিকের মর্যাদা দিন!!! তার পর তাকে চেয়ারে বসতে দিন, ঠিক তার পর পরই তাকে দেখতে থাকুন এবং সব শেষে তাকে দেখে দেখে একটি শেষের কবিতা লিখে ফেলুন!!!!

    ১৪
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      জুবায়ের ভাই, আমি কবিতা লিখতে পারিনা..জীবনেও এই কর্মটি করতেও আমি যাব না..আমি আমার সীমাবদ্ধতা জানি রে ভাই। আর বিডি ব্লগ তো কবিতা ছাপে না,এটা আপনি জানেন না? :shock: :shock:

      আপনার দুলাভাইকে প্রেমিক-স্বামী-বন্ধু সব কিছুর মর্যাদা দেয়া আছে। আর দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে অলরেডি ১০ বছর পার করে দিলাম..তবুও মনে হয় এই তো সেদিন দেখা হল দুজনার..ভালোবাসা বাড়ছেই দিন দিন :D :D

      শুভকামনা।

      ১৪.১
  12. বোতল বাবা বলেছেনঃ

    একটা গিরিংগি আছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ৫০ রান করতে পারলে, পরপর ৩ টি ম্যাচ খেলতে পারবেন। তাই দেখা যায় ৫০ রানের পর উনারা গা ছেড়ে দেন। মানে, মারার বল হলে মারব, ছাড়ার বল হলে ছাড়ব। বল ব্যাটে আসলে মারব , ব্যাট বলে লাগানোর দরকার কি! তৃতীয় ম্যাচে আবার ৫০ করমু আবার গা ছেড়ে দিমু …. :mrgreen: :mrgreen: :mrgreen:

    ১৫
  13. জিনিয়া বলেছেনঃ

    আমার দৃঢ় বিশ্বাস আজকের খেলায় আমরা জিতে যাব ইনশাআল্লাহ। সবাই আমাদের ক্রিকেট টিমের জন্য দুআ করবেন।

    বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।

    ১৬

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...