ক্যাটেগরিঃ কৃষি

প্রতি বছর ধান কাটার মৌসুমে বিভিন্ন প্রিন্ট ও চলমান মিডিয়ার সংবাদ শিরোনামের মোড়কে একই খবর চোখে পড়ে যার সারমর্ম হল, “ধানের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না কৃষক”। এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। গত কয়েকদিনের বিভিন্ন সংবাদপত্র ঘেটে যা পেলাম তা হল, সাধারণ কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী মণ প্রতি ধানের উৎপাদন খরচ গড়ে ৬০০ টাকা আর পাইকারী বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৫৩০ থেকে ৫৮০ টাকা দরে। তবে এলাকাভেদে এই দর কম বা বেশি হলেও ধান বিক্রি করে আমাদের কৃষকদের মণপ্রতি কমপক্ষে ৭০ থেকে ৮০ টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে। আশংকা করা হচ্ছে যে, ধান কাটা মৌসুম শেষ হলে ধানের সরবরাহ বাড়ার সাথে সাথে ধানের দাম আরও পড়ে যাবে।

উত্পাদন খরচ বেড়ে যাওয়া ও ধানের দাম কমে যাওয়া এ সম্পর্কিত বিষয়ে সম্প্রতি রাজধানীর খামারবাড়িতে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে দ্বিতীয় জাতীয় হাওর সম্মেলনে আমাদের অর্থমন্ত্রী আবদুল মুহিত অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন যে, সরকার কৃষক পর্যায়ে ধানের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সফল হয়নি, তবে তিনি এর সাথে একথা যোগ করতে ভুলে যাননি যে কৃষি উপকরণ দিয়ে সরকার কৃষকদের সহায়তা করেছে। ঠিক আছে বুঝলাম যে সরকার উপকরন দিয়ে সহায়তা করেছে, কিন্তু পত্রপত্রিকাতে কৃষি বাজার ও কৃষকদের মাঝে ঘুরে সরেজমিন প্রতিবেদন মারফত জানা যায় যে, গত বছরের তুলনায় ধানের দাম কমেছে কিন্তু উল্টো সার, কীটনাশকসহ সব জিনিসের দাম বেড়েছে। উত্পাদন খরচ না ওঠায় এই সহায়তা আমাদের কৃষকের জন্য কতখানি সহায়ক হচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশ্নসাপেক্ষ।

প্রশ্ন করা যেতেই পারে যে, আমাদের কৃষকেরা কেন প্রতি বছর একই অবস্থার সম্মুখীন হচ্ছেন? কেন তারা ন্যায্যমূল্য বঞ্চিত হচ্ছেন? সমস্যা আসলে কোথায় এবং এর সমাধানই বা কী হতে পারে?

খুব কমন একটা অভিযোগ যা সরকার পর্যন্ত দেশের সকলেই মোটামুটি ভালোভাবে জ্ঞাত তা হল বাজারে পাইকারি ক্রেতা যাদেরকে আমরা ফড়িয়া বলে থাকি তাদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে। সরকারের বেধে দেয়া ন্যায্যদাম ফড়িয়ারা মানে না। এদের কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক কৃষক সরকারের কাছে ধান বা চাল কখনোই বিক্রি করতে পারেনা। এদের দাপটের কারণে কিংবা যোগসাজোসে সরকারী কর্মকর্তারাও কখনো সেইসব অঞ্চল থেকে ধান সংগ্রহ করার জন্য যায় না। যার ফলে, সরকারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক কম মূল্যে এই সব মধ্যস্বত্বভোগীর কাছে অনেকটা পানির দরেই ধান বিক্রি করতে কৃষক বাধ্য হয়।

এছাড়া, আমাদের অধিকাংশ কৃষক বর্গা বা প্রান্তিক চাষী। বেশির ভাগ কৃষকই দাদন/ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেন। ক্ষেতের ধান উঠলে তাদের সে ঋণ শোধ করতে তাগাদা দেয় ঋণপ্রদানকারীরা। কৃষকের ধান ঘরে উঠতে না উঠতেই পাওনাদারেরা টাকা পরিশোধ করার তাগিদ নিয়ে আসেন। দাদনদাতাদের চাপে অধিকাংশ সময় কৃষকেরা সরকারের ন্যায্য মূল্যের আশায় বসে না থেকে অনেক কম দামে ধান বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়ে থাকেন।

অন্যদিকে সরকারি খাদ্যগুদামেগুলোতে ১২ থেকে ১৫ লাখ টনের বেশি ধারণ ক্ষমতা না থাকায় সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়া পর্যন্ত সরকার ধান ক্রয় করে থাকে। অতিরিক্ত ধান বা চাল সরকারী পর্যায়ে যেহেতু আর কেনা হয় না, কাজেই অতিরিক্ত সরবরাহ কৃষক বাধ্য হয়েই কম দামে বিক্রি করে দেয় এবং লোকসানের শিকার হয়। তবে আশার কথা এই যে, ২০২১ সালের মধ্যে সরকারি খাদ্যগুদামেগুলোতে ধারণ ক্ষমতা ৩০ লাখ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।এছাড়াও খাদ্য শস্যের বাম্পার ফলনের পরেও শুধুমাত্র রক্ষণের অভাবে আমাদের প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি করতে হয়, যা আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ।****

তবে সব থেকে হতাশার কথা হল এই যে, পাইকারী বাজারে ধানের দাম কমে গেলেও খুচরা বাজারে চলের দাম বাড়ছে প্রতিনিয়ত। এর ফলে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। বাম্পার ফলনের সুফল না কৃষক না ভোক্তা কেউই পাচ্ছে না। চালের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও নিঃসন্দেহে দায়ী করা যায় মধ্যস্বত্বভোগী সেই শক্তিশালী সিন্ডিকেটকেই, যা ওপেন সিক্রেট সবার কাছে। এ কথা তো দেশের আপামর সকলেই স্বীকার করবেন যে, দেশে বাম্পার ধানের ফলন হয়েছে, শুনলে সবাই আমরা খুশি হই। স্বস্তির হাসি থাকে উত্পাদক, ভোক্তা এবং দেশের সরকার সবার মুখে। কিন্তু বাম্পার সেই ফসলের সুবিধা যখন আমরা কেউ ভোগ করতে পারিনা, তখন নিশ্চয় তা উত্পাদক-ভোক্তার কাছে অভিশাপ হয়েই দেখা দেয়।

ধানের দাম তথা খাদ্য নিরাপত্তা এতই সেনসিটিভ একটু ইস্যু যা আমাদের দেশের নির্বাচনের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলে। ধানের দাম কম হলে কৃষকের অসন্তোষ, চালের দাম বেশি হলে ভোক্তাদের অসন্তোষ। কাজেই এত নাজুক একটি বিষয় সরকারের নীতিনির্ধারকদের অবশ্যই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মোকাবেলা করা দরকার। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য আমাদের কৃষকরা যাতে ধান উৎপাদন থেকে সরে না আসে সেদিকে সর্বাগ্রে খেয়াল রাখতে হবে সরকারকে। নতুবা খাদ্যে আমদানি নির্ভর দেশ হতে খুব বেশিদিন হয়তো আমাদের অপেক্ষা করতে হবে না!!!

****(এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত পূর্ণাঙ্গ একটি পোস্টে আলোচনা করার আশা রাখি। )

তথ্য সুত্র: ইত্তেফাক:২০১২ -১১ -২৮, প্রথম আলো: ১৯- ১১-২০১২ এবং ২২- ১১- ২০১২, খাদ্য অধিদপ্তর এর ওয়েবসাইট

৩৬ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. প্রবাসী

    প্রবাসী বলেছেনঃ

    ধানের দাম কম হলে কৃষকের অসন্তোষ, চালের দাম বেশি হলে ভোক্তাদের অসন্তোষ।

    এই একটি বাক্য নিয়ে বিস্তর আলোচনা হতে পারে আর এ থেকে উত্তরণের উপায়ও বেরিয়ে আসতে পারে এই আলোচনা থেকে।

    সরকারী কোনও নিদৃষ্ট একটি ব্যাংকের টাকা যদি ডাকাতদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা না হয়ে শুধু কৃষকের মাঝে বিতরণের ব্যবস্থা করা যায় তবে উপকৃত হবে কৃষক – ভোক্তা উভয়েই।
    কিছু কমেন্টের অপেক্ষায় থাকলাম – একজন কৃষক হিসেবে বাস্তব কিছু অভিজ্ঞতা তুলে ধরবো। কেন কৃষক বাধ্য হয় কম দামে ধান বিক্রি করতে।

    ধন্যবাদ আপু, ভাল থাক।

  2. বিন্দুবিসর্গ বলেছেনঃ

    অবশেষে তার দেখা মিলল।
    আজ সকালে চ্যানেল আইতে একটা নিউজ দেখছিলাম শাইক সিরাজ এর। পরপর দুই সিজন মার খাওয়ার পর কৃষকদের মধ্যে এখন আর ধানচাষের আগ্রহ নেই। তারা নিজেদের প্রয়োজন মিটানো ছাড়া ধান চাষ করতে চাচ্ছে না। ধানের পরিবর্তে অন্য অর্থকরী ফসল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। যা আমাদের জন্য ভাল বিষয় নয়।

    অর্থনীতির রেখা আমি তেমন বুঝি না। বিষয়টি ডিয়ার ইকোনমিস্ট আলোচনা করবেন বলে আশা রাখি। কৃষক ভোট দিবে, না দিয়ে তারা কি করবে। ভোটের সময় এদের কাছে একবার যেয়ে জড়িয়ে ধরে ভোট টা চাইলেই হল ।এরা সব ভুলে যায় কারণ এরা মহান; সব সময়ের জন্যই। মহান বলেই রক্ত পানি করে লোকসানে আজও আমাদের জন্য শস্য উৎপাদন অব্যহত রেখেছে। ভবিষ্যতেও রাখবে আশা করি।

    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      বিসর্গ, আমি তো এখানেই ছিলাম সরবে..দেখনি??..কোথাও যাইনি তো!! নাকি ডিয়ার ইকনমিষ্ট হিসেবে দেখার আকাঙক্ষা ছিল তোমার?

      আমার প্রিয় শাইখ সিরাজের অনুষ্ঠান দেখার সৌভাগ্য আমার হয়নি..তবে ক দিন ধরেই ভাবছিলাম ধানের দাম নিয়ে কিছুটা হলেও আলোকপাত করব। আর এটা এমন ভাষ্ট একটা বিষয় যে অল্প কথায় শেষ করা যায় না..পোস্টের কলেবর যাতে না বাড়ে, তাই অনেক কিছু লিখতে গিয়েও লেখা হয়ে ওঠেনি।

      আমার লেখার শেষ লাইন সেই ইঙ্গিতই দিয়েছে..কৃষক দাম না পেলে অন্য পেশা বা অন্য ফসলে ঝুকবে..আর সে ক্ষেত্রে খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে খাদ্য আমদানি করা ছাড়া গত্যন্তর থাকবে না..তাই সাবধান হবার এখন ই সময়।

      শুভকামনা।

      ২.১
  3. হাসান মসফিক বলেছেনঃ

    দেশ আসলে ফড়িয়াদের দখলে! এখন তাদের কাছ থেকে মানুষের ভালো থাকাও কিনে নিতে হবে! কোন উপায় নেই।
    তবু, কৃষক বাঁচাতে হবে। অবাক হয়ে ভাবি, দেশে এতো মানুষ বাড়ছে; তবু খাদ্যর অভাব অত নয়! তাইলে এই খাবারের যোগান তো আর কোন গায়েবি ক্ষমতা থেকে হচ্ছে না! কৃষকই তো ফলাচ্ছে … ।
    বাকিটা হয়তো আমদানি হচ্ছে ..
    সাধুবাদ আপনাকে, দেশ থেকে দূরে থেকেও আন্তরিকার সাথে আমাদের দেশের কৃষক এবং তাঁদের নৈমিত্তিক বেদনা নিয়ে ভাবতে পেরেছেন। ব্লগিয় সময়ের অর্ধ শতক লেখায় শুভ কামনা!

  4. বোতল বাবা বলেছেনঃ

    ‘ধানের দাম কম’, ‘শেয়ার মার্কেটের পতন’ ইত্যাদি সরকারের জন্য খুবই ক্রিটিকাল। তারপর ও এইগুলোর মাঝে বাবাদের বিশেষ কেরামতি লুকিয়ে আছে । বাবাদের যে কত কলা লাগবে ! জনগনে ঠেইশা না ধরা পর্যন্ত এরা হাউ মাউ করবে না ;)
    - বাবুই

  5. সুকান্ত কুমার সাহা বলেছেনঃ

    জিনিয়া, আপনাকে ধন্যবাদ!
    “কৃষি” – এটা আমার প্রিয় বিষয়।

    ধানের দাম কম হলে কৃষকের অসন্তোষ, চালের দাম বেশি হলে ভোক্তাদের অসন্তোষ।

    এই বিতর্কের শেষ নেই, এটা “মুরগী আগে না ডিম আগে” এর মত বিষয়!

    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      দাদা, কৃষি আমার ও ভীষণ প্রিয়..আমি কখনোই গ্রামে থাকিনি..দাদাবাড়ি-নানাবাড়ি সব রংপুর শহরের প্রাণ কেন্দ্রে..আমার বাবার জন্মেরও অনেক আগে সেই কবে তিস্তা নদী ভেঙে যাওয়ার পর সবাই শহরে বাস শুরু করেছে!!কিন্তু মাটির টান অনুভব করি সবসময়। আর আমার থিসিস আসলে ফুডগ্রেইন পলিসির উপরে..কাজেই বাংলাদেশের কৃষকদের সাথে আমি থাকি সবসময়।

      তবে উত্পাদক ও ভোক্তার এই অসন্তোষ কমানোর কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে সমাধান আছে..আমাদের পার্শ্ববর্তি দেশ ভারত এক্ষেত্রে অনুকরণীয় হতে পারে। কিন্তু দরকার সুশাসকের সদিচ্ছা..

      পি এইচ ডি শেষ করে FAO এর কণসালটেণ্ট হিসেবে কিছুদিন একটা প্রজেক্ট এ কাজ করার কথা আছে..দেখা যাক..তখন ভিতরের খবর আর ও কাছ থেকে জানতে পারব আশা করি।

      শুভকামনা।

      ৭.১
  6. মাহি জামান বলেছেনঃ

    ধন্যবাদ জিনিয়া প্রসঙ্গটি উত্থাপনের জন্য এবং আমার অন্তর্জালা প্রকাশের সুযোগ করে দেয়ার জন্য।
    গ্রামে আমার কিছু আবাদযোগ্য জমি আছে। বর্গা চাষীরা সেই জমিগুলো চাষ করে। গত সোমবার গ্রামে গিয়ে আমার অংশের ধানগুলো বিক্রী করে এসেছি। কত টাকা দামে জানেন? আপনি বলছেন ৫৩০ থেকে ৫৮০ টাকায়। অথচ আমি বিক্রি করলাম প্রতি মন মাত্র ৩৫০ টাকায়। চাষে যেহেতু আমি বিনিয়োগ করিনি সেহেতু আমার লাভ-লোকসানের প্রশ্ন নেই। কিন্তু চাষীর অবস্থা চিন্তা করে দেখেন একবার। উৎপাদন খরচের তুলনায় এই দাম শুধু অযৌক্তিকই নয়, কৃষকের জন্য মরণ ফাঁদ। বোরো-আমন দু’মৌসুমেই মার খেয়ে চাষী বলছে সে আর চাষ করবেনা। এবার তাই ধান বাদ দিয়ে ভিন্ন ফসল চাষের পরামর্শ দিলাম চাষীকে। চাষের কিছু খরবও দিব বলে ঠিক করেছি।
    অর্থমন্ত্রী “উপকরণ দিয়ে সহায়তা’’র কথা বলেছেন তো, তার একটা উদাহরণ শোনেন। তিন একর জমিতে সরিষা চাষের জন্য আজ শহরের ভাল বীজ দোকান থেকে বারি-৯ জাতের সরিষা বীজ কিনলাম। সকালে এই বীজগুলো কেনার জন্য প্রথমে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) আরবান সেলস সেন্টারে গেলাম। ওরা বলল বীজ নেই। জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলাম কোথায় বীজ পাওয়া যাবে। নির্দিষ্ট ঠিকানায় গিয়ে বীজ পাওয়া গেল। তবে সেই বীজ বিএডিসি’রই বীজ। পার্থক্য হল বিএডিসির দাম হল কেজি প্রতি ৭৮ টাকা আর আমি কিনলাম ৯০ টাকা দরে। বুঝতে পেরেছেন কিছু?

    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      মাহি ভাই, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আপনার বাস্তব অভিজ্ঞতা সবার সাথে শেয়ার করার জন্য..সবাই আসলে রাজনীতি আর ধর্মনীতি নিয়ে এত ব্যস্ত যে, আমাদের দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ এই অবস্থাটি সকলের অগোচরে থেকে যাচ্ছে..তাই আর চুপচাপ বসে থাকতে পারলাম না।

      আমি জানি এলাকা ভেদে ধানের দামের তারতম্য আছে.। কিন্তু দাম যাই হোক, মূল মেসেজ কিন্তু সব ক্ষেত্রেই এক, সেটা হল উত্পাদন খরচ উঠে আসছে না। আর কৃষক ধান বাদ দিয়ে অন্য লাভজনক ফসলে ঝুকে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে..যেটা আসলেই আমাদের জন্য এলার্মিং..সরকার যদি এখনি এ ব্যপারে সঠিক পদক্ষেপ না নেয়, তবে নেপালের মত অবস্থা হতে বেশিদিন লাগবে না..বলা বাহুল্য যে, ৮০র দশক পর্যন্ত নেপাল ছিল ফুড সারপ্লাস দেশ..কিন্তু এই কয়েক দশকে এখন ভারতের চালের উপর নির্ভরকারী একটা দেশে পরিণত হয়েছে।

      আর সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কথা কী আর বলব..আমার বড় ভাইয়ের বৌয়ের বান্ধবী ছিলেন বিএডিসির এক কর্মকর্তার বউ..তিনি আমাদের বাসায় ঘনঘন আসতেন শুধু নতুন নতুন গয়না আর শাড়ি দেখাতে..তখন স্কুলে পড়তাম এত বুঝি নাই..কিন্তু এখন বুঝি তেনারা কত বেতন পান, আর ফুটানি করার বাকি টাকা কই থেকে আসে!!

      শুভকামনা।

      ৮.১
  7. মোত্তালিব দরবারী বলেছেনঃ

    অত্যান্ত সুন্দর বলেছেন।
    আমাদের বড় সমস্যা হলো-যাদের সমস্যা ঐ বিষয়ে তাদের কথা বলার কোন অধিকার নেই অথবা ঐ বিষয়ে তাদের কথা কেউ শুনে না।

  8. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    বেশ কয়েকমাস আগে কোন একজন শ্রদ্ধেয় ব্লগার এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সুত্রপাত করেছিলেন। আমি খুব লজ্জিত যে সেই ব্লগ ও ব্লগারের নামটি মনে করতে পারছিনা, এজন্য ক্ষমাপ্রার্থী। আসলে খাদ্যনিরাপত্তা, লুটেরাদের রাষ্ট্রীয় তোষন এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য দেয়ার প্রক্রিয়াটি এক সুত্রে গাথা।
    জিনিয়ার উচিৎ এবিষয়ে একাডেমিক পোস্ট দেয়া। এরপরে লবন দেয়ার জন্যতো আমরা আছিই।
    বাংলাদেশে খুব শিগগিরী খাদ্যাভাব দেখা দেবে। কৃষিবিদমন্ত্রী আলাভোলা রাজ্জাক ভাই তা বলেও ফেলেছেন। তাই বিষয়টি গুরুত্বের দাবী রাখে।

    ১১
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      কী জানি আমার ও চোখ এড়িয়ে গেছে সেই পোস্টটি..মেন্টর আমি তো ভেবেছিলাম এরপর খুব হালকা কোনও টপিক নিয়ে লিখব..এই যেমন টপ মডেল বা নারী সৌন্দর্য কিংবা প্রেম ট্রেম এই জাতীয় কিছু :D :D :D ..কিন্তু মেন্টরের তো দেখি অন্য ইচ্ছা..এই ভারী টপিক পাবলিকরে গুলে খাওয়ালেও খায় না..কিন্তু লিখে যাই শুধু নিজের দায়বদ্ধতার জন্য।

      পর্যাপ্ত ধান উত্পাদনের পরেও ভারতের উপর আমদানি নির্ভরতা এবং ভবিষ্যত খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে কিভাবে এই নিয়ে একটি একাডেমিক পোস্ট মেন্টরের ইচ্ছায় অবশ্যই লিখব..এটাই আসলে আমার কমফোর্ট জোন। ধন্যবাদ।

      পোলা আর পোলার মা ব্যাক্টেরে আমার বালোবাছা জানিয়েন কিন্তুক ..অনেক অনেক শুভকামনা।

      ১১.১
  9. বোতল বাবা বলেছেনঃ

    আপু, জনগণ তো পুড়ে কয়লা হয়ে গেলেও দেশের বাহিরে মেধাদীপ্ত তোমরা তো আছ, তোমরাই পারবে ঠেঁসে ধরতে। তোমরা দেশে এসে সুপার -কন্ডাকটিভিটি কেরামতি দেখিয়ে দেও ….. :mrgreen: :mrgreen: :mrgreen:

    @হৃদয়ে বাংলাদেশ ভাই,
    হৃদয়ে বাংলাদেশ ভাই আমার কথাটা বুঝে ফেলার জন্য অনেকে অনেক ধন্যবাদ। আমার বিশ্বাস আপনি আরো আগেই বুঝে গেছেন, আরো অনেক বেশি জানেন। না হলে আমার কথা ধরেন কেমনে :eek: ! আপনার সাথে সহমত। এই জন্যই বলি, ওই ধরনের কোনো কিছু লিখতে হলে, ভালো মাথার দরকার আছে, স্টাডির দরকার আছে, চিন্তা ভাবনার দরকার আছে, সময়ের দরকার আছে । একটা লেখায় রেনেসা ঘটিয়ে দিতে পারে ,যদি সেটা লেখার মত হয়।

    @জিনিয়া আপু,
    ”ভারী টপিক পাবলিকরে গুলে খাওয়ালেও খায় না” । আমার মনে হয় ঠিক না। পাবলিক যদি ভাষা না বোঝে, ভাষা শুনে রক্ত গরম না হয়; পাবলিক খাবে কেমনে! লালন শাহ কে দেখো কত ভারী ভারী জিনিস খুবই সাধারণ মানুষের মাথায় ঢুকিয়ে দিয়ে গেছেন।কবি নজরুল কে দেখো যার কথা শুনে কার না রক্ত গরম হয়। অথচ কথা গুলো অনেক ভারী।

    আর ব্লগে পাবিলক *বিতর্কিত বিষয়, *হাটে হাড়ি ভাঙ্গা (গোপন তথ্য ফাস), *লেখিকার লেখা, *১৮+ ইত্যাদিতেই বেশি হিট চোখে পরে। আর তোমার ভারী টপিক যদি গোপন তথ্য ফাস ও বিতর্কিত বিষয় সমাধানের ভিতরে ফালাতে পার তোমার জন্য ৩ তারা … :D :D :D

    ভালো থেকো :-

    ১২
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      বাবুই, আমি হয়তো ভারী জিনিস সেভাবে লিখতে জানি না..তাই পাবলিক পড়ে না..এ আমার, নিতান্তই আমার ব্যর্থতা :( :( ..ফকির সাব আর বিদ্রোহীর লেখা পড়ে আর শুনে গেলাম..কিছুই তো নিতে পারলাম না.. :( :( .।

      যেসব ক্যাটাগরির কথা লিখেছ এগুলা বিডি ব্লগে অচল..এখানকার পাঠক খুবই উন্নতমানের..ঐসব বস্তা পঁচা লেখার যায়গা অন্য কোথাও হলেও এখানে নয় সে বিষয়ে আমি গর্ব ভরেই বলতেই পারি.।

      আর তিন তারা নিয়ে তারকা খ্যাতির দরকার নাই রে বাবা..যা আছি ভাল আছি..সুখে আছি.. :D :D

      ১২.১
  10. বিন্দুবিসর্গ বলেছেনঃ

    ডিয়ার ইকোনমিস্ট। আমি ইকোনমিস্ট হিসেবেই আপনার থেকে পোস্ট আশা করি । তার অর্থ এই নয় যে আপনি অন্য কিছু লিখবেন না।
    আমার বাবা একজন কৃষক আমি নিজেও একজন কৃষক(পার্ট টাইম!)। তাই কৃষক ও কৃষিকে আমি অন্তর দিয়ে অনুভব করি। আর লিংক যে কেন দেখতে পাচ্ছেন না আমিও বুঝতে পারছি না। আমার প্রথম দিকের একটা পোস্ট যেখানে আমি সবার আগে কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্যের কথা বলেছিলাম। http://http//blog.bdnews24.com/BinduBisorgo/112208 আবার ও দিলাম। আমি কিন্তু অনেক আগেই ফসল ডাইভারসিফাই করেছি। ধান ততটুকুই করি যতটুকু আমার নিজের লাগে। তার বেশি করি না। তবে অন্য ফসল করেও লাভবান হতে পারছি না। পানের ক্ষেত করেছিলাম নষ্ট হয়ে গেল। কত কৃষিবিদ দেখাইলাম কাজ হল না। তার পরেও লোকসানে চাষাবাদ চালিয়ে যাচ্ছি। ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন।

    ১৩
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      বিসর্গ, আপনার চমত্কার লেখাটি পড়লাম..কৃষি ঋণের কথা উল্লেখ করেছেন দেখলাম..সেই সাথে উপকরণের দাম কমানোর সুপারিশ করেছেন।

      এক্ষেত্রে যে কথাটি তাহলো, ধানের ক্ষেত্রে আমাদের বাজার অলরেডি তৈরি করাই আছে..বাজারে সব সময় প্রায় একই রকম চাহিদা আছে..দরকার সরকারীভাবে সংরক্ষণের। সরকার যদি উত্পাদন খরচ মিটিয়ে কিছু লাভ রেখে কৃষকের কাছে তার প্রতিষ্ঠানের দ্বারা ধান কিনে নেয়, তাহলে এই সমস্যার সমাধান হয় খুব সহজে। সারা বছর এর চাহিদা মেটানোর মত ধান আমাদের দেশের কৃষক উত্পাদন করে। শুধুমাত্র সঠিক পরিকল্পনার অভাবে আমরা সে ধান ধরে রাখতে পারি না.. অনেক সময় তা সস্তায় পাচার হয়ে যায় পাশের দেশটিতে।অথচ দেশের প্রয়োজন মিটিয়ে আমরা পার্শ্ববর্তী ছোট দেশগুলোতেও চাল রপ্তানি করার ক্ষমতা রাখি!!!

      আবার এই সংরক্ষণের অভাবে আমাদের প্রতি বছর ভারত/ভিয়েতনাম থেকে চাল আমদানি করতে হয়। অথচ নিজেদের দেশেই আমরা নিজেদের উত্পাদন দিয়ে চাহিদা মেটাতে পারি..যে টাকা দিয়ে আমদানি হয়, তা দিয়ে অনায়াসেই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা যায়।

      আর ডাইভারছিফাই এর যে কথা আপনি জানালেন, সেটাই হল সব থেকে ভয়ের..এই ভয়টাই আমরা অর্থনীতিবিদরা পাচ্ছি..ধান উত্পাদন থেকে কৃষক মুখ ফিরিয়ে নিলে আমাদের জন্য ভয়ংকর ভবিষ্যত অপেক্ষা করছে।

      শুভকামনা।

      ১৩.১
  11. জুলফিকার জুবায়ের

    জুলফিকার জুবায়ের বলেছেনঃ

    চেয়েছিলাম কবিতা, দিলেন কৃষকের জন্য শুভেচ্ছা, প্রকাশ করলেন বিষন্নতা। আমি তাতেই খুশি। আপনাকে ধন্যবাদ, আমার খুশির জন্য না, সবচেয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ চমৎকার লেখাটির জন্য।

    হাফ সেঞ্চুরির অভিনন্দন আপাতত দিচ্ছি না(!), আপনার জীবনের ইতিহাসে এটা খুব ছোট কিছু। তবে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি এতোগুলো ভালো পোষ্ট আমাদের সামনে উন্মুক্ত রাখার জন্য।

    ১৪
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      জুবায়ের ভাই, কবিতা লিখতে জানি না..আপনি বরং একটা কবিতা লিখে আমার এই ব্লগে মন্তব্যের ঘরে পোস্ট করে দিন.. :D :D …আমার মাথায় দিন রাত কত যে আইডিয়া ঘুরে..পড়াশুনা, কাজবাজ আর সংসারের চাপে সময় করে উঠতে পারিনা, তা না হলে সেঞ্চুরি করতেও বেশি সময় লাগতো না :D :D, যাই হোক, আপাতত টেস্ট খেলোয়াড়ের মত ধীরে চলো নীতিতে সেঞ্চুরি করব ঠিক করেছি.. :cool: :cool: ..সহজে কেউ আউট করতে পারবে না :P :P .. ।

      আমার বন্ধু রূথকে নিয়ে লেখা “স্নো হওয়াইট” পোস্টটি আমার লেখা সব পোস্টের মধ্যে প্রিয়..আপনারও প্রিয় জেনে কী যে খুশি হয়েছিলাম!!!অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

      শুভকামনা।

      ১৪.১
  12. মাহি জামান বলেছেনঃ

    ৮নং মন্তব্যে আমার দেয়া তথ্যে একটা বড় ভূল ছিল। ৩৫০ টাকা নয় আমার বিক্রিত ধানের দাম পড়েছিল মন প্রতি প্রায় ৫০০ টাকা। আমাদের এলাকায় ভিন্ন এককে ধান মাপা এবং বিক্রয় হয়। সেটিকে `মন’ হিসাবে রূপান্তর করতে গিয়ে হিসাবে আমি ভূল করেছিলাম। এজন্য আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।
    শ্রদ্ধেয় `হৃদয়ে বাংলাদেশ’র বক্তব্যের সাথে আমিও একমত। এ বিষয়ে আরো তথ্যবহুল এবং গবেষণা ধর্মী পোস্ট চাই। এই ব্লগের অধিকাংশ পাঠকদের অর্থনীতি বিষয়ক আলোচনায় অনাগ্রহ থাকলেও আমার মত আগ্রহী কিছু পাঠক নিশ্চয়ই পাবেন আপনি। আপনার একটি লেখা হয়তো খুলে দিবে অনেক মানুষের বন্ধ মনের দুয়ার।

    ১৫
  13. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    ধন্যবাদ জিনিয়া। হ্যা, ব্লগারটি বিন্দুবিসর্গই ছিলেন। তবে তাঁর দেয়া লিঙ্ক খুলছেনা। আমি বিন্দুবিসর্গের নামটি স্মরন করতে পারিনি, যদিও তাঁর (সম্ভবতঃ) দুটি পোস্টে আমরা বাস্তব কিছু আলোচনা করেছিলাম। আমার স্মৃতিবিভ্রাটের জন্য বিন্দুবিসর্গের কাছে ক্ষমা চাই।

    ১৬
  14. এশরার লতিফ বলেছেনঃ

    অসাধারণ একটা লেখা , এ পর্যন্ত আপনার লেখার ভেতর (আমার পঠিত) এটাকেই সবচে’ বিশ্লেষণধর্মীয় মনে হলো। ভাল থাকবেন।

    ১৭
  15. বিন্দুবিসর্গ বলেছেনঃ

    হৃদয়ে বাংলাদেশ ——————। শুন্যস্থানে আপনার মনের সবচেয়ে ভাল লাগার কথা গুলো বসিয়ে নিয়েন এবং আমাকে আপনার আশেপাশেই থাকার অনুমতি দিয়েন।
    ডিয়ার ইকোনমিস্ট, তুমি তোমার এইটাই ভাল ছিল বোধ হয়। আমি অর্থনীতিতে পড়লে হয়ত আপনার ছাত্রই হতাম। ভাল থাকবেন আর লিখবেন। পড়ার দায়িত্ব আমার।

    ১৮
  16. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    প্রিয় বিন্দুবিসর্গ, আপনার কাছে আমার ক্ষমা চাওয়ার আছে। যদিও আপনার দুটি পোস্টের কথা আমার ভালো মনে আছে, কিন্তু সেগুলো যে আপনার পোস্ট তা স্মৃতি থেকে গায়েব হয়ে গিয়েছিলো। এজন্য ক্ষমাপ্রার্থী। আশা করি আমাদের অর্থনীতিবিদুষী জিনিয়া এবং আপনার সমন্বয়ে আমরা কিছু বাস্তবধর্মী এবং পরচর্চাহীন সুগভীর আলোচনার স্বাক্ষী হতে পারবো। আপনার সুলিখিত এবং গভীর চিন্তাপ্রসূত পোস্ট আমার খুবই প্রিয়। সততার সাথে বললে, আমরা খুব কমসংখ্যক ব্লগারই বাস্তবসমস্যা নিয়ে ব্রেইন স্টর্ম তোলার মতো লিখিনা।
    আমি আগেও সম্ভবতঃ বলেছি, যে খাদ্যমূল্য বৃদ্ধি করে শহুরে মধ্যবিত্তদের ক্ষুব্ধ ও বিচলিত করতে চায়না বলে বিশ্বব্যাপী কৃষক মেরে সব সরকারই শহুরে “সায়েব”দের সুস্থির রাখতে চায়। উন্নতবিশ্বে কৃষকদের বিভিন্ন ভর্তুকি ও প্রনোদনা প্যাকেজ দিয়ে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে দেয়া হয়, কিন্তু বাংলাদেশে পরিস্থিতিটি ভিন্নমাত্রার। একেতো কৃষিপণ্য উৎপাদনের উপকরনের দাম হ্রাস করার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতার কুরসিতে গ্যাঁট হয়ে বসে সব প্রতিশ্রুতির বিপরীতে গনবিরোধী নীতিমালা প্রণয়ন করে। (অগ্নি আপা আর সাড়া দেননা)। এর সাথে মধ্যসত্বভোগীদের বাট্টা এবং কৃষিপণ্যের বিপণনের কোনই চিন্তাভাবনা না থাকা কৃষককে উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে কমমূল্যে কৃষিপণ্য বাজারে ছাড়তে বাধ্য করা হয়। যার ফলাফল, কৃষকের পুঁজির ঘাটতি এবং অবশেষে গ্রামীণ ব্যাঙ্কের আঁখমাড়াইয়ের কলে আটকে পড়া কিংবা ভুমিহীন হয়ে যাওয়া।
    ভালো থাকুন।

    ১৯

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...