ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

 

দুদিন ধরেই দুঃসংবাদটি পত্র পত্রিকায় আসতে শুরু করেছে কিছুটা ছোট পরিসরে। আবারও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে পাকিস্তানে খেলতে পাঠানোর ভয়ংকর ষড়যন্ত্রটি বাস্তবে রূপ দেয়ার প্রচেষ্টা চলছে। পত্রিকা মারফত জানতে পেলাম যে পিসিবি থেকে বিসিবিকে ২০১৩ সালের ১১-১৩ জানুয়ারি মোট তিনদিনে একটি ওয়ানডে এবং একটি টি-টোয়েন্টির সংক্ষিপ্ত সফরের পরিকল্পনা দেয়া হয়েছে।আর বিসিবির পক্ষ থেকে পাকিস্তান সফরে কোনও আপত্তি নেই বলে জানিয়েছে পিসিবিকে (সুত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, ১৭.১২.২০১২)।

বিসিবির পাকিস্তানকে হ্যা বলার কারণ অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে চমকপ্রদ নির্লজ্জ সব বিষয়। বিসিবির আগের কমিটির সভাপতি জনাব লোটাস কামাল চরম নিরাপত্তাহীন পাকিস্তানকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন পাকিস্তান সফর করবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তিনি নিজের স্বার্থের জন্য সে সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই মোতাবেক গত ২৯ এপ্রিল সফরের তারিখ ধার্য হয়েছিল। আমাদের সৌভাগ্য যে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার জন্য শেষপর্যন্ত সেই পাকিস্তান সফর বাতিল হয়ে যায়। এখন সেই প্রতিশ্রুতি অনেকটা জারজ সন্তান পেটে আসার মত অবস্থা হয়েছে বিসিবির। না পারছে গর্ভপাত করতে, না পারছে সেই জারজ সন্তানের জন্ম দিতে। সেদিনের সেই অবৈধ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ভার পড়েছে বর্তমান বিসিবি কমিটির উপর। প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করায় শোনা যায় যে, আইসিসির সিওসির সর্বশেষ সভায় তুলোধুনো হয়েছেন বিসিবির ভারপ্রাপ্ত সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী। আরও শোনা যায় যে, আইসিসির অন্য দেশগুলো পাকিস্তানের হয়ে নিজামউদ্দিনের ওপর চাপ তৈরি করেছে। বোঝাই যাচ্ছে যে পাকিস্তান নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে একাত্তরের মতই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। নব্য রাজাকার বাহিনী ওদের সেই স্বার্থ উদ্ধারে যে হাত মিলিয়েছে তা বলাবাহুল্য।

আরও অবাক হতে হয় পিসিবির সাহস দেখে!! পিসিবি আমাদের প্রত্যক্ষ হুমকি দিয়েছে যে বাংলাদেশ খেলতে না গেলে তারা তাদের খেলোয়াড়দের আমাদের দেশে অনুষ্ঠিত বিপিএল এ খেলতে দিবে না। পাকিস্তানের ডন পত্রিকার খবর মারফত জানা যায় যে, “বিসিবিকে পিসিবি লিখিত জানিয়েছে, বাংলাদেশ দলের সফর নিশ্চিত না হলে বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে কোন পাকিস্তানি ক্রিকেটারকে খেলার অনুমতি দেয়া হবে না।” তো ওদের ক্রিকেটারেরা আমাদের বিপিএল এ না খেললে কী আমাদের খুব বড় ক্ষতি হয়ে যাবে? আমাদের মুনাফালোটা ফ্র্যাঞ্চাইজিদের লাভের শেয়ার কী আমাদের সোনার ছেলেদের জীবন দিয়ে জুয়া খেলে দিতে হবে? তো ওদের এই হুমকিতে কার কী যায় আসে? ইন্ডিয়ানরা যে প্রথম আসরে খেলতে আসে নাই তো কী হয়েছে? বিপিএল দরকার হলে ওদের ছাড়াই হবে, তবুও পিসিবির হুমকিতে কেন আমাদের মাথা নোয়াতে হবে?

আর পাকিস্তান চাপ সৃষ্টি করার এত সাহস পায় কোথা থেকে? আমরা কী এখনো ওদের কোনও প্রদেশ নাকি? বিজয়ের এই মাসে ওদের ঔদ্ধত্য দেখে হতবাক হতে হয়!! আমাদের রুখে দাড়াতে হবে, পাকিদের জবাব দিতে হবে। আমাদের ক্রিকেট দলকে ওদের কাছে পাঠাবো না স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিতে হবে। কিসের এত দুর্বলতা পাকিদের প্রতি এখনো এতদিন পর!!

এই সংক্ষিপ্ত সফরে গেলে আমাদের লাভ কী? পাকিস্তানের লাভের জন্য আমাদের বিসিবি এত মরিয়া কেন? আমরা কী ভুলে গেছি একাত্তরের পাকিস্তানকে? আমরা কী ভুলে গেছি দুদিন আগেও ওদের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হীনার নির্লজ্জ বিবৃতি? আমরা কী ভুলে গেছি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে আমাদের প্রধান মন্ত্রীর ডি-৮ সম্মেলনে না যাওয়া? তবে আমাদের ক্রিকেট টিম কেন যাবে পাকিস্তানকে উদ্ধার করতে? কেন? পাকিস্তান আমাদের এমন কী হিতাকাংখি যে ওদের ক্রিকেট এর অচলাবস্থা কাটানোর জন্য আমাদের সোনার ছেলেদের জীবন বাজি ধরতে হবে? কোন দিন কোন লোটাস কামাল কথা দিয়েছিল কোনও এক দুর্বল মুহূর্তে নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য, তার দায়ভার কেন বইতে হবে আমাদের ছেলেদের? বিসিবির আপত্তি না থাকলেও আমাদের জনগণের আপত্তি আছে, আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই বিসিবির এই ঘৃণ্য সিদ্ধান্তের।

আমাদের আবারও এক হতে হবে একাত্তরের মত। পিসিবিকে জানিয়ে দিতে হবে, আমরা যাব না। যিনি আগ বাড়িয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছিলেন সেই লোটাস কামালকে প্রতিশ্রুতি ফিরিয়ে নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে ভুল শুধরে নিতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন করতে হবে তিনি যেন এই বিষয়টির স্থায়ী সমাধানে এগিয়ে আসেন।

আসুন সবাই মিলে পাকিস্তান সফরের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই। পাকিস্তান সফরকে না বলি। আমাদের সোনার ছেলেদের নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে ঠেলে পাঠানোর বিরুদ্ধে এক হই।

*****************
তথ্য সুত্র: বিডি নিউজ ২৪, প্রথম আলো, ইত্তেফাক।

লেখাটির শিরোনামের জন্য কৃতজ্ঞতা স্বীকার সম্মানিত ব্লগার হৃদয়ে বাংলাদেশ।