ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

সম্প্রতি আমার এক কবি বন্ধুর মুখে শুনলাম যে, বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত নতুন ধাঁচে গেয়েছে ব্রিটিশ বেইজড বাংলাদেশী একটি ব্যান্ড “ক্ষ”/”khiyo” এবং গানটি ফেইসবুকের মাধ্যমে ব্যপকভাবে প্রচারিত হচ্ছে। কৌতুহলি হয়ে ইউটিউব এ সার্চ দিয়ে ভিডিওটি দেখলাম ও গানটি শুনলাম। বিভিন্ন দেশের সদস্যদের নিয়ে গড়া এই ব্যান্ডটির ভোকাল মূলত প্রবাসী বাঙালি সোহিনী আলম।যুক্তরাজ্যে জন্ম নেয়া সোহিনী বেড়ে উঠেছেন লণ্ডন ও বাংলাদেশে। তিনি শুদ্ধ সঙ্গীতের ধারক বাংলাদেশের প্রখ্যাত নজরুল শিল্পী ফেরদৌস আরার ভাগিনী (সুত্র: উইকিপিডিয়া)।

গানটি যারা ইতোমধ্যে শুনেছেন ও ভিডিওটি দেখেছেন, প্রথমেই লক্ষণীয় যে, “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি” এই লাইন দিয়ে আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের সূচনা হবার কথা থাকলেও গানটি শুরু হয়েছে “কি শোভা কি ছায়াগো” দিয়ে। গায়িকার গায়কী দেখে মনে হবে অনেক দরদ দিয়ে গাইছে যেন দু চোখে আবেগ ঝরে পড়ছে আর পার্শ্ববর্তী সব বাজিয়েরা বসে বসে বাদ্য যন্ত্র বাজাচ্ছে!! আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের মূল সুর থেকে গানটি অনেক দূরে। সত্যি বলতে কী সোহিনীর গানের সুরের সাথে মূল সুরের মিল খুব কমই পরিলক্ষিত হয়।সেক্ষেত্রে অবশ্যই তিনি জাতীয় সঙ্গীতের সুর বিকৃতকরনের অভিযোগে দুষ্ট।

ক্ষীয় ব্যান্ডের জাতীয় সঙ্গীত বিকৃতির সম্মিলিত প্রয়াসে সামিল হয়েছেন একজন পাকিস্তানী।যিনি মূলত এই ব্যান্ডের একজন সদস্য এবং এই ভিডিওচিত্রের একজন এডিটর। পাঠক ভিডিওটি যারা দেখেছেন, খেয়াল করে দেখবেন বসে বসে যিনি তবলা বাজাচ্ছেন, তিনি আর কেউ নয় লণ্ডন প্রবাসী পাকিস্তানী তবলা বাদক হাসান মহীয়েদ্দিন।

Khiyo – Amar Shonar Bangla, Words and Melody: Rabindranath Tagore
Vocals: Sohini Alam, Acoustic Guitar: Oliver Weeks, Double Bass: Ben Hillyard
Tabla: Hassan Mohyeddin, Viola: Danyal Dhondy, Drums: Derek Scurll
Khiyo Video – Amar Shonar Bangla
Editors – Hassan Ameen Mohyeddin & Shahriyar Rahman
Director – Shahriyar Rahman

পাকিস্তানী বাজিয়ের কথা আমি বিশেষ ভাবে উল্লেখ করলাম, কারণ সঙ্গীতটি হল স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত আর বলাবাহুল্য পাকিস্তানের সাথেই ছিল আমাদের দুঃসহ ইতিহাস। সেখানে জাতীয় সঙ্গীতের এই বিকৃতি আর অবমাননায একজন পাকিস্তানীর সংশ্লিষ্টতা উদ্বেগ জাগায় বৈ কী।

ফিরে যাই অতীত ইতিহাসে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটি এ দেশে ব্যাপকভাবে গাওয়া হয়েছে ষাটের দশকে সাংস্কৃতিক স্বাধিকার আন্দোলনের সময়। স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় আপামর জনগণের মনে বিশেষ স্থান করে নিয়েছিল গানটি।গানের প্রতিটি লাইনে রয়েছে বাংলা মাযের প্রতি অভূত ভালোবাসা। ১৯৭১ সালে এই গানটি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে নিয়মিত প্রচার হতো। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে গানটির প্রথম ১০টি লাইন স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃত হয় (সুত্র: উইকিপিডিয়া)। এ গান আমাদের সংগ্রামী চেতনার সঙ্গে যেমন গাঁথা হয়ে গেছে তেমনি জড়িয়ে আছে আপামর জনগণের অসীম ভালোবাসায়।

একাত্তরের রক্তক্ষয়ী এক সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি স্বাধীন একটি দেশ, একটি মানচিত্র। আমরা পেয়েছি আমাদের দেশপ্রেমের চেতনায় আবৃত একটি জাতীয় সঙ্গীত। মনে রাখা দরকার যে জাতীয় সঙ্গীত এখন শুধু রবীন্দ্র সঙ্গীত নয়। জাতীয় সঙ্গীতের সাথে যুক্ত আছে আমাদের ইতিহাস, আমাদের স্বাধিকার চেতনা। যখন একটি দেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে কোনও সঙ্গীত স্বীকৃত হয় তখন তা নিয়ে অবশ্যই সুর বিকৃতি করা সেই সঙ্গীতের অবমাননা করার শামিল এবং তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। জাতীয় সঙ্গীত সুর বিকৃতি বর্জনীয় ও নিন্দনিয়। যেখানে রবীন্দ্রনাথ নিজেই তার গানের স্বরলিপি বিকৃত হোক তা কখনোই পছন্দ করতেন না, সেখানে একটা দেশের জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট কত খানি গ্রহণযোগ্য সে প্রশ্ন থেকে যায়।

সস্তা জনপ্রিয়তা পাবার নোংরা খেলা থেকে জাতীয় সঙ্গীতকে দূরে রাখা হোক। জাতীয় সঙ্গীতের বিকৃতি ও অবমাননা রোধে কঠোর আইন ও তার বাস্তবায়ন অতীব জরুরী। সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করা হোক জাতীয় সঙ্গীতের বিকৃতি, বন্ধ হোক জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা, জাগ্রত হোক বিবেক।

*********
তথ্য সুত্র: উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া এবং ক্ষীয় ব্যান্ডের ওয়েবসাইট।

৮০ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. হাসান মসফিক বলেছেনঃ

    আপনি ঠিক বলেছেন- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও উনার গানের সুর বিকৃতি পছন্দ করতেন না। তাছাড়া, এখানে গানটি আমাদের জাতীয় সঙ্গীত। জাতীয় সঙ্গীতের এহেন এক্সপেরিমেন্ট বন্ধ করা রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং সমগ্র বাংলাভাষী এগিয়ে আসার আহাবান জানাচ্ছি।
    গানটি আমি শুনেছি এবং এই বিষয়ে এখানেই প্রথম প্রতিবাদ দেখছি বলে মনে হচ্ছে। ফেসবুকে গানটির একাধিক শেয়ারিং লিঙ্কেজ দেখেছি। কিন্তু, কোথাও ব্যান্ডটির কোন রকম বক্তব্য চোখে পড়েনি।
    সাধুবাদ জানাই আপনাকে।

  2. আহমেদ শামীম বলেছেনঃ

    ক্ষ – ব্যান্ড মনে হয় এত্ত বেশী বুইঝ্যা ফেলাইসে আর ফেরদৌস আরার ভাগিনী হইয়া দেশের জাতীয়তাও কিন্যা লইসে। আমার মতে অনতি বিলম্বে এটার বিরুদ্ধে কেইস করা উচিত। ওগোরে আর গান গাওয়ার দরকার নাই। ধন্যবাদ জিনিয়া।

  3. রাত্রিশেষ বলেছেনঃ

    গানটি শুনলাম। লেখিকার আবেগকে আমি সম্মান করি, তথাপি সহমত পোষণ করতে পারছি না।
    গায়িকার গায়কী, সুর, আবেগ আমার হৃদয় স্পর্শ করেছে। আমার ধারণা, গানটির নতুন রূপ তরুণ প্রজম্মের মধ্যে দেশপ্রেমের গভীর ভাবধারা সজীব করে তুলতে সাহায্য করবে।

    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      রাত্রিশেষ, সঙ্গীতটি হল আমাদের জাতীয় সঙ্গীত এবং এর মূল সুর ও এর ভাব গাম্ভীর্য রক্ষা অতীব প্রয়োজনীয়। তরুণ প্রজন্মকে জাতীয় সঙ্গীতের বিকৃতির দ্বারা দেশপ্রেম জাগ্রত করার মানসিকতা পরিহার করুন। এর পরিণাম কখনোই দেশের জন্য কল্যাণকর হবে না। দেশপ্রেম জাগ্রত হোক সঠিক ইতিহাস এর উপর ভিত্তি করে, বিকৃত করে নয়।

      বিবেক জাগ্রত হোক। শুভকামনা।

      ৪.১
  4. নুরুন্নাহার শিরীন বলেছেনঃ

    জিনিয়া, অবশ্যই বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত কারও এক্সপেরিমেন্টের বিষয় হতে পারেনা। অবিলম্বে এমন কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে হবে। জাতীয় সঙ্গীত সম্পূর্ণ শুদ্ধ সুরেই গীত হওয়া উচিত। নইলে অমর্যাদা করার অভিযোগ তোলাই যায়। সেটিই করা উচিত। তুমি ধন্যবাদার্হ কাজটিই করলে। তোমায় হাজার ধন্যবাদ।

  5. riyad বলেছেনঃ

    আমি গানটি দেখেছি। আমার কোনভবেই মনে হয়নি যে এখানে সুরের বিকৃতি করা হয়েছে। বরং গানের সামগ্রিক পরিবেশনা আমাকে মুদ্ধ করেছে। জিনিয়া ম্যাডামের সাথে দ্বিমত প্রকাশ করছি। আমি জানিনা জিনিয়া ম্যডাম গানের কতটুকু জানেন!আমি সবাইকে গানটি শুনে তারপর সমালোচনা করার অনুরোধ করছি।

    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      রিয়াদ, আপনি আমার পোস্ট ভালোভাবে আবার পড়ুন। পড়ে মূল মেসেজ বোঝার চেষ্টা করুন।”আমার সোনার বাংলা” কিন্তু শুধুই একটা গান নয়। এটা জাতীয় সঙ্গীত। আর জাতীয় সঙ্গীতের যে ভাব গাম্ভির্য আছে তা আমাদের মেনে চলতে হবে নিজেদের সার্বভৌমত্বকে রক্ষার তাগিদেই।

      আমি হয়তো আপনার মত সঙ্গীতবোদ্ধা নই..তবে যতটুকু বুঝি তাতে মনে করি ক্ষীয় যা গেয়েছে তা মূল সুর থেকে অনেক অনেক দূরে..এবং তাদের পরিবেশনা আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননার সামিল।

      বিবেক জাগ্রত হোক। শুভকামনা।

      ৬.১
  6. আসাদুজজেমান বলেছেনঃ

    ধন্যবাদ@জিনিয়া,
    পোস্টের বিষয়ে কোনো কথা হবে না, যুক্তিযুক্ত ভাবে সহমত…।
    তবে গানটি আমার ভালো লেগেছিলো!!! ভালো লেগেছে!!!
    মন্তব্যটি হয়তো দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গেল, কিন্তু এটাই সত্যি।
    হয়তো ভালো লাগা কোনো আইন মানে না বলেই……।
    একটি উদাহরন দেই- আমি ধার্মীক না হলেও ধর্মের প্রতি সহানুবতীশীল! আমাদের ধর্মে মাহশাল্লাহ শব্দটির যথেষ্ট মর্যাদা রয়েছে, অথচ “এক থা টাইগারে” ক্যাটরিনার বেলী ড্যান্সের সাথে ‘মাহশাল্লাহ মাহশাল্লাহ’ গানটি ধর্মের দৃষ্টিতে গর্হিত! কিন্তু গানটি আমার ভালো লেগেছে!!!
    জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি আমার ভালোবাসা অবশ্যই আছে তবে “ক্ষ”/”khiyo”র গানটি আমার কাছে ভালো লেগেছে।
    আমার মনে হয়-
    কবিগুরু ছিলেন তার সময়ের আধুনিক একজন। এসময়ে হলে তিনিও নিশ্চই আধুনিক যন্ত্রের সাথে সুরারোপ গ্রহন করতেন(সম্ভবত)।

    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      শামীম, ভুলে গেলে চলবে না যে এটা বিডিনিউজ২৪ ব্লগ..এখানে আমরা শুদ্ধ ভাষা প্রাধান্য দেই..আঞ্চলিকও চলে..তবে অন্যান্য ব্লগে যেরকম কিম্ভুত শব্দ চয়ন কালচার আছে তা এখানে অচল..আর আমরা এখানে তা উত্সাহিত করি না মোটেই..এই যেমন আপনি একবার আমার মন্তব্যের উত্তরে পছন্দ করে না শব্দ কে “লাইকায়” না বলেছিলেন..আমি তখনই আপনাকে পরামর্শ দিতে চেয়েছিলাম এরকম শব্দ চয়ন না করতে..যাই হোক, আশা করি আপনার চমত্কার মন্তব্য যথাযথ শব্দ চয়নে আবার পাব।

      অনেক অনেক শুভকামনা।

      ৮.১
  7. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    @রাত্রিশেষ, রবীন্দ্রসঙ্গীতপ্রেমীদের কোন প্রজন্ম নেই। সবাই এক বয়সের। দেশপ্রেম জাগাতে হলে যদি মেটাল রক বাজাতে হয়, তাহলে সেটি দেশপ্রেম কি না কে জানে?

  8. rexbd বলেছেনঃ

    আপনার ব্লগটাই মনে হচ্ছে সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য। পড়ে মনে হল ঐ দলে কোন ভারতীয় থাকলেই তা আপনার কাছে শুদ্ধ শাস্ত্রীয় হয়ে যেত।

    ১১
  9. কালেরকণ্ঠ বলেছেনঃ

    অনেক অনেক ধন্যবাদ জিনিয়া।
    জাতীয় সঙ্গীত এর মর্যাদা সম্পর্কে নূন্যতম ধারনা থাকলে এই ধরনের কাজ করা যায় না। দু একজন ব্লগার আবার দেখি ‘ক্ষ’ র এই বিকৃত মানসিকতাকে সমর্থন করে হেদায়েত করেছেন। তাদেরকে বলছি – ভাই আমার সোনার বাংলা শুধু একটি সঙ্গীত নয় এটা আমাদের জাতীয় সঙ্গীত।

    ১২
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      কালের কণ্ঠ ভাই, যারা বিকৃত সুরের মাঝে জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননাতেও ড্যাম কেয়ার..তাদের দেশপ্রেম নিয়ে যথেষ্টই সন্দেহের অবকাশ আছে। এখানে তারা এটাকে স্রেফ একটা গান মনে করছে..আর নিজেদের কর্ণের সুখকে প্রাধান্য দিচ্ছে..কিন্তু একবারও ভেবে দেখছে না এই সুর বিকৃতি ভবিষ্যতের জন্য কত ভয়াবহ পরিণাম নিয়ে আসতে পারে…ঠিক যেমন ভাবে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত হবার কারণে আমরা আজ বিভক্ত, ঠিক তেমনি এই জাতীয় সঙ্গীত বিকৃতির পরিণাম ও হবে ভয়াবহ। নতুন প্রজন্ম হবে দ্বিধাগ্রস্ত। তাই সকলকেই সাবধান হতে হবে এসব বিকৃতির বিরুদ্ধে।

      শুভকামনা।

      ১২.১
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      আমরা হুজুগে বাঙালি নই ভাই, তাই প্রতিবাদ করছি আপনার দৃষ্টিতে তথাকথিত “ভাল জিনিসের” । জাতীয় সঙ্গীত আজ ক্ষীয় গাইছে এক ভাবে..কাল যদু গাইবে আরেকভাবে, পরশু কদু গাইবে অন্যভাবে..আর আপনারা একের পর এক বাহবা দিয়ে যাবেন..তারপর একদিন চিরদিনের মত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মত জাতীয় সঙ্গীতের শিকড় হাতড়ে বেরুবেন..এটাই হবে আপনাদের চোখে আজকের ভাল জিনিসের ভবিষ্যত পরিণতি.।

      বিবেক জাগ্রত হোক। শুভকামনা।

      ১৩.১
  10. নুরুন্নাহার শিরীন বলেছেনঃ

    ‘ক্ষ’ ব্যান্ডের গানটি না শুনেও বলছি – কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ-এর “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি” গানটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা দিয়ে গেছেন তখন থেকেই আমাদের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে এই গানটি পতাকার সমমানের মর্যাদায় ভূষিত। এবঙ এ গান যখন যেখানেই বাজুক বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের পরিচয়ের বার্তা ঘোষিত করে বলেই আমরা শোনামাত্রই যে যেখানে থাকি না কেন দাঁড়িয়ে সন্মান জানাই। আমাদের মহান জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে এক্সপেরিমেন্টাল কর্মকান্ড যতই শ্রুতিমধুর হউক তাতে তালিয়া দেয়া কি উচিত??? যদি সুর-তাল-লয়টি শুদ্ধ-অবিকৃত না হয়??? অতএব এ নিয়ে বিতর্কের মানেটি কিন্তু জাতীয় সঙ্গীতকে যথার্থ শ্রদ্ধাবোধ না দেয়া। অর্থাৎ অসন্মাননা প্রদর্শন। এবঙ সেটি নিশ্চয় অপরাধ।

    ১৪
  11. কাফি বলেছেনঃ

    দ্বিমত পোষণ করছি। “ক্ষ” ব্যান্ড জাতীয় সঙ্গীত হিশেবে “আমার সোনার বাঙলা” গায়নি, তারা রবীন্দ্রনাথের গান হিশেবে “আমার সোনার বাঙলা” গেয়েছে। জাতীয় সঙ্গীত হিশেবে গাইলে তারা প্রথম থেকেই গাইতো, সম্ভবত বিতর্ক এড়াতে শুরুতে প্রথম পাঁচ লাইন বাদ দিয়েছে, য্যানো কেউ না বলে তারা “জাতীয় সঙ্গীত” গেয়েছে। আমার গানটা ভালো লেগেছে, তাদের কল্যাণে গত কয়েকদিনে প্রায় ৫০-৬০ বার শুনেছি। এমনিতে বছরে কয়েকবারের বেশি শোনা হয়না।

    তবলা বাদক যে পাকিস্তানী তা জানা ছিলো না। ধন্যবাদ।

    ১৬
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      কাফি ভাই, ক্ষীয় ব্যান্ড এটাকে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবেই গেয়েছে। লক্ষ্য করে দেখুন তারা এই গানটি প্রথম রিলিজ দেয় ২৬ মার্চ, এর পর এই গানের ভিডিও রিলিজ করে ১৬ ডিসেম্বর। শুধুই রবীন্দ্র হলে তারা আমাদের ইতিহাসের বিশেষ দিনগুলোকে বেছে নিট না।

      সব থেকে বড় কথা হল যে, এটা এখন আর শুধুই রবীন্দ্র সঙ্গীত নয়, এটা আমাদের জাতীয় সঙ্গীত। এভাবে সবাই সবার মন মত জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করা শুরু করলে ভবিষ্যতে আমাদের জাতীয় সঙ্গীত স্বকীয়তা হারাবে। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম কোন ভার্সনে জাতীয় সঙ্গীত গাইবে তা নিয়ে হবে কনফিউজড, যা কখনোই একটি জাতির জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

      গান যতই শ্রুতিমধুর হোক, জাতীয় সঙ্গীত এর সাথে রয়েছে আমাদের স্বাধিকার চেতনা..বছরে ৩/৪ বারও যদি আপনি শুনে থাকেন, কোনও অসুবিধা নাই..কিন্তু তা হোক মূল সুরে এবং শুনুন পরম শ্রদ্ধাভরে..অবমাননা করে নয় কখনোই।

      শুভকামনা।

      ১৬.১
  12. এম জি এনইডাব্লিউএজেড বাবুল বলেছেনঃ

    এরা অতি আধুনিকটায় বিভোর। এরা দেশ নিয়ে ভাবে না , জানেনা । মুক্তি যুদ্ধ কী হইত শুনেও নাই। ওর ভেবেছে এটা সাধারণ রবীন্দ্র সংগীত।
    এই বিষয়ে আমাদের দেশের সোনম দন্ন শিল্পী ফেরদৌস আরা বাবস্থা নিতে পারেন । কারণ মেয়েটি তার ভাগ্নী।
    আর না হলে আমাদের হাই কোর্ট বিভাগ সূয় মূত রুল দিতে পারেন বা আমাদের মধ্যে কেও রিট পিটিশন করতে পারেন। তাহলে আইনী ভাবে এর সমাধান হয়ে যাবে । আগামীতে আর কেও এই অপকর্ম করতে সাহস পাবেন।
    একি সাথে মেয়েটি সহ যারা জড়িত তাদের ও শিক্ষা হয়ে যাবে।

    ১৭
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      এই ব্যান্ড জাতীয় সঙ্গীত এভাবে গেয়েছে যাতে সস্তা পাবলিসিটি পায়। যদি রবীন্দ্র সঙ্গীত হিসেবে গেয়েও থাকে, তাহলে বলব এরা আরও বেশি অপরাধ করেছে..কারণ প্রবাসে বড় হওয়া সোহিনী কী জানে না যে এটা বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত!!

      বাবুল ভাই আমিও আপনার সাথে সহমত। দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি হোক এদের, যাতে ভবিষ্যতে কেউ অন্তত জাতীয় সঙ্গীত বিকৃত করার সাহস না পায়।

      শুভকামনা।

      ১৭.১
  13. আহমেদ শামীম বলেছেনঃ

    ধন্যবাদ জিনিয়া। আমি শুধরে নিলাম।

    আমার আপত্তি কিন্তু ওরা যা গেয়েছে তাতে নয়, আপত্তি একটাই – ওখানে একজন পাকি থাকতে পারবে না। কোনো ভাবেই না,
    আমার দাবি (অনেকে একমত হোক না হোক)
    ১। ক্ষ ভাল গায়। কোন সন্দেহ নাই। কিন্তু ওই পাকি মহীউদ্দিনটা থাকবে না। কেন? ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ আমরা পাকিদের সাথে করেছি। তারা জাতীয় ভাবে আমাদের কাছে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত আমার দেশের কোন গানে আমি নবজাতক কোন পাকির কান্নাও শুনতে চাই না। আগে ক্ষমা চাও পাকিস্থান।
    তাই ক্ষ ব্যান্ডের মেম্বার সে থাকবে না আর গানটির তবলা, সাউন্ড ডিজাইনিং, আর ভিডিও এডিটিং সে করবে না।
    ২। যদি ক্ষ ব্যান্ডের এটা সম্ভব না হয়, তাহলে মহীয়েদ্দিন যেন পাকিস্থানকে রাজী করায় বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাওয়ার ব্যাপারে। ক্ষ ব্যান্ডের এই কম্পোজিশন আমি মানবো যখন পাকিস্থান আমাদের বাংলাদেশের কাছে অফিসিয়ালি ক্ষমা চাইবে।
    ৩। আর মহীয়েদ্দিন যদি তা নাও পারে। তাহলে অবশ্যই সে যেন গানটির মাঝখানে পাকিস্থানের পক্ষ হয়ে ক্ষমা চায়, “I am Mohiyeddin , A Pakisthani, I say sorry to Bangladesh for the war of 1971 on behalf of Pakisthan “.। এটা ভিডিওতে থাকে এবং স্টেজ পারফরমেন্স এও তাই হবে। তাহলে আমার মনে হয় আমরা মেনে নিতে পারি। আর এই ক্ষমা চাওয়ার সাহসিকতা দেখালে মহীয়েদ্দিন ছোট হবে না, আর ক্ষ ব্যান্ড ও একটা দৃষ্টান্ত দেখাতেও পারলো।

    এটাই আমার একজন বাংলাদেশী হিসেবে দাবি।

    ১৮
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      শামীম, আমার আপত্তি জাতীয় সঙ্গীত বিকৃতি করায়। এভাবে জনে জনে এক্সপেরিমেন্ট শুরু করলে জাতীয় সঙ্গীত তার স্বকীয়তা হারাবে যা সময় থাকতেই আমাদের এখনি প্রতিহত করতে হবে।

      আর পাকির সংযুক্তি বিষয়টিকে আরও বেশি উদ্বেগজনক করেছে।বাংলাদেশের কাছে ব্যান্ডের পাকি সদস্য যদি একাত্তরের গণহত্যার জন্য ক্ষমা চায় অবশ্যই তা কাম্য। কিন্তু এভাবে স্টেজে নেচে গেয়ে এই গানটি পারফর্ম করার আমি সম্পূর্ণ বিরোধী। কারণ এটা জাতীয় অবমাননার সামিল।

      অনেক অনেক শুভকামনা।

      ১৮.১
  14. জুলফিকার জুবায়ের

    জুলফিকার জুবায়ের বলেছেনঃ

    আপনার যে বাজে কথা বলার প্রবণতা নাই সেটা বুঝি, তারপরও ভিডিওটা দেখেছি আপনার কথার সত্যতা কিংবা লেখার বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করার জন্য না, বিকৃতির মাত্রাটা স্বচক্ষে দেখার জন্য।
    ভাগ্য ভাল রবিঠাকুর বেঁচে নেই।
    (ভগবান তাকে স্বর্গবাসী করে সুখেই রেখেছে।)

    গানটা শুনে অনেকেই আপ্লুত ও আবেগী হবে। এর কারণ অবশ্য গায়িকার কুলহারা এলোকেশী ভাব কিংবা অসহায় চোখের চাহনি না। যার যার মনের ভিতরের দেশপ্রেম তার তার হৃদয়াবেগের কারণ হবে। মনের ভিতরের লাল-সবুজের হাহাকারটা যখন গানটা শুনে আর চেপে রাখা যাবে না তখন সহজ সরল মানুষগুলো বুঝবে না এখানে বিকৃতিটা কোথায় এবং কতটুকু, ফলে তারা সংগীতটাকে মহৎ শিল্প ভেবে গায়িকাকে মহীয়সীর মর্যাদা দেবে।

    ১৯
  15. বাংগাল

    বাংগাল বলেছেনঃ

    ক্ষীয় এর বিকৃতি দেখলাম ,এখানে শোনার কিছুই নেই ,ফালতু । ম্যাডাম জিনিয়া , সঠিক অনুভূতি প্রকাশ করেছেন , আপনাকে সম্মান জানাই ।
    কিছু বেকুব চিরকালই বেকুব , ওদের কাছে আমার সোনার বাংলা গান মনে হয়েছে । কোনটা গান ,কোনটা সঙ্গীত , আর কোনটা জাতীয় সঙ্গীত এটুকু বুঝার ক্ষমতা এ জনমে আর ওদের হবার নয় ।
    ধন্যবাদ আবার ,আপনার অবস্থান যুক্তিযুক্ত নি:সন্দেহে ।

    ২০
  16. নীল ন ক্ষ ত্র বলেছেনঃ

    আপু বিদেশের কথে পরে…আমাদের দেশেও অনেক স্কুলে জাতীয় সঙ্গীত সঠিকভাবে গাওয়া হয় না…..এটা নিয়ে বেশ কয়েকদিন আগে লেখালেখি হয়েছিল…..বেশ কয়েকটি স্কুল-কলেজ এ পরবর্তীতে সঠিক সুরে গাওয়া শুরু হয়…..কিন্তু এখনো অনেক জয়গা তে আগের ভুল সুর এ গাওয়া হয়……। বেপারটা খুবই দুঃখজনক ……. :( :cry: এটা রোধে সকল দেশপ্রেমিক বাঙালীকে সচেতন হতে হবে……..

    ২১
  17. নীল ন ক্ষ ত্র বলেছেনঃ

    এখানে অনেকের মন্তব্য পড়ে মনে হল, হই তারা রবীন্দ্র সঙ্গীত অথবা জাতীয় সঙ্গীতের মর্ম বোঝেন না…। অথবা তাদের কাছে গান মানেই পপ এণ্ড রক……অনেক রবীন্দ্র সঙ্গীত রকিং মিউজিক এ গাওয়া হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে টা বেশ সুন্দর হয়েছে…..। কিন্তু জাতীয় সঙ্গীত তো একেকবার একেক সুরে গাওয়ার জিনিস নয়….এটা সবসময় একি সুরে গাওয়ার কথা……তাই এটা নতুন ভাবে গাওয়া কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না………..।

    অপু সুন্দর করে বিষয়টা নিয়ে লেখার জন্য অনেক ধন্যবাদ……

    ২২
  18. নীলকন্ঠ বলেছেনঃ

    গানটা শুনলাম। যদি উদ্দেশ্যটা থাকে প্রচারণা তবে বলতে হবে যে উনারা ভয়ংকর জায়গায় হাত দিয়েছে এবং প্রচারণায় সফল ও হয়েছে।

    জাতীয় সঙ্গীত শুধু একটা গান নয়- এ বোধ যদি ঐ ব্যান্ডের না থাকে তবে কিছু বলার নাই। গায়িকার কণ্ঠের ঢং, উচ্চারণ, টুং টাং এর মধ্যে আমি জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদাবোধ, ব্যাক্তি এবং কণ্ঠের একাত্নতা খুঁজে পাইনি।

    উনারা যদি মনে করেন যে জাতীয় সঙ্গীতের সুর, আবহ আর আবেদনে উনারা নতুন কোন মাত্রা যোগ করে ফেলেছেন তবে আমি বলবো উনাদেরকে ধরে বেতানো উচিত।

    আর যদি বলেন যে, নতুন কোন মাত্রা নয়, উনারা শুধু গেয়েছেন তবে বলতে হবে উনাদের সীমাবদ্ধতা আছে এবং ইউটিউবে দিয়ে প্রচারণার আশা করা অপরাধ।

    ২৩
  19. সালমান আহমেদ বলেছেনঃ

    আপনি ভুল ইনফর্মেশন দিচ্ছেন, মূল সুর থেকে গান এর কোন বিচ্ছিন্নতা নাই। এখানে অনেক বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার এবং গানের গতি মন্থর হয়েছে, এতটুকুই।
    আশা করব সঙ্গীত নিয়ে আরও জানবেন।

    ২৪
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      জনাব সালমান, মূল সুর থেকে পুরা গানটাই অনেক দূরে….আশা করি পার্থক্য বোঝার মত ক্ষমতা আপনার আছে..আর মাঝখান থেকে গানটা শুরু করার হেতুটা কী ভাই? জাতীয় সঙ্গীত কী মাঝে থেকে শুরু হয়? আর যদি জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে না গেয়ে রবীন্দ্র হিসেবে গেয়ে থাকে, তাহলে প্রবাসী সোহিনী আর পাকি হাসান কী জানে না যে এটা বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত..হুটহাট করে যেকোনো খান থেকে যে কোনভাবে গাওয়া জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা এবং তা বর্জনীয়।

      বিবেক জাগ্রত হোক হুজুগে বাঙালির। শুভকামনা।

      ২৪.১
  20. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    @জেমান, আমি রবীন্দ্রসংগীতপ্রেমী হলেও সুর বা নোটেশনের খানিকটা পরিবর্তনের উন্মত্তের মতো ছুটিনা (যেভাবে বিশ্বভারতী হাঁপানীরোগাক্রান্ত জর্জ বিশ্বাস বা চিন্ময় চট্টোপাধ্যায়কে নিষেধ করেছিলো)। তাই আমাকে বলতে হবে গানটি ভালো লেগেছে। অন্ততঃ এই লিঙ্কটির রবীন্দ্রসংগীতটির তুলনায়। যদিও গানটি (“প্রাণ” শিরোনামে) একসময়ে ১০০টি টপচার্টের শীর্ষে অবস্থান করেছিলো।
    তবে আপনার মতো আমারও ভালো লাগার সাথে কিছু সমস্যা আছে। প্রথমতঃ, যদিও অনেকে গায়কীটি সমর্থন করছেন, কিন্তু গানটির যে মূল বাউলধারা, তা থেকে সরে গেছে। দ্বিতীয়তঃ আরো অনেক কিছুর মতোই, এই গানটি নিয়ে আমাদের, এমনকি যুক্তিহীন, আবেগ থাকাতে এই বিশেষ গানটির পরিবেশনা আমাদের কান ও প্রান গ্রহন করতে চাইছেনা।
    এ প্রসঙ্গে আমার বিবেচনায় যারা তরুন বা ডিজুস [ঋণস্বীকার: ফরহাদ মাজহার] প্রজন্মের, তাদের “হু কেয়ার্স” দৃষ্টিভঙ্গীটি আমার ভালো লাগলোনা। সত্যি করে বললে, নিউ ইয়ার্স ইভে নর্তন-কুর্দনের জন্য এই গান নয়। আর দেশপ্রেম একটি পরিপূর্ণ জীবনবোধ। একটি গান শুনে দেশপ্রেমের ভুড়ভুড়ি উঠবে, এমন আমি মনে করিনা।

    ২৫
  21. বাংগাল

    বাংগাল বলেছেনঃ

    গোপাল চন্দ্র সেন চল্লিশের দশকে আমার সোনার বাংলা গেয়েছিলেন , যদিও জাতীয় সঙ্গীতের সুরের সঙ্গে পার্থক্য ছিল যথেষ্ট । কিন্তু গভীরতায় মোটেও খেলো ছিলনা । javascript:;
    Amar Sonar Bangla
    Album : Abismaraniyo Rabindrasangeet- Vol 1
    Singers : Gopal Chandra Sen

    ২৭
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      বাংগাল ভাই, অতীতে যে স্বরলিপিতেই গাওয়া হোক না কেন স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালে জাতীয় সঙ্গীতের বিধিমালাতে এর সুর ও কথা জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে অনুমোদন করা হয় সরকারীভাবে এবং তা এখন পর্যন্ত অপরিবর্তিত আছে। কাজেই ভিন্ন সুরে গাওয়ার কোনও সুযোগ নাই। এবং কেউ গাইলে তা জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা হবে এবং আইনত দণ্ডনীয়।

      আপনাকে অনেক ধন্যবাদ তথ্যের জন্য। শুভকামনা।

      ২৭.১
  22. নীল ন ক্ষ ত্র বলেছেনঃ

    আপু ইংলিশ মিডিয়াম গুলোর কথা আমার জানা নেই…… :(
    এখনো দেখছি অনেকে তর্ক করছেন!!!! আরে ভাই,জাতীয় সঙ্গীত তো শুধুই একটা গান না……এটা আমাদের দেশ কে মূর্ত করে……জাতীয় সঙ্গীত যদি যেমন খুশি তেমন করে গাওয়া যাইত তাহলে বেহুদা জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার এত নিয়ম কানুন থাকতো না………এত শ্রদ্ধা নিয়া গাওয়া লাগতো না………..নিয়ম কানুন যখন দুর্ভাগ্য ক্রমে!!?? হইয়াই গেসে , এই নিয়ম কানুন মাইনাই প্রতিবার গান টা সারাজীবন গাইতে হবে……এর অন্যথা হয় চলবে না………।

    ২৮
  23. প্রথম আলো বলেছেনঃ

    লেখক ও তার সাথে সহমতী

    আপনারা হইলেন গিয়ে ইসলাম ধর্মীও হুজুরদের চেয়েও বেশি চরম মৌলবাদী
    কারন ওঁরা কিছুটা হলেও আধুনিক(ইজমা-কিয়াস) কিন্তু আপনারা আধুনিকতার ভণ্ডামি প্যাঁচে নিজেরা পুরা পইড়ে আছেন বুঝতেছেনও না,
    হুজুরদের প্রতি আপনাগো নছিহত হইল মৌলিকতা ছেড়ে আধুনিক(পরিবর্তিত/বিকৃত) হও, কিন্তু আপনারা আপনাদের পছেন্দের কোন বিষয়কে পরিবর্তন/বিকৃত হওয়া মাইনা লয়বেন না এডা কেমন আধুনিকতা…।

    কইবেন তাই বলে জাতীয় পরিচয় পরিবর্তন/বিকৃত………!

    তাহলে হুজুর রা কিভাবে তাদের Universal পরিচিতির পরিবর্তন/বিকৃত মাইনা লইবে।
    গায়কের প্রতি আমার কোন আগ্রহ নাই তার কাজের মাধ্যমে কিছু সাম্প্রদায়িক ভন্ড মৌলবাদ চিনিয়ে দ্যেছে আমাদের কে।

    ২৯
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      গানটি শুনেছি। গানটি যতই শ্রুতিমধুর হোক না কেন, এটা আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা।জাতীয় সঙ্গীতের বিধিমালা সংক্রান্ত নিচের মন্তব্যটি পড়ুন। দেখুন জাতীয় সঙ্গীতের অনুমোদিত বিধিমালা ব্যান্ডদল মেনে গেয়েছিল কী না..মেনে চলেনি..কাজেই এরা জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা করেছে। এদের বিরুদ্ধে একশন নেয়া জরুরী।

      শুভকামনা।

      ৩০.১
  24. বোতল বাবা বলেছেনঃ

    এত ভাবাভাবি ও বিতর্কের দরকার কি? জাতীয় সংগীত বিধিমালা, ১৯৭৮ মেনে চললে ও তা লঙ্ঘন না হলেই তো হয়। :arrow: লিংক: জাতীয় সংগীত বিধিমালা, ১৯৭৮ । (২৩-১২-২০১২)

    ৩১
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      বাবুই তোমাকে ধন্যবাদ। লেখার আগেই আমি বিধিমালা দেখে নিয়েছিলাম। তবুও তুমি যখন লিংকটি পাঠিয়েছ, আমি পাঠকদের জন্য এর মূল বিষয়টি তুলে ধরছি।

      জাতীয় সঙ্গীত বিধিমালার বিধি ৭ এ স্পষ্ট বলা আছে যে,

      The National Anthem shall be played only in accordance with the approved notation of the song.

      এছাড়াও জাতীয় সঙ্গীতের প্রথম দু লাইন দিয়ে জাতীয় সঙ্গীত শুরু করা বাধ্যতামূলক। এজন্যই আমি বলেছি এই ব্যান্ডের এক্সপেরিমেন্ট আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের জন্য অবমাননা এবং এটা অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন।

      তোমাকে অনেক ধন্যবাদ বাবুই। শুভকামনা।

      ৩১.১
  25. আসাদুজজেমান বলেছেনঃ

    ধন্যবাদ@হৃদয়ে বাংলাদেশ ,
    যদিও আপনি বলেই দিয়েছেন-

    দেশপ্রেম একটি পরিপূর্ণ জীবনবোধ

    তারপরও দেশপ্রেমের আবেগে ভেজা অনেকের অনুভুতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই, জানতে ইচ্ছে করছে-

    দেশপ্রেম কারে কয়?
    সেটা কি প্রদর্শনের বিষয় নাকি অনুভুতির বিষয়?

    দেশপ্রেমের পোশাকি প্রদর্শন কি আমাদের দেশপ্রেমীক করে নাকি মুর্তিপূজারী করে তোলে?
    নিয়মনিষ্ঠ প্রদর্শনযোগ্য ভড়ং ধার্মীকতায় প্রয়োজন দেশপ্রেমে নয়।
    তবুও আবেগ বলে- রীতি চাই, পোশাকি প্রদর্শন চাই, প্রদর্শনযোগ্য ভড়ং চাই……..
    সেদিন আর বেশী দুরে নয়, যেদিন জাতীয় ফল খাবার আগে রীতি মেনে গোঁফে তেল না দিলে দেশপ্রেম প্রশ্নবিদ্ধ হবে! প্রিয় ফল আম বললে বলা হবে, মুখের স্বাদের বিষয় নয়, এটা জাতীয় চেতনার বিষয়…….

    অবশ্যই এ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত কাম্য, তবে পোশাকি প্রদর্শনের বাহিরে অনুভুতির প্রতিও গুরুত্ব দেয়াটা গুরুত্বপূর্ন।।।

    ৩২
  26. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    @জেমান, ভালো প্রশ্ন করেছেন। আপনার সুতীক্ষ প্রশ্নের আমার সরল জবাব হলো, দেশপ্রেম অনুভুতি ও তা প্রদর্শনের বিষয়। আমার অনুভুতি যদি আমি প্রদর্শন না করি তাহলে রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, “যে কাঠ জ্বলেনা, তাহাকে যেমন অগ্নি বলা বৃথা….” হয়ে থাকবো। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, চারপাশে দেশপ্রেম নিয়ে যে কলরব, তার সবটুকু কি অনুভুতি না কি শুধু প্রদর্শন? বিশেষ মাসে বা বিশেষ দিনে যত গলাকাঁপানো আবেগ তা কি সত্যিই সত্য অনুভুতির গ্যারান্টি দেয়? না।

    ৩৩
  27. সজল যাযাবর বলেছেনঃ

    জিনিয়া আপু

    বাংলাদেশের বিদ্যালয় বা যে সকল স্থানে জাতীয় সংগীত দিয়েই শুরু হয় দিন…..সেখানকার দৃষ্টান্ত আরো বেশি ভয়াবহ। আমরা ক’জন জাতীয় সংগীত জানি সেটাও……….
    বেচারি প্রবাসী সোহিনী মনে হয় এত কিছু বিচার করেনি।

    ৩৪
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      সজল, আমরা প্রকৃত জাতীয় সঙ্গীত জানিনা, এ প্রজন্মকে স্কুলে শিখাচ্ছিনা যথাযথ ভাবে, এ দায় তো আমাদেরই। আর প্রকৃতভাবে না শিখে সে জন্য আমরা কোনও বিকৃত সুরকে সুযোগ দিতে পারিনা..আর সোহিনী কোনও বেচারী নয়..সে জেনে শুনেই সস্তা পাবলিসিটির জন্য জাতীয় সঙ্গীতের বিকৃতি ও অবমাননার মিশনে নেমেছে..ধিক এদের!!!

      আপনাকে শুভকামনা।

      ৩৪.১
  28. মঞ্জুর মোর্শেদ বলেছেনঃ

    আসলে দেশপ্রেম নিয়ে এতটা জাজমেন্টাল হবার কি দরকার আছে । যেসব ছেলেমেয়েরা মাঠে জাতীয় পতাকা হাতে গ্যালারি উত্তাল করে দেশকে সমর্থন দিল , নিজের পরাজয়ে মুষড়ে পড়ল আর জয়ে উদ্বেলিত হল , তাদের কজনাই বা জাতীয় সঙ্গীত পুরো সঠিক করে গাইতে পারবে ?

    যখন পলিসি মেকিং এ বিরাট জনগোষ্ঠী কে বাদ দিয়ে নিয়ম প্রনয়ন করা হয় তখন দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন করতে আমরা ভুলে যাই ।

    ছোট বেলায় মনে হয় আমাদের কাউকেই কোন শিক্ষক কোন দিন এই গানের মধুরতা বুঝিয়ে দেন নি । স্রেফ গাওয়ার জন্যই হয়তোবা গেয়েছিলাম । বুড়ো বয়সে এসে এর তাৎপর্জ , মাধুর্য বুজেছি । আসলে একাত্মতাই কাম্য , ভুলের মাশুল হিসেবে কাউকে দূরে সরিয়ে দেয়াটা ঊচিত হবে কি ?

    ৩৫
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      মঞ্জুর ভাই,আপনাকে ধন্যবাদ। আমাদেরকে জাতীয় সঙ্গীতের তাত্পর্য কেউ শিখিয়ে দেয় নি এটা সত্য..কিন্তু আমরা এটা বুঝেছিলাম যে জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত এবং মানচিত্র আমাদের জাতীয় সত্ত্বায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর জাতীয় সঙ্গীত অবমাননা করতে নেই অন্তত এটা শিখেছিলাম সেই ছোটকাল থেকেই।

      আমার পোস্টের মূল মেসেজ হল জাতীয় সঙ্গীতের বিকৃতি করা যায় কী না..দেশপ্রেম এবং জাতীয় সঙ্গীতের সাথে এর কো-রিলেশন টেনে আনা আমার এই পোস্টের মূল বিষয় নয় নিশ্চিতভাবেই।

      শুভকামনা।

      ৩৫.১
  29. সত্য সন্ধ্যানী বলেছেনঃ

    খোদ রবীন্দ্রনাথ নিজেইতো আমাদের জাতীয় সঙ্গীত বাউল গান থেকে নকল করেছেন।

    আমার সোনার বাংলা গানটি রচিত হয়েছিল গগন হরকরা রচিত “আমি কোথায় পাব তারে আমার মনের মানুষ যে রে” গানটি থেকে। এবং কিছু লাইনটা পুরোপুরি কপি করা।

    ফেসবুকে আমি গানটি শুনেছি, আমার মনে হয়নি এখানে বিকৃত কিছু করা হয়েছে।

    ৩৬
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      রবীন্দ্রনাথ গগন হরকরার বাউল সুর থেকে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন। এখানে রবীন্দ্র সঙ্গীতের থেকেও বড় কথা হল এটা আমাদের জাতীয় সঙ্গীত এবং এর নোটেশন জাতীয় সঙ্গীত বিধিমালা ১৯৭৮ এ অনুমোদিত আছে রাষ্ট্রীয়ভাবে যার কোনরকম বিকৃতি করা মানেই এর অবমাননা করা..বোঝাতে পেরেছি?

      গানের বিকৃতি কী জিনিস এটা বোঝার মত ক্ষমতা আপনার হোক, এই প্রত্যাশা করছি..শুভকামনা।

      ৩৬.১
  30. শ্রওয়াত ahmed বলেছেনঃ

    একজন উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে আমি একমত নই। গানটাকে মোটেও বিকৃত করা হয় নাই। পুরাপুরি সুরে গাওয়া হয়েছে। এর মিউজিক কম্পোজিশন টা ব্যতিক্রম। তাই হয়তো মনে হচ্ছে সুরের বাইরে। গায়িকা একে তো নজরুল সঙ্গীত শিল্পী তার উপর বিদেশি শিল্পী দ্বারা কম্পোজ করা হয়েছে। অনেকে বলছেন যে এই গান গাওয়ার জন্য কেইস করা উচিত। তাহলে তো বাংলাদেশের ৮০% (প্রধান মন্ত্রী সহ ) মানুষের বিরুদ্ধে কেইস করা উচিত। কারন কত জন বাঙালি আমাদের জাতীয় সঙ্গীত সুরে গায় তা সন্দেহ আছে। আরে ভাই গানটা সুন্দর ভাবে আবেগ দিয়ে গেয়েছে বলে মানুষ গানটাকে বার বার শুনছে। এটাকে সাধুবাদ জানান। অন্তত পক্ষে গানটাকে তো শুনছে, যেটা হয়তো বছরে এক দুই বার শুনত। আমাদের বাঙালি দের মধ্যে এই সমস্যা, কারো ভালো কেউ দেখতে পারে না। কাউকে কেউ নতুন কিছুতে উৎসাহ দিতে পারে না।

    ৩৭
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শিল্পী হয়েছেন তো কী হয়েছে? জনাব মুহিত ও অর্থনীতিতে সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারী..দেশের অর্থনীতি চালাতে গিয়ে তো হিমশিম খাচ্ছেন..প্রায় সময়ই বোঝার ভুলে ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন..তো সঙ্গীত শিখলেই যে সব বোঝার ক্ষমতা হয় না তা তো আপনাকে দেখে আবারও প্রমাণিত হল.।

      ৮০ ভাগ মানুষ জাতীয় সঙ্গীত শুদ্ধভাবে জানে না, কিন্তু এই ৮০ ভাগ মানুষ নিজেদের ভুল গান তো আর বাজারজাত করতে যাচ্ছে না, তাইনা?যে করতে যাচ্ছে তার বিরুদ্ধেই তো মামলা করা দরকার নাকি বলেন ভাই?

      আর জাতীয় সঙ্গীতের বিধিমলাতে এই সঙ্গীত কখন কোথায় কবে পরিবেশন হবে সেটাও সুস্পষ্টভাবে বলা আছে জনাব উচ্চাঙ্গ পন্ডিত..সেগুলো একটু পড়ে জ্ঞানের ভান্ডার সমৃদ্ধ করে নেবেন..জাতীয় সঙ্গীত বারবার শোনার মত সঙ্গীত হিসেবে ব্যাবহার করাও অবমাননার শামিল। বোঝা গেছে?

      শুভকামনা।

      ৩৭.১
  31. আরিফুল হক বলেছেনঃ

    লেখিকার সাথে দুটি বিষয়ে আমি একমত আবার দুটি বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করতে চাই। যে বিষয়ে একমত নই সেটাই আগে বলে নিইঃ
    ১। গানটি মোটেও বিকৃত সুরে গাওয়া হয়নি। গানের কম্পোজিশন ভিন্ন, পশ্চিমা বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারের কারণেই একটু অন্যরকম লাগছে, এর বেশি কিছু নয়।
    ২। শুধু শুধু সমস্ত দোষ পাকিস্তানী তবলাবাদকের ঘাড়ে চাপানোর কোন মানে হয় না। যেখানে গানের মূল শিল্পী ও পরিচালক বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত সেখানে আর বলার কি থাকতে পারে? পাকিস্তানি হলেই তো সবাই আর ইয়াহিয়া, টিক্কা খান আর নিয়াজি হয়ে যায় না! ভাল মন্দ সর্বত্রই থাকে। কেন, আসমা জাহাংগীর কিংবা হামিদ মীরের মত যারা পাকিস্তান সরকারের নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার কথা বলেছেন তারাও তো ঐ তবলাবাদকের মতই পাকিস্তানি। জাতীয়তা দিয়ে মানুষকে বিচার করা উচিত নয়, তাহলে সব জার্মান/অস্ট্রিয়ান হত হিটলার আর সব ইটালিয়ান হত মুসোলিনি। একবার ভাবুন তো বাইরের দেশের লোকেরা যদি নিজামী বা মুজাহিদের মত নরপশুদের স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ব্যবহার করে বাংলাদেশীদের মূল্যায়ন করা শুরু করে! যাই হোক তবলাবাদকের জাতীয়তা নিয়ে একটা প্যারাগ্রাফ ব্যয় করে লেখিকা তাঁর লেখনিটির মান কমিয়েছেন বৈ বাড়ান নি।
    এবার যে বিষয়ে আমি একমতঃ
    ১। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট কখনই গ্রহণযোগ্য নয়। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের দেশাত্ববোধক বহু গান রয়েছে। নতুন ভাবে কম্পোজিসনের ইচ্ছা থাকলে তারা সেগুলো নিয়ে চেষ্টা করতে পারত। তাদের মনে রাখা উচিত ছিল যে এটা শুধুমাত্র একটা রবীন্দ্রসংগীত নয়, বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত।
    ২। সবচেয়ে খারাপ লেগেছে যে বিষয়টি সেটা হল গায়িকা গানটি শুরু করেছেন শেষের প্যারা থেকে। তার উচিত ছিল গানটি নিয়মমত ‘আমার সোনার বাংলা,আমি তোমায় ভালবাসি’ থেকে শুরু করা। সুতরাং গানের কথা গায়িকা বিকৃত করেছেন এ বিষয়ে কোন দ্বিমত থাকতে পারেনা।
    পরিশেষে যে কথাটি বলতে চাই তা হল, গায়িকা বিতর্ক তৈরি করে দ্রুত প্রচার পেতে চেয়েছেন কিন্তু ষোল কোটি বাঙ্গালির শ্রদ্ধার স্থানে যে জাতীয় সংগীতের অবস্থান তার সম্মানের প্রতি তাঁর খেয়াল উচিত ছিল।

    ৩৯
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      আরিফ ভাই, আপনাকে ধন্যবাদ আপনার সুচিন্তিত চমত্কার মন্তব্যের জন্য। দ্বিমতের বিষয়ে আসি।

      আমি আসলে পোস্ট লিখার আগে আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের প্রচলিত অনুমোদিত গানটি এবং ক্ষীয় ব্যান্ডের গানটি অনেকবার শুনে নিয়েছিলাম। এবং দুটি গানের সুরে যথেষ্ট তারতম্য পেয়েছি।

      দ্বিতীয়ত পাকিস্তানী মানে সবাই খারাপ এরকম মনোভাব আমি প্রকাশ করিনি মোটেও। এই ব্লগে আমি পাকিস্তানী কিশোরী মালালাকে নিয়ে “নারী শিক্ষা” নামে একটি পোস্ট লিখেছিলাম যা বিডি ব্লগ এ দীর্ঘ দিন ফিচার পোস্ট হিসেবে স্টিকি হয়েছিল। কিন্তু হাসান মহিএদ্দিনের জাতীয় সঙ্গীত বিকৃতি ও ভিডিও এডিটর হিসেবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা আমি আমার পোস্টের মাধ্যমে তুলে ধরেছি মাত্র।সোহিনী আলম যে আসল দোষী সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নাই।

      আর বাকি বিষয়ে সহমত পোষনের জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

      শুভকামনা।

      ৩৯.১
  32. জামাল বলেছেনঃ

    “জনাব মুহিত ও অর্থনীতিতে সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারী..দেশের অর্থনীতি চালাতে গিয়ে তো হিমশিম খাচ্ছেন..প্রায় সময়ই বোঝার ভুলে ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন..”
    উইকিপিডিয়ার বাংলা পৃষ্ঠা থেকে উদ্ধৃতি দিচ্ছি:
    “আবুল মাল আবদুল মুহিত ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে সিলেটের এমসি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে ইংরেজী সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে ঐ বিষয়ে প্রথম শ্রেণী পেয়ে কৃতকার্য হন এবং একই বিষয়ে ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। বিদেশে চাকুরীরত অবস্থায় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন তিনি। অতঃপর ১৯৬৩-৬৪ শিক্ষাবর্ষে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমপিএ ডিগ্রী লাভ করেন।”

    ৪০
  33. ক্রিটিক বলেছেনঃ

    এই সঙ্গীতের ‘বিকৃতি’ তো মুরুব্বীরাই প্রথম করে। কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই গানটি যখন ক্রিয়েট করেছিলেন, সেটা কোন মিনিংকে সামনে রেখে করছিলেন, জানা আছে? সে মিনিং কারা প্রথমে বিকৃতি ঘটিয়েছে?
    কোন গজ দড়ি মিটার দি মাপা হইছিল এই ‘মহানতা’? সেটা কে কোন মাথা ধরে কে কোন মাথা নিয়ে কতদূর পর্যন্ত হিসেব করেছিল এই ‘মহানতার’ মাফজোখ? আপনার ক্ষুদ্র মগজে এই ‘মহান’এর ব্যাপ্তি ধারণ করতে সক্ষম কি? [মন্তব্যের অসৌজন্যমূলক অংশ মুছে দেয়া হল :ব্লগ টিম] এই ‘মহান’ ইমেজটিই তো এসেছিল ‘ধর্ম’ থেকে। যার মাফজোখ কেউ কখনো দিতে পারে নি। আর এই রবীন্দ্রনাথের গানও ‘মহান’? মানবজাতির ইতিহাসে তিনি নিশ্চয় বড় কবি। কিন্তু বিপুল সমাজে তার প্রভাব কতদূর পর্যন্ত, যা ‘মহান’ অভিধায় অভিষিক্ত হতে পারে? ও তাকে তো ‘মহান’ বলেন না, বলেন তার ওই সঙ্গীতকে ‘মহান’! মানুষের মধ্যে কি এমনও কণ্ট্রাডিকটরি থাকতে পারে?
    আপনেরা আওয়ামী রাজাকাররা তো মুজিবের আগেই তার নাম নিতে চাইবেন না। তা, তিনি কি করে ‘মহান’ হন? বটে মুজিব মহান হতে পারে আপনাদের দৃষ্টিতে। কেননা, তার নাম তো আপনেরা সকলের ওপরেই রাখেন। এমন কি ঈশ্বরের ওপররেও! ধংস হোক এই চেতনার লোকগুলো!
    এইসব জন্ম জন্ম অনিঃশেষ মিথ্যুকরা কবে জাহান্নামে যাবে? এই কূটাচারীদের জাহান্নাম এই দুনিয়া থেকেই কেন শুরু হচ্ছে না!

    ৪১
  34. গিট্টুমামা বলেছেনঃ

    ক্রিটিক সাব গিট্টু লাগাই দিছেন দেখছি :mrgreen: :mrgreen: :mrgreen:
    আমাদের পূর্ণতা আর অপূর্ণতা নিয়ে আপনার অনেক খেদ। :D :D

    জাতীয় সঙ্গীত হল একটা নির্দিষ্ট ফ্রেইমওয়ার্কে সকল প্যারামিটারে সঙ্গায়িত একটি সঙ্গীত। এটি কোন গান নয়।

    আমার দৃষ্টিতে গিট্টু লেগে থাকতে পারে তবে আমি যা দেখেছি তা হলো নেশাখোরের মতো চোখ মেলে মেলে ইশারা ইঙ্গিতে ভোগের ভাব নিয়ে একটা জটকা চুলো গায়িকা জাতীয় সঙ্গীতের চরনগুলো টেনে টেনে উচ্চারণ করছে। সামষ্টিক বিষয়টাকে যদি সে জাতীয় সঙ্গীত বলে থাকে তবে আপত্তির কারন আছে বৈকি।

    জাতীয় সঙ্গীতের সাথে যে ভাব, মর্যাদাবোধ এবং ভালোবাসা জড়িত আপনি কি তার সাথে পরিচিত? গিট্টুটা খোলেন।

    ৪২
  35. আইরিন সুলতানা বলেছেনঃ

    ফেসবুকে প্রকাশিত একটি নোট/স্ট্যাটাস শেয়ার করছি, এটা জনপ্রিয় রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী মিতা হকের লেখা। স্ট্যাটাস বাংলায় হলেও ইংরেজি হরফে ছিল। সুবিধার জন্য সেটাকে হুবহু বাংলা হরফে টাইপ করে নিয়েছি কেবল –

    আজ, ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ছাত্রী, সুগায়িকা সেতুর বিয়েতে অংশগ্রহণ করে সিরাজগঞ্জ থেকে বাড়ি ফিরলাম।

    এসে কন্যা জয়িতার ল্যাপটপে আজ প্রথম ’ক্ষ’ ব্যান্ডের গায়িকা সোহিনি’র কণ্ঠে- ‘আমার সোনার বাঙলা’ শুনলাম।

    আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়েছে, প্রথমত যে বাদ্যযন্ত্রগুলো প্রিলিউড হিসেবে এবং পুরোটা গানের সঙ্গে বেজেছে, সেটি প্রশংসার দাবি রাখে পরিমিতি বোধের জন্য।

    গানটি আমরা যেভাবে গাই, গানের যে নোটেশন আমরা ফলো করি, সোহিনিও তাই করেছে। এই মিউজিক ভিডিও’তে গানটা শোনার সাথে সাথে ভোকালিস্ট এর এবঙ মিউজিশিয়ানদের অভিব্যক্তি গানটির প্রতি তাদের আন্তরিক শ্রদ্ধা এবং পুরো উপস্থাপনাটিতে তাদের সিনসিয়ার ইমোশন এর প্রকাশ আমাকে মুগ্ধ করেছে।

    সোহিনি গানটির সঞ্চারী থেকে শুরু করেছে, এটি হয়ত নিয়ম বিরুদ্ধ, কিন্তু মেয়েটির গানের সঙ্গে তার আত্মিক সংযোগ আমাকে একটা নির্মল দেশপ্রেমের আভাষ দিয়েছে। সেই ক্ষেত্রে সোহিনির এই সঞ্চারী থেকে গান ধরাটাকে আমি গুরুত্ব দেব? নাকি গভীর দেশপ্রেম নিয়ে ৪ জন্য ভিনদেশি বাদক নিয়ে কোন অতিরঞ্জণ ছাড়া সুন্দরভাবে একটি সঙ্গীত শুরতে পাওয়াটাকে গুরুত্ব দেব? গানটি আমাকে কমপ্লিটলি মিউজিকাল মনে হয়েছে। সেখানে মেয়েটি প্রপার ইমোশন দিয়ে এবং অসম্ভব সুরে গানটি গেয়েছে, গানটিকে সুখশ্রাব্য করেছে।

    আশা করি গানটি নিয়ে মতামতের যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে সেটি এরপর বিলুপ্ত হবে।

    সোহিনি এবং সোহিনির মত আরো ছেলেমেয়েরা রবীন্দ্রনাথের গানকে এভাবেই প্রাণে ধরুক পরিমিতি বোধ এবং সততা নিয়ে।

    শুভ কামনা।

    মিতা হক

    মিতা হকের ফেসবুক স্ট্যাটাসের লিংক –
    https://www.facebook.com/notes/mita-huq/khio/341547939294650

    ৪৩
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      আইরিন তোমাকে ধন্যবাদ। বাংলানিউজ24 থেকে হুবহু নিচের অংশটি তুলে দিচ্ছি,

      শান্তিনিকেতন থেকে সঙ্গীত শিক্ষায় শিক্ষিত সাদি মহম্মদ বলেন, জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে দুরভীসন্ধি আমরা আগেও দেখেছি। একাজ সেই দুরভীসন্ধীর অংশও হতে পারে। নতুন সুরারোপের জন্য ‘ক্ষ’ কেনো বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতকেই খুঁজে পেলো সে প্রশ্ন তুলে রবীন্দ্রসঙ্গীতের এই প্রথিতযশা শিল্পী বাংলানিউজকে বলেন, কোনো মৌলবাদী গোষ্ঠীরও কাজ হতে পারে এটি।

      আর কাজটিকে ন্যক্কারজনক বলে মত দিয়ে রবীন্দ্রসঙ্গীতের কালোত্তীর্ণ শিল্পী মিতা হক বাংলানিউজকে বলেন, সারাজীববন এসব উল্টোপাল্টা অপসংস্কৃতির চর্চার বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। এদের বিষয়ে কথা বলার রুচিও হারিয়ে ফেলেছি।

      তিনি বলেন ‘ক্ষ’ অনেক দূরের একটি বিষয়। এদের নিয়ে কথা বলতে চাই না। তবে একটি কথা বলবো শুভবুদ্ধি সম্পন্ন ছেলে মেয়েরা এমন কাজ করতে পারে না। যারা বাংলাদেশের ইতিহাস পড়েছে, যারা বাংলার রূপ দেখেছে, সভ্যতা সংস্কৃতির কথা জেনেছে তারা বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে এমন অপকর্মে লিপ্ত হবে না।

      সোহিনী দেশে যখন ছিল না, তখন মিতা হক গাইলেন এক কথা, আর বান্ধবী ফেরদৌস আরার ভাগ্নী সোহিনী বাংলাদেশের আসার পর পরই মিতা হক গাইলেন আর এক কথা!!!আর যে গান নিয়ে এত তোলপাড়, বাংলানিউজকে সাক্ষাত্কার প্রদান কী মিতা হক না শুনেই দিয়েছিলেন? তিনি কী সে গান এতদিন পর শুনলেন?ধিক এই সব শিল্পীদের যারা এক মুখে বহু রঙ লাগিয়ে থাকে।

      ৪৩.১

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...