ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

২ জানুয়ারি ২০১৩, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ও বাংলাদেশ-ভারত সর্ম্পক’ শীর্ষক বিশেষ সেমিনারে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাসের ডেপুটি হাইকমিশনার শ্রী সন্দীপ চক্রবর্তী মন্তব্য করেন যে, পূর্বের তুলনায় বর্তমানে সীমান্ত হত্যা অনেক কমেছে। তিনি স্বীকার করেন যে সীমান্ত হত্যাকাণ্ড দুঃখজনক বিষয় (সুত্র: নিউজ মিডিয়া বিডি.কম)। ভারতীয় হাইকমিশনার যখন সীমান্তে হত্যাযজ্ঞ কমেছে বলে দাবি করছিলেন, ঠিক সেদিনই ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বিভীষণ সীমান্তে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় গরু ব্যবসায়ী দুই বাংলাদেশিকে (সুত্র: প্রথম আলো, ৩ জানুয়ারি ২০১৩)। এই হত্যাকাণ্ডের ঠিক আগের দিন নতুন বছরের প্রথম দিন আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রটির কাছে আমরা পেয়েছিলাম হ্যাপি নিউ ইয়ারের উপহার, ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক হত্যা করা আরও দুই গরু ব্যবসায়ীর ক্ষত বিক্ষত রক্তাক্ত লাশ।

এই সব নারকীয় হত্যাযজ্ঞ আর পাশবিক অত্যাচারের সময় বাংলাদেশের জনগণের টাকায় পালিত বিজিবি কী করে তা জিজ্ঞেস করে তাদের মানহানি আমরা নাই বা করলাম!!কিন্তু আমাদের ঠোট কাঁটা সাংবাদিকেরা সীমান্তে হত্যাযজ্ঞের বিষয়ে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর এর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। বরাবরের মতই গত বাঁধা উত্তর, তদন্ত হবে, তদন্ত রিপোর্টের উপর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “ভারতের সঙ্গে সমঝোতা অনুযায়ী কেবল আত্মরক্ষার জন্যই গুলি চালানো যেতে পারে।’ খুব ভাল কথা, আত্মরক্ষার খাতিরে হত্যা করা অবশ্য প্রয়োজনীয়। তাইতো যখন খামাখা বন্দুক কাঁধে বর্দি পড়া বিএসএফের নির্জীব শরীরে আক্রমণ চালায় আমাদের পুষ্টিকর খাওয়া খেয়ে মাসল বানান তাগড়া লুঙ্গিপরা গরু পাচারকারীগণ, তখন তাদের অতর্কিত হামলায় নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে নাকি ঐতিহাসিক সেই সমঝোতা আইনের উপর ভিত্তি করে গুলি করতে বাধ্য হয় নিরীহ গোবেচারা বিএসএফ এর বন্দুকধারী রক্ষিদের, এমনটাই দাবি করে আলাভোলা বিএসএফ। গুলি করে হত্যা করার পর ময়না তদন্তের নামে সেইসব লাশ নিয়ে যায় বিএসএফ। পরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) আর বিএসএফ এর মধ্য নাকি পতাকা বৈঠক করে লাশ ফেরত আনা নিয়ে দেনদরবার চলে। আশ্চর্য, অন্যায় করে বিএসএফ, অন্যায় কেন করল সেই প্রতিবাদ তো দূরের কথা, তাদেরকে হুজুর হুজুর করে হাত কচলেও বিজিবি পায়না সে হতভাগা বাংলাদেশীর রক্তাক্ত লাশ!!!

পত্রিকা মারফত জানা যায় যে, সীমান্তে বিএসএফকে আক্রমণ করা তো দূরে থাক অনেক সময় বিএসএফের সদস্যরা বাংলাদেশে ঢুকে নিরীহ ব্যক্তিদের বিএসএফ ক্যাম্পে আটক করে প্রকাশ্যে মারপিটসহ নানাভাবে নির্যাতন করে। আর সেইসব নারকীয় দৃশ্য দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখেন বাংলাদেশ সীমান্তসহ ভারতের আশপাশের গ্রামবাসী। অনেক সময় অনেকের কোনও খোঁজ আর পাওয়া যায় না। মিডিয়ার কল্যাণে এসব ঘটনা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়। খুব বেশি লেখালেখি হলে সরকার মাথা ঘামায়, নতুবা নীরবেই সম্মতি দেয় বিএসএফ কর্তৃক এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞের।

বিএসএফের দাবি অনুযায়ী যাদের হত্যা করা হয় তারা সবাই নাকি চোরাকারবারী (সুত্র: বিবিসি বাংলা.কম) ।

মানলাম। কিন্তু চোরাকারবার এর সাথে কী একা বাংলাদেশী জড়িত? ভারতের নাগরিক যদি গরু না দিত, তবে কাটাতার কেটে বাংলাদেশী চোর কী ভারতীয়দের বাড়ি থেকে গরুর দড়ি খুলে এনে এপারে পাচার করছিল? এ তো সহজেই অনুমেয় যে, উদ্দেশ্যমূলক ও পরিকল্পিতভাবে বিএসএফ এ হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে থাকে। ঘুষের টাকার বনিবনা না হওয়া কিংবা বাংলাদেশীদের প্রতি চরম ঘৃণাও হতে পারে এর অন্যতম কারণ। বিএসএফ যতই বলুক না কেন, একজন/ দুজন গরু চোর ওদের উপর হামলা চালিয়েছে আর ওরা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালিয়েছে, এই মিথ্যা গালগল্পে অন্তত কেউই এখন আর বিশ্বাস করে না।

কিন্তু কথা হল যে, ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী দ্বারা এ হত্যাযজ্ঞ তো নতুন নয়,ফালানি হত্যাকাণ্ড এখনো সবার মনে উজ্জ্বল। অনেক বিতর্কিত হত্যার অনেক তদন্ত হয়েছে, আলোচনা, সমালোচনা হয়েছে, ভারতীয় বাহিনীর পাশবিক অত্যাচারের অনেক প্রমাণ পত্র পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে, তারপরও কেন বন্ধ হয়ে যায়নি তথাকথিত বন্ধু দেশ কর্তৃক এই সীমান্ত হত্যাযজ্ঞ?

তাই আমাদের প্রশাসনের কাছে আমাদের জোরালো দাবি, সীমান্তে বিএসএফের হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নিন। দাদাদের কাছে হাত কচলে কোনও কাজ হবে না। দরকার সঠিক কূটনৈতিক কৌশল, চোরাচালানি বন্ধের জন্য নেয়া হোক কার্যকরী আইন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ । নতুন বছরে সীমান্তে আর কোনও লাশ নয়, আর কখনোই নয়।

৩৩ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    ভালো এবং গ্রহনযোগ্য বিশ্লেষন। চোরাকারবারী আর অবৈধ গরুব্যবসায়ীরা যুদ্ধপরাধীদের বিচার বন্ধ করার জন্য কুকর্মগুলো হঠাৎ শুরু করেছে, আগে এমন ছিলোনা – এই অভিযোগ যে এখনো উঠেনি, তাতেই আমি খুশি। বেশীরভাগ ভেজিটারিয়ান বিএসএফ সদস্যরা চুক্তি পালনের জন্য গুলি করে দুষ্কৃতিকারীদের হত্যা করতে বাধ্য হয়, এটি আমাদের মহামান্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের ব্যাখ্যা। যদিও দুষ্টলোকেরা বলবে যে এই ব্যাখ্যাতো ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের দেয়ার কথা, আমাদের অর্থে প্রতিপালিত নাদুসনুদুস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেন দেবেন? উত্তরটি খুব সোজা এবং সেসব দুষ্টলোকদের থোথামুখ ভোতা করার জন্য যথেষ্ট – কুইসলিং এভরিহোয়ার (উইকিপেডিয়া)। এনাফ?

    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      মেন্টর, বহুতদিন বাদ “কুইসলিং” টার্মটা দিয়ে আমার অতি প্রিয় দেশ নরওয়ের কথা মনে করিয়ে দিলেন, যারা নাকি দুর্নীতিতে আমাদের ঠিক বিপরীত!!! গোটা কয়েক লেকচার দিয়ে ডক্টর গর্ছিয়া বুঝিয়েছিলেন বহু কষ্টে….আর এখন তো উদাহরণ হিসেবে মোটা তাজা রাজনৈতিক দলকে চোখের সামনেই দেখতে পাচ্ছি.. :( :( .

      এক দল ব্যস্ত ভারত তোষণ এ আরেক দল পাকি তোষণ এ..

      ১.১
  2. মোঃ সবুজ মিয়া বলেছেনঃ

    ওর ত্‍ বন্ধু নামে হায়েনা :twisted: ভালো লাগলো আপনার প্রতিবাদ দেখে , এটা যদি আমাদের সরকার বুঝতো , তাহলে এত প্রাণ অকালে ঝরে যেত না ।

    অভিনন্দন !!

    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      মরুর প্রান্তে ভাই, এই সরকারের আগেও তো বিএসএফ আমাদের সীমান্তে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল..এ তো নতুন নয় ভাই..কোনও সরকার জোরালো প্রতিবাদ করেনি..মিন মিন করে হাত কচলে হয়তো বলেছিল, যা আমাদের দাদা আর দিদিরা বাচ্চা পোলাপাইনের হাউকাউ মনে করে জাস্ট ঈগনর করেছে..আর তাই তো এখন এইসব হত্যা তেমন আর পাত্তা পাচ্ছে না কোথাও, নির্বিবাদে মানুষ মেরে ওরা বেশ বড় গলায় বলছে যে যা করেছে ঠিক করেছে, আর আমাদের সরকারও মেনে নিচ্ছে।

      শুভকামনা।

      ৩.১
  3. মজিবর বলেছেনঃ

    ধন্যবাদ জিনিয়া আপু, সুন্দর বিশ্লেষণধর্মীয় আলোচনার জন্য। আমাদের দেশের সরকার কোনও দেশের সাথেই আলোচনা করে সহজেই কিছু ছিনিয়ে আনতে পারেনা। একনিষ্ঠ বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর নায়।
    প্রয়াত আমলা রেজাউল হায়াত সাহেবের একটি প্রবন্ধ বাংলাদেশ প্রতিদিনে লিখেছিলেন, ভারতীয় সরকারের পক্ষ থেকে একসময় উচ্চপরচায়ের সরকারী প্রতিনিধী এসেছিল, সেই দল একটি বিষয়ে চুক্তি করতে রাজি ছিলেন না মতের অমত হওয়াতে, ঠিক সেই সময় এককূটনীতি বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন চুক্তি স্বাক্ষর হচ্ছেনা তখন বঙ্গবন্ধু চোখ রাংগিয়ে বলেছিলেন চুক্তি হবেই এবং তখই তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করে চুক্তি করানোর জন্য জোর দাবি জানিয়েছিলেন এবং পরদিনেই চুক্তি করে ভারতের প্রতিনিধী গিয়েছিলেন। সেরকম সাহসী নেতা কোথায় পাব।
    আর একটি কথা বলব জানী তা অনেকে দালাল বলবেন তবুও বলব। আমাদের দেশের মানুষ অনেক সাহসী এবং ভারতের ভিতর থেকে তারাই গরু আনে। একসময় প্রয়োজনে দর্শনা বর্ডারে যেতে হয়েছিল সেই সময় একগরু চোরাকারবারীর সহিত কথোপকথন হয় তা নিম্নরূপ:
    সে কয়েকটি গরু পারাপারের ঘটনা বলেছিল।
    “এক) বিএসএফ টাকার বিনিময়ে রাস্তা পারপারের ব্যবস্থা করে দেয় এবং অনেক সময় গরু পার হলে টাকা না দিয়েই চলে আসি।
    দুই) একবার বিএসএফ গরু আনতে দিবেই না কিন্তু গরু আনতে না পারলে লোকসান অনেক তাই 10 মিনিট সময় পেলেই 50-70 বা অধিক গরু পার করা যায়। তার করে কী জানেন দা বা হাসু বা বটি রাস্তার উপর জোরে ছুড়ে মারে যাতে 20/25 হাত দূরে যাই। এভাবে তারা 2/3 জন পরপর অবস্থান করে আর বিএসএফ হাসু চালনার শব্দে এদিক ওদিক দোরে চলে যাই সেই সময়ের মাঝে গরু পার করে। কিন্তু তারপূর্বে তারা কাঁটা তারের বেড়া কেটে পথ করে রাখে। এবং তারে থাকে বিদ্যুত সেক্ষেত্রে তারা করে কী দেখুন যেটুকু কাটবে সেইখানে আবার বাড়তি তার দিয়ে দুই পাশের সংযোগ ঠিক রাখে যাতে কর্তিপক্ষ বুঝতে নাপারে বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
    তিন) একবার তার ঘটনার একটি বিবরণ সে বলল বিএসএফ কে বেধে অস্ত্র দূর রেখে গরু পার করে তারপর আবার বিএসেফকে ছেড়ে দিয়ে দোরে নিরাপদে চলে আসে। অস্ত্রটি সেরকম দূরে রাখে অস্ত্র এনে গুলি করার পূর্বেই যাতে নিরাপদে আস্তে পারে।” বলে রাখি গরুর দাম কিন্তু গরু নেবার পূর্বে প্রদান করতে হয়। ”
    আমরাই কিন্তু বেশি অবৈধ পথে যাতায়াত করি।
    তবে হ্যা অন্যায় যতই হোকনা কেন গুলি করে মারতে হবে এর কোনও সত উত্তর না। এর দৃঢ় প্রতিবাদ অব্যশই করতে হবে।

    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      মজিবর ভাই, আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আপনি আমার জ্ঞানের ভান্ডার সমৃদ্ধ করলেন। আমি আপনার মন্তব্যের সাথে সহমত।

      আমি নিজেও একটা প্রজেক্টের অংশ হিসেবে বুড়িমারি সীমান্তে কাজ করেছিলাম। আমারও কিছুটা ধারনা আছে। তাছাড়া আমার পিএইচডি থিসিসের একটা চ্যাপ্টার আমি “ভারত-বাংলাদেশ ইনফর্মাল রাইস ট্রেড” এর উপর করছি..আসলে যেখানে দাম ও চাহিদা বেশি এবং বাণিজ্য রেসট্রিকটেড সেখানে অবৈধ সীমান্ত বাণিজ্য হবেই..এটা দু দেশের কাস্টমস থেকে শুরু করে সবাই জানে..আর জেনেও তা এলাউ করে কারণ এতে লাভের ভাগ এরাও পায়..কিন্তু মুড়ি মুড়কির মত বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে যেভাবে হত্যা হচ্ছে তা সত্যি আশঙ্কাজনক.।

      শক্ত প্রতিবাদ জানান দরকার..

      অনেক অনেক শুভকামনা।

      ৫.১
  4. মজিবর বলেছেনঃ

    মরুর প্রান্তে,
    “অন্তত এই সরকারের আমলে কোনমতেই এইসব হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হবে না।”
    কেন এই সরকার কী বেশি নতজানু?
    কোনও সরকারই কিছু করতে পারবে না।

  5. মোঃ তানভীর সাজেদিন নির্ঝর

    মোঃ তানভীর সাজেদিন নির্ঝর বলেছেনঃ

    ধন্যবাদ জিনিয়া আপু, সহমত আপনার সাথে কিন্তু মন্তব্যে অংশে ‘মজিবর’ ভাই যে তার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন তা কিন্তু সবই বাস্তব। মেহেরপুর এর মুজিবনগর, সাতক্ষীরার ভোমরা এবং বেনাপোল সীমান্তের অনেক জায়গায়ই আমি গিয়েছি আর তা থেকে যে বাস্তব চিত্র দেখে এসেছি তা রীতিমত আরও ভয়ংকর যা এখানে লিখলে বিশ্বাসযোগ্য নয় কিন্তু বাস্তবে এসবই ঘটছে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে। পাঁচবিবি, হিলি, নওগাঁর ধামুইরহাট সীমান্ত এলাকার চিত্র চলচিত্রকেও হার মানায়। তবে এর থেকে পরিত্রানের জন্য শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ বেছে নিতে হবে।

    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      তানভীর, আমার মুক্তি মামনি কেমন আছে? বড় হয়েছে একটু তাইনা?যত পার মেয়েকে সময় দিও..ভাবীকেও একটু রেস্ট নেবার সুযোগ করে দিও.।

      হ্যা, আমিও সীমান্তে কিছু কাজ করেছিলাম..অভিজ্ঞতা আছে অল্প বিস্তর..আসলেই কূটনৈতিকভাবে এর সমাধান দরকার..দুই দেশের ভালোর জন্যই দরকার..আমার কিছুটা ইকোনমিক এনালাইসিস করা আছে..কখনো সুযোগ হলে একটা পূর্ণাঙ্গ পোস্ট লিখব.।

      শুভকামনা।

      ৭.১
  6. রাশেদুল ফরহাদ বলেছেনঃ

    “গরীবের মধ্যে গরীব, ছোট লোকের চাইতে আরো বেশি ছোট লোক।” আমাদের অবস্থা কুবের মাঝির মতো।

    নিরস্ত্র বাংলাদেশীদের থেকে আত্মরক্ষার জন্যে নাকি গুলি ছূড়তে হয়!

    এর পেছনে আমাদের সুবিধাভোগী রাজনীতিবিদেরাও কম দায়ি নয়। ভারতের আশীর্বাদ না হলে তো আবার তাদের দিন চলে না।

    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      ফরহাদ, যুগে যুগে আমাদের মেরুদণ্ডহিন ক্ষমতা লোভী সরকারের জন্যই আমাদের আজ এই অবস্থা..একবার ভেবে দেখুন এক মমতার জেদের কারণে মনমোহন পর্যন্ত তিস্তা চুক্তি করাতে পারলো না..মমতার মত শক্ত করে কী আমাদের কোনও সরকার নিজের স্বার্থের কথা ভারতকে জানাতে পেরেছিল? পারে নাই..তাইতো আমাদের এই অবস্থা!!

      অনেক অনেক শুভকামনা।

      ৮.১
  7. হাসান মসফিক বলেছেনঃ

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কোন কথা আমার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়না।
    ইভেন, কোন রাজনীতিবিদের কথা বার্তায় কোন রকম দায়িত্বশীলতার পরিচয় পাইনি। এটা যেন এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে।
    ভালো লিখেছেন। শুভ কামনা।

    ১০
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      একদম ঠিক বলেছেন, এরা যা বলে তা নিজেরাই বিশ্বাস করে না, আমরা বিশ্বাস করব কী!!আউলফাউল কথা বলে জুতার বাড়ি খাবার নজিরও সম্প্রতি দেখা গিয়েছে, তারপরও কারও আক্কেল হয়েছে বলে মনে হয় না.।

      নিজের দেশের স্বার্থ দেখতে হবে সবার আগে..প্রয়োজনে কঠোর হতে হবে..ভারতের নিজেদের উন্নয়নের জন্যই বাংলাদেশকে তাদের প্রয়োজন..কাজেই সেই সুযোগ আমাদের কাজে লাগানো দরকার…কিন্তু আমাদের সরকারেরা শুধু পারে নিজেদের গদিখানি আকড়ে ধরে রাখতে..গদি ছেড়ে উঠে দাড়ানোর কথা এরা ভাবতেই পারে না যেন!!

      শুভকামনা।

      ১০.১
  8. জুলফিকার জুবায়ের

    জুলফিকার জুবায়ের বলেছেনঃ

    আলাভোলা বিএসএফ

    বিএসএফ এবং তাদের দায়িত্বশীলতা বুঝি। কিন্তু আলাভোলা বললেন কেন?

    দীর্ঘদিন পর আবারও ফিরে আসায় সাধুবাদ জানাই।

    ১১
  9. Bobby বলেছেনঃ

    এটা যেন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে সকালবেলা খবরের কাগজ খুললে সীমান্তে বাংলাদেশের নাগরিকদের পাখির মত গুলি করে মেরে ফেলার খবরে যেন কোনও প্রতিকার নাই !না বাংলাদেশ বা ভারতের বিদেশ দফতরের এই খবর গুলি নিয়ে কোনও উদ্যোগ আছে বলে মনে হয় না!বছরে বাংলাদেশ আর ভারতের বিএসএফ এক ডজন মিটিং করে আর প্রেস ব্রিফিং দেয় যে আর সীমান্তে গুলি হবেনা কিন্তু বিএসএফ এর প্রহরী রা এমন দিন নাই যে বাংলাদশের মানুষদের উপর গুলি করেনা !আমাদের দেশের কর্তাদের উচিত কঠোর ভাবে এই জঘনো ঘটনার নিন্দা করা!

    ১২
  10. Bobby বলেছেনঃ

    কর কথা বিশাস করব বুঝতে পারছিনা !মাননীয় বিদেশ মন্ত্রী আজ তার প্রেস মিটিংগে বলেন সীমান্তে বিএসএফ কতৃক গুলি করে মানুষ মারা অনেক কমেছে আর মানব অধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেছেন তিনি এই গুলি করে বাংলাদেশীদের মারার বিরুদ্ধে ভারতের মানব অধিকার কমিশনের কাছে প্রতিবাদ করবেন!জানিনা কর কথা টিক!

    ১৩
  11. সত্য কথক বলেছেনঃ

    একটি বলিষ্ঠ কন্ঠ । কবি, তোমার সাথে আছি আমরা আরো অনেকেই। হয়তো তোমার অজ্ঞাতে।
    (শেয়ার করলাম)
    একটা রাইফেল, একটা সীমান্ত।
    একটা ভিনদেশী বুলেটের আততায়ী অনুপ্রবেশ।
    কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলছে কিশোরীর লাশ!
    ধর্ষিত পতাকায় আমার অক্ষম বর্ধিত
    দীর্ঘশ্বাস
    ফেলানী -
    আমার ভৌগলিক সীমান্তে লুণ্ঠিত জাতীয়তা।
    কাঁটাতারে গেঁথে রাখা ভণ্ডামির মানবতা।
    ফেলানী -
    আমার কুৎসিত মৈত্রী সমৃদ্ধির
    বেশ্যা প্রবৃত্তি।
    ভাড়ামির বন্ধুতার দায় দণ্ডিত জাতির
    পতাকা।
    তবু জেনে রাখিস ফেলানী, বন্ধুত্ব করেছিলাম
    ভালোবাসায়।
    একাত্তরের অভিধান আমি এখনো বেঁচেনি।
    “আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই,
    আজো আমি মাটিতে মৃত্যুর নগ্ননৃত্য দেখি,
    ধর্ষিতার কাতর চিৎকার
    শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতর-
    এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দু:স্বপ্নের রাত,
    সেই রক্তাক্ত সময়?
    রক্তের কাফনে মোড়া কুকুরে খেয়েছে যারে,
    শকুনে খেয়েছে যারে; সে আমার ভাই,
    সে আমার মা,
    সে আমার প্রিয়তম পিতা।
    স্বাধীনতা -
    এ কি তবে নষ্ট জন্ম?
    এ কি তবে পিতাহীন জননীর লজ্জার ফসল?
    জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই
    পুরনো শকুন!
    বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে
    মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ
    বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে
    বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে
    ………………………………..”
    ফেলানী আমার -
    তোর জীবনের দামে চুপ মেরে থাকে দেশের
    সম্ভ্রম!
    আমিও ওদের মতো নির্লজ্জ জনগণ।
    আমায় ক্ষমা করিস ফেলানী!
    ১৪ কোটি জনগণ তোকে বাঁচাতে পারেনি!

    ১৪
  12. Bobby বলেছেনঃ

    জিনিয়া আপনার শুভ কামনার জন্য ধন্যবাদ!আপনার লেখা পড়ে আনন্দ পাই আর আপনার লেখা গুলি সময়ুচিত বলে মনি হয়!অনেক শুভ কামনা রইল!

    ১৫
  13. মাহি জামান বলেছেনঃ

    সঠিক বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের প্রতি চরম ঘৃনা ভারতীয়দের এমন নৃশংস হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠার আসল কারন। অন্যান্য সকল কারনই গৌন।

    ১৬
  14. Bobby বলেছেনঃ

    মাহি জামান আপনি ঠিক বলেছেন বাংলাদেশের মানুষদের প্রতি ঘৃণার বহি প্রকাশ সীমান্তে এই গুলি বর্ষণ!পৃথিবীর অন্য কোনও দুই দেশের সীমান্তে এরকম অবস্থা আছে বলে আমার জানা নাই !এমনকি ইসরাইল ও পালেসতিইন সীমান্তে এই রকম পাখির মত গুলি করে মানুষ কে মারে না!চীন ও ভারত এমনকি পাকিস্তান ভারত সীমান্ত যা ঝুকি পূর্ণ হওয়া উচিত ছিল তাহা মসলিনের মত মসৃণ আর ভরত বাংলাদেশ সীমান্ত যেন বাংলাদেশীদের কাছে এক দু সপ্ন!আরও আশ্চর্যয়ের বেপার যে বাংলাদেশ আর ভারতের কারও যেন মাথা বেথা নাই!আসুন আমরা সবাই এই ঘটনার নিন্দা জানাই!

    ১৭

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...