ক্যাটেগরিঃ সুরের ভুবন

পত্রিকার পাতা জুড়ে খবর হল “ঢাকা মাতালেন ‘শিলা কি জওয়ানি”র সুনিধি চৌহান” কিংবা “ঢাকায় সুনিধি চৌহান”। আইটেম কুইনখ্যাত ভারতীয় সঙ্গীত শিল্পী হলেন সুনিধি। সুনিধির আইটেম গান শোনেনি উঠতি বয়সী এমন কেউ বাংলাদেশে খুঁজে পাওয়া যাবে কী না যথেষ্ট সন্দেহ আছে.. ২৪ ঘণ্টায় প্রচারিত ভারতীয় চ্যানেলে প্রায় সর্বক্ষণ এই আইটেম কুইনের যৌন সুড়সুড়ি মার্কা গান আমাদের ঘরে ঘরে প্রচারিত হয়। ছোট ছোট বাচ্চা মেয়েরা ব্লাউজ আর লেহেঙ্গা পড়ে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে নেচে নেচে গায়, ” শিলা…শিলা কী জওয়ানি” বাবা-মার মুখে গর্ব ভরা প্রশান্তি..তাদের প্রতিভায় মুগ্ধ বাবা-মা। তরুণ তরুণীদের মুখে মুখে ফেরে “হাল কাট জওয়ানি”।

হাল আমলের ভারতীয় হিট আইটেম গানগুলোর কথা, সুর চিত্রায়ন নিঃসন্দেহে যৌনতাকে উদ্দেশ্য করেই করা হয়েছে। পাঠক, এই সব আইটেম গানের চিত্রায়ন দেখার রুচি যদি আপনার না হয়ে থাকে তো থাক, শুধু লক্ষ্য করুন গানগুলোর কথা, যেমন, ‘শিলা কি জওয়ানি’, ‘হালকাট জওয়ানি’, ক্রেজি কিয়ারে, ‘দিদার দে’, ‘বিড়ি জ্বালাইলে’, ‘চোর বাজারি’, ‘দেশি গার্ল’ ‘”ছোকরা জওয়ান রে”, বাজে রাত কী বারা যেখানে বলা হয়েছে, ইশক জাগে তো আ যাইয় রাত কী বারা, ফোর টু কা ওয়ান গিভ মি আ কল ইন দা নাইট (জব সো জয়েগা সব, পেয়ার ভেয়ার কা বাত করেঙ্গা..)। আর এইসব গানগুলোর চিত্রায়ন যে রগরগে হবে তা গান শুনে যে কেউ আন্দাজ করে নিতে পারে। প্রশ্ন হল আইটেম গানের নামে অর্ধ উলঙ্গ ভারতীয় নায়িকাদের বিচিত্র অঙ্গ ভঙ্গি প্রদর্শনের শারীরিক কসরত (একে আমি নাচ বলতে নারাজ) এবং এই সব নোংরা অশ্লীল ইঙ্গিতপূর্ণ গান থেকে আমাদের সমাজ কী কোনভাবে উপকৃত হচ্ছে? আর এইসব আইটেম গানয়ালীদের যারা আমাদের দেশে বাজারজাত করছে, দেশের মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে এইসব নষ্ট গানের সঙ্গীত শিল্পীদের এনে আমাদের উন্মাতাল করছে এতে সমাজে কী প্রভাব পড়ছে তা ভেবে দেখা প্রয়োজন।

ঘরে ঘরে যখন ধর্ষণ নামক সামাজিক ব্যাধির দুর্গ গড়ে তোলার জন্য সবাই ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে, ঠিক সেই সময় যৌন উত্তেজক ভারতীয় শিল্পী এসে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়াম মাতিয়ে যান আইটেম সং দিয়ে। পত্রিকায় প্রকাশ গতকাল শুক্রবার (৪ জানুয়ারী, ২০১৩) আর্মি স্টেডিয়ামে ভারতীয় অশ্লীল গানের আইটেম কুইন সুনিধি চৌহানের কনসার্টের জন্য লম্বা লাইন লেগেছিল। মুঠোফোন নির্মাতা নকিয়ার আয়োজনে এই কনসার্টের শিরোনাম ‘সুনিধি চৌহান ইন ঢাকা। শোনা যায়, অনেক রাত পর্যন্ত এইসব যৌন উত্তেজক গান গেয়ে সুনিধি মাতিয়ে রাখেন বাংলাদেশের সঙ্গীত প্রেমীদের (!!!)। রাত নাকি যতই বাড়তে থাকে, ততই সুনিধির সুরের জাদুতে দর্শক মেতে ওঠে। এখন এই মেতে ওঠা উঠতি তরুণ তরুণীরা যদি এইসব গানের অশ্লীল ইঙ্গিতে উত্তেজিত হয়ে কোনও নোংরামিতে মেতে ওঠে তবে এর দায়ভার কিছুটা হলেও কী ওই আইটেম গানের উপর পড়ে না? মেয়েদের নাম নিয়ে গাওয়া অশ্লীল গান যেমন শিলা বা মুন্নির কারণে এই সব নামধারিণী নিরীহ মেয়েরা স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন চরমভাবে হেনস্থা হয়, তখন এর দায়ভার কী সেই নোংরা আইটেম গান এবং তার গায়িকার উপর বর্তায় না?

সম্প্রতি ভারত জুড়ে যখন ধর্ষণের অপরাধীদের বিচারে উন্মাতাল, কোনও বিচারক যখন ধর্ষকের পক্ষে লড়বে না জানিয়ে এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার, তখন যৌন উত্তেজক আইটেম গান এবং এই আইটেম গান গেয়ে জনপ্রিয় বনে যাওয়া আইটেম কুইন সুনিধি চৌহান কেন অপরাধী বলে গণ্য হবেন না? প্রশ্ন হতে পারে, সুনিধি তো আর গানটা লেখেন নাই বা কম্পোজ করেন নাই, ও তো শুধু গেয়েছে, শিল্পী তো গাইতেই পারে? এ প্রশ্নের উত্তরে বলতে পারি একজন শিল্পীর অবশ্যই সামাজিক দায়বদ্ধতা আছে, অনেকেই তাদের আইডল মনে করে। সমাজের ক্ষতি হোক, এমন কাজে তাদের কখনোই জড়ানো উচিত নয়। তাছাড়া, আমরা যে কোনও গানের গায়ক/গায়িকাকেই বেশি মনে রাখি..এমনকি কোন থার্ড গ্রেডের আইটেমওয়ালী এর সাথে লিপসিং করল না কে করল, তা নিয়ে তেমন মাথা ঘামাই না, আর ঘামাই না জন্য কয়েক লক্ষ টাকায় সুনিধিকে ভাড়া করে নিয়ে আসা হয় আইটেম গান এর জন্য। একজন সুনিধি অবশ্যই এসব আইটেম গানকে জনপ্রিয় করছেন, আর সেই সাথে তিনি সমাজের নষ্ট কার্যকলাপেও ভূমিকা রাখছেন। পরোক্ষভাবে অবশ্যই নারী নিগ্রহের জন্য তিনি দায়ী। নারী নিগ্রহে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায়ী এইসব আইটেম নামক গানগুলোকে চিরতরে নিষিদ্ধ করার আইন অবশ্য প্রয়োজনীয়।

যেকোনো সংস্কৃতির ভাল দিকটাই গ্রহণীয়, নষ্ট দিক যা কেবল সমাজে অধপতন আনার জন্য প্রভাবক হিসেবে কাজ করে, তা অবশ্যই বর্জনীয়। বাংলাদেশে এইসব নোংরা ভারতীয় চ্যানেলগুলো নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। ড্রয়িং রুমে ঢুকে পড়া অশ্লীলতাকে বন্ধ করা দরকার। বহুজাতিক বা ইভেন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানীগুলো যাতে অশ্লীল শিল্পী এনে আমাদের পরিবেশ দূষণ করতে না পারে সেজন্য আমাদের সবাইকেই সচেতন হবে, আমাদের তথ্য মন্ত্রনালয়কে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের নিজেদের স্বার্থেই এইসব নোংরামি বন্ধে সোচ্চার হতে হবে।

******তথ্য ও ছবি সুত্র: প্রথম আলো, বাংলা নিউজ ২৪।


৭৩ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. আসাদুজজেমান বলেছেনঃ

    ধন্যবাদ@জিনিয়া,
    পোস্টটি পড়তে পড়তেই মনে হলো, কি আশ্চর্য অমিল- আমাদের দেশ থেকে গাইতে যায় রেজোয়ানা চৌধুরী বন্যা আর আমাদের দেশে গাইতে আসে সুনিধি চৌহান!!!হাহ
    আসলে আমাদের কাছে বন্যাদের চাইতে চৌহানদের ভ্যালু বেশী! হয়তো বন্যাদের গান তারুন্যকে ঘুমায় আর চৌহানদের গান উন্মাদনা জাগায়, শীতে উষ্নতা জাগায়!
    তাই হয়তো বিক্রি করছি দুধ আর কিনছি মদ!!!
    আমাদের স্ট্যাটাস নেমে এসেছে এই পর্যায়ে!

    পোস্টে সহমত আর সামগ্রিকতায় হতাশা……

    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      জেমান বন্ধু, এই প্রথম তুমি কোনও ধরনের যুক্তি-তর্ক ছাড়াই আমার পোস্টের সাথে সহমত ব্যক্ত করলে..আমার তো আকাশে প্যারাশুট দিয়ে উড়তে ইচ্ছে করছে. :D :D

      আসলেই তুমি ঠিক বলেছ, আমরা নষ্ট সংস্কৃতিকে কাছে টেনে নিয়ে নেমে যাচ্ছি ক্রমশ..

      মাঝে মাঝে খুঁজে পাইনা কেন বলত? ভাল আছো তো?

      এই বছর আসার সময় তোমার জন্য শুকনো গোল্ডেন ওয়াটল ফুল এনে দেব রাশি রাশি..

      অনেক অনেক শুভকামনা। হ্যাপি নিউ ইয়ার।

      ১.১
  2. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    জিনিয়া ও জেমান, কয়েকশো বছর আগে তুলসী দাস দোহার বেঁধে ছিলেন,
    “সচ কহেতো মারে ল্যাঠা, ঝুটা জগৎ পাতিয়ায়,
    গো-রস ঘর ঘর ফেরে, সুরা বইঠকে বিকায়”
    অর্থাৎ, সত্যি বললে লাঠ্যৌষধি, মিথ্যায় জগৎ পরিপূর্ণ, গো-রস (দুধ) ঘরে ঘরে যে বেচতে হয়, কিন্তু মদ বসে বসেই বিক্রয় হয়”।
    সংষ্কৃতি নিম্নগামী। যে দেশে মন্ত্রী বাহাদুর মাটিতে বসে গায়িকাদের নেত্যর নামে অঙ্গ দোলানি দেখে, সে দেশে, আমরা কজন ছ্যা ছ্যা করলে কি লাভ?

    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      প্রিয় মেন্টর, কয়েকশ বছর আগে শ্রদ্ধেয় তুলসী দাস কী চমত্কারভাবেই না উদ্ধৃত করেছেন কঠিন বাস্তব….আর তুলসী দাসের বাণী বাস্তবায়ন করছেন মাটিতে বসে দুলে দুলে হাততালি দিয়ে (সিটি মেরেছিল কী না জানিনা)নেত্য দেখা আমাদের মন্ত্রী মহোদয়!!

      ভালকথা তুলসী দাস কোথায় পাওয়া যাবে? পড়া হয়ে ওঠেনি তেমন একটা।

      শুভকামনা।

      ২.১
  3. জয়ন্তসাহা বলেছেনঃ

    আপু সহমত জানালাম। আমাদের দেশের কর্পোরেট সংস্কৃতি এখন খুল্লম খোল্লা কালচার ভূতে পেয়েছে। এখন মুন্নি- শিলাদের মত ড্রেস না পড়লে নাকি প্রেস্টিজ থাকে না। আমাদের টাঙ্গাইল-জামদানি- সিল্ক নিয়াও কত এক্সপেরিমেন্ট। তাতে নানা কারুকাজ করে শরীর প্রদর্শনের কত উপায় করছে ফ্যাশন ডিজাইনররা।
    সমাজের এলিট প্যানেল এখন রবীন্দ্র, ভা্ওয়াইয়া শুনতে চায় না …. তারা মুন্নি- শিলা- হালকাট জাওয়ানি শুনতে চায় ….
    দেশের মানুষ শীতে কাঁপুক … তাতে তাদের কি ?? তারা ডেকে নিয়ে আসে শাহরুখ খান, ক্যাটরিনা, আনুস্কাকে …. তারা ডেকে নিয়ে আসে সুনিধিদের মত শরীর সর্বস্ব গায়িকাদের …

    শিল্পীদের দায়বদ্ধতার বিষয়টি তুলে ভালো করেছেন…. এ বিষয়টি নিয়ে শিল্পীরা মোটেই ওয়াকিবহাল নয় ….. তারা মদে- বিয়ারে এতটাই বুদ হয়ে থাকেন .. সে সবে খেয়াল করার সময় কোথায় তাদের ??
    আমরা ভিনদেশী সংস্কৃতির পূজারি .. শাহরুখ খান, ক্যাটরিনারা অক্কা পেলে আমাদের চোখের জলে বুক ভাসে .. কিন্তু একজন সোহরাব খান মরে গেছে .. তাতে কারও কিছু আসে যায় না ..
    জিজ্ঞাস করে দেখুন ..? বলবে , সোহরাব হোসেন – এইডা আবার কেডা ??
    দেশটা যে কোনদিকে যাইতেছে…?

    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      জয়ন্ত দা, আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমাদের সেলিব্রেটিরা সবাই হয়তো মদে বুদ হয়ে থাকে না..তবে কেউ কেউ থাকে আর তারা কালের গর্ভেই হারিয়ে যায়..একজন সোহরাব হোসেন কিংবা কলিম শরাফী তাই হতে পারাটা অনেক অনেক কঠিন..তবে সেলিব্রেটিদের অবশ্যই সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকা উচিত..আর যদি তারা সমাজের জন্য ক্ষতিকারক হয়ে থাকে তবে আমাদের সর্বাগ্রে তাদের বর্জন করতে হবে। কারণ আমরা দর্শক-শ্রোতারই তাদের সেলিব্রেটি বানাই..আমরাই পারি আমাদের সমর্থন তুলে নিয়ে তাদের আসল স্থান দেখিয়ে দিতে!!

      আপনার চমত্কার মন্তব্য নিঃসন্দেহে আমার পোস্টকে সমৃদ্ধ করেছে..অনেক অনেক শুভকামনা।

      ৩.১
  4. ইমতিয়াজ বলেছেনঃ

    জিনিয়া আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। অনেকেই এই সত্য কথাগুলোকে মোটেই মানতে চায় না। এই যেমন মাসুমা বিল্লাহ। তিনি বলেছেন- যারা হিন্দি বাংলা যৌন সুরসুরির সিনামা দেখে নিজেকে নাকি নিয়ন্ত্রন করতে পারেন না বলে দাবি করছেন, তাদেরকে ইউরোপ আমেরিকায় এনে ছেড়ে দেন না, ওরা তো একটি উলঙ্গ মেয়ের দিকেও চোখ তুলে তাকানোর সাহস পাবে না , ধর্ষণ তো দূরের কথা । Your text to link…
    তবে পাকিস্তানের মহিলা কলামিস্ট তাইয়েবা জিয়া চিমা বলেছেন ধর্ষণের জন্য মুলত দায়ি বলিউড। Your text to link…

    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      ইমতিয়াজ ভাই, আপনাকে ধন্যবাদ। সিনেমাতে যৌনতা খুব কমন ব্যাপার..ভারতের উত্তম-সুচিত্রার সিনেমাতেও তা শৈল্পিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল..কিন্তু বর্তমানে আইটেম গানের নামে যা দেখানো হচ্ছে তা কোনও শিল্প হতে পারে না..আর যৌনতাকে উস্কে দেয়াই এর মূল লক্ষ্য..সবার সেই গান দেখে কাম ভাব জাগ্রত হবে এমন কোনও কথা নেই..কিন্তু কারও যে জেগে উঠবে না তারও তো কোনও নিশ্চয়তা নেই..যদি একটি আইটেম গান দর্শকদের যৌনতাকে জাগিয়ে তুলতে না পারে, তবে তার পরেরটিকে আরও রগরগে কিভাবে করা যায়, তা নিয়ে এরা রীতিমতো গবেষণায মেতে ওঠে..তাইতো কোটি টাকার কারিনা বেগমও ফেভিকল মার্কা গানে শরীর দেখিয়ে যায়.।

      শুভকামনা।

      ৬.১
  5. আসাদুজজেমান বলেছেনঃ

    আমি ভাবছিলাম, মুসাফির ছবির সেই বিখ্যাত গান-
    ও সারাবি? কিয়া সারাবি?
    যো নেশামে না রাহে..।
    লুট গায়ে যো ও সারাবি
    বাতে হামসে না রাহে(শেষ লাইনটা নিয়ে একটু সন্দেহ আছে)
    প্রিয় হৃদয়ে বাংলাদেশ,
    আমার লেখাই হোক আর মন্তব্যেই হোক, আপনাকে ছাড়া তা অসম্পূর্ন থেকে যায়। আমি সারাবি নই, তাই লুট হওয়ার ভয়ও নেই। তবে-
    জেমান রং হারাবে
    যদি হৃদয়ে বাংলাদেশ না থাকে…..

    প্রিয় জিনিয়া,
    হলুদ গোল্ডেন ওয়াটল শুকনা হলেও সেটা অসাধারনই হবে!!! আমি ধরে নেব, শুকনো ফুলটি ইয়েলো ছিলো না বরং গোল্ডেনই ছিলো। :D :D

    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      সাঈদ ভাই, আমি যতদূর বুঝি যে সুনিধি চৌহান গান করেন এবং গানের ক্ষেত্রে লিরিক্স একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ এলিমেন্টস..আপনি সেটাই যদি বাদ দেন তবে কী শুধু গায়িকাকে দেখতে লম্বা লাইনে দাড়িয়ে (সুত্র: প্রথম আলো) টিকেট কেটে গিয়েছিলেন?পোস্ট তো শুধু সুনিধির কনসার্ট নিয়ে হয় নাই, হয়েছে গানের কথা ও তার চিত্রায়ন নিয়েও..সে বিষয়ে আপনার মতামত জানতে চাই।

      শুভকামনা।

      ৮.১
  6. বাংলাভুত০০৭

    বাংলাভুত০০৭ বলেছেনঃ

    আপনার লিখা টা অনেক সুন্দর হয়েসে …। সুনিধি চৌহান বাংলাদেশে আসলো গান গাইল বাংলাদেশের মানুষ তার গান শুনল তার সাথে নাচল …। আপনার কাসে একটা প্রশ্ন আখানে দোষী কে? আমাদের দেশে কি টিভি চ্যানেল কম ? তাহলে আমাদের দেশের মানুষ ক্যানও আমাদের দেশের টিভি চ্যানেল দেকছে না ? আমাদের সম্মেশা হইতাসে আমারা সব কিছুর ই কপি করি । হিন্দি মুভির এফেক্ট ক্যানও ইন্ডিয়া থেকে বাংলাদেশে বেসি পরসে ??????

    ১১
  7. নাঈম হাসান বলেছেনঃ

    খুবই সময়োপযোগী পোস্ট, ভালো লাগল। তবে এথেকে পরিত্রানের উপায় কি তা নিয়ে কিছু বললে ভালো হত। এটা কি এসব গায়িকা-নায়িকাদের আসা বন্ধ করে করা যাবে, নাকি বাংলাদেশে চলমান অসংখ্য ভারতীয় চ্যানেলের উপর লাগাম টেনে করা হবে, অথবা আমাদের ইয়াং জেনারেশানকে ওয়ায নছিহত করে তাদের সরল পথে এনে করা হবে, নাকি দেশে একটি বাস্তব সম্মত ও সময় উপযোগী কালচারাল গাইডলাইন ও ড্রেস কোড (মেয়েদের ওড়নাকে মাফ্লার বানিয়ে পরা, বা ছেলেদের ছোট শার্ট ও অনেক নিচে নেমে যাওয়া জিন্স প্যান্ট যার কারনে আন্ডারওয়্যার দৃষ্টিগোচর হয় এবং ইত্যাদি নিরুৎসাহিত করে) প্রণয়ন করে করা হবে (যদিও সবাই এর সাথে একমত হবেন না, অনেকে চান যে আমাদের মধ্যে নবী-রাসুল, সাধু মহাপুরুষদের গুনাবলি থাকবে যাতে কেউ উত্তেজক এমনকি নগ্ন হয়ে সামনে নেচে গেলেও আমাদের সমস্যা হবে না :lol: , কিন্তু বাস্তবে এমন ক্ষমতার অধিকারী মানুষ হয়ত খুব বেশি নেই :P )। এখন সমস্যা তো জানা গেলো কিন্তু এর সময়াধান কি? :roll:

    ১২
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      নাঈম ভাই, অনেক অনেক ধন্যবাদ। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় বলে দিয়েছিলাম আমার পোস্টের শেষের প্যারায়..কোনও কারণে মন দিয়ে পোস্টটি না পড়ে থাকলে আবার সে টা এখানে উল্লেখ করে দিচ্ছি,

      নষ্ট দিক যা কেবল সমাজে অধপতন আনার জন্য প্রভাবক হিসেবে কাজ করে, তা অবশ্যই বর্জনীয়। বাংলাদেশে এইসব নোংরা ভারতীয় চ্যানেলগুলো নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। ড্রয়িং রুমে ঢুকে পড়া অশ্লীলতাকে বন্ধ করা দরকার। বহুজাতিক বা ইভেন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানীগুলো যাতে অশ্লীল শিল্পী এনে আমাদের পরিবেশ দূষণ করতে না পারে সেজন্য আমাদের সবাইকেই সচেতন হবে, আমাদের তথ্য মন্ত্রনালয়কে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের নিজেদের স্বার্থেই এইসব নোংরামি বন্ধে সোচ্চার হতে হবে।

      শুভকামনা।

      ১২.১
  8. সাদেকুর রহমান রাসেল বলেছেনঃ

    @জিনিয়া,
    তোমার সচেতনা নিয়ে কোন যুক্তিতে যাবনা, তোমার ভাবনা সঠিক, তুমি হয়ত আমার চেয়ে ভালো জানো যে, ইন্ডিয়াতে অনেক রাজ্যে আইটেম এর চাইতে ভয়াবহ নোংরা ছবি মুক্তি পায়, কিন্তু আমাদের দেশে তাদের এনে দেশটাকে নোংরা করা হচ্ছে। তোমার প্রতি শুভকামনা।

    ১৩
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      প্রিয় জয়, তোমাকে এবং তোমাদের ফেইসবুক গ্রুপকে প্রথমেই আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ দেই এরকম মহতী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য,,তোমাদের মত উচ্ছল তরুণদের দেখে সত্যি দেশের ভবিষ্যত নিয়ে খারাপ আশংকাগুলো কেটে যায় মুহুর্তেই, আশার আলো দেখতে পাই যেন.।

      আমি তোমাকে এর আগেই বলেছিলাম যে, তোমার এই পোস্ট প্রকাশের আগেই উত্তরাঞ্চলের শীতার্তদের সাহায্যের জন্য বেশ মোটা একটা এমাউণ্ট আমি আমার বন্ধুদের কাছে পাঠিয়েছিলাম এবং তা অলরেডি শীতার্তদের মাঝে বন্টন করে দেয়া হয়েছে….যাই হোক, ব্লগার হিসেবে আমি দায়বদ্ধ, আর তোমাদের মত তরুণদের পাশে থেকে ভাল কাজে উত্সাহ দেয়া আমার নৈতিক কর্তব্য মনে করছি।

      তোমার ভাইয়া, জাহিদ এখন বাংলাদেশে তার রিসার্চের কাজে..আমি তার সাথে কথা বলেছি..তিনি তোমাদের উপরেল্লেখিত ঠিকানায় (সম্ভবত সুন্দরবন কুরিয়ারে) আমার পক্ষ থেকে ৫০০০ (পাঁচ হাজার) টাকা পাঠিয়ে দেবেন বলেছেন। আমি জানিনা বাংলাদেশের কুরিয়ার সার্ভিসের কী অবস্থা, কত দ্রুত টাকা পৌছায় জানিনা..তবে আশা করি দ্রুত তিনি পৌছে দেবার ব্যবস্থা করবেন। আজকেই পাঠিয়ে দেবার কথা আমি তাকে বলেছি..যেহেতু তিনি ভীষণ ব্যস্ত, তিনি কাউকে দিয়ে অবশ্যই তার দায়িত্ব পালন করবেন বলেই আমাকে জানিয়েছেন.।

      আমি জানি আমার এমাউণ্ট খুবই স্বল্প, অন্তত দু একজনের শীত নিবারিত হবে, আশা করছি..।

      শুভকামনা।

      ১৫.১
      • জিনিয়া বলেছেনঃ

        জয় ভাইয়া, এই ঠিকানায় টাকা পাঠান হবে আজকেই,

        এসএ পরিবহন/সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস {জয়(০১৬৭০৮৫২৭৫৬), উত্তরা শাখা,ঢাকা}..প্রেরকের ঠিকানায়..জিনিয়া, মেলবোর্ন লিখে দিতে বলেছি..তুমি টাকা পেলে কাইণ্ডলি আমাকে দ্রুত আপডেট দিয়ে দেবে।

        তোমাদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি..সবাই সুস্থভাবে ফিরে এসে ব্লগে ছবিসহ একটা পোস্ট দিও..

        ১৫.১.১
  9. দেশী পোলা বলেছেনঃ

    জনাবা

    আপনার সাথে দ্বিমত পোষন করছি, উন্নত বিশ্বে এর চাইতে ভয়ানক কামোদ্দেপক সংস্কৃতির প্রচলন আছে, তাতে কিন্তু সেসব সমাজে নারী ধর্ষন এর পরিমান বাড়ে কমেনি। আপনি দয়া করে মদের দোষ না দিয়ে মদ্যপায়ীদের চিকিৎসার কথা বলুন। যারা ধর্ষকামী পুরুষ বা মহিলা, তাদের জন্য মানসিক চিকিৎসার বন্দোবস্ত করুন। বিশ্বায়নের এই যুগে আপনি সেন্সরশিপ দিয়ে কিছুই আটকাতে পারবেন না, নেট বা ইথারে সবকিছুই খুব তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে যায়। একমাত্র আইনের চরম প্রয়োগ, যেটা উন্নত বিশ্ব করতে পারছে, সেটা করলে হয়তো আমাদের দেশের সমস্যার কিছু উপশম হতো, কিন্তু সেটা করার মতো ট্যাক্স দেনেওয়ালা জনগন আমাদের কাছে আছে কই?

    ১৭
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      জনাব, আপনাকে ধন্যবাদ। উন্নত বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ ঘুরে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমার, বর্তমানে উন্নত একটি দেশে বাস করছি..সেই অভিজ্ঞতা থেকে যা বুঝেছি তা হল, এখানে টিভিতে প্রতিটি অনুষ্ঠান শুরুর সময় রেটিং করা থাকে..এডাল্ট বা ভায়লেন্স কন্টেন্ট থাকলে তা রেটিং এর মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়..বড়দের অনুষ্ঠানগুলো মূলত রাত 8.30 থেকে প্রচার হয়ে থাকে..শিশুদের মগজে ভালোভাবে ঢুকিয়ে দেয়া হয় কোনটা পেরেণ্টল গাইডেন্স নিয়ে সে দেখতে পারে..আর মুভি হল বা কোনও কনসার্টে এজ এপ্রপৃয়েট না হলে প্রবেশ করতে দেয় না..নেট ব্যবহারেও শিশুদের ক্ষেত্রে থাকে বাধ্যবাধকতা..কাজেই আমাদের দেশের শিশুদের মত এরা অন্তত বয়স হবার আগেই ছাইয়া ছাইয়া জাতীয় অঙ্গী ভঙ্গি শিখে না।

      ভারতীয় নোংরা চ্যানেলগুলো বন্ধ হলেই বোধ করি আমরা অনেক নোংরামি থেকে নিজেদের পরিবেশ দূষণ রোধ করতে পারব..আর এর জন্য খুব বেশি পয়সার দরকার হবে কী না আমার জানা নেই।

      আপনাকে আবারও ধন্যবাদ।

      শুভকামনা।

      ১৭.১
  10. raihan বলেছেনঃ

    ধন্যবাদ ব্লগারকে চমৎকার একটি লেখার জন্য । সম্ভবত আধুকতার সঙ্গে আমরাও দিন কে দিন অরুচিকর হযে যাচ্ছি । এখন আমরা আইটেম গানকে শিল্প মনে করছি ; নোংরামিকে মনে করছি আধুকতা । খুবই আশ্চর্যের সাথে দেখা যাচ্ছে এখন পারিবারিক অনুষ্ঠান গুলোতেও এগুলো বেশ সমাদৃত । আমরা কি তবে সভ্যতার উল্টো পিঠে চলেছি ?
    এমনকি ভারতে এমন একটি ঘটনার পর ও কেউ আইটেম গান নিয়ে কিছু বলছে না । তারা আইটেম গান এর সবচেয়ে বড় নির্লজ্জ পৃষ্ঠপোষক । তারা সামাজিক পরিবর্তন এর কথা বলছে ; বলছেনা কেবল তাদের চলচ্চিত্রের এই অনবদ্য (?) সংযোজনের কথা ।
    পরিশেষে আবারও ব্লগারকে ধন্যবাদ দিয়ে বলতে চাই এসব শিল্পীদের মিডিয়া কাভারেজ অন্তত এদেশে যেন না হয় এবং পকেট এর টাকার শ্রাদ্ধ করতে চাইলে আমরা যেন এসব অনুষ্ঠানের টিকেট না কেটে অন্য কোনো মাধ্যম বের করি।

    ১৮
  11. enam বলেছেনঃ

    আসলে সমসা , 64 কলার ভেতর আমাদের , সেখানে কিকরবে eকজন মানব সন্তান । মালয়ালম,তেলেগু,তামিল ইততদি ছবি গুলো & হিন্দু ধর্মের পালন ,নিয়ম মানসের কল্যাণ আর বিপরীত নয় কী ?

    ১৯
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      হিন্দু ধর্ম প্রধান ভারতের হিন্দী চ্যানেলে তাদের ধর্ম প্রচারিত হবে সব কিছুতে এটাই তো স্বাভাবিক, এতে তো দোষের কিছু দেখি না ভাই..কিন্তু যদি মনে হয় হিন্দু রীতি আপনার পরিবারের মাঝে ঢুকে যাবার ভয় আছে, সেক্ষেত্রে আপনাকেই এ থেকে পরিত্রাণের সমাধান খুজে বের করতে হবে। ডিশ ব্যবসায়ীকে বলে হিন্দী বা বিজাতীয় চ্যানেলগুলো বন্ধ করে শুধু বাংলা চ্যানেলগুলো প্রচারের কথা বলে দেখতে পারেন।

      শুভকামনা।

      ১৯.১
  12. Bobby বলেছেনঃ

    জিনিয়া কে সময় উপযোগী মন্তবের জন্য ধন্যবাদ!আমাদের সমাজের এতই রুচি লোপ পেয়ে গেছে যে আর পইসা দিয়ে সুনীতি দের দেখতে হয়না!আজ কাল যে কোনও মধ্যবিত্ত পরিবের বিয়ের গায়ে হলুদে হিন্দী চটুল গানের উপস্থিতি আর সে গানের শিল্পী বাঙালী কোন যুবতী!মাঝে মাঝে ভাবি পাকিস্তান এই দেশটা তেইশ বছর শাসন করল কিন্তু উর্দু শিখতে পরলোনা আর কী জাদুর বলে এখন কার শিশু রা কী সুন্দর হিন্দী বলে!আর তার মায়েরা চটুল হিন্দী সিরিয়াল গুলি গিলতে থাকে!এখন সময় এসছে ভারতীয় টেলিভিসন গুলির অবাধ প্রদর্শন বন্ধ করা!

    ২০
  13. নাঈম হাসান বলেছেনঃ

    লেখিকাকে ধন্যবাদ রিপ্লাই দেয়ার জন্য…আর আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি আসলে আজকাল খুব কড়া টাইপের লেখা বা সমালোচনা না হলে, সে অংশগুলো আমার চোখ এড়িয়ে যায়, সেজন্য আমি দূঃখিত। আপনি যে সমাধানের কথা বলছেন সেটা এই সমস্যার জন্য যথেষ্ট হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু আমাদের বর্তমান রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কথা চিন্তা করলে এর আসলে কোনো সমাধান নেই। বলুনতো এই সরকার অশ্লীলতার দায়ে কয়টা চ্যানেল বন্ধ করেছে? একটাও না! অশ্লীলতার কোন সংজ্ঞা হয়ত তথ্য বা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের জানা নেই, বা এর কোন মাপকাঠিও তারা ঠিক করতে পারেননি ৪০ বছরেও। যদিও রাজনৈতিক কারনে চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এই সরকারের আমলে বিজয়ের মাসে বিজাতীয় নায়ক নায়িকাদের দিয়ে উদ্দাম নাচ গানের পরিবেশন হয়, অথচ এইসব নায়কেরা বাংলার ব ও জানে না, জদিও প্রতিবেশী দেশে থাকে, আমাদের জ্ঞাতি অংশের একটি ক্রিকেট দলের মালিক, কিন্তু তাকে কিছু বাংলা বলতে বলায় তিনি ক্ষেপে যান, তারা স্টেজে বিজাতীয় ভাষা বলেন, কারন তারা ধরে নেন যে আমরা তাদের ভাষা জানি ও বুঝি, নাহলে এতো টাকা খরচ করে আমরা তাদের আনবো কেন! আমরাতো আর ধনী আরব শেখ নই যে ভাষা না বুঝলেও নাচ দেখার জন্য মিলিয়ন ডলার খরচ করব। তারপর তারা কর ফাকি দিয়ে ট্যাক্স না দিয়ে নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যান। আর তাদেরকে ব্যাক আপ দেন সরকারেরই প্রভাবশালী লোকজন, কারন তদের মনোরঞ্জনের জন্যইতো এসব করা! আমাদের নেত্রী বাঙ্গালা, বাঙ্গালী, হাজার বছরের ইতিহাস এসব বলে গলা ফাটালেও অপার থেকে পাজি, সরদারজি, খান, পাঠান, চৌহানরা এসে যে আমাদের ভাষা সংস্কৃতির বারোটা বাজাচ্ছে সেদিকে তাদের কোন খেয়াল আছে বলে হয় না, বরং আরেক নেত্রী ওই দেশে সফরে গিয়ে তাদের মন পেয়ে গেল কিনা, এই দুঃখে অন্যজন মাথার চুল ছিঁড়ে। সীমান্তে আমাদের ভাইবোনদের হত্যাকে নানা ভাবে বৈধতা দেয়, তাদের খুশি করার জন্য দুই পক্ষই মরিয়া! তাহলে আমরা কেনো এত রক্ত ঝরিয়ে এই দেশ স্বাধীন করলাম? কেনো রক্ত দিলাম এই ভাষা রক্ষার জন্য? আমরাতো ৪৭ এই ওই দেশের অংশ হয়ে এতো রক্তপাত ঠেকাতে পারতাম, শুধু আজকের নেত্রীরা কোন্দিন প্রধানমন্ত্রী হওয়া তো দূরে থাক, মুখ্যমন্ত্রীর বাবূর্চির পদটাও কপালে জূটতনা। আমরাতো দুই নেত্রীকে একটা দেশ দিয়েছি, আমাদের নেত্রীদের মুখ্যমন্ত্রী না বানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছি, অজপাড়া গায়ের ডানপিটে কিশোরকে ঝরে যেতে দিইনি, এ দেশ এই জাতি না থাকলে হয়ত সে হত কংগ্রেসের একজন ডেলিগেট, যে অনেক আন্দোলন করেও এলাকার মানুষের ন্যায্য দাবি আদায় করতে পারেনা, কিন্তু না, তা তো হয়নি, সেই কিশোর আজ এই জাতির পিতা, এটা কি আমাদের স্বাতন্ত্র্যের ফল নয়? তারপরও কেন তারা এই দেশ ও জাতিকে তিলে তিলে ধংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন? এর জবাব কি তারা দেবেন??

    ২১
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      এই পোস্টটি আসলে আমি রাজনীতির বাইরে রাখতে চেয়েছিলাম নাঈম ভাই..কারণ এইসব গান শোনা ও দেখার জন্য আমরাও অনেকাংশে দায়ী..ডিশের ভাড়া প্রতি মাসেই বাড়ে,তারপরও শুধু হিন্দী চ্যানেলের জন্য দিশ.. সিরিয়াল না দেখতে পেলে গিন্নিদের মুখ আধার, হিন্দী চ্যানেলের টিআরপি আমরাই বাড়িয়ে দিচ্ছি.. কাজেই আমরা দর্শকেরা মুখ ফিরিয়ে নিলে এসবও বন্ধ হয়ে যেত।

      আপনার চমত্কার মন্তব্যের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।

      শুভকামনা।

      ২১.১
  14. নীল ন ক্ষ ত্র বলেছেনঃ

    আপু এই বিষয়টা নিয়ে লেখার জন্য অনেক খুশি হলাম..। আসলে এইসব আজাইরা জিনিস প্রচার বন্ধের পাশাপাশি আমাদের মন-মানসিকতার উন্নতিও করতে হবে……তাহলে ভাল হবে…..।

    তোমাকে ধন্যবাদ আপু….

    ২২
  15. rimon বলেছেনঃ

    দারুন লিখেছেন.আই hate ইন্ডিয়ান কালচার .ইংদদিয়ান সমাজে আইটেম গান দারু পান ,পরকীয়া আইগুলি খুব e প্রচলিত.আমাদের ইন্ডিয়ান কালচারকে বর্গণ করতে হবে.

    ২৩
  16. মাহি জামান বলেছেনঃ

    ভারত-বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ধর্ষণ প্রবণতা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ভারতীয় অশ্লীল চলচিত্র প্রসঙ্গে কয়েকদিন আগে আমার একটি পোস্ট বিডি ব্লগ কর্তৃপক্ষ `ধর্ষণের পক্ষে সাফাই’ এর অজুহাতে প্রকাশ করেননি এবং এই ধরনের লেখার জন্য আমাকে সতর্ক করেছেন।
    অত্যন্ত সময়োপযোগী চমৎকার পোস্টের জন্য প্রিয় ব্লগারকে আন্তরিক ধন্যবাদ। ব্লগারের প্রতিটি কথাই যেন আমার মনের কথা। অশ্লীলতার বিরুদ্ধে আপনার এমন সাহসী উচ্চারন অব্যাহত থাকুক। আমরাও আছি আপনার সাথে।

    ২৫
  17. Bobby বলেছেনঃ

    ভারতীয় সিনেমা ও টেলিভিসিয়নের সিরিয়াল গুলি থেকে শিক্ষণীয় কিছু আছে বলে মনে হয়না!ড্রিংক ডান্স আর পরকীয়া যেন ভারতীয় সমাজের এক মাত্র উপজীব্য!তার সাথে আছে চটুল নাচ আর গান !আমাদের সমাজ টা ভারতীয়দের মত উদার নয়!আমরা আমাদের গুরুজন দের সম্মানের চক্ষে দেখি!আমাদের একটা নিজস্স মূল্যবোধ আছে যা ভারতীয় থেকে আলাদা!অধুনা আমরা লক্ষ করছি আমাদের যুব সমাজের উপর ভারতীয় সিনেমার প্রভাব যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়াছে যার ফলে আমাদের মেয়রা দোকানে যেয়ে ভারতীয় সিনেমা অভিনেত্রীদের পোশাক আসাকের অনুকরণে পোশাক কিনতে মরিয়ান!তারা একবারও চিন্তা করেনা এটা তাদের মানায় কিনা!ভারতীয় একটা টেলিভিসনের একটা চ্যানেল এ “ঘর ঘর কী কাহণী” নামক সিরিয়াল টা এতই এক শ্রেণীর বাংলাদেশের মহিলাদের কাছে এতই প্রিয় যে তারা নাওয়া খাঊয়া ছেড়ে দিয়ে সিরিয়াল টা দেখেন!আর এই সিরিয়ালএর মূল উপজীব্য ” পরকীয়া”!এখন সময় এসেছে ভারতীয় টেলিভিসনের যথেচ্ছা প্রদর্শন বন্ধ করা!বাংলাদেশের সিনেমা ও নাটকের অনেক উন্নতি হয়েছে আর তাকে রক্ষা করা!আমি আশা করি আপনার সবাই আমার সাথে একাত্ত হবেন!

    ২৭
  18. মাহাবুব১৯৯৫ বলেছেনঃ

    যে সমাজে সম্ভ্রমলুটেরাদের বীরদর্প পদচারণা, সম্ভ্রমলুটেরাদের নির্বিঘ্ন পদযাত্রা, সে সমাজে ভালো মানুষের চোখরাঙানী বা শাসন তেমন কোনও কাজে আসে না। বরং হিতে বিপরীত হয়, পাপের দাবানলে অপ্রতিরোধ্যের জ্বালানী সরবরাহ করা হয়। ইভটিজিং একটি ব্যধি, একটি আযাব। আর আযাব আসে আল্লাহর নাফরমানীর কারণে।

    ২৮
  19. মাহি জামান বলেছেনঃ

    বোন জিনিয়া, তীব্র শীতে অবস্থা কাহিল। কুশল জিজ্ঞাসার জন্য ধন্যবাদ।
    ইদানিং গ্রামে যাওয়া একটু বাড়িয়েছি। বর্গা চাষীরা জমি ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু জমিতো শূণ্য রাখা যায় না! তাই বাধ্য হয়ে কৃষিতে মনোনিবেশের চেষ্টা (না কি অপচেষ্টা বুঝতে পারছিনা) করছি। সাজিমের স্কুল বন্ধ, সেই সুযোগে কৃষি কাজের প্রয়োজনে সপ্তাহে দুই-তিনদিন গ্রামে থাকছি। গ্রামে ইন্টারনেট ব্যবহার দুষ্কর। তাই ব্লগ থেকে মাঝে মাঝে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছি।
    আমার ব্লগে উত্থাপিত আপনার কঠিন প্রশ্নটির উত্তর দেয়ার চেষ্টা করেছি। ভাল থাকবেন।
    দাবানল থেকে নিরাপদে আছেন তো?

    ২৯
  20. সালমা কবীর বলেছেনঃ

    ধন্যবাদ জিনিয়া, সুন্দর একটি উপস্থাপন।
    শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি জীবনভিত্তিক। তাই মানুষ এগুলোর মাঝে একাত্ম হবে এটাই স্বাভাবিক। গান- নাচ, যাই হউক, হালকা-চটুল, গুরুগম্ভীর দুটোই হতে পারে, যেটি সবার কাছে গ্রহনযোগ্য। এটির দিকে লক্ষ্য রাখা শিল্পীর যেমন দায়বদ্ধতা ঠিক তেমনি কতৃপক্ষেরও।

    ৩২
  21. মাহাবুব১৯৯৫ বলেছেনঃ

    আমরা বাংলাদেশীরা বিদেশীদের এত বেশি অনুকরণ করি তাতে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি বিলুপ্ত হতে চলেছে। আর একটা বড় কারণ আমি মনে করি ধর্মীয় অনুশাসন না মানা।

    ৩৩
  22. নীল ন ক্ষ ত্র বলেছেনঃ

    সাবজেকটিভ আল্লাহর রহমতে ভাল হয়েছে…। অবজেকটিভ মোটামুটি হয়েছে…। দুআ করার জন্য অনেক ধন্যবাদ…..। :)
    আগামীকাল (12 তারিখ) পরীক্ষা শেষ হবে। আগামীকাল ইংলিশ পরীক্ষা….আবার দুআ করোও …। :)

    ৩৫
  23. জুলফিকার জুবায়ের

    জুলফিকার জুবায়ের বলেছেনঃ

    জিনিয়া আপু, আজকাল এমন দুর্দান্ত লেখা শুরু করেছেন কেন?

    আপনি শিল্পীর দায় বদ্ধতার কথা বলেছেন?!
    দায়বদ্ধ শিল্পীরা কাঙালিনী হয়ে শেষ সময়ে অর্থকষ্টে জীবনের সব হিসাবের ইতি টানে।

    রূপোপজীবিনীরা জীবনের দায়ে অর্থের বিনিময়ে শুধুমাত্র নিষ্পাপ দেহটা দেয়। কিন্তু পুতুল সুনিধিরা অর্থের বিনিময়ে সব না দিলেও অনেক কিছু দেয় যা বিষবাষ্প হয়ে ছড়িয়ে পড়ে পথে-ঘাটে, প্রেক্ষাগৃহে এমন কি অন্দরমহলেও।

    ৩৬
    • জিনিয়া বলেছেনঃ

      জুবায়ের ভাই, দুর্দান্ত লিখছি নাকি? আমি আসলে “সব দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি” তাই প্রতিবাদে মুখর হয়েছি সম্প্রতি.. :evil: :evil:

      কথা ঠিক বলেছেন, দায়বদ্ধ শিল্পীদের ক্যারিয়ারের করুন পরিণতি চোখের সামনে দেখেই হয়তো এখনকার শিল্পীরা দায়বদ্ধতা ভুলে গেছে..অর্থের নেশায় নিজের ভবিষ্যত সিকিউরড করতে তারা যা খুশি তাই করার বন্য খেলায় মেতে উঠেছে..আর এর ভয়ংকর প্রভাব পড়ছে বাকিদের উপর..”উপায় কী গোলাম হোসেন? উপায় কী?”

      ৩৬.১
  24. মাধুরী শিকদার বলেছেনঃ

    জিনিয়া আপু, ধন্যবাদ আপনাকে এমন সুন্দর আর সময়উপযোগী লেখা পোষ্ট করার জন্য। সত্যি বলতে কি, আমার ও মাঝে মাঝে খুব আফসোস হয় যখন দেখি আমার পাশেরই কেউ এইসব নোংরা গানে মাতোয়ারা হয়ে যায়। জানিনা আমাদের রুচি কেন এত নিচে নেমে যাচ্ছে। যদিও আমার এখনো প্রতিদিন জগন্ময় মিত্র, সতীনাথ কিংবা বশির আহমেদ, আবদুল হাদী, সুবীল নন্দীর গান না শুনলে দিনটাই অসম্পূর্ন থেকে যায়।

    ৩৭

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...