ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

আমি যথেষ্ট উচ্চাকাঙ্ক্ষী হয়েছি। এখন আমি পাঠক হিসেবে পাপন ভাইকেও প্রত্যাশা করি।
প্রথমেই ব্যক্তি পরিচয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন। পাপন ভাই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধানতম পুরুষ। তিনি সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারার ব্যক্তিত্বে গৌরবান্বিত।

শ্রদ্ধেয় পাপন ভাই,
আপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণের আত্মবিশ্বাসটা যথেষ্ট মজবুত। আপনার এই মানসিক দৃঢ়তা আমাদের লাল-সবুজের দলটাকে ঝুঁকি পূর্ণ সফরের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ভেবেছিলাম শেষ মুহূর্তে আপনার বোধোদয় হবে। কিন্তু আমি আবাক হয়ে দেখলাম আপনি প্রতিনিয়ত আত্মপক্ষ সমর্থন করে যাচ্ছেন। প্রিয় দলটাকে কাজে লাগাচ্ছেন ক্ষুদ্র স্বার্থে।

আপনি জানিয়েছেন, পাকিস্তানের অভিযোগ আমরা না-কি খেলাধুলাতেও রাজনীতি করি। আর এ অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য সফরসূচিটা সফল করা উচিত। আর কথা যেহেতু দেয়াই আছে সেহেতু আমরা সেখানে যেতে বাধ্য ( অন্তত আমাদের নৈতিক শিক্ষা তাই বলে)।

এখন আপনার কাছে আমার প্রশ্নঃ আমাদের প্রিয় আকরাম ভাই কেন লোভনীয় পদটা থেকে পদত্যাগ করতে চেয়েছিল-সেই খোঁজ কি আপনি নিয়েছিলেন? সেখানে কি নীতি ছিল, না-কি দুর্নীতি ছিল? যাই ছিল আর না ছিল- সেখানে অবশ্যই রাজনীতি ছিল না(!), রাজনীতি খেলাধুলার বিষয় না। রাজনীতির বিষয় হলো জনগণ ও তাদের জীবনের সার্বিক নিরাপত্তা।

আর আপনি দিয়ে ফেলা কথা রাখতে চান? আপনার কাছে দেশপ্রেমিক হাজারো জনতার কথার চেয়ে হায়েনাদের দেয়া কথার মূল্য অনেক বেশি! সফরসূচী বাতিল করার দাবীটা যদি অগণতান্ত্রিক ও যুক্তিহীন আবেগ হতো তাহলে বলার কিছু ছিল না, কিন্তু শুধু কথা রক্ষা করার জন্য যদি আপনি এই বিপদসংকুল সিদ্ধান্তটাতে অটল থাকেন, তাহলে বলব আপনার মাথায় মস্তিষ্ক আছে কিন্তু সেখানে স্নায়ুকোষ নেই, আপনার বুকে হৃদপিন্ড আছে কিন্তু সেখানে স্পন্দন নেই।

হাজারো জনতার দাবী যদি অযৌক্তিকও হয় তাহলেও তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার মত; কেননা পৃথিবীটা যুক্তির হতে পারে কিন্তু জীবনটা আবেগের; শুরুটা আবেগের, শেষটাও আবেগের। সবচেয়ে মধুরতমটা আবেগের, সবচেয়ে কঠিনতমটাও আবেগের। আর খেলাধুলার যে জয় সেটাও আবেগের, যে পরাজয় সেটাও আবেগের।

আপনার বক্তব্য-‘খামাখা সম্পর্ক তিক্ত করে তারপর যাওয়ার চেয়ে আগে যাওয়াই ভাল’।
আপনার কথায় সম্পর্ক উন্নয়নের পররাষ্ট্রনীতি এবং ঝুঁকি বিশ্লেষণের বাহার দেখে আমি হাসব না কাঁদব সে সিদ্ধান্তে আসতে পারি না। যা হোক, আমি শুধু ভাবি সম্পর্কটা ভালো ছিল কবে!

এখন আমি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য আশু সফরটার নিরাপত্তা বিশ্লেষণ করব।
আশা করি এবার আপনার বিবেচনাটা আধুনিক হবে।

নিরাপত্তা ঝুঁকি বিশ্লেষণ

ঝুঁকি চিহ্নিতকরণঃ পাকিস্থানের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিকল্পনা তাদের মন্ত্রির নিরাপত্তা দিতে পারেনি। তারা আমাদের যোগ্য নিরাপত্তা দেবে তেমনটা আশা করা যায় না। রাজাকারদের বিশ্বাস করা পাপ, হানাদারদের বিশ্বাস করা মহাপাপ।
ঝুঁকি মূল্যায়নঃ এর আগে পাকিস্থানের মাটিতে সন্ত্রাসের শিকার শ্রীলংকান টিমকে আবার আমন্ত্রণ করা হোক, তারা যদি আবারো যায় তাহলে ঝুঁকির মাত্রা কমেছে বলে ধারণা করা যাবে।

ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাঃ
ঝুঁকি এড়ানো- এড়ানো সম্ভব না, কেননা এখানে আমাদের প্রিয় লাল সবুজ দলটার জীবন নিয়ে প্রশ্ন।
ঝুঁকির মাত্রা কমানো-খেলাটাই মূখ্য। পাকিস্তানে যেহেতু জোড় আপত্তি সেহেতু এর ভ্যেনু অন্য কোন দেশে করা যেতে পারে।
ঝুঁকি শেয়ার-কেউ আমাদের সাথে ঝুঁকি শেয়ার করবে না। আমাদের ঝুঁকি আমাদেরই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে প্রতিশ্রুতির চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। (প্রয়োজনে উভয়পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে প্রতিশ্রুতিটি পুনঃনির্ধারণ করা যেতে পারে।)

ঝুঁকি মোকাবেলায় করণীয়ঃ
১। জনগণের প্রত্যাশাকে পদস্থদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বিস্তারে সুযোগ দিতে হবে।
২। নিজেদের দুর্বলতা,শক্তি, সামর্থ্য ও সম্ভাবনা অনুযায়ী পূর্ব-পরিকল্পনা করতে হবে।
৩। মাঠ পর্যায়ে জনগণের সাথে কথা বলতে হবে।
৪। সিদ্ধান্ত গ্রহণে সৎ,খোলামেলা এবং স্বাধীন হতে হবে।
৫। অন্যান্য নির্ভরযোগ্য সূত্রের সাথে সহযোগী ও সমন্বয়পূর্ণ হতে হবে।
৬। প্রচার মাধ্যমের দাবীগুলো পূরণের ব্যাপারে সুচিন্তিত হতে হবে।
৭। স্পষ্টভাবে কথা বলতে হবে, প্রয়োজনে আবেগকে প্রশ্রয় দিতে হবে।

উপসংহারঃ
মালালাদের প্রাণে থাকে দেশপ্রেম আর অবিনাশী শিক্ষার আলো তাই তাদের হত্যা করা হলে আবারো বেঁচে উঠে ভালোবাসার শক্তি নিয়ে। কিন্তু আমাদের বিষয়টা ভিন্ন। ফলে এ রকম সংঘাতপূর্ণ এলাকায় মূল্যবান জীবনগুলোকে পাঠানোর আগে যথেষ্ট ভেবে নিতে হবে।যে ঝুঁকিটা এড়ানো যৌক্তিক, সে ঝুঁকিটাকে নিজেদের বিপদের কারণ করে ফেলা অন্যায়।

প্রিয় পাপন ভাই,
আমরা জনগণ দুই নেত্রীকে কিছু দেই বিনিময়ে অনেক কিছু পাবার জন্য। কিন্তু দেশকে ভালোবাসি বিনিময়ে কোন কিছুই না পাবার জন্য। তারপরও দেশ আমাদের অনেক কিছু দেয়। সুখ দেয়, সঙ্গ দেয়, স্বাধীনভাবে নিশ্বাস নেবার মুক্ত বাতাস দেয়। এই বিশুদ্ধ বাতাসে লাল সবুজের পতাকাটা যখন উড়ে তখন কি আপনার ইচ্ছে হয় না-এই দেশটাকে বিনিময়ে কিছু দেই?

এখনো সময় আছে সিদ্ধান্তটা থেকে সরে আসুন।

ইতি
জুলফিকার জুবায়ের
২৯-ডিসেম্বর-২০১২,ঢাকা


৪ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. রবিউল ইসলাম বলেছেনঃ

    শ্রদ্ধেও সভাপতি,
    আমার সালাম নিবেন। আমি পাকিস্তান সফরের উপর যেটুকু মনে করি সেটা হল, যদি তারা যথেষ্ট নিরাপত্তা দেয় তবে খেলতে যাওয়া যায়। কেননা এই সফরের সঙ্গে অনেক কিছুই নির্ভর করছে, যেমন- বিপিএল খেলা, সুসম্পর্ক, জনপ্রিয়তা এবং আরও অনেক…। আমরা অতীত না দেখে বর্তমানটা ভাবতেই পারি কারণ যেহেতু ক্রিকেট খেলা এবং বর্তমানে আমি বলব এটাই সবচাইতে জনপ্রিয় খেলা।
    ধন্যবাদ,
    রবিউল ইসলাম
    মসুনদিয়া, বেরা, পাবনা।

  2. জিনিয়া বলেছেনঃ

    প্রিয় জুবায়ের ভাই, হলিডে থাকায় চমত্কার পোস্ট পড়তে দেরি হল বৈ কী ..ক্ষমা তো পাব, নাকি?

    জিজ্ঞাস্য, পাপন আবার ভাই হল কবে থেকে? তিনি তো পাপন আংকেল..জিল্লুর দাদুর পুত্র.।

    পাকিস্তান সফরের বিষয়গুলো এত নগ্ন দুর্নীতি যে এটা ধামাচাপা দেয়ার কিছু নাই..পাপন আংকেল অনায়াসে লোটাস কামালের কথা মিডিয়াতে বলে নিজে হালকা হতে পারেন..কেন তিনি লোটার পাপের ভার নিজের কাঁধে নিচ্ছেন, আমার বোধগম্য নয়!!!আপনি যদি বুঝে থাকেন, আমাকে বুঝায় দেবেন প্লিজ.।

    হ্যাপি নিউ ইয়ার!!!

    • জুলফিকার জুবায়ের

      জুলফিকার জুবায়ের বলেছেনঃ

      ক্ষমা স্বর্গীয়। সেটা স্বর্গে আশা করবেন। আপাতত আপনাকে যে দন্ডটা* দিয়েছি সেটা কার্যকরী হয়েছে কিনা সে দিকে খেয়াল রাখেন।

      ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করেছি প্রজন্ম ব্যবধান কমাতে। তা না হলে আবেদন পেশ করার সুযোগ পাব না বলে আশংকা করছিলাম।

      আপনকে কিভাবে বুঝাব বলেন? যদি সত্যি বুঝতাম তাহলে পুঁজি হিসেবে প্রতিশ্রুতিকে খাঁটিয়ে রাজনীতির মাঠে অসীম% লাভের ব্যবসা করতাম।

      Every exit has an entry somewhere else.
      হ্যাপি নিউ ইয়ার!!!

      * আপনার ঠিকানায় প্রবেশ করা দুরূহ,যত দূর মনে পড়ে সর্বশেষ কথোপকথনে আপনার জন্য আজীবন লিখে চলার দন্ড দিয়েছিলাম।

      ২.১

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...