ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 

পৃথিবীটা Double Entry System। এখানে কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হয়। আবার কিছু দিলে অবশ্যই কিছু পাওয়া যায়। মানুষকে ভালোবাসলে কিছু না কিছু পাওয়া যায়, হয় সুখ, না হয় দুঃখ। কিংবা উভয়টাই। মানুষকে ভালোবাসায় ‘বিনিময়ে-দুঃখ’ পাবার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াটা অনেক বেশি। ভালোবেসে বিনিময়ে দুঃখ পাওয়াকে মেনে নিতে না পারলে ক্ষতি নাই। সেক্ষেত্রে বৃক্ষকে ভালোবেসে প্রতি-ভালোবাসা নিশ্চিত করে নেয়া যায়।

মানুষকে ভালোবাসার অনেক প্রক্রিয়া; এবং সবগুলো প্রক্রিয়াই অত্যন্ত জটিল। কিন্তু বৃক্ষকে ভালোবাসার প্রক্রিয়া খুব-ই সরল। এখানে এক পক্ষ সব সময় সত্যিকারের প্রেম করে এবং কখনোই প্রতারণা করে না। বৃক্ষের ভালোবাসার বিনিময়ে মানুষ অকৃতজ্ঞ হলেও মানুষের ভালোবাসার বিনিময়ে বৃক্ষ কখনো অকৃতজ্ঞ হয় না; বৃক্ষ সব সময় দায়িত্বশীল। মানুষকে ভালো না বাসলে মানুষের জীবনের কোন অর্থ থাকে না, কিন্তু বৃক্ষকে ভালো না বাসলে বৃক্ষের তাতে কিছু আসে যায় না, পৃথিবীটা শুধু বসবাসযোগ্যতা হারায়।

ভালোবাসতে মন লাগে, যে মন দিয়ে মানুষকে ভালোবাসা যায় সেই একই মন দিয়ে বৃক্ষকেও ভালোবাসা যায়। মানুষের ভালোবাসা পেতে হলে যোগ্যতা কিংবা বলিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হয়। বৃক্ষের ভালোবাসা পেতে বিশেষ কোন যোগ্যতা কিংবা বলিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হয় না, শুধুমাত্র কিছু প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে হয়।
প্রক্রিয়াগুলোঃ

  • পায়ে হাঁটা
  • পরিমিত খাওয়া
  • বাগান পরিচর্যা করা
  • সাইকেল চালানো
  • গাড়ি কম চড়া
  • গাড়ি অতিরিক্ত জোরে না চালানো
  • কাগজে প্রিন্ট করা যথাসম্ভব এড়িয়ে চলা
  • কাগজের উভয় সাইডে প্রিণ্ট করা
  • কাগজ, প্লাস্টিক এবং কাঁচ রিসাইকেল করা
  • পুরোনো জামা-কাপড় গরীবদের দিয়ে দেয়া
  • প্লাস্টিক-বোতলের পানি গ্রহণ না করা
  • শীতে সোয়েটার ব্যবহার করা
  • হিটার ব্যবহার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলা
  • বৃষ্টির পানি ব্যবহার করা
  • পাখা ব্যবহার করা, এবং সম্ভব হলে জানালা খোলা রাখা
  • শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে চলা
  • কাপড় রোদে শুকাতে দেয়া, ড্রায়ার ব্যবহার না করা
  • বাথটাব ব্যবহার না করে শাওয়ার ব্যবহার করা
  • বাসায় কেউ না থাকলে ফ্যান-লাইট বন্ধ রাখা
  • এনার্জি সেইভিং বাল্ব ব্যবহার করা
  • রাসায়নিক কীট-নাশক ব্যবহার না করা
  • বন্য প্রাণীদের রক্ষা করা
  • পানির অপচয় না করা
  • পৃথিবীর সৌন্দর্য দেখতে বের হওয়া