ক্যাটেগরিঃ সেলুলয়েড

ডোরেমন কার্টুন দেখে না শহরে এমন শিশু কমই আছে।আপনাদের অবাক করবে যে আমাদের দেশে ৮০% শহরের শিশুদের সময় কাটে এই ডোরেমন কার্টুন এ।শিশু এমন কেউ-ও কি আছো, যে ডোরেমন দেখো না? নিশ্চয়ই সবাই-ই জোরে চিৎকার করে উঠেছো- না! বাচ্চাদের জন্য ডোরেমন নিয়ে কিছু কথা……………………………….।

ডোরেমন আসলে একটা রোবট?????????????

হ্যাঁ, ডোরেমন কিন্তু একটা রোবট! তা-ও আবার যে সে রোবট নয়, ও কিন্তু ভবিষ্যত থেকে আসা এক রোবট! আসলে হয়েছিলো কী, নবিতাকে তো চেনোই, কোনো কাজে মনোযোগ নেই, খালি খেলা আর খেলা। আর সব জায়গায় শর্টকাট খোঁজে; কিভাবে তাড়াতাড়ি হোমওয়ার্ক করা যায়, কিভাবে তাড়াতাড়ি বাজার করে আনা যায়, খালি এসব দুষ্টু চিন্তা। কিন্তু জীবনে উন্নতির জন্য কি আর কোনো শর্টকাট আছে? আর আগে তো ওর সঙ্গে ডোরেমন-ও ছিলো না। তার উপর ও যা ভীতু, জিয়ান ওকে একটা ধমক দিলেই কেমন চুপসে যায়, দেখোনি? তাই যা হবার তাই হয়েছিলো। না নবিতা পড়াশোনায় ভালো করতে পারলো, না জীবনে কোনো ভালো চাকরি করতে পারলো, না পারলো ব্যবসা করে উন্নতি করতে। বড়ো হয়ে ও হলো যেমন গরীব, তেমনি অভাগা। আর ওর বংশধরদেরও তেমন অবস্থা-ই হলো। তখন ওর নাতির যে নাতি, তার নাতি সিওয়াসি ভবিষ্যত থেকে ওর কাছে পাঠালো ডোরেমনকে। যাতে নবিতা নবি (নবিতার পুরো নাম) ডোরেমনের কাছ থেকে জীবনে উন্নতি করার যতো রকম শিক্ষা দরকার, সে সব পেয়ে জীবনে উন্নতি করতে পারে। আর তাহলেই তো ওর বংশধররাও বেশ উন্নতি করতে পারবে। তখন আর তাদের এ গরিবি হালও থাকবে না, এতো কষ্টও থাকবে না। তাহলে কি দাঁড়ালো- ডোরেমন হলো বাইশ শতকের এক রোবট বিড়াল, মানে এই শতকেরও পরের শতকের রোবট; আর ওর যে পকেট থেকে ও একটার পর একটা গ্যাজেট বের করে, সেই পকেটটা আসলে একটা ফোর ডাইমেনশনাল পকেট, মানে ফোর-ডি পকেট আরকি! জাপানি ভাষায় ওরা বলে ইয়োজিন পকেট। ওখান থেকে ও আসলে ভবিষ্যতের নানা টুলস বের করে, আর ভবিষ্যতের ওই টুলসগুলোকেই আমরা বলি গ্যাজেট। আর জাপানি ভাষায় গ্যাজেটগুলোকে বলে ডগু। ডোরেমন নবিতাকে মোটমাট কতোগুলো ডগু, মানে গ্যাজেট দিয়েছিলো জানো? প্রায় সাড়ে চার হাজার!

ডোরেমনের সাড়ে চার হাজার গ্যাজেট??????????????
ডোরেমনের গ্যাজেটের সংখ্যা যে সাড়ে চার হাজার সে তো আগেই বলেছি। এই গ্যাজেটগুলোর অনেকগুলোই কার্টুনিস্ট ফুজিকো ফুজিয়োদের কল্পনা হলেও সবগুলোই কিন্তু একদম নিখাদ কল্পনা নয়। অনেকগুলোই জাপানের নিত্য ব্যবহার্য নানা আসবাবপত্রের আদলে তৈরি। আর কিছু কিছু গ্যাজেট তো জাপানি রূপকথা থেকেও নেয়া। তবে গ্যাজেটগুলো ভবিষ্যতের কিনা, তাই ওগুলোর তো বিশেষ ক্ষমতা থাকতেই হবে, তাই না? আর কিছু কিছু গ্যাজেট কিন্তু ভবিষ্যতে বেশ দামিও বটে, সেগুলো আনতে ডোরেমনের বেশ টাকা-পয়সাও খরচ হতো!

ডোরেমনকে নিয়ে কতো কিছু???????????????
ডোরেমনকে নিয়ে তো মূলত ‘মাঙ্গা’ মানে কার্টুন আর কমিকস হয়েছে। তবে ডোরেমনের যা জনপ্রিয়তা, তাতে কী আর ওকে শুধু মাঙ্গাতে সীমাবদ্ধ রাখা যায়! ওকে নিয়ে যে তিনটা টিভি সিরিজ করা হয়েছে, তার ৩ নম্বরটি তো তোমরা এখনো দেখছো। আর ওকে নিয়ে যে কতো ছবি বানানো হয়েছে, গুনতে গিয়ে হাতের কড়ই শেষ হয়ে গেলো! আর ওর ছবিগুলো কিন্তু আরো বেশি মজার। কোনোটাতে নবিতা আর তার বন্ধুরা ডোরেমনের সাথে চলে যায় সেই ডাইনোসরের যুগে তো কোনোটাতে চলে যায় বহু দূরের গ্যালাক্সিতে, আবার কোনোটাতে চলে যায় আফ্রিকার গহীন বনে তো আরেকটাতে চলে যায় যাদুর রাজ্যে। আর সর্বশেষ যেই ছবিটা- ‘নবিতা এন্ড দি নিউ স্টিল ট্রুপস’, এটার কিন্তু একটা বিশেষত্বও আছে। আমরা যে ছবিগুলো দেখি, সেগুলো তো সব টু-ডি। কিন্তু এই ছবিটা কিন্তু থ্রি-ডি! এর আগে ছোটোদের জন্য আর একটা ছবি-ই থ্রি-ডি করা হয়েছিলো, ‘টয় স্টোরি থ্রি’।

তো বন্ধুরা আজকে এ পর্যন্তই…………ভালো থেকো।