ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

আবারও লাশের কথা শুনা যাচ্ছে। পাহাড়ে সন্ত্রাসের দৌরাত্ম বেড়েই চলছে। কেন এই হানাহানি? জে এস এস, জে এস এস (সংস্কার) এবং ইউপিডিএফ- এই তিনটি সংগঠন পার্বত্য রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলা তে আধিপত্য বিস্তার করে আছে। বলা যায় জাতীয় রাজনীতি সেখানে সীমাবদ্ধ। আঞ্চলিক রাজনীতির প্রভাব পার্বত্য এলাকায় বেশি।  পাহাড়ী এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ জনগণ হত্যার রাজনীতি পছন্দ করে না। আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল সমূহ নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে নিজেদের প্রভাবকে/ আধিপত্যকে বিস্তার করার জন্য এবং জাতীয় রাজনীতিতে সংযুক্ত হয়ে নিজেদেরকে ঐ অঞ্চল সমূহের জন্য সেরা এটা প্রমাণ করার জন্য সব ধরনের তৎপরতা পরিচালিত করে থাকে। শান্তি চুক্তির পর থেকে পাহাড়ী নেতৃবৃন্দ পাহাড়ে হানাহানি বন্ধ করতে পারে নাই। শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। সাম্প্রতিক কালের হানাহানি ও হত্যার রাজনীতি বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে আশঙ্কা তৈরী হচ্ছে। শান্তি চুক্তি পূর্ণাংগ বাস্তবায়ন হলে পাহাড়ে অরাজকতা ছড়িয়ে পড়বে কিনা? পাহাড়ি এলাকায় বসবাস কারী জনগণের শান্তি বিঘ্নিত হবে কিনা? শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যই শান্তি চুক্তি। শান্তি চুক্তি প্রতিষ্ঠিত হলে যদি অশান্তি বেড়ে যায় তাহলে শান্তি চুক্তিকে পুনঃ মুল্যায়ন করতে হবে। তাছাড়া আঞ্চলিক রাজনীতি যদি পাহাড়ের শান্তি কেড়ে নেয় তাহলে আঞ্চলিক রাজনীতিকে জাতীয় রাজনীতির সাথে সমন্বয় করা যেতে পাড়ে।

যেকোন উন্নয়ন কর্মকান্ড করতে হলে বাধার কারনে তা হতে দেরী হয়। উন্নয়ন কর্মীরা প্রত্যন্ত এলাকায় যেতে ভয় করে। অপহরণ আতঙ্কে ভুগে। মানুষ তার জীবনের নিরাপত্তা না পেলে কাজ করবে না। যদি উন্নয়ন কর্মকান্ড বন্ধ থাকে তাহলে পাহাড়ে বসবাস রত মানুষের জীবনের আর্থ সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন হবে না। পার্বত্য এলাকায় উন্নয়ন কর্মকান্ড করার সময় যে বাধা দেয়া হয় তা কার সার্থে? নাকি কিছু সংখ্যক লোক চায় না পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবন মানের উন্নয়ন হোক? পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবন মানের উন্নয়ন না হলে তারা অনুন্নত মানুষের মাথা বিক্রী করে নিজেদের পেট চালাতে পারবে।